খুঁজুন
                               
, ,
           

হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা, শর্ত দিচ্ছে তেহরান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা, শর্ত দিচ্ছে তেহরান

ছয় মাসের সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির সমীকরণ বদলে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি অবস্থানের অবসান হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর এবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার শর্ত হিসেবে যুদ্ধের অবসান, মার্কিন চাপ প্রত্যাহার এবং ইরানের অধিকার স্বীকারের দাবি তুলেছে তেহরান।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শর্ত জানতে চেয়েছেন। এসব শর্ত চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের অবসান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, কূটনীতিকে আবার কার্যকর পথে ফেরানো সম্ভব। তবে এজন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপের পরিবর্তে আস্থা তৈরি করতে হবে, সম্মানজনক ভাষায় কথা বলতে হবে, ইরানের অধিকার স্বীকার করতে হবে এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।

আরাগচি জানান, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে তার ‘সৃজনশীল আলোচনা’ হয়েছে। যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে কাতার, ওমান ও পাকিস্তানও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা চলছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত একটি নৌপথ ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তবে কোন পথে জাহাজ চলবে, সমুদ্রের মাইন কীভাবে সরানো হবে এবং চলাচলের জন্য কী ধরনের ফি নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। চূড়ান্ত কোনো চুক্তিও হয়নি।

তেহরানের আরেকটি শর্ত হলো, হরমুজ নিয়ে যেকোনো ব্যবস্থাপনা ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয়ভাবে হতে হবে এবং এতে তৃতীয় কোনো দেশকে যুক্ত করা যাবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনেকটাই কঠোর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে বলেছেন, তেহরান একটি চুক্তির জন্য আগ্রহী। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও জানিয়েছেন, ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ‘সব বিকল্পই খোলা’ রেখেছে এবং এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা চলছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান-ওমানের সম্ভাব্য সমঝোতার সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো সম্পর্ক নেই। মার্কিন পক্ষের দাবি, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে, সমুদ্রের মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।

তবে জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৭টি। গত ১০ দিনের দৈনিক গড় ১৫টির তুলনায়ও এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

এরই মধ্যে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের বন্দর ঘিরে নৌ অবরোধ দেশটির অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করবে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ও নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা তেহরান সফর করেছেন। বিশেষ করে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ছয় মাসের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। ইরান যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া নতুন শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখতে চাইছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র আগের কৌশলগত অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়। ফলে যুদ্ধবিরতি হলেও দুই দেশের মূল বিরোধের সমাধান হয়নি।

এখন হরমুজ প্রণালি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং কূটনৈতিক দর-কষাকষির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কতটা স্বাভাবিক হয় এবং দুই পক্ষ শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসে কি না—তার ওপরই নির্ভর করছে সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতির পরবর্তী গতি।

কালের আলো/এসএ

নেপাল-তিব্বতে বন্যার পর নতুন বিপদের শঙ্কা, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
নেপাল-তিব্বতে বন্যার পর নতুন বিপদের শঙ্কা, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এখন নতুন করে সৃষ্ট ঝুঁকিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় বলে সতর্ক করেছেন বন্যা বিশেষজ্ঞরা। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যার আগাম সতর্কতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি বিষয়ক গবেষক জেফ দা কস্তা জানিয়েছেন, বন্যায় ওই অঞ্চলের অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো বড় না হলেও দ্বিতীয় দফার বন্যা গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। কারণ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও পরিবর্তিত নদীপথ পরবর্তী বন্যার প্রভাব আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

দা কস্তার মতে, বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা ধ্বংসাবশেষ নদীর গতিপথ আটকে দিয়ে উজানে নতুন নতুন হ্রদ তৈরি করেছে। এসব হ্রদ এবং নদীর প্রবাহ আটকে রাখা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কোথায় সেগুলো ভেঙে পড়তে পারে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে চীন ও নেপালের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জরুরি। কারণ উজানে কোনো প্রতিবন্ধকতা ভেঙে গেলে বা হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে সীমান্তের ওপারে থাকা মানুষের ওপরও দ্রুত তার প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে, এই দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন এই গবেষক। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে হিমালয়জুড়ে হিমবাহ, পারমাফ্রস্ট বা স্থায়ীভাবে জমে থাকা মাটি এবং পাহাড়ের ঢালের স্থিতিশীলতায় পরিবর্তন আসছে।

তবে দা কস্তা সতর্ক করে বলেছেন, আরও বিশ্লেষণ ছাড়া এবারের বন্যাকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে দায়ী করা যায় না।

কালের আলো/এসএ

৭৩৪ মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে দাফনের আগে ডিএনএ সংগ্রহ নেপালে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
৭৩৪ মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে দাফনের আগে ডিএনএ সংগ্রহ নেপালে

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়া এবং সেখান থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

গত বুধবার সকালে সুনামির মতো পানি ও কাদার প্রবল স্রোত নেপালের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে আঘাত হানে। এরপর এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

মরদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোতে সংরক্ষণে সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় একটি বাড়িকে অস্থায়ী শীতলীকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলেও সেখানেও জায়গা শেষ হয়ে যায়। পরে শনিবার জেলার কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত মরদেহে পচন বাড়তে থাকায় দুর্গন্ধের পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

দাফনের আগে ডিএনএ সংগ্রহ

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি প্রতিটি মরদেহের জন্য স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বর ও অবস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মরদেহগুলো পরিচয় নম্বর লেখা ব্যাগে রাখা হচ্ছে এবং প্রায় দেড় মিটার গভীর গর্তে দাফন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে মরদেহ উত্তোলনের সুবিধার জন্য কবরগুলোর মধ্যেও নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখা হচ্ছে।

ডিএনএ মিললেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরে এসব নমুনার সঙ্গে দাফন করা মরদেহের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।

পরিচয় নিশ্চিত হলে মরদেহের সংরক্ষিত নম্বর ও নথির ভিত্তিতে কবরের অবস্থান শনাক্ত করবে পুলিশ। এরপর মরদেহ কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহগুলোর তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে নেপাল পুলিশ। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক বিদেশি নাগরিকসহ দেশটিতে এখনো প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

কালের আলো/এসএ

সুইজারল্যান্ডে রেভ পার্টিতে বন্দুক হামলা, নিহত ১, আহত অন্তত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
সুইজারল্যান্ডে রেভ পার্টিতে বন্দুক হামলা, নিহত ১, আহত অন্তত ৫

সুইজারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের আরাউ শহরে একটি রেভ পার্টিতে বন্দুক হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার সকালে আরাউ শহরের একটি হিপোড্রোমে আয়োজিত রেভ পার্টিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সুইস পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা গেছে।

আরগাউ ক্যান্টন পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কোনো ছবি বা ভিডিও থাকলে তা পুলিশের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সুইজারল্যান্ডে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অস্ত্রের মালিকানার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে দেশটিতে এ ধরনের সহিংস বন্দুক হামলার ঘটনা বেশ বিরল।

২০১৯ সালে সুইজারল্যান্ড আরও কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন অনুমোদন করেছিল। সর্বশেষ হামলার ঘটনায় কী কারণে গুলির ঘটনা ঘটেছে এবং হামলাকারীর পরিচয় কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কালের আলো/এসএ