খুঁজুন
                               
, ,
           

দল ‘নিবন্ধিত’ সংগঠন ‘অদৃশ্য’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
দল ‘নিবন্ধিত’ সংগঠন ‘অদৃশ্য’

মিরপুর ডিএইচএসের একটি বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে খোঁজ করা হলো বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ইসির নথিতে ঠিকানাটি স্পষ্ট। কিন্তু বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীর পরিবার জানাল, সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস নেই। থাকেন দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর পরিবার। দলের কার্যালয়ের বদলে ভবনটি এখন কার্যত একটি আবাসিক ঠিকানা।

  • রাজধানীতে ৮ নিবন্ধিত দলের কার্যালয়ের হদিস নেই; ৩টি তালাবদ্ধ
  • মাঠপর্যায়ে ৩৬ দলের সংগঠনের হদিস নেই
  • কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা—কার্যালয় ও কর্মীহীনতার চিত্র

মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় জাতীয় পার্টি-জেপির যে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা, সেখানেও নেই কোনো দলীয় তৎপরতা। দরজার ওপাশে রাজনৈতিক কর্মী নয়, থাকছেন ব্যাচেলর ভাড়াটেরা। পুরানা পল্টনের তোপখানা রোডে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের নামে দেওয়া ঠিকানাতেও মিলল না দলের কোনো চিহ্ন। ভবন মালিকের ভাষ্য, দলটি প্রায় এক বছর আগেই চলে গেছে।

আরও এক ধাপ এগিয়ে পুরানা পল্টনের ইশরাত টাওয়ার। ইসির নথিতে এখানে গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা। বাস্তবে নেই অফিস, নেই দলীয় কার্যক্রমও। দলের সভাপতিই বলছেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি সেখানে নেই। দলের কার্যক্রমও নেই।’ অর্থাৎ ইসির কাগজে যে ঠিকানাগুলো এখনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করছে, সরেজমিনে তার অনেকগুলোর অস্তিত্বই মিলছে না।

কোথাও অফিস নেই, কোথাও অফিস থাকলেও মাসের পর মাস তালাবদ্ধ। আবার কোনো দলের কার্যালয় এখন ব্যক্তিগত বাসা, কোনোটি আইনজীবীর চেম্বার কিংবা অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক বাস্তবতা খুঁজতে গিয়ে এমনই এক অস্বস্তিকর চিত্র উঠে এসেছে।

৬০ দলের মধ্যে ঢাকাতেই ৮টির কার্যালয় নেই
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৬০টি। এর মধ্যে রাজধানীতে ইসির দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে আটটি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পাওয়া যায়নি। আরও তিনটি দলের কার্যালয় থাকলেও সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ এই হিসাবের বাইরে।

ইসিতে নিবন্ধিত ৪৮টি দলের কার্যালয় ঘুরে, ভবন কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধনের সময় দলগুলো যে সাংগঠনিক উপস্থিতির দাবি করেছিল, তার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার অনেক ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

কাগজে কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বাস্তবে অন্য ঠিকানা
বিএনএফের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদে তাঁদের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর সেখানে আর যাওয়া হয়নি। বর্তমানে ডিওএইচএসের একটি ছোট জায়গা সভাপতির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রেস্তোরাঁ বা কারও বাসায় বৈঠক করতে হয়।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মিরপুরের ঠিকানায় গিয়ে কোনো কার্যালয় পাওয়া যায়নি। দলটির প্রধান আবু লায়েস মুন্না জানিয়েছেন, অফিস এখন বন্ধ এবং পল্টন এলাকায় নতুন কার্যালয় খোঁজা হচ্ছে।

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের গুলশানের ঠিকানাতেও নেই দলটির কার্যালয়। মহাসচিব শেখ রায়হান রাহবার জানিয়েছেন, মার্চের পর তাঁরা ওই অফিস ছেড়েছেন; এখনো নতুন জায়গা পাননি।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির পুরানা পল্টনের অফিসও নেই। দলের সংশ্লিষ্ট নেতার ভাষ্য, পুরোনো কার্যালয় ছেড়ে বায়তুল মোকাররমের আশপাশে নতুন অফিস নেওয়া হয়েছে। তবে সেই কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট ঠিকানাও তিনি জানাতে পারেননি।

কোথাও সাইনবোর্ড আছে, ভেতরে নীরবতা
তৃণমূল বিএনপির ক্ষেত্রে আবার ইসির ঠিকানায় দলীয় সাইনবোর্ড রয়েছে। তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার ১৬ তলায় কার্যালয় থাকলেও সেটি তালাবদ্ধ। ভবনের কর্মচারী জানান, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম সেখানে হয় না; জায়গাটি মূলত ‘দ্য চ্যানচেরি চেম্বারস’ ল ফার্মের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ধানমণ্ডির বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের কার্যালয়ের অবস্থাও প্রায় একই। ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর দাবি, তিন মাসে মাত্র দুদিন কয়েকজনকে সেখানে দেখা গেছে। বাকি সময় কার্যালয় বন্ধ থাকে।

ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির কার্যালয় রয়েছে, কিন্তু সেটিও নিয়মিত খোলে না। নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য, ৫ আগস্টের আগে সেখানে একজন নিয়মিত থাকতেন; এরপর বিচ্ছিন্নভাবে এক-দুজন এলেও কার্যালয় প্রায় সবসময় বন্ধ।

মোহাম্মদপুরে বিএনএমের নামে একটি কক্ষ থাকলেও সাইনবোর্ড নেই। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর দলটির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। দলটির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরও বলেছেন, এখন আর দলের কার্যক্রম নেই এবং কার্যালয়ও বন্ধ থাকে।

ঢাকার বাইরে চিত্র আরও ফ্যাকাশে
রাজধানীর বাইরের বাস্তবতা আরও দুর্বল। নিবন্ধনের সময় অন্তত ২১টি জেলা এবং ১০০টি উপজেলা বা থানায় দলীয় কার্যালয়ের তথ্য দিয়েছিল বিভিন্ন দল। কিন্তু সরেজমিনে এসব কার্যালয়ের বড় একটি অংশের অস্তিত্ব বা নিয়মিত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

নড়াইলে জাতীয় পার্টি, সিপিবি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি, বাসদ, এনপিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড রয়েছে। তবে বেশির ভাগ কার্যালয় বছরের পর বছর তালাবদ্ধ।

নিয়মিত কার্যক্রমের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে দেখা যায় বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার ও এনসিপির। ঝালকাঠিতেও কয়েকটি নিবন্ধিত দলের কার্যালয় রয়েছে। তবে সব দলের সাংগঠনিক তৎপরতা সমান নয়।

নিবন্ধনের শর্ত কি শুধু কাগজেই?
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের সঙ্গে সাংগঠনিক উপস্থিতির বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। অথচ নিবন্ধনের পর সেই কাঠামো বাস্তবে কতটা টিকে আছে, তা নিয়মিত যাচাইয়ের প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, কার্যালয় ও কার্যক্রমহীন দলকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং এ ক্ষেত্রে ইসির নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

নামের সঙ্গে সংগঠনও কি আছে?
নিবন্ধিত ৬০টি দলের সবাই যে একই অবস্থায় রয়েছে, তা নয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপিসহ কয়েকটি দলের নিয়মিত রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান। আবার অনেক দলের কার্যক্রম সীমিত, কোনো কোনো দলের ক্ষেত্রে তা প্রায় অদৃশ্য।

তবে প্রশ্নটি থেকেই যায়—নিবন্ধনের সময় যে সাংগঠনিক কাঠামো দেখিয়ে একটি দল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেল, কয়েক বছর পর সেই কাঠামোর অস্তিত্ব কোথায়? কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেই, জেলা-উপজেলায় সংগঠন নেই, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রমও নেই—তবু নিবন্ধন বহাল থাকছে কোন বাস্তবতার ভিত্তিতে?

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কেবল একটি নাম, প্রতীক ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রশ্ন। তাই ইসির নথিতে থাকা ঠিকানার সঙ্গে মাঠের বাস্তবতা মিলিয়ে দেখা এখন আর নিছক প্রশাসনিক কাজ নয়; এটি নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও যুক্ত।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

আগুন লাগছে, পুড়ছে প্রাণ—ঘুম ভাঙবে কবে?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
আগুন লাগছে, পুড়ছে প্রাণ—ঘুম ভাঙবে কবে?

দেশে অগ্নিকাণ্ড এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং মানুষের জীবন, আবাসন নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। রাজধানীর বহুতল ভবন থেকে শুরু করে পর্যটনকেন্দ্র—বিভিন্ন স্থানে আগুনের ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদহানির খবর সামনে আসছে নিয়মিত। আগুন লাগার পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও অনেক ক্ষেত্রে ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পাশাপাশি আগুন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে?

  • পাঁচ বছরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি ২ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা
  • আবাসিক ভবন থেকে পর্যটনকেন্দ্র, একের পর এক প্রাণহানিতে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
  • প্রতিরোধ, প্রশিক্ষণ ও তদারকিতে কার্যকর উদ্যোগের তাগিদ

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিসংখ্যান বলছে, অগ্নিকাণ্ডের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। গত পাঁচ বছরে এসব ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৬৯ কোটি ৫২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তই সারা দেশে ১৯ হাজার ৮৪৬টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪৫৩ কোটি ৫ লাখ টাকার বেশি। এসব পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের সর্বস্ব হারানো, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর বেদনা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকট।

প্রাণহানির ঘটনা সতর্কবার্তা দিচ্ছে
গত ২৭ জুন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কাঁটাবনে একটি ১৪ তলা আবাসিক ভবনের ১২ তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দুজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। এর আগে ১৬ জানুয়ারি উত্তরার একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে দুটি পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ গত শনিবার ভোরে কক্সবাজারের ইনানী বিচসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আহত ও দগ্ধ হন আরও অনেকে।

ঘটনাগুলোর স্থান ও পরিস্থিতি আলাদা হলেও এগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন উদ্বেগ রয়েছে—আগুনের সময় মানুষের নিরাপদে বেরিয়ে আসা এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর। আবাসিক ভবনে একাধিক পরিবারের বসবাস, বহুতল ভবনের উচ্চতা কিংবা পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের রাতযাপন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর প্রথম কয়েক মিনিট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে আগুনের বিস্তার ঠেকানো না গেলে ধোঁয়া ও তাপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, আর নিরাপদে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। তাই শুধু অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন করাই যথেষ্ট নয়; সেগুলো ব্যবহার করার দক্ষতা এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতিও থাকতে হবে।

বছরে হাজার হাজার আগুন, ক্ষতির অঙ্ক শতকোটি টাকা
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। ২০২৪ সালে ২৬ হাজার ৬৫৯টি ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪৪৬ কোটি ২৮ লাখ ৩ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি হয় ৭৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

পরিসংখ্যানের তুলনায় দেখা যায়, প্রতিবছর অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা কাছাকাছি থাকলেও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ শুধু কতটি আগুন লাগল, সেই হিসাব দিয়ে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র বোঝা যায় না। আগুন কোথায় লাগছে, কত দ্রুত ছড়াচ্ছে, সেখানে কী ধরনের দাহ্যবস্তু রয়েছে এবং আগুন নেভানোর ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—এসব বিষয়ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করে।

অগ্নিকাণ্ডের আর্থিক ক্ষতি শুধু পুড়ে যাওয়া স্থাপনা বা মালামালের বাজারমূল্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়ে গেলে তাদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের চাপ তৈরি হয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ব্যবসা আবার চালু করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য সরাসরি হিসাবের চেয়েও বড় হতে পারে।

বৈদ্যুতিক গোলযোগ বড় ঝুঁকি
অগ্নিকাণ্ডের কারণ বিশ্লেষণে বৈদ্যুতিক গোলযোগের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে মোট ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে ৯ হাজার ৩৯২টি ঘটেছে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে। অর্থাৎ ওই বছরের মোট অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৩৬ শতাংশের সঙ্গে এই কারণটি জড়িত ছিল।

বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি, নিম্নমানের তার ও সরঞ্জাম, অতিরিক্ত লোড এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আগুনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ভবনে নতুন বৈদ্যুতিক যন্ত্র যুক্ত হলেও সংযোগব্যবস্থা সেই বাড়তি চাপ সামলানোর উপযোগী কি না, তা অনেক সময় যাচাই করা হয় না। আবার ত্রুটিপূর্ণ তার বা সংযোগের সমস্যা দেখা দিলেও তাৎক্ষণিক মেরামতের বদলে অবহেলা করা হয়।

এই ঝুঁকি কমাতে ভবনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা, অনুমোদিত ও মানসম্মত সরঞ্জাম ব্যবহার এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আবাসিক ভবন, হোটেল ও রিসোর্টের মতো স্থানে এ ধরনের পরীক্ষা আরও গুরুত্বের সঙ্গে করা দরকার। কারণ, এসব স্থানে আগুন লাগলে সেখানে অবস্থানরত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়।

ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগের সময়টাই গুরুত্বপূর্ণ
আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে—এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত ইউনিট পাঠানো হলেও যোগাযোগ ও সড়কব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কখনো কখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটায়।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, তাঁদের নিয়মিত কার্যক্রম অনুযায়ী আগুনের সংবাদ পাওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে স্টেশন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ কার্যক্রমের রেকর্ডও সংরক্ষণ করা হয়।

তবে দ্রুত স্টেশন ত্যাগ করা এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এক বিষয় নয়। যানজট, সরু সড়ক, ভবনে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা কিংবা আশপাশে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলতে পারে। এ কারণে অগ্নিনিরাপত্তার পরিকল্পনায় ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতির পাশাপাশি ভবনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহর মতে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি কমাতে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রথম সাড়াদানকারীদেরও প্রশিক্ষিত করতে হবে। অর্থাৎ আগুন লাগার মুহূর্তে ভবনের বাসিন্দা, কর্মচারী বা নিরাপত্তাকর্মীরা যেন পরিস্থিতি বুঝে নিরাপদ পদক্ষেপ নিতে পারেন, সেই প্রস্তুতি থাকতে হবে।

ভবন নির্মাণে নিয়ম থাকলেই হবে না, বাস্তবায়নও জরুরি
অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, ভবন নির্মাণের সময় প্রযোজ্য বিধিমালা ও নিরাপত্তার শর্ত কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেছেন, ভবন নির্মাণবিধি ও অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে মানার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে ব্যবস্থা থাকার চিত্র পাওয়া গেলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয় না।

এ সমস্যা সমাধানে শুধু ভবনের নকশা অনুমোদনের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করলেই চলবে না। ভবন ব্যবহারের সময়ও নিয়মিত পরিদর্শন প্রয়োজন। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র কার্যকর আছে কি না, জরুরি বহির্গমনপথ বাধামুক্ত কি না, সতর্কীকরণব্যবস্থা সচল কি না এবং বাসিন্দারা আগুনের সময় করণীয় জানেন কি না—এসব বিষয় নিয়মিত যাচাই করতে হবে।

নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে নিরাপত্তাবিধি অনেক সময় আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ভবনমালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। অগ্নিনিরাপত্তাকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে না দেখে মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষার অপরিহার্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

শুষ্ক মৌসুমে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন
সাবেক মহাপরিচালক আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়তে পারে। এ সময়ে শুষ্ক আবহাওয়া এবং হিটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে মৌসুমভিত্তিক সতর্কতা, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার প্রয়োজনীয়তা বাড়ে।

তবে অগ্নিনিরাপত্তাকে শুধু শীতকাল বা নির্দিষ্ট মৌসুমের প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বছরের সব সময় ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। একই সঙ্গে বাসিন্দা ও কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে জরুরি মুহূর্তে আতঙ্কের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।

প্রতিরোধেই কমবে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি
দেশে অগ্নিকাণ্ডের পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক প্রাণহানির ঘটনা দেখাচ্ছে, শুধু আগুন নেভানোর সক্ষমতা বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন আগুন লাগার ঝুঁকি কমানো, দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা।

এ জন্য ভবনের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি বহির্গমনপথ সচল রাখা, বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণ এবং বিধিমালার কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো এবং উদ্ধারকাজে প্রতিবন্ধকতা কমানোর উদ্যোগও প্রয়োজন।

অগ্নিকাণ্ডে প্রতিবার প্রাণহানি ও বিপুল সম্পদহানির পর নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশের বদলে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, আগুন লাগার পর ক্ষতি পূরণ করা কঠিন; কিন্তু যথাযথ প্রস্তুতি, কার্যকর নজরদারি ও জনসচেতনতার মাধ্যমে অনেক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আগেই কমানো সম্ভব।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

সৌদি আরব থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে সহযোগিতা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে সহযোগিতা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ পরিবার

সৌদি আরবে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি নূরুল হকের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ আদায়ে সহযোগিতা করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নূরুল হকের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় সৌদি আরব থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্য তাঁরা ধন্যবাদ জানান। সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিহত নূরুল হকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার বিষয়টি পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশির পরিবারের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

 

ধূমকেতুর রেকর্ড ছুঁতে পারল না ‘দেশু ৭’

বিনোদন ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
ধূমকেতুর রেকর্ড ছুঁতে পারল না ‘দেশু ৭’

মুক্তির আগে দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলীর নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। কলকাতা থেকে ত্রিপুরার আগরতলা—বিভিন্ন শহরে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন এই জুটি। তবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর এবার আলোচনায় সিনেমাটির বক্স অফিস সংগ্রহ। প্রথম তিন দিনে ২ কোটি রুপির বেশি আয় করলেও দেবের আগের সিনেমা ‘ধূমকেতু’র প্রথম সপ্তাহান্তের সংগ্রহকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি ছবিটি।

তিন দিনে আয় ২ কোটি ২১ লাখ রুপি
ভারতীয় গণমাধ্যমের বক্স অফিস-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘দেশু ৭’। মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহান্তের হিসাব সামনে আসতেই দেখা যায়, রোববার (১৮ অক্টোবর) পর্যন্ত ভারতে সিনেমাটির মোট নেট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ রুপি। গ্রস আয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫৭ লাখ রুপি।

শুধু রোববারেই ছবিটি নেট আয় করেছে প্রায় ৭২ লাখ রুপি। এদিন সকালে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক উপস্থিতির হার ছিল ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। সন্ধ্যার শোগুলোতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশে। অর্থাৎ দিনের শেষ ভাগে দর্শক উপস্থিতি ও আয়ের ক্ষেত্রে উন্নতি দেখা গেছে।

ধূমকেতুর তুলনায় পিছিয়ে দেশু ৭
দেবের আগের সিনেমা ‘ধূমকেতু’র সঙ্গে তুলনায় এখনো পিছিয়ে রয়েছে ‘দেশু ৭’। মুক্তির প্রথম রোববারে ‘ধূমকেতু’ নেট আয় করেছিল প্রায় ৯৯ লাখ রুপি। সেখানে একই সময়ে ‘দেশু ৭’-এর আয় প্রায় ৭২ লাখ রুপি। ফলে প্রথম সপ্তাহান্তের সংগ্রহের দিক থেকে আগের সিনেমাটির রেকর্ড ছুঁতে পারেনি নতুন ছবিটি।

তবে চলতি ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া বাংলা সিনেমাগুলোর মধ্যে প্রথম দিনে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে ‘দেশু ৭’। মুক্তির দিন ছবিটির নেট সংগ্রহ ছিল প্রায় ৭০ লাখ রুপি। এখন পূজার বাকি ছুটিতে সিনেমাটি কতটা দর্শক টানতে পারে, সেটিই হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রথমবার পরিচালনায় দেব
‘দেশু ৭’ দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলীর সপ্তম যৌথ সিনেমা। ছবিটির মধ্য দিয়ে প্রথমবার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন দেব। এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্যও। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ায় সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল আরও বেশি।

মুক্তির আগে দেব ও শুভশ্রীর প্রচারণার বিভিন্ন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতা ছাড়াও আগরতলাসহ বাংলাভাষী অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে প্রচার অনুষ্ঠানে অংশ নেন তাঁরা। সিনেমার প্রচারণায় তাঁদের রসায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। তবে সেই আগ্রহ বক্স অফিসে প্রত্যাশিত মাত্রায় প্রতিফলিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পূজার ছুটিতে একাধিক সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা
দুর্গাপূজার ছুটিতে একাধিক সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে ‘দেশু ৭’-কে। একই সময়ে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য একেন: কেরালা এক কুরুক্ষেত্র’, ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ এবং ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’। ফলে দর্শক টানতে সিনেমাটিকে একাধিক ছবির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। এদিকে কলকাতার একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনার পর সরকার কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক উপস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পরও ‘দেশু ৭’-এর বক্স অফিস আয় এখন পর্যন্ত প্রত্যাশার তুলনায় কতটা সফল, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সামনের দিনগুলোতে দর্শক উপস্থিতি বাড়লে ছবিটির মোট সংগ্রহেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এসএ