খুঁজুন
                               
, ,
           

দল ‘নিবন্ধিত’ সংগঠন ‘অদৃশ্য’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
দল ‘নিবন্ধিত’ সংগঠন ‘অদৃশ্য’

মিরপুর ডিএইচএসের একটি বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে খোঁজ করা হলো বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ইসির নথিতে ঠিকানাটি স্পষ্ট। কিন্তু বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীর পরিবার জানাল, সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস নেই। থাকেন দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর পরিবার। দলের কার্যালয়ের বদলে ভবনটি এখন কার্যত একটি আবাসিক ঠিকানা।

  • রাজধানীতে ৮ নিবন্ধিত দলের কার্যালয়ের হদিস নেই; ৩টি তালাবদ্ধ
  • মাঠপর্যায়ে ৩৬ দলের সংগঠনের হদিস নেই
  • কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা—কার্যালয় ও কর্মীহীনতার চিত্র

মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় জাতীয় পার্টি-জেপির যে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা, সেখানেও নেই কোনো দলীয় তৎপরতা। দরজার ওপাশে রাজনৈতিক কর্মী নয়, থাকছেন ব্যাচেলর ভাড়াটেরা। পুরানা পল্টনের তোপখানা রোডে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের নামে দেওয়া ঠিকানাতেও মিলল না দলের কোনো চিহ্ন। ভবন মালিকের ভাষ্য, দলটি প্রায় এক বছর আগেই চলে গেছে।

আরও এক ধাপ এগিয়ে পুরানা পল্টনের ইশরাত টাওয়ার। ইসির নথিতে এখানে গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা। বাস্তবে নেই অফিস, নেই দলীয় কার্যক্রমও। দলের সভাপতিই বলছেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি সেখানে নেই। দলের কার্যক্রমও নেই।’ অর্থাৎ ইসির কাগজে যে ঠিকানাগুলো এখনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করছে, সরেজমিনে তার অনেকগুলোর অস্তিত্বই মিলছে না।

কোথাও অফিস নেই, কোথাও অফিস থাকলেও মাসের পর মাস তালাবদ্ধ। আবার কোনো দলের কার্যালয় এখন ব্যক্তিগত বাসা, কোনোটি আইনজীবীর চেম্বার কিংবা অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক বাস্তবতা খুঁজতে গিয়ে এমনই এক অস্বস্তিকর চিত্র উঠে এসেছে।

৬০ দলের মধ্যে ঢাকাতেই ৮টির কার্যালয় নেই
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৬০টি। এর মধ্যে রাজধানীতে ইসির দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে আটটি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পাওয়া যায়নি। আরও তিনটি দলের কার্যালয় থাকলেও সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ এই হিসাবের বাইরে।

ইসিতে নিবন্ধিত ৪৮টি দলের কার্যালয় ঘুরে, ভবন কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধনের সময় দলগুলো যে সাংগঠনিক উপস্থিতির দাবি করেছিল, তার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার অনেক ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

কাগজে কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বাস্তবে অন্য ঠিকানা
বিএনএফের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদে তাঁদের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর সেখানে আর যাওয়া হয়নি। বর্তমানে ডিওএইচএসের একটি ছোট জায়গা সভাপতির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রেস্তোরাঁ বা কারও বাসায় বৈঠক করতে হয়।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মিরপুরের ঠিকানায় গিয়ে কোনো কার্যালয় পাওয়া যায়নি। দলটির প্রধান আবু লায়েস মুন্না জানিয়েছেন, অফিস এখন বন্ধ এবং পল্টন এলাকায় নতুন কার্যালয় খোঁজা হচ্ছে।

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের গুলশানের ঠিকানাতেও নেই দলটির কার্যালয়। মহাসচিব শেখ রায়হান রাহবার জানিয়েছেন, মার্চের পর তাঁরা ওই অফিস ছেড়েছেন; এখনো নতুন জায়গা পাননি।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির পুরানা পল্টনের অফিসও নেই। দলের সংশ্লিষ্ট নেতার ভাষ্য, পুরোনো কার্যালয় ছেড়ে বায়তুল মোকাররমের আশপাশে নতুন অফিস নেওয়া হয়েছে। তবে সেই কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট ঠিকানাও তিনি জানাতে পারেননি।

কোথাও সাইনবোর্ড আছে, ভেতরে নীরবতা
তৃণমূল বিএনপির ক্ষেত্রে আবার ইসির ঠিকানায় দলীয় সাইনবোর্ড রয়েছে। তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার ১৬ তলায় কার্যালয় থাকলেও সেটি তালাবদ্ধ। ভবনের কর্মচারী জানান, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম সেখানে হয় না; জায়গাটি মূলত ‘দ্য চ্যানচেরি চেম্বারস’ ল ফার্মের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ধানমণ্ডির বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের কার্যালয়ের অবস্থাও প্রায় একই। ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর দাবি, তিন মাসে মাত্র দুদিন কয়েকজনকে সেখানে দেখা গেছে। বাকি সময় কার্যালয় বন্ধ থাকে।

ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির কার্যালয় রয়েছে, কিন্তু সেটিও নিয়মিত খোলে না। নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য, ৫ আগস্টের আগে সেখানে একজন নিয়মিত থাকতেন; এরপর বিচ্ছিন্নভাবে এক-দুজন এলেও কার্যালয় প্রায় সবসময় বন্ধ।

মোহাম্মদপুরে বিএনএমের নামে একটি কক্ষ থাকলেও সাইনবোর্ড নেই। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর দলটির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। দলটির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরও বলেছেন, এখন আর দলের কার্যক্রম নেই এবং কার্যালয়ও বন্ধ থাকে।

ঢাকার বাইরে চিত্র আরও ফ্যাকাশে
রাজধানীর বাইরের বাস্তবতা আরও দুর্বল। নিবন্ধনের সময় অন্তত ২১টি জেলা এবং ১০০টি উপজেলা বা থানায় দলীয় কার্যালয়ের তথ্য দিয়েছিল বিভিন্ন দল। কিন্তু সরেজমিনে এসব কার্যালয়ের বড় একটি অংশের অস্তিত্ব বা নিয়মিত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

নড়াইলে জাতীয় পার্টি, সিপিবি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি, বাসদ, এনপিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড রয়েছে। তবে বেশির ভাগ কার্যালয় বছরের পর বছর তালাবদ্ধ।

নিয়মিত কার্যক্রমের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে দেখা যায় বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার ও এনসিপির। ঝালকাঠিতেও কয়েকটি নিবন্ধিত দলের কার্যালয় রয়েছে। তবে সব দলের সাংগঠনিক তৎপরতা সমান নয়।

নিবন্ধনের শর্ত কি শুধু কাগজেই?
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের সঙ্গে সাংগঠনিক উপস্থিতির বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। অথচ নিবন্ধনের পর সেই কাঠামো বাস্তবে কতটা টিকে আছে, তা নিয়মিত যাচাইয়ের প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, কার্যালয় ও কার্যক্রমহীন দলকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং এ ক্ষেত্রে ইসির নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

নামের সঙ্গে সংগঠনও কি আছে?
নিবন্ধিত ৬০টি দলের সবাই যে একই অবস্থায় রয়েছে, তা নয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপিসহ কয়েকটি দলের নিয়মিত রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান। আবার অনেক দলের কার্যক্রম সীমিত, কোনো কোনো দলের ক্ষেত্রে তা প্রায় অদৃশ্য।

তবে প্রশ্নটি থেকেই যায়—নিবন্ধনের সময় যে সাংগঠনিক কাঠামো দেখিয়ে একটি দল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেল, কয়েক বছর পর সেই কাঠামোর অস্তিত্ব কোথায়? কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেই, জেলা-উপজেলায় সংগঠন নেই, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রমও নেই—তবু নিবন্ধন বহাল থাকছে কোন বাস্তবতার ভিত্তিতে?

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কেবল একটি নাম, প্রতীক ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রশ্ন। তাই ইসির নথিতে থাকা ঠিকানার সঙ্গে মাঠের বাস্তবতা মিলিয়ে দেখা এখন আর নিছক প্রশাসনিক কাজ নয়; এটি নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও যুক্ত।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

আকাশে উঠল টেসলার রোডস্টার? উড়ন্ত গাড়ির দাবি নিয়ে যত প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আকাশে উঠল টেসলার রোডস্টার? উড়ন্ত গাড়ির দাবি নিয়ে যত প্রশ্ন

বিজ্ঞানের কল্পকাহিনিতে দেখা উড়ন্ত গাড়ি কি এবার বাস্তবে আসতে চলেছে? টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের নতুন রোডস্টার স্পোর্টস কারের প্রদর্শনী ঘিরে এমন প্রশ্নই উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি স্থাপনায় গাড়িটির বিশেষ প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে থ্রাস্টার ব্যবহার করে গাড়িটিকে সাময়িকভাবে শূন্যে তোলা, মাঝআকাশে ঘোরানো এবং মাটিতে অবতরণের কৌশল দেখানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এই প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ির আত্মপ্রকাশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, কোনো গাড়ি অল্প সময়ের জন্য মাটি ছেড়ে উঠতে পারা আর সেটিকে ব্যবহার করে নিয়মিত আকাশপথে যাতায়াত করা এক বিষয় নয়। গাড়িটির বাস্তব কার্যক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

প্রদর্শনীতে কী দেখালেন ইলন মাস্ক?

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আয়োজিত প্রদর্শনীতে মাস্ক বলেন, ‘আজ রাতে আপনারা কিছু অবিশ্বাস্য বিষয় দেখতে যাচ্ছেন।’ গাড়িটির প্রদর্শনী এআই দিয়ে তৈরি কোনো দৃশ্য নয়, তা প্রমাণ করার জন্যই দর্শকদের সামনে এটি দেখানোর প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টারে স্পেসএক্সের মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত বিশেষ থ্রাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রচলিত গাড়ির বাইরে নতুন ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। প্রদর্শনীতে দেখানো প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর এবং গাড়িটির কোন সংস্করণে এসব সুবিধা থাকবে, তা স্পষ্টভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু আকর্ষণীয় প্রদর্শনী দিয়ে কোনো প্রযুক্তির দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায় না।

কীভাবে শূন্যে উঠবে গাড়ি?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে উচ্চচাপে সংরক্ষিত বাতাস দ্রুত নির্গত করে থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরির ব্যবস্থা ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। বাতাস দ্রুত বেরিয়ে গেলে বিপরীত দিকে বল সৃষ্টি হয়। এই বল কাজে লাগিয়ে গাড়িটিকে সাময়িকভাবে শূন্যে তোলা বা ঘোরানোর মতো কৌশল দেখানো সম্ভব হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে থ্রাস্টের পরিমাণ, গাড়ির ওজন, ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ এবং বাতাসের চাপ ব্যবস্থাপনার ওপর। দীর্ঘ সময় বাতাসে থাকা কিংবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আকাশপথে চলাচলের জন্য আরও জটিল প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রয়োজন। তাই থ্রাস্টার ব্যবহার করে সাময়িকভাবে শূন্যে ওঠার প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ উড্ডয়নক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

উড়ন্ত গাড়ি হতে হলে যেসব চ্যালেঞ্জ পেরোতে হবে

একটি পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়িকে একই সঙ্গে সড়ক ও আকাশপথে নিরাপদে চলাচলের উপযোগী হতে হবে। এর জন্য শুধু শক্তিশালী থ্রাস্টার থাকলেই চলবে না; প্রয়োজন হবে নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা, ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রযুক্তি। এর পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা, শক্তির ব্যবহার, শব্দদূষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব পরিবেশে এসব শর্ত পূরণ না হলে প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যবহার করা কঠিন হবে।

২০২৮ সালে উৎপাদনের পরিকল্পনা

মাস্ক জানিয়েছেন, নতুন রোডস্টারের উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট সময়, গাড়ি সরবরাহের সূচি, চূড়ান্ত মূল্য এবং বিশেষ প্রযুক্তির বাস্তব কার্যক্ষমতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। পরিকল্পিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু হলেও গাড়িটির কোন সংস্করণে থ্রাস্টার প্রযুক্তি থাকবে এবং সেটি ক্রেতাদের জন্য কতটা ব্যবহারযোগ্য হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে থাকবে। উৎপাদনের ঘোষণা আর বাজারে পরীক্ষিত, অনুমোদিত ও ব্যবহারযোগ্য গাড়ি সরবরাহ—দুটি আলাদা বিষয়।

টেসলার প্রদর্শনী উড়ন্ত গাড়ির ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কিন্তু গাড়িটি দীর্ঘ সময় উড়তে পারে, আকাশপথে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে কিংবা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তাশর্ত পূরণ করেছে—এমন প্রমাণ এই বর্ণনায় নেই। অতএব, এখনই টেসলার নতুন রোডস্টারকে পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ি বলা ঠিক হবে না। বরং এটিকে থ্রাস্টার প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি প্রদর্শনী হিসেবে দেখা যায়।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

পাঠ্যবইয়ে বাবুই, বাস্তবে নেই—তালগাছ কমে হারাচ্ছে বাংলার চিরচেনা দৃশ্য

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাঠ্যবইয়ে বাবুই, বাস্তবে নেই—তালগাছ কমে হারাচ্ছে বাংলার চিরচেনা দৃশ্য

‘বাবুই পাখিকে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই।’ কবি রজনীকান্ত সেনের ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতার এই পঙ্‌ক্তি বাংলা পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থীর কাছে পরিচিত। নিজের হাতে তৈরি বাসার সৌন্দর্য আর আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে বাবুই পাখির পরিচয়ও পেয়েছে বিশেষ মাত্রা। কিন্তু কবিতায় পরিচিত সেই পাখি ও তার নিপুণ বুননের বাসা এখন বাস্তবে অনেকের কাছেই অচেনা হয়ে উঠছে।

একসময় গ্রামবাংলার তালগাছের পাতায় পাতায় ঝুলত বাবুই পাখির অসংখ্য বাসা। পাখির কিচিরমিচিরে মুখর থাকত গ্রামের পথঘাট। মৌলভীবাজারের বিভিন্ন গ্রাম ও হাওরাঞ্চলেও ছিল এমন দৃশ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কমেছে তালগাছ, সংকুচিত হয়েছে বাবুই পাখির আবাসস্থল। নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, কীটনাশকের ব্যবহার, পাখি শিকার এবং অপরিকল্পিত বসতি নির্মাণের মতো নানা কারণে প্রকৃতির এই পরিচিত দৃশ্য এখন ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবীণ শিক্ষক ও পাখিপ্রেমীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, মৌলভীবাজারের অনেক এলাকায় একসময় প্রচুর তালগাছ থাকলেও এখন সেগুলোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কোথাও কোথাও তালগাছের অস্তিত্ব থাকলেও সেখানে আর আগের মতো বাবুই পাখির বাসা দেখা যায় না।

তালগাছের পাতায় পাতায় ঝুলত শত বাসা

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ২ নম্বর উত্তরভাগ ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল সেই সময়ের গ্রামবাংলা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় গ্রামের মেঠোপথের পাশে সারি সারি তালগাছ ছিল। গাছগুলোর পাতায় পাতায় বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা ঝুলত। পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত পুরো গ্রাম। মুজিবুর রহমান বলেন, শুধু তাঁর গ্রামেই নয়, আবহমান বাংলার বহু গ্রামেই এমন দৃশ্য দেখা যেত। কিন্তু এখন মৌলভীবাজারের গ্রাম-গঞ্জে তালগাছ খুব একটা চোখে পড়ে না। সেই সঙ্গে কমে গেছে বাবুই পাখির উপস্থিতিও।

তাঁর স্মৃতিচারণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কীভাবে একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দৃশ্য কয়েক দশকের ব্যবধানে মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। যে পাখি ও বাসা একসময় গ্রামীণ পরিবেশের স্বাভাবিক অংশ ছিল, এখন তা দেখার জন্যও অনেক জায়গায় খোঁজ করতে হয়।

এক দশকেই বদলে গেছে গ্রামের চিত্র

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার বাসিন্দা জনি দাসও দেখেছেন তালগাছ কমে যাওয়ার এমন পরিবর্তন। তাঁর মতে, প্রায় এক দশক আগেও তাঁদের এলাকায় যত তালগাছ ছিল, এখন তার চার ভাগের এক ভাগও নেই। জনি দাস জানান, ২০০১-২০০২ সালের দিকে শুধু তাঁদের গ্রামেই রাস্তার পাশে ও বিভিন্ন বাড়িতে অন্তত দুই শতাধিক তালগাছ ছিল। এসব গাছে বাবুই পাখির বাসাও দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে পুরো গ্রাম ঘুরেও একটি তালগাছ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁর।

বাবুই পাখির বাসার অবস্থা আরও করুণ বলে মনে করেন তিনি। একসময় যা ছিল গ্রামের পরিচিত দৃশ্য, এখন তা দেখা যেন জাদুঘরে বিরল কোনো নিদর্শন দেখার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের এমন অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, তালগাছ কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু গাছের সংখ্যা হ্রাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে বদলে যাচ্ছে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং পাখিদের বসবাসের সুযোগও।

এখনো রয়েছে বাবুইয়ের বাসা দেখার বিরল সুযোগ

তবে মৌলভীবাজারের সব জায়গা থেকেই বাবুই পাখির বাসা হারিয়ে যায়নি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের রূপসপুর বা ফুলবাড়ি এলাকায় পাশাপাশি থাকা দুটি তালগাছে এখনো অসংখ্য বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা দেখা যায়। এলাকার এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন বিকেলে সেখানে ভিড় করেন অনেকে। তালগাছের পাতায় ঝুলে থাকা বাসাগুলো এখনো প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। চারপাশে তালগাছ ও বাবুইয়ের বাসা কমে যাওয়ায় এমন জায়গাগুলো স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্বও পেয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা হাজী মো. ফজলুর রহমান মনে করেন, নির্বিচারে গাছ কাটা, কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার, পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য এবং অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে তালগাছ কমে যাচ্ছে। এতে বাবুই পাখির আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে এবং পাখিটির টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষার বিষয়টি শুধু পাখি সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে গ্রামীণ পরিবেশের ভারসাম্যও জড়িত।

কুলাউড়ায় তালগাছ আছে, নেই বাবুইয়ের বাসা

কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর এলাকার সোলেমান হোসেনের স্মৃতিতেও রয়েছে ছোটবেলায় দেখা অসংখ্য তালগাছ ও বাবুই পাখির বাসার কথা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর এলাকার চিত্র বদলে গেছে। সোলেমান হোসেন জানান, বর্তমানে পুরো এলাকায় রাস্তার পাশে সরকারি জমিতে মাত্র একটি তালগাছ রয়েছে। আগে সেই গাছেও বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেখানে আর কোনো বাসা চোখে পড়ছে না।

এই অভিজ্ঞতা দেখায়, শুধু তালগাছের অস্তিত্ব থাকলেই বাবুই পাখির উপস্থিতি নিশ্চিত হয় না। গাছের পাশাপাশি পাখির উপযোগী পরিবেশ, নিরাপত্তা ও খাদ্যের প্রাপ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট এলাকায় বাবুই পাখি না থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিনও তাঁর শৈশবের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য তুলে ধরেছেন। ছোটবেলায় তাঁদের এলাকায় অসংখ্য তালগাছ দেখেছেন তিনি। এসব গাছে বাসা বাঁধত বাবুই পাখি। এখন তালগাছ যেমন কম দেখা যায়, তেমনি চোখে পড়ে না পাখিটির শৈল্পিক বাসাও।

তিন প্রজাতির বাবুই নিয়ে উদ্বেগ

পাখিপ্রেমী খোকন সিং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি নিয়ে খোঁজখবর করেন এবং ফটোগ্রাফির মাধ্যমে পাখিদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় পাহাড়, টিলা ও হাওরসমৃদ্ধ মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দাগি, বাংলা ও দেশি—এই তিন প্রজাতির বাবুই পাখির আবাস ছিল। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলা ও দাগি বাবুইয়ের দেখা প্রায় মেলেই না। তাঁর পর্যবেক্ষণে, কোনোরকমে টিকে আছে কিছু দেশি বাবুই পাখি।

খোকন সিংয়ের মতে, বাবুই পাখির বাসা তৈরির জন্য তালগাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাখিটির আবাসস্থলও সংকটের মুখে পড়েছে। বাবুই পাখিকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রচুর পরিমাণে তালগাছ রোপণ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে কোনো প্রজাতির বর্তমান সংখ্যা, বিস্তৃতি কিংবা বিলুপ্তির ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ের জরিপ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন। পাখিপ্রেমীদের পর্যবেক্ষণ স্থানীয় পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেও তা দিয়ে পুরো জেলার প্রজাতিগত অবস্থা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

আবাসস্থল ধ্বংসে ঝুঁকিতে পাখি ও বন্যপ্রাণী

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক বলেন, নানা কারণে গ্রামাঞ্চলে তালগাছ কাটা এবং অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের ফলে বাবুই পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল নষ্ট হচ্ছে। তিনি পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তালগাছ সংরক্ষণ এবং বাবুই পাখিকে বিলুপ্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নাজমুল হকের সতর্কবার্তা হলো, প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে একসময় বাবুই পাখি বাস্তব জীবনের পরিচিত দৃশ্য থেকে হারিয়ে গিয়ে কেবল পাঠ্যপুস্তকের কবিতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

তালগাছ রক্ষা ও নতুন করে রোপণ জরুরি

বাবুই পাখির বাসা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, এটি গ্রামবাংলার পরিবেশ ও স্মৃতিরও অংশ। তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পাখির বাসা বিরল হয়ে পড়ার যে চিত্র স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে, তা আবাসস্থল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে তালগাছ সংরক্ষণ, উপযুক্ত জায়গায় নতুন চারা রোপণ, নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ, পাখি শিকার প্রতিরোধ এবং কীটনাশকের দায়িত্বশীল ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান বাবুইয়ের বাসা থাকা গাছগুলো রক্ষা করা এবং পাখির উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর রমনায় অবস্থিত অফিসার্স ক্লাবের ভেতরে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশের ফাঁকা জায়গা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যের বাইরে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

মেয়েকে নিয়ে সকালে অফিসার্স ক্লাবে যান

অফিসার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মো. মোশাররফ হোসেন তাঁর ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেন। পরে ক্লাবের সুইমিংপুলের সামনে মেয়েকে রেখে তিনি পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে যান। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশের ফাঁকা অংশে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বনানীর একটি বাড়িতে বসবাস করতেন।

তৃতীয় তলা থেকে পড়ে যাওয়ার কথা জানাল পুলিশ

ঘটনা সম্পর্কে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, সকালে ছোট মেয়েকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবের সুইমিংপুলে গিয়েছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন। তাঁর চোখে কম দেখার সমস্যা ছিল। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে তিনি নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে যান। ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তিনি নিচে পড়ে যান, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের বাইরে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত করাতে চাননি। এ কারণে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছেন রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেনের বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তিনি দেশে ফেরার পর বাবার দাফন সম্পন্ন করা হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি