খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে কিমের বড় পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে কিমের বড় পরিবর্তন

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল এনেছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। এর অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে নো কোয়াং চোলকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটব্যুরোর প্রধান কিম সং গি।

রোববার (৩০ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানায়।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, কাঠামোগত পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শনিবার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কিম জং উন সামরিক নেতৃত্বে এসব পরিবর্তনের অনুমোদন দেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ হারানো নো কোয়াং চোলকে ক্ষমতাসীন দলের অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপ-পরিচালক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন দলের পলিটব্যুরোর সদস্য করা হয়েছে।

সামরিক প্রযুক্তি ও নতুন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য গবেষক ও কর্মকর্তাদের প্রশংসা করার পরপরই এই সামরিক রদবদল করা হলো। কেসিএনএ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র গবেষণাকেন্দ্র সম্প্রতি এমন কিছু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পরই উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের খবর সামনে এলো। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে এসব মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দাবি করে আসছে।

তবে এ বছর মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার প্রতি এ ধরনের সামরিক মহড়াকে ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এর মধ্যেই কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন ট্রাম্প। প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকের পর চলতি বছরও উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে নতুন করে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের এমন উদ্যোগে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

বরং উত্তর কোরিয়া নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি আগামী ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের কাছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ ‘ফ্রিডম এজ’ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক নেতৃত্বে এই রদবদল এবং নতুন অস্ত্র প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিতে পারে।

কালের আলো/এসএ

ভয়াবহ বন্যায় নেপালকে ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
ভয়াবহ বন্যায় নেপালকে ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের

ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালকে ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০ হাজার পরিবারকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ সহায়তার ঘোষণা দেয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, আমেরিকান নাগরিকদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নেপাল ও চীনে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তারা সেখানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সহায়তার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রমেও সহযোগিতা করছে।

এর আগে বুধবার হিমালয়ের একটি হিমবাহের অংশ ধসে পড়ে। এতে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার মানুষকে উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান চলছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন মার্কিন নাগরিক বলে জানা গেছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি খাদ্য ও মানবিক প্রয়োজন মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এসএ

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

দুর্যোগের ছয় দিন পর সোমবার নেপাল ও চীনের কর্তৃপক্ষ হতাহতের সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯০৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক রয়েছেন ৫৯২ জন।

নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ২৫ জন পুলিশ সদস্য, ৪৫ জন সেনাসদস্য, ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, ১৪ জন শুল্ক দপ্তরের কর্মী এবং তিনজন অভিবাসন দপ্তরের কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ কর্মীরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের তালিকায় ১২৭ জন নেপালি যাত্রীও রয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।

দুই দেশের হিসাব একত্র করলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯১৯ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৯৩ জন। তাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৮৫৩।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে চীন ২ হাজার ১০০ জনের বেশি কর্মী মোতায়েন করেছে। উদ্ধারকারীদের সহায়তায় শত শত যানবাহন ও বিপুল পরিমাণ উদ্ধার সরঞ্জামও ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে বরফ ও পাথরের বিশাল স্রোত নেমে আসে। পরে সেই স্রোত পানির প্রবল ধারা ও কাদার সঙ্গে মিশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি করে।

এতে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে ও কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি চীনের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে কয়েক ডজন বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। সোমবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, আগের দিন ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, আল মিনহাদ ঘাঁটির যেসব এলাকায় মার্কিন সামরিক সদস্য ও হেলিকপ্টার অবস্থান করছিল, সেসব স্থানকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানো হয়। ইরান ঘাঁটিটিকে বিদেশি বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহ ও বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আরও প্রতিশোধমূলক হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।

তবে ইরানের এই দাবি অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর ‘ভুল’। একই সময়ে আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার কাছে ইরান থেকে আসা একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির বিমানবাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে।

এর আগে রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্রের নিচে মাইন স্থাপনের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে—এমন রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের দাবি, ওই হামলায় তাদের কয়েকজন সদস্য ও বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন।

এর পর ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করে, হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে ইরান নীরব থাকবে না এবং ভবিষ্যতে হামলা হলে ‘দৃঢ় জবাব’ দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসএ