খুঁজুন
                               
, ,
           

নদীর বুকজুড়ে দখল, হারাচ্ছে রংপুরের জলধারা

রংপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
নদীর বুকজুড়ে দখল, হারাচ্ছে রংপুরের জলধারা

একসময় রংপুর অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্য ও নৌযোগাযোগের অন্যতম প্রধান অবলম্বন ছিল নদনদী। সময়ের সঙ্গে সেই নদীর বুকেই কোথাও গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও স্থাপনা, কোথাও চলছে চাষাবাদ। আবার কোথাও নদী সংকুচিত হয়ে পরিণত হয়েছে সরু জলধারায়। দখল, ভরাট, অবৈধ স্থাপনা, পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় রংপুর বিভাগের বহু নদনদী এখন অস্তিত্ব সংকটে।

রংপুর বিভাগের আট জেলায় সরকারি ও স্থানীয় বিভিন্ন তালিকায় তিন শতাধিক নদনদীর তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে রংপুরে ৪৩টি, লালমনিরহাটে ২৫টি এবং কুড়িগ্রামে অর্ধশতাধিক নদীর উল্লেখ রয়েছে। তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, করতোয়া, আত্রাই ও ইছামতীর পাশাপাশি মানস, টেপা, ধাইজান, বুলাই, আখিরা ও ফুলকুমারসহ অসংখ্য ছোট নদী ও শাখানদী রয়েছে এ অঞ্চলে।

তবে কাগজে নদীর নাম থাকলেও বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। কোথাও নদীর গতিপথ সংকুচিত হয়েছে, কোথাও কমেছে নাব্যতা। আবার কোথাও নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ কিংবা চাষাবাদ করা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

দেশের নদনদীর সংখ্যা নির্ধারণ ও তালিকা হালনাগাদের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগীয় পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য পুনঃযাচাই করে খসড়া তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে নদীর অবস্থান, সীমানা ও মাঠপর্যায়ের বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রংপুর অঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা। উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে এ নদীর দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। ঘাঘট রংপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পানি নিষ্কাশন ও কৃষিতে ভূমিকা রাখছে। যমুনেশ্বরী বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। করতোয়াও উত্তরবঙ্গের প্রাচীন নদীগুলোর একটি।

তবে এসব নদীর বিভিন্ন অংশে নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর অনেক অংশ জেগে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেগে ওঠা এসব এলাকার কিছু অংশ ধীরে ধীরে দখলে চলে যাচ্ছে।

লালমনিরহাটের সতী নদীর অবস্থাও উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় প্রশস্ত নদীটির কোনো কোনো অংশ এখন কয়েক ফুটে সংকুচিত হয়েছে। নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, পুকুর খনন ও কচুরিপানার আধিক্যের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সীমান্তবর্তী খর্প, কচুয়া, শালমারা ও সংলি নদীর অস্তিত্ব ও সরকারি তালিকাভুক্তি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার গিরাই নদী নিয়েও দখলের অভিযোগ রয়েছে। নদীর জমির কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাওয়ার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এমন অভিযোগের সত্যতা থাকলে নদীর সীমানা নির্ধারণ, ভূমি রেকর্ড ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নদীর সংকট শুধু পানির সংকট নয়। একটি নদীর সঙ্গে কৃষি, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য, পানি নিষ্কাশন ও স্থানীয় অর্থনীতি সরাসরি যুক্ত। পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে বর্ষায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র এবং নদীনির্ভর কৃষি।

শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া ও নাব্যতা হ্রাসের কারণে নদীঘেঁষা মানুষের জীবন-জীবিকাতেও পরিবর্তন আসছে। একসময় যে নদী ছিল নৌপথ, সেচ ও মাছের উৎস, অনেক জায়গায় সেটি এখন বর্ষায় পানি বহনকারী সংকুচিত জলধারায় পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর পানি উন্নয়ন বিভাগ নদীভাঙন, নদী খনন, বাঁধ মেরামতসহ পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজ করে থাকে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, নদী রক্ষার উদ্যোগ শুধু বাঁধ নির্মাণ বা ভাঙন ঠেকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখলমুক্তকরণ, প্রয়োজনীয় স্থানে খনন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

সচেতন সমাজের সদস্য, লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক আলামীন বলেন, নদী রক্ষায় সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ ও পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা জরুরি। নদী রক্ষা করা গেলে কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, নদনদীকে অবহেলা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় পড়বে। তাই সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও নদী ও জলাভূমির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও নদীর প্রবাহের পরিবর্তন বিভিন্ন এলাকার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে ‘২০৫০ সালের মধ্যে পুরো বাংলাদেশ তলিয়ে যাবে’—এ ধরনের নির্দিষ্ট দাবি আন্তর্জাতিক জলবায়ু মূল্যায়নের প্রতিষ্ঠিত পূর্বাভাস নয়। বরং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় নদী ও জলাভূমির স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

রংপুর বিভাগের নদনদীগুলো এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে অনেক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই সরকারি নথি, পুরোনো মানচিত্র, স্যাটেলাইট তথ্য ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মিলিয়ে প্রতিটি নদীর সীমানা নির্ধারণ জরুরি।

একই সঙ্গে দখল ও ভরাট বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, প্রয়োজনীয় স্থানে খনন এবং পানিপ্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভূমি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা কঠিন।

নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; এটি একটি অঞ্চলের প্রাণ, কৃষির সহায়ক, জীববৈচিত্র্যের আশ্রয় এবং মানুষের জীবন-জীবিকার অংশ। তাই রংপুরের নদনদী রক্ষায় এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আখতারুজ্জামানকাণ্ড নিয়ে মন্ত্রীর অভিযোগ, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
আখতারুজ্জামানকাণ্ড নিয়ে মন্ত্রীর অভিযোগ, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ঘটনাকে ‘মব ও ইচ্ছাকৃত বিশৃঙ্খলা’ বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে আকস্মিকভাবে বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্বাহী পরিচালককে ডেকে রূঢ় আচরণ এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা অনভিপ্রেত এবং ইচ্ছাকৃত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তি ছিল। বিশেষ করে হজ বা ওমরাহ শেষে ফেরার সময় জমজমের পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগতে পারে। লাগেজ দ্রুত পাওয়া গেলেও জমজমের পানি অনেক সময় পরে দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হয়। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চান, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি এবং কর্মকর্তাদের কাজ না করার বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিমানবন্দরে ট্রলি ও কাস্টমসের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য, কয়েকটি ফ্লাইট একই সময়ে অবতরণ করলে সব যাত্রীর জন্য ট্রলি আনতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া যাত্রীদের নির্ধারিত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পথ ব্যবহার করার কথাও বলেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরব থেকে ওমরাহ শেষে ঢাকায় ফেরার পর জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিমানবন্দরে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এ সময় জামায়াত নেতা ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদকে ডেকে রূঢ় আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ভিসা সাক্ষাৎকারে মিথ্যা তথ্য দিলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
ভিসা সাক্ষাৎকারে মিথ্যা তথ্য দিলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে সাক্ষাৎকারের সময় কোনো ধরনের মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। আবেদনকারীর অতীতের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের তথ্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জানা থাকতে পারে উল্লেখ করে দূতাবাস সতর্ক করেছে, অসত্য তথ্য দিলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিসাসংক্রান্ত সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানায় মার্কিন দূতাবাস।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীর অতীতের যেকোনো অভিবাসন-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে অবগত থাকতে পারেন। তাই সাক্ষাৎকারে কোনো তথ্য গোপন না করে সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

দূতাবাস আরও জানায়, কোনো আবেদনকারী মিথ্যা তথ্য দিলে বা জাল নথিপত্র উপস্থাপন করলে তার ভিসা আবেদন বাতিল হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ কারণে ভিসা আবেদন ও সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীদের সব তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ইয়েমেনে ৪৭৪ সামরিক অভিযান, হুথিদের দেড় হাজারের বেশি হতাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ইয়েমেনে ৪৭৪ সামরিক অভিযান, হুথিদের দেড় হাজারের বেশি হতাহত

ইয়েমেনের বিভিন্ন সামরিক ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর অভিযান জোরদারের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১ হাজার ৫৪০ জন হুথি যোদ্ধা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। একই সময়ে হুথিদের একাধিক হামলা প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছে তারা।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সেনাসূত্র জানায়, গত এক দিনে হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান, কমান্ড সেন্টার ও শক্তিবৃদ্ধির লক্ষ্যবস্তুতে মোট ৪৭৪টি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর আব্দুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, বিমান, ড্রোন, আর্টিলারি ও রকেট লঞ্চারের সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। দক্ষিণাঞ্চলীয় হারাদ ও উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে মারিব, সানা, সাদা ও অন্যান্য ফ্রন্টেও সামরিক তৎপরতা চালানো হয়। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজ অঞ্চল ছিল অভিযানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

সেনাবাহিনীর দাবি, সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তাইজ ফ্রন্টে। এ ছাড়া অভিযানে হুথিদের ২১৬টি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে তাইজে হুথি বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

এদিকে সানা ও সাদায় কয়েকটি ‘উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে’ বিমান হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।

এর আগে গত বুধবার সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তিনটি ফ্রন্টে হুথি যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ৪৬৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ওই অভিযানে শত শত হুথি সদস্য হতাহত হওয়ার দাবিও করা হয়েছিল।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক প্রভাব এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত জলপথকে কেন্দ্র করে সংঘাত চলছে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর লড়াইয়ে দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর চলতি বছরের জুলাই থেকে দেশটিতে আবারও সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি