খুঁজুন
                               
, ,
           

সমন্বিত ও দক্ষ জনসেবাই ডিজিটাল রূপান্তরের মূল লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
সমন্বিত ও দক্ষ জনসেবাই ডিজিটাল রূপান্তরের মূল লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো বা সরকারি সেবা ডিজিটাল করা নয় বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সমন্বিত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করে উন্নত জনসেবা নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘ই-ইফেকটিভ ই-গভারমেন্টস: এসেলারটিং ই-গভারমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় ডেটা গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ন্যাশনাল রিসপনসিবল ডেটা এক্সচেঞ্জ (এনআরডিইএক্স) প্ল্যাটফর্ম নিয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ই-গভর্ন্যান্স একাডেমির (ইজিএ) সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের Global Gateway Initiative-এর অর্থায়নে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকলেই ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। একই তথ্য নাগরিকের কাছ থেকে বারবার সংগ্রহ এবং একই ধরনের প্রযুক্তি সক্ষমতা একাধিক প্রতিষ্ঠানে তৈরি না করে Common Capability, Interoperability ও National Data Exchange ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। নাগরিকদের কাছ থেকে একই তথ্য বারবার না নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপদ ও অনুমোদিত উপায়ে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, Interoperability শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়। এর সঙ্গে সুশাসন, অভিন্ন মানদণ্ড, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিষয়ও জড়িত। তাই একই ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা বারবার তৈরি না করে অভিন্ন অবকাঠামো ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, দায়িত্বশীলতা ও সুস্পষ্ট নীতিমালা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রকল্পে পুনরাবৃত্তি কমিয়ে যৌথভাবে ব্যবহারযোগ্য জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নাগরিকের কাছে সরকার কোনো বিচ্ছিন্ন মন্ত্রণালয় বা ডেটাবেজের সমষ্টি নয়, বরং একটি সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা। এ কারণে সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোকে Connected Ecosystem হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা সরকারি সেবায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকের আস্থাও বৃদ্ধি করবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ডেটা ব্যবস্থাপনা, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং নিরাপদ তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আইন ও নীতিমালা, নিরাপদ কানেক্টিভিটি, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করবে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো, নিরাপদ ডেটা বিনিময় ও উন্মুক্ত API নিশ্চিত করে তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি স্টার্টআপ খাতে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সঠিক নীতি, দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

সেমিনারে সমন্বিত ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল সরকারের ক্ষেত্রে ডেটার মালিকানা, দায়িত্বশীলতা ও আস্থা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি দলের হেড অব ইউনিট ও হেড অব কো-অপারেশন মাইকেল ক্রেইজা, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও e-ffective e-governance প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক, e-Governance Academy Management Board-এর সদস্য ইনগ্রিড টুনেকুর্গ, eGA-এর Head of Digital Architecture and Solutions Competence Centre আরভো অট, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব ফারাহ শাম্মী এনডিসি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জেজু দ্বীপ: যেখানে পাথর, সমুদ্র আর নারীর সাহস বলে গল্প

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
জেজু দ্বীপ: যেখানে পাথর, সমুদ্র আর নারীর সাহস বলে গল্প

চলতি বছরের এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড জার্নালিজম কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে নতুন ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও গল্প বিনিময়ের পর আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত জেজু দ্বীপ।

দ্বীপটিতে পা রাখার পরই এর প্রকৃতি ও সংস্কৃতি মুগ্ধ করে। স্থানীয়ভাবে জেজুকে বলা হয় ‘সামদাদো’—অর্থাৎ ‘তিন অনেকের দ্বীপ’। এখানকার তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—ভূদৃশ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য পাথর, শক্তিশালী নারীদের ঐতিহ্য এবং উপকূলজুড়ে বয়ে চলা প্রবল বাতাস।

জেজুর আগ্নেয়গিরির উৎপত্তির চিহ্ন দ্বীপের প্রায় সর্বত্রই চোখে পড়ে। কোটি কোটি বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গড়ে ওঠা এই দ্বীপে রয়েছে কালো ব্যাসল্ট পাথর, আগ্নেয়গিরির গর্ত এবং সুউচ্চ খাড়া পাহাড়।

এই আগ্নেয় ঐতিহ্য কাছ থেকে দেখার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান জেজু স্টোন পার্ক। বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘ডল হারেউবাং’ বা ‘পাথরের দাদু’—আগ্নেয় পাথর দিয়ে তৈরি বিশেষ ভাস্কর্য। শান্ত ও জ্ঞানী অভিব্যক্তির এসব মূর্তি দীর্ঘদিন ধরে জেজুর মানুষ ও ভূমির রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এসব পাথরের মূর্তির পাশে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, তারা যেন নীরবে দ্বীপটির বহু বছরের ইতিহাসের সাক্ষ্য দিচ্ছে। এগুলো শুধু পুরোনো নিদর্শন নয়; বরং জেজুর মানুষের সংগ্রাম, আধ্যাত্মিকতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের গল্পও বলে।

স্টোন পার্কে রয়েছে মনোরম হাঁটার পথ এবং পুরোনো জেজুর বাড়ির পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। খড়ের ছাউনি দেওয়া এসব বাড়ি শুধু জাদুঘরের অংশ নয়, বরং দ্বীপটির অতীত জীবনের একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

এই স্থানটি ‘জিসিউল’ চলচ্চিত্র এবং নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘হোয়েন লাইফ গিভস ইউ ট্যানজারিনস’-এর শুটিং লোকেশন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। সিরিজটির আরও বেশ কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে জেজুর গিমনিয়ং উপকূল, হাদো জেলেপল্লি এবং সিওংসান ইলচুলবংয়ের মতো মনোমুগ্ধকর স্থানেও।

জেজু ভ্রমণের অন্যতম শান্ত অভিজ্ঞতা ছিল হানদাম কোস্টাল ট্রেইলে হাঁটা। গওয়াকজি বিচ থেকে হানদাম বিচ পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথটি সমুদ্রের পাশ দিয়ে চলে গেছে। সুন্দরভাবে নির্মিত এই পথটি হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্যও উপযোগী।

হাঁটার সময় এক পাশে বিস্তৃত নীল সমুদ্র, অন্য পাশে কালো আগ্নেয় পাথর। ঢেউয়ের মৃদু শব্দের সঙ্গে মিশে যায় সমুদ্রের বাতাস আর বুনো ফুলের হালকা সুবাস। ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে যেন মুহূর্তেই দূরে নিয়ে যায় এই পথ।

অনেক পর্যটককে পথের পাশের ক্যাফেতে বসে কফি পান করতে কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় উপকূলীয় পথে হাঁটার অভিজ্ঞতা থাকলেও হানদাম ট্রেইলের এই শান্ত ও ঘনিষ্ঠ আবহ একে আলাদা করে তুলেছে।

তবে জেজুর সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়। দ্বীপটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হলো ‘হেনিয়ো’—শত শত বছর ধরে আধুনিক ডাইভিং সরঞ্জাম ছাড়াই সমুদ্রে ডুব দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসা নারী ডুবুরিরা।

হেনিয়োদের সঙ্গে সরাসরি দেখা না হলেও তাদের ইতিহাস ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার অভিজ্ঞতা গভীরভাবে নাড়া দেয়। ষাটের কোঠা পেরোনো অনেক নারীও ঠান্ডা পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুব দিয়ে সামুদ্রিক শৈবাল, অ্যাবালোন, ঝিনুকসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক সম্পদ সংগ্রহ করেন। এসব সামুদ্রিক সম্পদ জেজুর অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

হেনিয়ো সংস্কৃতিতে প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও টেকসইভাবে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের চর্চা রয়েছে। পানির নিচ থেকে উঠে আসার সময় তাদের মুখ থেকে বের হওয়া বিশেষ শিস—‘সুমবিসোরি’—সহকর্মী ডুবুরিদের জন্য সংকেত হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে এই শব্দ জেজুর সমুদ্রজীবনের এক অনন্য সুর হিসেবেও পরিচিত।

হেনিয়ো সংস্কৃতিকে ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ‘অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নেটফ্লিক্সের ‘হোয়েন লাইফ গিভস ইউ ট্যানজারিনস’ সিরিজেও তাদের জীবন, সংগ্রাম ও অবদানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে এই নারীদের সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করেছে।

জেজু দ্বীপ তাই শুধু একটি পর্যটন গন্তব্য নয়। এখানে প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ইতিহাস এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে মিশে আছে, যা ভ্রমণকারীকে থেমে ভাবতে শেখায়। প্রাচীন পাথরের মাঝে হাঁটা, হানদাম ট্রেইলে সমুদ্রের নোনা বাতাস অনুভব করা কিংবা হেনিয়ো নারীদের সাহস ও সংগ্রামের গল্প শোনা—এসব অভিজ্ঞতা দ্বীপ ছেড়ে আসার পরও মনে থেকে যায়।

অ্যাডভেঞ্চার, প্রশান্তি কিংবা সংস্কৃতির গভীরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা—যে কারণেই ভ্রমণ করা হোক, জেজু তার নিজস্ব সৌন্দর্য ও গল্প দিয়ে পর্যটককে আকর্ষণ করে। দ্বীপটি মনে করিয়ে দেয়, শক্তি অনেক সময় লুকিয়ে থাকে টিকে থাকার ক্ষমতায়; পাথর ও সমুদ্রও গল্প বলতে পারে। আর কখনো কখনো সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সুন্দর উপায় হলো একটু থেমে যাওয়া।

কালের আলো/এসএ

বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক বাড়াতে চায় ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক বাড়াতে চায় ভারত

অতীতে আটকে না থেকে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক বাড়াতে চায় ভারত। বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। পরে সাক্ষাৎ নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘দু’দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে সেসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আজকের সাক্ষাতে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়ে কথা হয়েছে।’

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যা হয়, সেটি নিয়ে কিছু বলতে চাই না এবং বলা উচিতও নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, তা ভালোভাবে বুঝবে।’

দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আমরা সবসময় চাই। আমরা যা সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। সাধারণ মানুষের যেন ভালো হয়, সেজন্য আমাদের দায়িত্ব আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলি, সীমান্তের সঙ্গে আমরা স্বপ্নও শেয়ার করি। সেজন্য প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সমান। কেউ বড় কিংবা ছোট নই।’

বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমাদের দেখতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ কী? বাংলাদেশেরও দেখতে হবে ভারতের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।’

অতীতের সম্পর্ক ও ঘটনাপ্রবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীত আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু অতীতে আটকে যাওয়ারও কোনো জায়গা নেই। অতীতে আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, অন্য দেশের প্রতি আনুগত্য এবং তাদের শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব না পেলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইনজীবী আসলাম মিয়া দাবি করেছেন, সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা এবং নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাই করা অপরিহার্য।

নোটিশে সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২৫ বছর বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য। তবে ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন, তবে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।

অবশ্য ৬৬(২এ) অনুচ্ছেদে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের পর সাংবিধানিক অবস্থানের যে বিশেষ বিধান রয়েছে, সেটিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের বর্তমান আইনগত অবস্থা ও ইতিহাস পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ড. খলিলুর রহমান। নোটিশে তার ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিষয়ে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নোটিশে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো হলো-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিক কিনা? তারা কখনো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন কিনা?

বর্তমানে বা অতীতে কোনো বিদেশি পাসপোর্ট ধারণ করেছেন কিনা? কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছিলেন কি না? এবং বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী কবে ত্যাগ করেছেন?

নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ গ্রহণের সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রতি সত্যিকারের বিশ্বাস ও আনুগত্য এবং সংবিধান রক্ষার অঙ্গীকার করতে হয়। বিদেশি নাগরিকত্ব বা আনুগত্য থাকলে এই শপথের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আইনজীবী আসলাম মিঞা জানান, এই নোটিশটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ নয়; বরং নাগরিকদের মনে ওঠা প্রশ্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার একটি প্রক্রিয়া।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই মন্ত্রীর পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব ত্যাগ ও গ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি পরীক্ষার আহ্বান জানিয়ে নোটিশে বলা হয়, যদি কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অযোগ্যতা না থাকলে তাদের পদে বহাল থাকার আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করতে হবে।

সাত দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পাওয়া গেলে বা বিষয়টি অনিষ্পন্ন থাকলে সংবিধান ও আইনের আলোকে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ