খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রার্থনা থেকে প্রাঙ্গণ—উন্নয়নের আওতায় ৫৩ হাজার স্থাপনা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রার্থনা থেকে প্রাঙ্গণ—উন্নয়নের আওতায় ৫৩ হাজার স্থাপনা

একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু সড়ক, সেতু কিংবা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর হিসাবেই মাপা যায় না। মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে যুক্ত স্থানগুলোও স্থানীয় জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই বিবেচনায় দেশের ৬৪ জেলার সব উপজেলায় সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন করে বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • মসজিদ, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা, কবরস্থান ও ঈদগাহে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বড় সরকারি উদ্যোগ
  • ৬৪ জেলার উপজেলা পর্যায়ে ছড়াবে উন্নয়নের পরিধি
  • উপজেলা পর্যায়ে সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নে ২,৫৯০ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রস্তাবিত ‘সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। এর আওতায় কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা, গুরুদুয়ারা ও ঈদগাহসহ ৫৩ হাজার সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা প্রকল্পটির পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে দেওয়ার কথা।

উন্নয়নের পরিধি যাবে প্রান্তিক জনপদেও
প্রকল্পটির বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ভৌগোলিক বিস্তৃতি। দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার সব উপজেলা এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সিটি করপোরেশন এলাকা এর বাইরে রাখা হলেও উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্পটির বিস্তৃতি স্থানীয় জনপদে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সীমিত অবকাঠামো নিয়ে কার্যক্রম চালায়। কোথাও সীমানাপ্রাচীর প্রয়োজন, কোথাও সংস্কার, আবার কোথাও মানুষের সমাগমের উপযোগী জায়গার ঘাটতি রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এসব প্রয়োজন চিহ্নিত করা গেলে প্রকল্পের অর্থ স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অবকাঠামোর সঙ্গে সম্প্রীতির লক্ষ্য
প্রকল্প প্রস্তাবে শুধু স্থাপনা নির্মাণ বা সংস্কারকে লক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক কল্যাণ, ধর্মীয় চেতনা ও সম্প্রীতি সুসংহত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সামাজিক সমাবেশ, ধর্মীয় আচার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি হলে এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মানুষের মিলনস্থল হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব উপাসনালয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্নত হলে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এদিক থেকে প্রকল্পটির গুরুত্ব কেবল অবকাঠামোগত নয়। স্থানীয় সামাজিক পরিসরকে আরও সক্রিয় করার সম্ভাবনাও এতে রয়েছে।

৫৩ হাজার স্থাপনায় বড় কর্মযজ্ঞ
প্রকল্পের আওতায় ৫৩ হাজার স্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নিঃসন্দেহে বড় পরিসরের কর্মযজ্ঞ। এর মাধ্যমে নির্মাণ ও সংস্কারকাজে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উন্নত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের ব্যবহারিক সুবিধা বাড়াতে পারে।

তবে এত বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের আওতায় আনতে হলে অগ্রাধিকার নির্ধারণ হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত ঘাটতি বেশি, কোথায় মানুষের ব্যবহার বেশি এবং কোথায় সরকারি সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে জরুরি—এসব সূচক অনুসরণ করে নির্বাচন করা হলে বিনিয়োগের সুফলও বেশি বিস্তৃত হতে পারে।

বাছাইয়ে স্বচ্ছতার ওপর জোর
প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জনস্বার্থ ও বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আগে সরকারি সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে বরাদ্দ না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বদলে প্রয়োজনভিত্তিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারলে প্রকল্পটির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ডিপিপিতে যুক্ত করার নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে প্রকল্পের আওতা ও বরাদ্দ সম্পর্কে স্বচ্ছতাও বাড়তে পারে।

সৌন্দর্য নয়, প্রয়োজনই হোক অগ্রাধিকার
পরিকল্পনা কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে, প্রকল্পের অর্থ সীমানাপ্রাচীরে টাইলস বসানো, বাইরের দেয়াল সাজানো কিংবা ফটক দৃষ্টিনন্দন করার মতো সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ সীমিত সরকারি সম্পদকে দৃশ্যমান সাজসজ্জার বদলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে সফটওয়্যার, যানবাহন, প্রচার, ভ্রমণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক খাতের ব্যয় পুনর্বিবেচনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন—আরও স্পষ্টভাবে অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পুরোনোর অভিজ্ঞতা, নতুন প্রকল্পে শিক্ষা
নতুন প্রকল্পটির সঙ্গে চলমান ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২’ প্রকল্পের মিল রয়েছে। তাই পুরোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা নতুন উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে। চলমান প্রকল্পটির জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ০৪ শতাংশ হওয়ায় এর ধীরগতির কারণ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

নতুন প্রকল্পের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে প্রয়োজনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, স্বচ্ছ বরাদ্দ, সময়মতো বাস্তবায়ন এবং ব্যয়ের কঠোর নজরদারির ওপর। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার বিনিয়োগ শুধু হাজার হাজার সামাজিক ও ধর্মীয় স্থাপনার অবকাঠামো বদলাবে না; স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের মিলন, সামাজিক অংশগ্রহণ ও সম্প্রীতির পরিসরও আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে।

এম/এএইচ

নয় গানে কাজী শুভর একক ডিজিটাল অ্যালবাম ‘কেউ বুঝলো না’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
নয় গানে কাজী শুভর একক ডিজিটাল অ্যালবাম ‘কেউ বুঝলো না’

অডিও প্রযোজনার প্রচলিত বাজার যখন ধীরে ধীরে সংগীত থেকে সরে নাটক, ওয়েব কনটেন্ট ও দৃশ্যনির্ভর বিনোদনের দিকে ঝুঁকছে, তখন বাংলা গানের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ধ্রুব মিউজিক স্টেশন (ডিএমএস)।

বাংলা গানের ভুবনকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন শিল্পীকে নিয়ে শুরু করেছে একক গানের ডিজিটাল অ্যালবাম প্রকাশের উদ্যোগ। সেই ধারাবাহিকতার প্রথম আয়োজন হিসেবে শিগগিরই প্রকাশ পাচ্ছে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কাজী শুভর একক ডিজিটাল অ্যালবাম ‘কেউ বুঝলো না’।

নয় গানে ভিন্ন স্বাদের আয়োজন

নয়টি গান দিয়ে সাজানো হয়েছে অ্যালবামটি। এতে শ্রোতাদের ভিন্ন স্বাদের গান উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কাজী শুভ।

অ্যালবামের গান লিখেছেন তরুণ মুন্সী, প্রয়াত পাগল হাসান, এ মিজান, জিসান খান শুভ, সলাহউদ্দিন সাগর, হুমায়ুন কবির, আরিফ হোসেন বাবু, আলামিন সরকার ও হানিফ খান।

গানগুলোর সুর করেছেন তরুণ মুন্সী, প্রয়াত পাগল হাসান, কাজী শুভ, জিসান খান শুভ, হুমায়ুন কবির, আলামিন সরকার, আহমেদ সজীব, আদিব কবির ও হানিফ খান। সংগীতায়োজন করেছেন রাফি মোহাম্মদ, আহমেদ সজীব ও আদিব কবীর।

অ্যালবামের একটি গানে কাজী শুভর সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছেন বাঁধন সরকার পূজা।

দীর্ঘ বিরতির পর একক অ্যালবাম

দীর্ঘ বিরতির পর একক অ্যালবাম প্রকাশের খবরে উচ্ছ্বসিত কাজী শুভ। অ্যালবামটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ বছর পর আবার আমার একক অ্যালবাম প্রকাশ পাচ্ছে, বিষয়টি অত্যন্ত আনন্দের। অডিওর এই খারাপ সময়ে ধ্রুব দা যে ঝুঁকিটা নিয়েছেন, তার জন্য দাদার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।’

তিনি আরও বলেন, অ্যালবামের নয়টি গানই নয় রকমভাবে করার চেষ্টা করেছেন। শ্রোতারা গানগুলো পছন্দ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলা গান নিয়ে ডিএমএসের নতুন ভাবনা

বাংলা সংগীতাঙ্গনের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের কর্ণধার ও সংগীতশিল্পী ধ্রুব গুহ।

তিনি বলেন, ‘বাংলা গানকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ডিএমএস।’ তার মতে, শ্রুতির জগত যখন দৃশ্যনির্ভর বিনোদনের কাছে জায়গা হারাচ্ছে, তখন বাংলা গানের স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।

ডিএমএস সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই ইউটিউব, স্পটিফাইসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মিউজিক প্ল্যাটফর্মে একযোগে প্রকাশ করা হবে ‘কেউ বুঝলো না’ অ্যালবামটি।

কালের আলো/এসএ

রামপুরা খালের ওপর আফতাবনগর-বনশ্রী ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
রামপুরা খালের ওপর আফতাবনগর-বনশ্রী ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অর্থায়নে রামপুরা খালের ওপর নির্মিত আফতাবনগর-বনশ্রী সংযোগকারী ফুটওভার ব্রিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন এই সংযোগের ফলে দুই এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আফতাবনগরে ব্রিজটির উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আফতাবনগর ও বনশ্রী আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দুই এলাকার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন। ফুটওভার ব্রিজটি চালু হওয়ায় এখন যাতায়াতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে। এতে নগরবাসীর মূল্যবান সময় বাঁচবে।

তিনি জানান, শুধু এই ফুটওভার ব্রিজ নয়, এর পাশাপাশি আরও দুটি স্টিল ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এসব ব্রিজ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ভবিষ্যতে এমআরটি নির্মাণের কাজ শুরু হলে প্রধান সড়কগুলোর ওপর চাপ কমাতে এসব ব্রিজ বাইপাস রুট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে যানজট নিরসনেও সহায়তা পাওয়া যাবে।

সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়েরুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর হুমায়ুন কবির, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সোসাইটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ক্লিনিক বন্ধের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ক্লিনিক বন্ধের উদ্যোগ

দেশের সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ওই সীমানার মধ্যে থাকা বিদ্যমান বেসরকারি ক্লিনিকেও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্র্যাকটিসের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন বিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—হাসপাতাল, ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার—স্থাপনের অনুমতি দেওয়া যাবে না।

এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বিদ্যমান বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতেও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।

নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রতিটি বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ, সিভিল সার্জন অফিস এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালের আশপাশে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দালালের মাধ্যমে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টার পর আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্র্যাকটিস করার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি