খুঁজুন
                               
, ,
           

স্লিপার বাসের বৈধতা নিয়ে ধোঁয়াশা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
স্লিপার বাসের বৈধতা নিয়ে ধোঁয়াশা

সড়কে ছুটছে শত শত স্লিপার বাস। যাত্রী শুয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে পারছেন, ব্যবসায়ীরা দেখছেন নতুন বাজার। কিন্তু যে বাসকে ঘিরে এত আয়োজন, তার আইনগত পরিচয়ই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বাস মালিকদের দাবি, তারা বিআরটিএর নিবন্ধন, ফিটনেস ও রুট পারমিট নিয়েই ব্যবসা করছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অবস্থান—‘স্লিপার বাস’ নামে কোনো যানকে তারা অনুমোদন বা নিবন্ধন দেয়নি। বরং সাধারণ বাসের কাঠামো পরিবর্তন করে স্লিপার বানানোর অভিযোগে বেশ কিছু বাসের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে।

গত বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) এক রিটের শুনানি শেষে হাই কোর্ট বলেছে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন ও ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা মেনে বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া বাসই কেবল রাস্তায় চলতে পারবে। অনুমোদনহীন বা আইনবহির্ভূত বাসের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেও বাধা নেই। আদালতের এই অবস্থানের পর স্লিপার বাস নিয়ে মূল আলোচনাটি এখন আরও স্পষ্ট—চলমান বাসগুলোর কাগজপত্রের বৈধতা কী এবং সেই কাগজে অনুমোদিত কাঠামোর সঙ্গে বাস্তব বাসের মিল কতটা?

বিরোধটা আসলে কোথায়?
বিআরটিএর ১৯ আগস্ট হাই কোর্টে দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্য এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংস্থাটির তিন সদস্যের কমিটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন বা নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। বিআরটিএর ডাটাবেজে থাকা ৮২৯টি ডাবল-ডেকার বাস সাধারণ ডাবল-ডেকার, স্লিপার নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু মালিক সিঙ্গেল-ডেকার বাস হিসেবে নিবন্ধন নেওয়ার পর পরে বডির ধরন পরিবর্তন করে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস বানিয়ে রাস্তায় চালাচ্ছেন। এমন ৪১টি রূপান্তরিত বাসের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। এসব গাড়ির ফিটনেস নবায়ন করা হচ্ছে না এবং রুট পারমিটও দেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ একটি বাসের মূল নিবন্ধন বৈধ থাকা আর সেটিকে কাঠামো পরিবর্তন করে ‘স্লিপার বাস’ হিসেবে পরিচালনার অনুমোদন থাকা—দুটি ভিন্ন বিষয়। বিআরটিএর আইনজীবী রাফিউল ইসলামের বক্তব্য, সিঙ্গেল-ডেকার বাসের অনুমোদন নিয়েও সেটিকে পরিবর্তন করে স্লিপার হিসেবে পরিচালনা করা আইনসম্মত নয়। বাসটি একতলা কিংবা দোতলা—যাই হোক, ‘স্লিপার’ নামে পরিচালনার সুযোগ প্রচলিত আইনে নেই।

মালিকদের দাবি: বিআরটিএর কাগজ নিয়েই তো চলছি
বিআরটিএর অবস্থানের সঙ্গে একমত নন বাস মালিকেরা। বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাবুর দাবি, যেসব বাসের নিবন্ধন, ফিটনেস ও রুট পারমিট রয়েছে, সেগুলো বৈধভাবেই চলছে। তার প্রশ্ন, ‘যেগুলোর রুট পারমিট আছে, বিআরটিএ ফিটনেস দিয়েছে সেগুলো কেন বন্ধ হবে?’ মালিকদের দাবি, তারা ইচ্ছেমতো কোনো গাড়ি রাস্তায় নামাননি। বিআরটিএর প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গাড়ি নিবন্ধন করা হয়েছে, ফিটনেস নেওয়া হয়েছে এবং রুট পারমিটের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে।

‘৪৬ এক্সপ্রেস’-এর কর্ণধার আনিসুর রহমান শিল্পীর ভাষ্য, তাদের গাড়ির উচ্চতা সাধারণ বাসের মতো। বিআরটিএ থেকেই নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে। ফলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী অনুমোদিত গাড়ি চলতে বাধা থাকার কথা নয়। কিন্তু এখানেই মূল প্রশ্ন—বিআরটিএর দেওয়া কাগজে বাসটি কী হিসেবে নিবন্ধিত? সেটির বডি বা অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তনের অনুমোদন ছিল কি না? আর ‘স্লিপার’ হিসেবে যাত্রী পরিবহনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কি না? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে মালিকদের ‘বৈধ’ দাবিটি কতটা টেকসই।

কাগজের বৈধতা বনাম কাঠামোর বৈধতা
সরেজমিনে চলাচলকারী বেশ কিছু স্লিপার বাসের ক্ষেত্রে দেখা যায়, একতলা বাসের অনুমোদন নিয়ে পরে তার ভেতরে ওপর-নিচ করে শোয়ার বার্থ তৈরি করা হয়েছে। কিছু বাসের কাঠামো আবার ডাবল-ডেকারের আদলে পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে মূল নিবন্ধনের কাগজ থাকলেও পরবর্তী পরিবর্তনের জন্য আলাদা অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিআরটিএ বলছে, এই ধরনের পরিবর্তন অনুমোদন ছাড়া করা হয়েছে। মালিকেরা বলছেন, তাদের নিবন্ধন ও অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে। এই দুই বক্তব্যের মাঝেই তৈরি হয়েছে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন—যার সমাধান এখন প্রয়োজন স্পষ্ট নথি ও নির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে।

হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ
স্লিপার বাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা তাই শুধু আইনি নয়, বড় অর্থনৈতিক প্রশ্নও তৈরি করেছে। মালিক সমিতির হিসাবে মহাসড়কে এখন ৮০০ থেকে ৮৫০টি স্লিপার বাস চলছে। একটি বাসের বডি তৈরিতে প্রায় ৪০ লাখ এবং চেসিসে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা খরচ হয়। ঋণ, কিস্তি, কাউন্টার, গ্যারেজ ও কর্মীসহ পুরো খাতে বিনিয়োগ দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বলে দাবি মালিকদের। অনেক মালিক ঋণ নিয়ে গাড়ি নামিয়েছেন। কেউ কেউ পারিবারিক সঞ্চয়ও বিনিয়োগ করেছেন। ফলে বাস বন্ধ হলে ঋণ পরিশোধ ও কর্মসংস্থান—দুই দিকেই সংকট তৈরি হতে পারে। এই কারণেই মালিকেরা নিষেধাজ্ঞার বদলে একটি নীতিমালা চান। তাদের দাবি, জরুরি বহির্গমনসহ যেসব নিরাপত্তা ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো সংশোধনের সুযোগ দিয়ে নির্দিষ্ট মানদণ্ডে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।

আরামের সঙ্গে নিরাপত্তা
স্লিপার বাসের জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ কম খরচে শুয়ে দীর্ঘপথ যাওয়ার সুবিধা। নিয়মিত ঠাকুরগাঁও যাওয়া যাত্রী আহসান হাবিবের মতে, বাস ধীরগতিতে চললে এটি আরামদায়ক। কিন্তু অতিরিক্ত গতিতে চালালে সেই আরামই আতঙ্কে পরিণত হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার পথে স্লিপার বাস দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন সাংবাদিক আতাউর রহমান। তার বর্ণনা অনুযায়ী, কুয়াকাটার কাছে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরতে ঘুরতে পুকুরে পড়ে যায়। স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকেরা কাঁচ ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার করেন। ঘটনাটি স্লিপার বাসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও সামনে এনেছে। যাত্রী শুয়ে থাকায় আকস্মিক ব্রেক বা সংঘর্ষে আঘাতের ঝুঁকি কতটা? বাস উল্টে গেলে জরুরি বহির্গমন কতটা কার্যকর? আগুন লাগলে যাত্রীরা কত দ্রুত বের হতে পারবেন? বিআরটিএর কমিটিও এসব নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে জাতীয় নীতিমালা বা গাইডলাইন তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।

এখন প্রয়োজন স্পষ্ট নীতিমালা
স্লিপার বাসের সংকট তাই শুধু মালিক বনাম বিআরটিএর বিরোধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বিনিয়োগ এবং যাত্রীনিরাপত্তা। যদি স্লিপার বাসের অনুমোদন না থাকে, তাহলে চলমান বাসগুলোর নিবন্ধন ও ফিটনেসের সময় তাদের কাঠামো কী হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল—তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। আবার মালিকেরা যদি বিআরটিএর কাগজপত্রের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে থাকেন, সেই কাগজে ঠিক কী অনুমোদন ছিল, সেটিও প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন। হাই কোর্টের আদেশের আলোকে এখন মূল দায়িত্ব হলো বৈধ ও অবৈধ যান আলাদা করা এবং যাত্রীনিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সরকার চাইলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্লিপার বাসের জন্য আলাদা কারিগরি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। সেই মানদণ্ডে চলমান বাসগুলো পরীক্ষা করে যেগুলো নিরাপদ ও নিয়মসম্মত, সেগুলোকে কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ যানগুলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কারণ স্লিপার বাস এখন আর নিছক একটি নতুন পরিবহনসেবা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ৮০০ থেকে ৮৫০টি বাস, দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ, বিপুল কর্মসংস্থান এবং প্রতিদিনের হাজারো যাত্রীর যাতায়াত।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ

বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বহুজাতিক লজিস্টিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদল।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি ‘কনসেশন চুক্তি’ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

চুক্তির আওতায় কনটেইনার টার্মিনাল ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে এ অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন এবং রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনসহ নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদলের আগ্রহের কথা জানতে চান।

জবাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদল এসব খাতে সহযোগিতা ও নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের ব্যাপক আগ্রহের কথা জানায়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

আবরার হত্যা: রায় কার্যকরে পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
আবরার হত্যা: রায় কার্যকরে পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতে আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

আবরারের বাবা হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

সাক্ষাতে আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং এর নাম আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ছাড়া আবরারের কবর পাকাকরণ ও পাশের মসজিদের নির্মাণকাজে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হলে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানায় পরিবার।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েটে আবরারের নামে একটি হল নির্মাণ এবং পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।

আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। তার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।

সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হন আবরার ফাহাদ। এ হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেধার মুকুটে ওসমানী স্বর্ণপদক; উচ্চমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব বিমান বাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
মেধার মুকুটে ওসমানী স্বর্ণপদক; উচ্চমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব বিমান বাহিনী প্রধানের

আকাশের সীমানা যেখানে শেষ, দায়িত্বের সীমানা সেখানে শেষ নয় যেন! একটি বিমানকে আকাশে তুলে নেওয়ার জন্য যেমন প্রয়োজন নিখুঁত দক্ষতা, তেমনি একটি বাহিনীকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন জ্ঞান, শৃঙ্খলা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্বের ভিত গড়ে ওঠে একাডেমিক উৎকর্ষের মধ্য দিয়েই। আর সেই উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে যশোরের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমিতে (বাফা) উঠল ওসমানী স্বর্ণপদকের দীপ্তি।

বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যারোনটিক্স ও বিবিএ প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৫ ও ৮৬ বাফা কোর্সের কর্মকর্তাদের বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ওসমানী স্বর্ণপদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে পদক ও সনদ তুলে দেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

স্বর্ণপদকের আড়ালে যে বড় প্রত্যাশা
এটি কেবলমাত্র পুরস্কার বিতরণের আয়োজন নয়। সামরিক পেশায় একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দায়িত্বের জন্য সক্ষমতার স্বীকৃতিও। কারণ একজন কর্মকর্তার জ্ঞান যত গভীর হয়, পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ক্ষমতা তত শাণিত হয়; আর সেই বিশ্লেষণই সংকটমুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি করে। পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘একাডেমিক উৎকর্ষতা একজন কর্মকর্তার পেশাগত জীবনের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।’

  • একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি পেলেন ছয় কোর্সের কর্মকর্তারা
  • বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যারোনটিক্স ও বিবিএতে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের স্বীকৃতি
  • অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের তাগিদ; ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জে দক্ষ নেতৃত্ব গড়ার বার্তা

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি একাডেমিক সাফল্যকে ব্যক্তিগত অর্জনের গণ্ডি পেরিয়ে পেশাগত উৎকর্ষের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। বিমান বাহিনীর মতো প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে আধুনিক জ্ঞান, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও বাস্তব প্রয়োগের দক্ষতা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

‘জ্ঞানার্জনের কোনো শেষ নেই’ 
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘জ্ঞানার্জনের কোনো শেষ নেই।’ অর্জিত জ্ঞান সময়ের সঙ্গে প্রজ্ঞায় রূপ নেয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে একজন কর্মকর্তার পেশাগত বিকাশের দীর্ঘ পথের নির্দেশনা। একাডেমির পাঠ শেষ হলেও শেখার পর্ব শেষ হয় না। বরং কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, নতুন প্রযুক্তি, পরিবর্তিত কৌশল ও বাস্তব পরিস্থিতি একজন কর্মকর্তার জ্ঞানের পরিধিকে ক্রমাগত বিস্তৃত করে। সামরিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এক বিষয় নয়। জ্ঞান মানুষকে জানায়; প্রজ্ঞা তাকে বোঝায় কখন, কোথায় এবং কীভাবে সেই জ্ঞান প্রয়োগ করতে হবে। সামরিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয় সীমিত সময়ের মধ্যে, যেখানে ভুলের মূল্য হতে পারে অনেক বড়।

অর্জিত জ্ঞান কর্মজীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগের আহ্বান 
তরুণ কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান কর্মজীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানান বিমান বাহিনী প্রধান। মূলত এখানেই একাডেমিক সাফল্যের পরবর্তী অধ্যায়। শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান যখন অপারেশনাল সিদ্ধান্তে, সমস্যা সমাধানে কিংবা নেতৃত্বের প্রয়োগে দৃশ্যমান হয়, তখনই তার পূর্ণ সার্থকতা আসে। সততার ওপর তাঁর গুরুত্বারোপও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সামরিক নেতৃত্বে দক্ষতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা। একজন কর্মকর্তার পেশাগত সিদ্ধান্ত তখনই কার্যকর হয়, যখন তাঁর অধীনস্থ ও সহকর্মীরা তাঁর সক্ষমতা এবং নৈতিক অবস্থান—দুটির ওপরই আস্থা রাখতে পারেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

দায়িত্বের পরিধি এখন আকাশের চেয়েও বিস্তৃত
বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিমান বাহিনীর দায়িত্ব শুধু আকাশসীমা পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং জাতীয় প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও এর দায়িত্বের অংশ। তিনি বিমান বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’

ভবিষ্যতের লড়াই শুরু হয় প্রশিক্ষণকক্ষেই
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, এসব দায়িত্ব পালনে উচ্চমানের প্রশিক্ষণ, কঠোর শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব অপরিহার্য। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তিনি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা বাস্তবতার ক্রমাগত রূপান্তর সামরিক বাহিনীর

সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অস্ত্র ও প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ। আর সেই মানবসম্পদ তৈরির প্রথম কারখানা হলো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। এই বাস্তবতায় বাফার একাডেমিক অনুষ্ঠানকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের পথ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

পদক হাতে, সামনে বড় পরীক্ষাও
সমানী স্বর্ণপদক মেধার স্বীকৃতি। কিন্তু সামরিক জীবনে এটি একই সঙ্গে একটি নতুন প্রত্যাশার সূচনা। কারণ একাডেমিক উৎকর্ষের প্রমাণ দেওয়ার পর এবার সেই জ্ঞানকে বাস্তব দায়িত্বে প্রমাণ করার পালা। বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যের সারকথা তাই এক জায়গায় এসে মেলে—শিখতে হবে অবিরাম, অর্জিত জ্ঞানকে প্রজ্ঞায় রূপ দিতে হবে এবং সেই প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাতে হবে সঠিক সিদ্ধান্তে। সততা, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বকে ধারণ করে গড়ে তুলতে হবে এমন নেতৃত্ব, যে নেতৃত্ব সংকটে পথ দেখাবে এবং দায়িত্বের মুহূর্তে আস্থা তৈরি করবে। বাফার মঞ্চে এদিন যে স্বর্ণপদক ঝলমল করেছে, তার আসল মূল্য তাই ধাতুর দীপ্তিতে নয়—আগামী দিনের দায়িত্বে সেই মেধা, জ্ঞান ও নেতৃত্ব কতটা আলো ছড়ায়, তার ওপর।

অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দ্বীন আসাদ, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন) এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ খাইরুল আফসার, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এএইউবি) ভাইস চ্যান্সেলর এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মুস্তাফিজুর রহমান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এ.এফ.এম শামীমুল ইসলাম, এয়ার ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের কমান্ড্যান্ট এয়ার ভাইস মার্শাল আসাদুল করিম, ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিমান বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে