খুঁজুন
                               
, ,
           

সব শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
সব শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হোক কিংবা স্বাভাবিক—কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। এক দিনের নবজাতক থেকে শুরু করে সমাজের প্রবীণতম নাগরিক পর্যন্ত সব মানুষকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেনদিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে ‘লিডো বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘ইয়ং জার্নালিস্ট চেঞ্জমেকার্স: ভয়েস ফর ভালনারেবল চিলড্রেন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিশুকে মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার থেকেই নৈতিক শিক্ষার চর্চা শুরু করতে হবে। পরিবারহীন শিশুদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে সরকার বিভিন্ন ছোটমণি নিবাস ও শিশু নিবাস পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় ও শিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেকোনো জনকল্যাণমূলক সামাজিক উদ্যোগ ও কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার কারও প্রতিপক্ষ নয়; বরং সরকার ও জনগণ একে অপরের পরিপূরক।

এ সময় সংকীর্ণ সমালোচনা পরিহার করে বিদ্যমান সামর্থ্য ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে সবাইকে দেশসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা সরাসরি মন্ত্রীর কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহ ও নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী বিষয়গুলো সহমর্মিতার সঙ্গে শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব, এসওএস চিলড্রেন ভিলেজের কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো) একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। পথশিশু, নির্যাতিত শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি সেবা দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রার্থনা থেকে প্রাঙ্গণ—উন্নয়নের আওতায় ৫৩ হাজার স্থাপনা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রার্থনা থেকে প্রাঙ্গণ—উন্নয়নের আওতায় ৫৩ হাজার স্থাপনা

একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু সড়ক, সেতু কিংবা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর হিসাবেই মাপা যায় না। মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে যুক্ত স্থানগুলোও স্থানীয় জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই বিবেচনায় দেশের ৬৪ জেলার সব উপজেলায় সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন করে বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • মসজিদ, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা, কবরস্থান ও ঈদগাহে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বড় সরকারি উদ্যোগ
  • ৬৪ জেলার উপজেলা পর্যায়ে ছড়াবে উন্নয়নের পরিধি
  • উপজেলা পর্যায়ে সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নে ২,৫৯০ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রস্তাবিত ‘সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। এর আওতায় কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা, গুরুদুয়ারা ও ঈদগাহসহ ৫৩ হাজার সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা প্রকল্পটির পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে দেওয়ার কথা।

উন্নয়নের পরিধি যাবে প্রান্তিক জনপদেও
প্রকল্পটির বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ভৌগোলিক বিস্তৃতি। দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার সব উপজেলা এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সিটি করপোরেশন এলাকা এর বাইরে রাখা হলেও উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্পটির বিস্তৃতি স্থানীয় জনপদে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সীমিত অবকাঠামো নিয়ে কার্যক্রম চালায়। কোথাও সীমানাপ্রাচীর প্রয়োজন, কোথাও সংস্কার, আবার কোথাও মানুষের সমাগমের উপযোগী জায়গার ঘাটতি রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এসব প্রয়োজন চিহ্নিত করা গেলে প্রকল্পের অর্থ স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অবকাঠামোর সঙ্গে সম্প্রীতির লক্ষ্য
প্রকল্প প্রস্তাবে শুধু স্থাপনা নির্মাণ বা সংস্কারকে লক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক কল্যাণ, ধর্মীয় চেতনা ও সম্প্রীতি সুসংহত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সামাজিক সমাবেশ, ধর্মীয় আচার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি হলে এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মানুষের মিলনস্থল হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব উপাসনালয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্নত হলে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এদিক থেকে প্রকল্পটির গুরুত্ব কেবল অবকাঠামোগত নয়। স্থানীয় সামাজিক পরিসরকে আরও সক্রিয় করার সম্ভাবনাও এতে রয়েছে।

৫৩ হাজার স্থাপনায় বড় কর্মযজ্ঞ
প্রকল্পের আওতায় ৫৩ হাজার স্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নিঃসন্দেহে বড় পরিসরের কর্মযজ্ঞ। এর মাধ্যমে নির্মাণ ও সংস্কারকাজে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উন্নত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের ব্যবহারিক সুবিধা বাড়াতে পারে।

তবে এত বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের আওতায় আনতে হলে অগ্রাধিকার নির্ধারণ হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত ঘাটতি বেশি, কোথায় মানুষের ব্যবহার বেশি এবং কোথায় সরকারি সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে জরুরি—এসব সূচক অনুসরণ করে নির্বাচন করা হলে বিনিয়োগের সুফলও বেশি বিস্তৃত হতে পারে।

বাছাইয়ে স্বচ্ছতার ওপর জোর
প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জনস্বার্থ ও বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আগে সরকারি সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে বরাদ্দ না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বদলে প্রয়োজনভিত্তিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারলে প্রকল্পটির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ডিপিপিতে যুক্ত করার নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে প্রকল্পের আওতা ও বরাদ্দ সম্পর্কে স্বচ্ছতাও বাড়তে পারে।

সৌন্দর্য নয়, প্রয়োজনই হোক অগ্রাধিকার
পরিকল্পনা কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে, প্রকল্পের অর্থ সীমানাপ্রাচীরে টাইলস বসানো, বাইরের দেয়াল সাজানো কিংবা ফটক দৃষ্টিনন্দন করার মতো সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ সীমিত সরকারি সম্পদকে দৃশ্যমান সাজসজ্জার বদলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে সফটওয়্যার, যানবাহন, প্রচার, ভ্রমণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক খাতের ব্যয় পুনর্বিবেচনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন—আরও স্পষ্টভাবে অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পুরোনোর অভিজ্ঞতা, নতুন প্রকল্পে শিক্ষা
নতুন প্রকল্পটির সঙ্গে চলমান ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২’ প্রকল্পের মিল রয়েছে। তাই পুরোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা নতুন উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে। চলমান প্রকল্পটির জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ০৪ শতাংশ হওয়ায় এর ধীরগতির কারণ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

নতুন প্রকল্পের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে প্রয়োজনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, স্বচ্ছ বরাদ্দ, সময়মতো বাস্তবায়ন এবং ব্যয়ের কঠোর নজরদারির ওপর। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার বিনিয়োগ শুধু হাজার হাজার সামাজিক ও ধর্মীয় স্থাপনার অবকাঠামো বদলাবে না; স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের মিলন, সামাজিক অংশগ্রহণ ও সম্প্রীতির পরিসরও আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে।

এম/এএইচ

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎ

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও আইনগত অধিকার সুরক্ষায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নেওয়া বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপ ও কার্যক্রমের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে পরামর্শ দেন।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

জ্বালানি সংকট হলে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম উঠতে পারে ১ হাজার রুপিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট হলে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম উঠতে পারে ১ হাজার রুপিতে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি দামের চাপ সামলাতে গিয়ে দেশটিতে পেট্রোলের দামও বেড়েছে।

পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক সতর্ক করে বলেছেন, দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১ হাজার পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত উঠতে পারে।

ইতিমধ্যে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটিতে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৩৮৯ দশমিক ১৪ রুপিতে।

কয়েক মাসে দামের বড় পরিবর্তন

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম বাড়তে শুরু করে। গত ১ মার্চ প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ছিল ২৬৬ দশমিক ১৭ রুপি। ৭ মার্চ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২১ দশমিক ১৭ রুপিতে।

এরপর ৩ এপ্রিল সরকার ৪ শতাংশের বেশি দাম বাড়ালে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম সর্বোচ্চ ৪৫৮ দশমিক ৪১ রুপিতে পৌঁছায়।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমে এলে পাকিস্তানেও পেট্রোলের দাম কমতে থাকে। ২০ জুন প্রতি লিটারের দাম নেমে আসে ২৯৯ দশমিক ৫০ রুপিতে।

পরবর্তী সময়ে আবার দাম বাড়তে শুরু করে। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৯ দশমিক ১৪ রুপিতে।

পাকিস্তানের অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটি (ওজিআরএ) জানিয়েছে, সর্বশেষ দাম নির্ধারণের সময় আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানির দাম, প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন মূল্য নির্ধারণের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

আমদানিনির্ভর জ্বালানি বাজার

পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এর অন্যতম কারণ দেশটির বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তান ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টন মোটর স্পিরিট বা পেট্রোল আমদানি করেছে। একই সময়ে দেশটির স্থানীয় শোধনাগারগুলো সরবরাহ করেছে প্রায় ২৬ লাখ ৩০ হাজার টন পেট্রোল।

অন্যদিকে তেল বিপণন কোম্পানিগুলো (ওএমসি) প্রায় ৭৬ লাখ ৮০ হাজার টন পেট্রোল বিক্রি করেছে। আমদানি করা পেট্রোলের পরিমাণ ওএমসিগুলোর মোট বিক্রির প্রায় ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশের সমান।

তবে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায় থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে এগুলোকে দেশের মোট পেট্রোল সরবরাহের শতভাগের সরাসরি বিভাজন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

আমদানি খরচ থেকে পাম্পের দাম

পেট্রোলের পাম্প মূল্য শুধু আমদানি করা জ্বালানির খরচের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, বিপণন কোম্পানির মার্জিন, ডিলার কমিশন এবং সরকারি বিভিন্ন লেভি।

১৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর দামের হিসাবে শুল্কসহ পেট্রোলের আমদানি ও শোধনাগার পর্যায়ের দাম ছিল প্রতি লিটার ২৭৮ দশমিক ৫৮ রুপি।

এর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পরিবহন সমন্বয় মার্জিন হিসেবে ৭ দশমিক ৭১ রুপি, ওএমসি মার্জিন ৭ দশমিক ৮৭ রুপি এবং ডিলার কমিশন ৯ দশমিক ৯৮ রুপি যোগ হয়।

এ ছাড়া পেট্রোলিয়াম লেভি হিসেবে ৮০ রুপি এবং ক্লাইমেট সাপোর্ট লেভি হিসেবে আরও ৫ রুপি যোগ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের চূড়ান্ত পাম্প মূল্য দাঁড়ায় ৩৮৯ দশমিক ১৪ রুপি।

দুর্বল রুপিতেও বাড়ছে চাপ

জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে পাকিস্তানের জন্য আরেকটি চাপ হলো দেশটির মুদ্রার দুর্বলতা। ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে হওয়ায় পাকিস্তানি রুপির দর কমলে আমদানি করা জ্বালানির খরচ স্থানীয় মুদ্রায় আরও বেড়ে যায়।

২২ সেপ্টেম্বরের হিসাবে, ১ মার্কিন ডলারের মূল্য ছিল প্রায় ২৭৭ দশমিক ২১ পাকিস্তানি রুপি।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ও প্রিমিয়াম, সরকারি লেভি এবং ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার—সব মিলিয়েই পাকিস্তানের ভোক্তাদের পাম্পে পেট্রোলের চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ