খুঁজুন
                               
, ,
           

১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা দু-এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা দু-এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের স্বাস্থ্যসেবায় যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে, তা দু-এক মাসে ঠিক করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, চিকিৎসকের অবহেলায় কনিকা রানী মণ্ডলের (৩২) মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতাল ও চিকিৎসক লক্ষ্মী রানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কনিকা রানীর বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার পর এই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিবেদন দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। এগুলো এখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরে গড়ে ওঠা সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়।

দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের জন্য ৫০ শয্যা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব সেন্টারের কাজ শুরুর লক্ষ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন কনিকা মণ্ডল অসুস্থ হলে তাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে কনিকাকে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কনিকা কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরদিন তার পেট ফুলে যায় ও তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এরপর তাকে রাজধানীর কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা কনিকার পেটে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করতে পারেন। ১৯ আগস্ট রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মণ্ডল মারা যান।

এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরি মুস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদে শপথের ডাক পেলেন ৬ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদে শপথের ডাক পেলেন ৬ জন

সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় আকার বাড়ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার। নতুন করে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন পাঁচজন সংসদ সদস্য এবং একজন উপদেষ্টা। নতুন করে দায়িত্ব পেতে যাওয়া পাঁচজনকে ইতোমধ্যে শপথের জন্য বঙ্গভবনে ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার আগে তারা বঙ্গভবনে পৌঁছেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পদোন্নতি দিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন করে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের মধ্য দিয়ে সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হচ্ছে। এর ফলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বের পরিধিও বাড়তে পারে।

নতুন করে দায়িত্ব পেতে যাওয়া ব্যক্তিদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাদের বঙ্গভবনে ডাকা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।

তবে কে কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে বিস্তারিত জানা যাচ্ছে না। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খানের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির বাইরে থাকা মিত্র রাজনৈতিক শক্তিরও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনও নতুন করে সরকারের দায়িত্বে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও এবার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এই নেতা দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সহযোগী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপির আন্তর্জাতিক কর্মকৌশল নির্ধারণ ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগে তার ভূমিকা ছিল। সম্প্রতি তাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা করা হয়েছিল। এবার মন্ত্রিসভায় তাকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত এর আগে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদেও এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এবার মন্ত্রিসভায় তার দায়িত্ব আরও বাড়ানো হচ্ছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের ইঙ্গিত, আধা ঘণ্টার মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের ইঙ্গিত, আধা ঘণ্টার মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ভারতের

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে জারিকৃত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই তা আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই সফর নিয়ে চলমান আলোচনা ও এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে আগামীকাল শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে না।

দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে একই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এবং দেশটির বার্তা সংস্থা আইএএনএস। তবে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে দুপুর ৩টার দিকে সব জায়গা থেকেই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলা হয়।

এর কিছুক্ষণ পরই রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে নতুন আরেকটি বিবৃতির মাধ্যমে পূর্বের বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “নয়াদিল্লি বা ঢাকার পক্ষ থেকে এই হাই-প্রোফাইল সফরটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান হবে না বিষয়ে ২০২৬ সালের ২১শে আগস্ট জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হলো।”

প্রসঙ্গত, ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে আগত রাষ্ট্রপ্রধান এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য দেশটির রাষ্ট্রপতি ভবনে সামরিক ও কূটনৈতিক ঐতিহ্য হিসেবে এক জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। এটি রাষ্ট্রপতি ভবনের সম্মুখ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে থাকে তিন-বাহিনীর আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার, জাতীয় সঙ্গীত এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় পর্ব।

এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সম্প্রতি দিল্লিতে বসে তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণে দ্বিপাক্ষিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং অন্যান্য আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া এবং একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চূড়ান্ত হচ্ছে না।

যদিও ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের পাঠানো এই প্রত্যর্পণের আবেদনটি তাদের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অধীনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের পর্দা উঠছে কাল, উদ্বোধনী ম্যাচে সিটি-বাগমারা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের পর্দা উঠছে কাল, উদ্বোধনী ম্যাচে সিটি-বাগমারা

তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার, তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা অন্বেষণ এবং তরুণদের মাদক ও মোবাইল-ডিজিটাল আসক্তি থেকে মাঠমুখী করতে রাজশাহীতে শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।

জেলা প্রশাসন ও রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনে আগামীকাল শনিবার বিকেল ৩টায় রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি।

টুর্নামেন্টে জেলার নয়টি উপজেলা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ মোট ১০টি দল অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দলগুলো হলো—মোহনপুর, গোদাগাড়ী, বাগমারা, পবা, দুর্গাপুর, তানোর, বাঘা, পুঠিয়া, চারঘাট উপজেলা এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন।

উদ্বোধনী ম্যাচে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ফুটবল দলের মুখোমুখি হবে বাগমারা উপজেলা ফুটবল দল। ম্যাচটি ঘিরে ইতোমধ্যে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন দলের প্রধান কোচ শ্যামল পারভেজ শিমুল জানান, এবারের টুর্নামেন্টের জন্য তারা শক্তিশালী দল গঠন করেছেন। দলের শক্তি বাড়াতে তিনজন নাইজেরিয়ান ফুটবলারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামবেন।

তিনি জানান, সিটি করপোরেশন দল প্রায় এক মাস ধরে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলন করছে। দলের সহকারী কোচ সোহাগ হোসেন পলাশও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে বাগমারা উপজেলা দলের কোচ জুয়েল জানান, টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে তারাও শক্তিশালী দল গঠন করেছেন। তবে দলে কোনো বিদেশি ফুটবলার নেই। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে বাগমারার একটি স্কুল মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করছে দলটি। তার মতে, উদ্বোধনী ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও জমজমাট হবে।

টুর্নামেন্ট উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করাই টুর্নামেন্টের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলা প্রশাসক জানান, টুর্নামেন্ট আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য স্টেডিয়ামে প্রেস বক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

এদিকে টুর্নামেন্ট সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের মাঠের ঘাস কেটে খেলার উপযোগী করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্যালারিও রং করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি