প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে কিমের বড় পরিবর্তন
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল এনেছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। এর অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে নো কোয়াং চোলকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটব্যুরোর প্রধান কিম সং গি।
রোববার (৩০ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানায়।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, কাঠামোগত পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শনিবার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কিম জং উন সামরিক নেতৃত্বে এসব পরিবর্তনের অনুমোদন দেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ হারানো নো কোয়াং চোলকে ক্ষমতাসীন দলের অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপ-পরিচালক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন দলের পলিটব্যুরোর সদস্য করা হয়েছে।
সামরিক প্রযুক্তি ও নতুন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য গবেষক ও কর্মকর্তাদের প্রশংসা করার পরপরই এই সামরিক রদবদল করা হলো। কেসিএনএ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র গবেষণাকেন্দ্র সম্প্রতি এমন কিছু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পরই উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের খবর সামনে এলো। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে এসব মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দাবি করে আসছে।
তবে এ বছর মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার প্রতি এ ধরনের সামরিক মহড়াকে ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এর মধ্যেই কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন ট্রাম্প। প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকের পর চলতি বছরও উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে নতুন করে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের এমন উদ্যোগে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
বরং উত্তর কোরিয়া নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি আগামী ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের কাছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ ‘ফ্রিডম এজ’ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক নেতৃত্বে এই রদবদল এবং নতুন অস্ত্র প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিতে পারে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array