১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা দু-এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের স্বাস্থ্যসেবায় যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে, তা দু-এক মাসে ঠিক করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, চিকিৎসকের অবহেলায় কনিকা রানী মণ্ডলের (৩২) মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতাল ও চিকিৎসক লক্ষ্মী রানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কনিকা রানীর বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার পর এই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিবেদন দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। এগুলো এখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরে গড়ে ওঠা সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়।
দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের জন্য ৫০ শয্যা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব সেন্টারের কাজ শুরুর লক্ষ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন কনিকা মণ্ডল অসুস্থ হলে তাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে কনিকাকে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কনিকা কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরদিন তার পেট ফুলে যায় ও তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এরপর তাকে রাজধানীর কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা কনিকার পেটে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করতে পারেন। ১৯ আগস্ট রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মণ্ডল মারা যান।
এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরি মুস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array