খুঁজুন
                               
, ,
           

১৭ বছরের আন্দোলনে যারা মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
১৭ বছরের আন্দোলনে যারা মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে ‘বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারীদের’ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যারা বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং সংস্কারের বড় বড় কথা বলছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থী, অসুস্থ, দুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রতিনিধিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী আছে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে, তাদের ভূমিকা কী ছিল। ’৭১, ’৮৬ কিংবা ’৯৬ সালে তারা কী করেছে।

বিগত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। আর এখন তারা সংস্কারের কথা বলছে। অথচ দেশে সবচেয়ে আগে সংস্কারের প্রস্তাব বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই ২০২২ সালে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান দেওয়া যাবে না। তারা বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, গ্রামের মানুষকে যাতে সামান্য অসুখেই জেলা শহর বা ঢাকায় ছুটতে না হয়, সেজন্য বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে-আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার প্রতিটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিলেবাস এমনভাবে তৈরি করতে চাই, যেন একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পরই আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা যেন দুটি বিদেশি ভাষায় কথা বলতে পারে এবং যেকোনো একটি খেলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পারদর্শী হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ আমরা আবার শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য, ক্রীড়াও যাতে একটি পেশা হতে পারে, সেভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলা।

তিনি জানান, সম্প্রতি সরকারের আয়োজনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত চার বছর ধরে (২০২২ সালের পর থেকে) ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক অবসর ভাতা পাচ্ছিলেন না। স্বৈরাচারের আমলে সেই টাকা নয়-ছয় করে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। আপনাদের নির্বাচিত বিএনপি সরকার গতকালই সেই শিক্ষকদের পেনশনের ব্যবস্থা করেছে এবং ভাতার বড় অংশ তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াতে না পারে। আল্লাহর রহমতে, অতীতের মতো এবার বাজেট দেওয়ার পর জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। জনগণের স্বস্তির কথা মাথায় রেখেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কৃষকদের সেচ সুবিধা ও গ্রামীণ মানুষের পানিসংকট দূর করতে খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে আগামী ২০ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামে অনেক নতুন কলকারখানা তৈরি হবে। সেখানে দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি-এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কয়েকটি রাস্তা বা বিল্ডিং তৈরি করে আমরা বলতে চাই না যে দেশ বানিয়ে ফেলেছি। আমাদের রাজনীতি দেশের মানুষকে ঘিরে। সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ-এটাই আমাদের লক্ষ্য।

কালের আলো/এসআর/এএএন

১২৪৪ কোটি টাকার সিড মানির ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
১২৪৪ কোটি টাকার সিড মানির ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ক্রীড়াঙ্গনে সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি একই সাথে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে পরনির্ভরশীলতা থেকে বের করে এনে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রায় ১২৪৪ কোটি টাকার একটি ঐতিহাসিক ‘সিড মানি’ বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল অনুমোদনের বিষয়টি অবহিত করেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনস্থ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সভাকক্ষে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস, হকি, সাইক্লিং, সাঁতার, শ্যুটিং, কাবাডি, ভলিবল, দাবা, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিস, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, আর্চারি এবং অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের নবনিযুক্ত এডহক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, অনুমোদিত এই সিড মানি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর মাঝে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই সুবিশাল তহবিল থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ প্রতি বছর সরাসরি ফেডারেশনগুলোকে প্রদান করা হবে, যা দিয়ে তারা ফুটবল, হকি, আর্চারি, শুটিংয়ের মতো নিজ নিজ খেলাধুলার দৈনন্দিন কার্যক্রম ও খেলোয়াড়দের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবে। লভ্যাংশের বাকি ২৫ শতাংশ মূল তহবিলের সাথে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে যুক্ত হবে, যেন ভবিষ্যতেও ক্রীড়া খাত টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো লাভ করতে পারে।

ফেডারেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমিনুল হক জানান, জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে অপরাধের ব্যাপারে শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শনের ওপর জোর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনে জমে থাকা দুর্নীতি ও অপকর্ম ইতোমধ্যে সরকারের নজরে এসেছে এবং বিভিন্ন সংস্থাও এগুলো তদন্ত করে কাজ করছে। অতীতে ক্রীড়া সংগঠকদের একাংশের মধ্যে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার যে ভুল ধারণা ছিল, তা ভেঙে ফেলার বার্তা দেন তিনি।

সভায় বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, আইন সবার জন্য সমান। দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সাথে জড়িত কেউ প্রমাণসহ ধরা পড়লে কেবল সাংগঠনিক শাস্তিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে না, বরং সরাসরি দেশের প্রচলিত কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।

একই সাথে তিনি নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ দেন। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী দেশের প্রখ্যাত শুটার শারমিন আক্তার রত্না ও প্রবীণ নারী সংগঠকদের প্রশংসা করেন এবং দেশের প্রতিটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নারীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।

ভবিষ্যৎ ক্রীড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট ক্রীড়া পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করার জন্য ফেডারেশনগুলোকে নির্দেশ দেন। এখন থেকে প্রতিটি ফেডারেশনকে জাতীয় পর্যায়ে বছরে সর্বনিম্ন ৪টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধি পাঠাতে বা দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে অন্তত ৩টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি চার মাস পর পর তাদের পারফরম্যান্স কঠোরভাবে পর্যালোচনা বা রিভিউ করা হবে। পর্যালোচনায় পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে নির্ধারিত ক্রীড়াবিদদের ভাতার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সম্ভাবনাময় নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পে-স্কেল নিয়ে ‘সুখবর’ দিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
পে-স্কেল নিয়ে ‘সুখবর’ দিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার যেকোনও সময় নতুন এই বেতনকাঠামো ঘোষণা করতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মুখ্য সচিব বলেন, নতুন পে-স্কেলের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো দেওয়ার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার জন্য আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। তবে ঠিক কবে এটি ঘোষণা হবে, কী হারে মূল বেতন বাড়বে কিংবা ভাতা ও পেনশনের কাঠামো কী হবে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা বা সময়সীমা জানাননি তিনি।

২০১৫ সালে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর গত ১১ বছরে নতুন কোনও পে-স্কেল হয়নি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতনকাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে।

প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হলে সরকারের রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। নতুন পে-স্কেলের কারণে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন মুখ্য সচিব।

তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের আয় সমন্বয় করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, নতুন পে-স্কেলের কারণে সরকারের ওপর যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজস্ব সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এর আগে নবম পে-স্কেল নিয়ে সচিব পর্যায়ের একটি কমিটি বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করেছে। নতুন বেতনকাঠামো এক ধাপে নাকি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে, মূল বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা একই সময়ে কার্যকর হবে কিনা—এসব বিষয় নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মেধাবী উদ্যোক্তার অভাব নেই, দরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
মেধাবী উদ্যোক্তার অভাব নেই, দরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশে মেধাবী উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী ধারণার অভাব নেই। আমরা এমন একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে থাকবে না।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড আয়োজিত ‘ফান্ড অব ফান্ডস’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দক্ষতা, সুশাসন ও পেশাদারত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ফান্ড অব ফান্ডস পরিচালনা করা হবে।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে প্রায় ১১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি  খাতকেও স্টার্টআপে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে উদ্যোগ সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, বাস্তবে কাজ করে এর সুফল নিশ্চিত করতে হবে। ফান্ড অব ফান্ডসের মাধ্যমে দেশে আরও বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মূলধন আনার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে একটি গেম-চেঞ্জিং উদ্যোগ। এটি দেশের স্টার্টআপ খাতকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পুঁজি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্ভাবননির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও স্টার্টআপ খাত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুধু অর্থায়ন নয়, স্টার্টআপদের মেন্টরশিপ, দক্ষতা, বাজারসংযোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ফান্ড অব ফান্ডসের মাধ্যমে বিনিয়োগের পাশাপাশি এসব সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আইনসম্মত মুনাফা ও মূলধন সহজে প্রত্যাবাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু স্টার্টআপে বিনিয়োগই বাড়াবে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ অবকাঠামোও গড়ে তুলবে।

অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই ফান্ডটির কাঠামো, বিনিয়োগ কৌশল, ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচন প্রক্রিয়া, কো-ইনভেস্টমেন্ট ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় শক্তিশালী সুশাসন, পেশাদার ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও বিশ্বাসযোগ্য বিনিয়োগ কৌশলসম্পন্ন নির্বাচিত দেশি ও আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হবে।

উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড (এসবিএল) বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে স্থানীয়, আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকার-সমর্থিত ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে এ তহবিলের আকার ৪০০ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইউকো, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী এবং ইকোসিস্টেমের সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ