খুঁজুন
                               
, ,
           

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা

বঙ্গভবনে যাওয়ার আগেই রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) তিনি বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

রাজনীতির দীর্ঘ পথ চলায় বিএনপি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কবরে বহুবার দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছেন।

তবে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ভিন্ন আবহে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়েছে। কারণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে তার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যে কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নিরাপত্তাবাহিনীর কড়াকড়ি ছিল।

এই সময়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব ইউনুস আলী সঙ্গে ছিলেন।

কবর জিয়ারতের সময় সমাধি প্রাঙ্গণের চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে থেকে ১টা ৪৬ মিনিটে সরাসরি আসেন শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে সুরা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে মোট ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল। আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন তিনি। এই বিশেষ আনুষ্ঠানিকতার আগেই বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব তার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জাতীয় পার্টির মহাসচিব হলেন কাজী নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
জাতীয় পার্টির মহাসচিব হলেন কাজী নাহিদ

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব নিযুক্ত হয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মো. নাহিদ।

এছাড়া পার্টির কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত নিযুক্ত হয়েছেন আহসান হাবীব লিংকন ও নওয়াব আলী আব্বাস খান।

শনিবার (২২ আগস্ট) খিলগাঁও এর দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মাওলানা রুহুল আমিন, আলহাজ্ব সেলিম মাস্টার, ব্যারিস্টার জুবায়ের হায়দার, ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল হুদা, যুগ্ন মহাসচিব এ. এস. এম. শামীম, কাজী মোহাম্মদ নজরুল, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী ওমর ফারুক, এ ইউ এম মামুন চেধুরী, মো. মহসীন মিয়া, জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন সরকার, এ. কে. এম. মাইনুল হক, জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমেদ ও  সদস্য সচিব মেহেদী হাসান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

পরে সভার সিদ্ধান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান পার্টির দফতর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মন্ত্রিত্ব ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
মন্ত্রিত্ব ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন

তথ্যসম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জহির উদ্দিন স্বপনএকই সঙ্গে তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তার পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এর আগে সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসে জহির উদ্দিন স্বপনের কাছ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে দেওয়া হয়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর পার্থকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মন্ত্রিসভার ওই রদবদলের অংশ হিসেবে শুক্রবার দিবাগত রাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

রদবদলে প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রীর পদ ছাড়ায় মন্ত্রণালয়টির দায়িত্ব শূন্য হয়েছিল।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চার পূর্ণমন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। তাদের শপথের পরপরই সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রথম বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘এখনই যুদ্ধ শেষ করার সময়’-ইরানের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
‘এখনই যুদ্ধ শেষ করার সময়’-ইরানের প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ এখনই শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই তিনি বলেছেন, ইরান এখন ‘শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে’ রয়েছে।

শুক্রবার চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান অবস্থান থেকে যুদ্ধ শেষ করাই ইরানের জন্য ভালো হবে। তাঁর দাবি, বিশ্ব এখন ইরানের বিজয় স্বীকার করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হচ্ছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে বলে বিশ্ব মনে করছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বজুড়ে ঘৃণিত হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। ইরানের পার্লামেন্টের কট্টরপন্থী সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, ওই সমঝোতার মাধ্যমে সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিয়েছে।

এর জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, সমঝোতার কোনো ধারাতেই ইরানের আত্মসমর্পণের কথা নেই। বরং প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব অপর পক্ষের ওপরই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব নতুন কোনো হুমকি এলে পাল্টা হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, বিমান প্রতিরক্ষা ও সাইবার—সব ক্ষেত্রেই ইরানের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি এলে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শুক্রবার ফোনে কথা বলেছেন। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই মন্ত্রী কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরুর উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের কিছু অংশ ইরান এখনো বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের একটি গোপন বহর চলাচল করছে এবং এসব ট্যাংকারকে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে বলে এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইরান আলোচনায় বসতে কতটা আগ্রহী, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালি, এর আশপাশের স্থলভূমি এবং পুরো অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। ইরান একটি চুক্তি করতে চাইলেও সঠিক চুক্তির জন্য তারা এখনো প্রস্তুত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ইরানকে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও বলেছেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের সরকারকে ‘ধসিয়ে দেওয়া’ হবে।

ফলে একদিকে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানাচ্ছে তেহরান, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি—দুই দিকেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পরিস্থিতি।

কালের আলো/এসএ