খুঁজুন
                               
, ,
           

১২৪৪ কোটি টাকার সিড মানির ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
১২৪৪ কোটি টাকার সিড মানির ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ক্রীড়াঙ্গনে সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি একই সাথে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে পরনির্ভরশীলতা থেকে বের করে এনে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রায় ১২৪৪ কোটি টাকার একটি ঐতিহাসিক ‘সিড মানি’ বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল অনুমোদনের বিষয়টি অবহিত করেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনস্থ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সভাকক্ষে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস, হকি, সাইক্লিং, সাঁতার, শ্যুটিং, কাবাডি, ভলিবল, দাবা, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিস, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, আর্চারি এবং অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের নবনিযুক্ত এডহক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, অনুমোদিত এই সিড মানি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর মাঝে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই সুবিশাল তহবিল থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ প্রতি বছর সরাসরি ফেডারেশনগুলোকে প্রদান করা হবে, যা দিয়ে তারা ফুটবল, হকি, আর্চারি, শুটিংয়ের মতো নিজ নিজ খেলাধুলার দৈনন্দিন কার্যক্রম ও খেলোয়াড়দের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবে। লভ্যাংশের বাকি ২৫ শতাংশ মূল তহবিলের সাথে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে যুক্ত হবে, যেন ভবিষ্যতেও ক্রীড়া খাত টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো লাভ করতে পারে।

ফেডারেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমিনুল হক জানান, জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে অপরাধের ব্যাপারে শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শনের ওপর জোর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনে জমে থাকা দুর্নীতি ও অপকর্ম ইতোমধ্যে সরকারের নজরে এসেছে এবং বিভিন্ন সংস্থাও এগুলো তদন্ত করে কাজ করছে। অতীতে ক্রীড়া সংগঠকদের একাংশের মধ্যে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার যে ভুল ধারণা ছিল, তা ভেঙে ফেলার বার্তা দেন তিনি।

সভায় বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, আইন সবার জন্য সমান। দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সাথে জড়িত কেউ প্রমাণসহ ধরা পড়লে কেবল সাংগঠনিক শাস্তিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে না, বরং সরাসরি দেশের প্রচলিত কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।

একই সাথে তিনি নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ দেন। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী দেশের প্রখ্যাত শুটার শারমিন আক্তার রত্না ও প্রবীণ নারী সংগঠকদের প্রশংসা করেন এবং দেশের প্রতিটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নারীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।

ভবিষ্যৎ ক্রীড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট ক্রীড়া পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করার জন্য ফেডারেশনগুলোকে নির্দেশ দেন। এখন থেকে প্রতিটি ফেডারেশনকে জাতীয় পর্যায়ে বছরে সর্বনিম্ন ৪টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধি পাঠাতে বা দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে অন্তত ৩টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি চার মাস পর পর তাদের পারফরম্যান্স কঠোরভাবে পর্যালোচনা বা রিভিউ করা হবে। পর্যালোচনায় পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে নির্ধারিত ক্রীড়াবিদদের ভাতার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সম্ভাবনাময় নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পা অবশ, চলাফেরায় কষ্ট হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
পা অবশ, চলাফেরায় কষ্ট হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর

শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে হাঁটাচলায় বেশ সমস্যায় ভুগছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। পা অবশ হয়ে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে চলাফেরা করতে পারছেন তিনি। আপাতত তার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ারও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

রোববার (১৬ আগস্ট) একটি গণমাধ্যমকে নিজের  শারীরিক অবস্থার সবশেষ পরিস্থিতি জানান সাবেক রাষ্ট্রপতি।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, এখন আমার হাঁটাচলা করতে খুব কষ্ট হয়। পা অবশ হয়ে যাওয়ার কারণে সীমিত পরিসরে চলাফেরা করতে পারি। এজন্য আপাতত বাইরে কোথাও যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি না।

নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, নিয়মিত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে গুলশানের বাসায় নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সেবা নিচ্ছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে সিএমএইচে যেতে হচ্ছে। বঙ্গভবন ছাড়ার পর গুলশানের বাসায় ফিরে এখন পর্যন্ত একবার সিএমএইচে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে। চিকিৎসকেরা প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তী সময়ে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার, বিচার বিভাগ ও আইন পেশায় দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে তার পদত্যাগের জোরালো দাবি ওঠে। যদিও বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দলের সায় না থাকায় তিনি শেষ পর্যন্ত টিকে যান। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করলেও সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থাকেন। তবে সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় এসে তিনি অনেকটা সরে যেতে বাধ্য হন। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলীয় ঐক্য কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছে। সংসদে বিএনপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

২ ঘণ্টা পর বংশালের হেলমেট গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
২ ঘণ্টা পর বংশালের হেলমেট গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর বংশালের মুকিমবাজার চৌরাস্তায় একটি হেলমেটের গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বংশালের মুকিমবাজার চৌরাস্তায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা হেলমেটের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের সাতটি ইউনিটের চেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে বংশালের মুকিমবাজারে একটি হেলমেটের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের খবর আসে। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে মোট সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তাদের চেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে এখনো আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

৪৫ মামলার আসামি তৈয়ব, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
৪৫ মামলার আসামি তৈয়ব, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বেড়িবাঁধ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে মো. তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

পুলিশ বলছে, তৈয়বের বিরুদ্ধে সারা দেশে ডাকাতি ও ছিনতাইসহ ৪৫টি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের আরও ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিদেশি পিস্তল, গুলি, খেলনা পিস্তল, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, র‍্যাব ও ডিবির পোশাক, ভুয়া নম্বর প্লেটসহ ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় বুড়িগঙ্গা সেতুর দক্ষিণ পাশে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তৈয়বসহ কয়েকজন। সেখানে ডিবি লালবাগ বিভাগের একটি দল অভিযান চালালে তৈয়বকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান। তৈয়বের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকা থেকে পাভেল সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, র‍্যাবের লোগোযুক্ত আইডি কার্ডের হোল্ডার, সেনাবাহিনীর দুটি ফিল্ড ক্যাপ, একটি কালো লেজার লাইট ও কয়েকটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তৈয়ব ও পাভেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উত্তরার সেন্টার পয়েন্ট এলাকার একটি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান হোসেন ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই আস্তানা থেকে একটি কালো ওয়াকিটকি, বাংলাদেশ পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, গাড়ির দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, ‘র‍্যাব’ লেখা তিনটি ভেস্ট, ‘ডিবি’ লেখা একটি ভেস্ট, দুটি রিফ্লেক্টিং ভেস্ট, বিভিন্ন রঙের ১০টি রিফ্লেক্টিং স্টিকার, একটি পিস্তল কাভার, একটি খেলনা পিস্তল, তিনটি স্মার্টফোন ও কয়েকটি রাউটার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত। বিভিন্ন সময়ে অপরাধ সংঘটনের সময় গাড়িতে ভুয়া নম্বর প্লেটও ব্যবহার করত চক্রটি। ধানমন্ডি এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ও একাধিক নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক, নকল ও আসল আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে মূল্যবান সম্পদ বহনকারী ব্যক্তিদের আটকিয়ে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নিচ্ছে।

তৈয়ব সম্পর্কে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সারা দেশে ৪৫টি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। জামিনে বের হয়ে তিনি দীর্ঘদিন মাদারীপুরে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে একটি দল পরিচালনা করতেন এবং ঢাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে সরাসরি অংশও নিতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন ভূঁইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপগঞ্জে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি ইতালিয়ান পিস্তল ও ছয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

ডিবির দাবি, গত মে মাসে যাত্রাবাড়ীতে ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনতাই এবং গত ১৪ জুলাই একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায়ও এই চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তৈয়ব ও পাভেলের নাম এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, তৈয়বের বিরুদ্ধে থাকা ৪৫টি মামলার প্রতিটিতেই তিনি কারাগারে গিয়েছেন। পরে তিন থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার গ্রেপ্তার করে দিচ্ছি, কিন্তু তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ