খুঁজুন
                               
, ,
           

ভয়াবহ বন্যায় নেপালকে ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
ভয়াবহ বন্যায় নেপালকে ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের

ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালকে ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০ হাজার পরিবারকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ সহায়তার ঘোষণা দেয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, আমেরিকান নাগরিকদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নেপাল ও চীনে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তারা সেখানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সহায়তার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রমেও সহযোগিতা করছে।

এর আগে বুধবার হিমালয়ের একটি হিমবাহের অংশ ধসে পড়ে। এতে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার মানুষকে উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান চলছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন মার্কিন নাগরিক বলে জানা গেছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি খাদ্য ও মানবিক প্রয়োজন মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এসএ

আনসার-ভিডিপিকে গঠনমূলক কাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
আনসার-ভিডিপিকে গঠনমূলক কাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশের গঠনমূলক কাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। এসময় রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস-সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জননিরাপত্তা বিধান ও ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আনসার বাহিনীর কাজের প্রশংসা করেন এবং বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি ভাষা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

এ সময় তিনি বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম বিশেষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আনসার সদস্যের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, সদস্যদের ডাটাবেজ তৈরি, ক্ষুদ্রঋণ প্রদান কার্যক্রম এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রান্তিক পর্যায়ে বাহিনীর গৃহীত কর্মসূচি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিক-নির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আনসার ও ভিডিপি দেশের সব থেকে বড় জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খল বাহিনী।

তিনি এসময় আনসার ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও আনসার ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি এ সময় সৌরশক্তি উৎপাদন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অর্জন এবং জনমুখী কার্যক্রমে বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে আগামী দিনে আরও কর্মসূচি ও তৎপরতা গ্রহণের আহ্বান জানান।

দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আনসার ও ভিডিপি প্রধানকে আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইসির বড় পরীক্ষা ইউপি ভোটে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ইসির বড় পরীক্ষা ইউপি ভোটে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবার তৃণমূলে ভোটের পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেপ্টেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল এবং নভেম্বরে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন। তবে ব্যালটের লড়াইয়ের আগেই ইসির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে মাঠের আইনশৃঙ্খলা। কারণ জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে, বিশেষ করে ইউপি ভোটে, সংঘাতের ঝুঁকি ঐতিহাসিকভাবেই বেশি।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখে ভোটের বেশ আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। জানতে চেয়েছেন দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ে বাহিনীর সক্ষমতা এবং নির্বাচনের সময় কতটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পুলিশকে সারা দেশের জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়েছে।

আগেভাগেই মাঠের হিসাব নিতে চায় কমিশন
গত ১৮ আগস্ট নির্বাচন ভবনে পুলিশ প্রধান আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিইসি। সেখানে জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় এবং একটি সমন্বিত সেল গঠনের বিষয় উঠে আসে। পুলিশের পক্ষ থেকে শিগগিরই ইসিকে পরিস্থিতির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এরপর ২৭ আগস্ট সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় আরও ভালো নির্বাচন করার অঙ্গীকারে কোনো ঘাটতি নেই। তাঁর ভাষায়, স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রা সাধারণত বেশি থাকে—এ বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। ইসির প্রস্তুতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পুলিশের বিদ্যমান মনিটরিং ব্যবস্থাকে নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজে লাগানো। ১৯ আগস্ট আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ২৪ আগস্ট বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন সিইসি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে কমিশন। নির্বাচনের সময় বাহিনীগুলো কীভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে, সে বিষয়ে তাদের মতামত ও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

ভরসা পুলিশ-বিজিবি-আনসারে
এবারের ইউপি নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে রাখার পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনার মাছউদের মতে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পুলিশ, আনসার ও বিজিবিই যথেষ্ট। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, কমিশন এখনই পরিস্থিতিকে সংকটজনক হিসেবে দেখছে না। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে চাইছে। ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও সেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ।

অতীতের ইউপি ভোটই বড় সতর্কবার্তা
ইসির উদ্বেগের পেছনে অবশ্যই বাস্তব কারণ রয়েছে। অতীতের ইউপি নির্বাচনগুলোতে ভোটের মাঠ পরিণত হয়েছে সংঘাতের কেন্দ্রে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানি ছিল ভয়াবহ। নির্বাচন কমিশন ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত এবং আট হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনেও সহিংসতার ধারাবাহিকতা থামেনি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপে সংঘাতে অন্তত ১১৬ জন নিহত হন। শুধু ২০২১ সালেই ইউপি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ১১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এসব নির্বাচনে সংঘাতের বড় কারণ ছিল দলীয় প্রতীক। একই দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলা বহু এলাকায় সহিংসতা বাড়িয়েছিল।

দলীয় প্রতীক না থাকায় কমতে পারে সংঘাত
এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় আগের চিত্র কিছুটা বদলাতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীমের মতে, অতীতে দলীয় প্রতীক স্থানীয় নির্বাচনকে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে পরিণত করেছিল। এবার সেই কাঠামো না থাকায় সহিংসতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝুঁকি পুরোপুরি উধাও হচ্ছে না। বিশেষ করে কোনো বিতর্কিত বা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রার্থী মাঠে এলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হতে পারে। আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী অংশ নিলে অন্য রাজনৈতিক পক্ষ তাদের রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে প্রতিরোধের চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বলেছেন তিনি। তাই প্রার্থী যাচাই থেকে শুরু করে প্রচার ও ভোটের দিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আসল পরীক্ষা ভোটের মাঠে
ইসি বলছে, সংঘাতমুক্ত নির্বাচনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় নির্ভরতা থাকবে মাঠের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর। কারণ স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক সময় সরাসরি ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত বিরোধে রূপ নেয়। জাতীয় নির্বাচনের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে এখানে ভোটের সঙ্গে যুক্ত থাকে স্থানীয় আধিপত্য, সামাজিক সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের বিরোধ। ইসি কমিশনার মাছউদও স্বীকার করেছেন, সংঘাতমুক্ত নির্বাচন করতে গেলে নানা বাধা আসবে। সেসব বাধা আগেই চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে শতভাগ সংঘাতমুক্তির নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

কালের আলো/এম/এএইচ

ইলন মাস্কের এক্সকে চ্যালেঞ্জ, ‘টুইটার’ নামেই নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
ইলন মাস্কের এক্সকে চ্যালেঞ্জ, ‘টুইটার’ নামেই নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সকে (X) অস্বাভাবিক এক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে নতুন একটি স্টার্টআপ। সাবেক টুইটার ট্রেডমার্ক আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ‘টুইটার’ নামেই নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ অপারেশন ব্লুবার্ড পরিচালনা করছে নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘Twitter.now’। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন টুইটারের সাবেক ট্রেডমার্ক কাউন্সেল স্টিফেন কোটস।

তবে নতুন প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরুতেই আইনি জটিলতায় পড়েছে। টুইটার নাম ও সংশ্লিষ্ট ট্রেডমার্কের মালিকানা নিয়ে অপারেশন ব্লুবার্ডের সঙ্গে এক্সের বিরোধ চলছে। এক্স ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং ‘টুইটার’ নাম ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্ম চালু করা ঠেকাতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

অপারেশন ব্লুবার্ডের দাবি, পুরোনো টুইটার ব্যবসার নাম পরিবর্তন করে এক্স করার পর ‘Twitter’ ও ‘Tweet’সহ সংশ্লিষ্ট কিছু ট্রেডমার্কের অধিকার ছেড়ে দিয়েছে এক্স। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এক্স।

পুরোনো টুইটারের আদলে নয়

নতুন প্ল্যাটফর্মটি কেবল পুরোনো টুইটারের পুনরাবৃত্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে না। বরং ব্যবহারকারীরা তাদের ফিডে কী ধরনের পোস্ট দেখতে চান, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ব্যবস্থা ‘VERA’। এটি বিভিন্ন পোস্টে থাকা দাবির সত্যতা যাচাই, প্রাসঙ্গিক তথ্য ও সূত্র সরবরাহ এবং পোস্টের সঙ্গে ‘ট্রাস্ট স্কোর’ যুক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

অপারেশন ব্লুবার্ড জানিয়েছে, পরবর্তী সংস্করণে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবেন কোন মাত্রার বিশ্বাসযোগ্যতার পোস্ট তারা ফিডে দেখতে চান।

আপাতত বন্ধ Twitter.now

নতুন প্ল্যাটফর্মটি চালুর পরই অবশ্য আরেক সমস্যায় পড়েছে। বর্তমানে Twitter.now ওয়েবসাইটটি অফলাইনে রয়েছে। সাইটে প্রবেশ করলে একটি বার্তা দেখানো হচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছে, তারা সাময়িকভাবে সেবা দিতে পারছে না এবং দ্রুত তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আমরা ডাউন। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে কঠিনভাবে কিছু শিক্ষা নিচ্ছি।’

সাইটটি যত দ্রুত সম্ভব আবার চালু করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। বার্তার শেষে ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে লেখা হয়েছে, ‘Love you guys ।’

ফলে একদিকে ‘টুইটার’ নামের ট্রেডমার্ক নিয়ে এক্সের সঙ্গে আইনি লড়াই, অন্যদিকে নতুন প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে Twitter.now। এখন দেখার বিষয়, পুরোনো টুইটারের ব্র্যান্ড-পরিচয় ব্যবহার করে নতুন এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আদৌ কতটা এগোতে পারে।

কালের আলো/এসএ