মহামারি আকারে ছড়িয়েছে ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার
রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে ভয়ংকর ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। কাগজে-কলমে অলিখিত থাকলেও ২০০১ সালে রাজধানীর উত্তরায় ‘ক্র্যাব’ বা ‘কাঁকড়া গ্রুপ’ তৈরির মাধ্যমে প্রথম ‘গ্যাং কালচার’ প্রথা সাধারণ মানুষের নজরে আসে। র্যাব সদর দপ্তরের তথ্যে জানা যায়, দেশজুড়ে ২৫০টি কিশোর গ্যাংয়ের ৫ হাজার সদস্য এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
জানা যায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের ৮টি অপরাধ বিভাগের ৫০টি থানা এলাকায় আছে একাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ। কোনো কোনো থানায় ডজনখানেক গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মোহাম্মদপুর, আদাবর, হাতিরঝিল, আগারগাঁও, মিরপুর, দারুসসালাম, পল্লবী, ভাসানটেক, উত্তরা, বাড্ডা-রামপুরা, ধানমণ্ডি, যাত্রাবাড়ি এলাকায় তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতায় আতংকিত সাধারণ মানুষ। কব্জি কাটা গ্রুপ, লও ঠেলা গ্রুপ, চিল গ্রুপ, পটেটো গ্রুপ, রক্তচোষা জনি গ্রুপ, পায়তারা গ্রুপ, কাটিং গ্রুপসহ অসংখ্য গ্যাং অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।
অনলাইন বা অফলাইন দুই প্ল্যাটফর্মেও চলে তাদের নানান কার্যক্রম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের ভয়ংকর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ভিডিও বা ছবি নিজেরাই ছড়িয়ে দেয় নেট দুনিয়ায়। এলাকাভিত্তিক শীর্ষ সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ‘বড় ভাইদের’ হাত ধরেই শুরু হয় এদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ।
সন্ত্রাসের জনপদ হিসাবে এখন আলোচনায় মোহাম্মদপুর। সেখানে রয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব। দিন কিংবা রাত যখন যেভাবে চাচ্ছে তারা দিচ্ছে সশস্ত্র মহড়া। চাঁদার দাবিতে বা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ অনেক। পাটালী গ্রুপ, ভাইস্তা বিল্লাল গ্রুপ, মাউরা সোহেল গ্রুপ, এলেক্স গ্রুপসহ ২৫টি কিশোর অপরাধ গ্রুপ। যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে কমপক্ষে ১৫ জন ‘বড় ভাই’। সম্প্রতি এলেক্স গ্রুপের প্রধান ইমনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। কব্জি কাটা গ্রুপের আনোয়ার এখন কারাবন্দী। যদিও পুলিশের টানা অভিযানে অনেকে এখন এলাকা ছাড়া।
ঢাকা মেট্রোপলিটনপুলিশের মিডিয়া বিভাগের এডিসি নিয়াজ মেহেদী বলেছেন, ‘এসব কিশোর অপরাধীদের কার্যক্রম নজরদারিতে আছে। তারা যেমন অপরাধের কৌশল পরিবর্তন করে, তেমনি পুলিশও সেই কৌশল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
র্যাবের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে চলতি বছর ৩১ মে পর্যন্ত ৩২৪টি অভিযানে সারাদেশে ১৯২ গ্রুপের ১ হাজার ৭৯৩ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪৪ জন কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেছেন, ‘স্থানীয় আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব, অশোভন শব্দচয়ন আর নিজেদের ভয়ংকর প্রমাণ করতে অদ্ভুত সব নাম দিয়ে নিজেদের অপরাধ কার্যক্রম চালায় কিশোর গ্যাংগুলো।’
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array