খুঁজুন
                               
, ,
           

দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: তারেক রহমান

প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সাক্ষাৎ করতে গেলে সরকারপ্রধান এ কথা বলেন।

সাক্ষাতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি। এ সময় আমাদের দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

তারেক রহমান বলেন, তার সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

আইপিইউ সেক্রেটারি বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।

সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তারা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, অন্য দেশের প্রতি আনুগত্য এবং তাদের শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব না পেলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইনজীবী আসলাম মিয়া দাবি করেছেন, সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা এবং নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাই করা অপরিহার্য।

নোটিশে সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২৫ বছর বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য। তবে ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন, তবে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।

অবশ্য ৬৬(২এ) অনুচ্ছেদে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের পর সাংবিধানিক অবস্থানের যে বিশেষ বিধান রয়েছে, সেটিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের বর্তমান আইনগত অবস্থা ও ইতিহাস পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ড. খলিলুর রহমান। নোটিশে তার ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিষয়ে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নোটিশে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো হলো-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিক কিনা? তারা কখনো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন কিনা?

বর্তমানে বা অতীতে কোনো বিদেশি পাসপোর্ট ধারণ করেছেন কিনা? কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছিলেন কি না? এবং বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী কবে ত্যাগ করেছেন?

নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ গ্রহণের সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রতি সত্যিকারের বিশ্বাস ও আনুগত্য এবং সংবিধান রক্ষার অঙ্গীকার করতে হয়। বিদেশি নাগরিকত্ব বা আনুগত্য থাকলে এই শপথের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আইনজীবী আসলাম মিঞা জানান, এই নোটিশটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ নয়; বরং নাগরিকদের মনে ওঠা প্রশ্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার একটি প্রক্রিয়া।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই মন্ত্রীর পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব ত্যাগ ও গ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি পরীক্ষার আহ্বান জানিয়ে নোটিশে বলা হয়, যদি কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অযোগ্যতা না থাকলে তাদের পদে বহাল থাকার আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করতে হবে।

সাত দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পাওয়া গেলে বা বিষয়টি অনিষ্পন্ন থাকলে সংবিধান ও আইনের আলোকে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ঘোস্টিং, রোচিং, সফট লঞ্চ-জেন-জির প্রেমের যত নতুন কায়দা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
ঘোস্টিং, রোচিং, সফট লঞ্চ-জেন-জির প্রেমের যত নতুন কায়দা

আমাদের বাবা-মায়ের সময় প্রেম বা সম্পর্কের ভাষা ছিল বেশ সহজ। কাউকে ভালো লাগল, প্রেম হলো, তারপর হয় সম্পর্ক ভেঙে গেল, নয়তো বিয়ে। সম্পর্ক একটু গভীর হলে মাঝখানে ‘প্রেম’ নামের একটা ধাপ থাকত। ব্যস, গল্প শেষ।

কিন্তু জেন-জি সেই সহজ ব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে যেন সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এখানে আরও অন্তত ৪৭টি নতুন শব্দ দরকার!

যেমন ধরা যাক ‘পকেটিং’ (Pocketing)। এর অর্থ হলো, কেউ আপনার সঙ্গে সম্পর্কে আছে, কিন্তু আপনাকে তার বন্ধু বা পরিবারের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখছে। বাংলাদেশে বিষয়টি আরও চমকপ্রদ হতে পারে। আট মাস ধরে সম্পর্ক চলছে, অথচ কোনো রেস্টুরেন্টে তার কাজিনের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো—‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধু’ হিসেবে!

এরপর আছে ‘ফিজিং’ (Fizzing)। সম্পর্ক ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিচ্ছে না। মেসেজের উত্তর ছোট হতে থাকে, দেখা করার পরিকল্পনা উধাও হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দুজন কাগজে-কলমে সম্পর্কে আছেন, শুধু কেউ সম্পর্কটির ‘শেষকৃত্য’ ঘোষণা করেনি।

এবার আসা যাক ‘জম্বিইং’ (Zombieing)-এ। কেউ আপনাকে হঠাৎ ঘোস্ট করে পুরোপুরি উধাও হয়ে গেল। কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর আবার ফিরে এসে বলল, ‘সরি, জীবনটা খুব ব্যস্ত ছিল।’ অর্থাৎ মৃত সম্পর্ক আবার জীবিত!

এর চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে আছে ‘রোচিং’ (Roaching)। আপনি ভাবছেন একজনের সঙ্গে সম্পর্ক করছেন। পরে জানতে পারলেন, তিনি একই সময়ে আরও কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করছেন। নামটি এসেছে তেলাপোকা থেকে—একটি দেখলে নাকি আরও অনেকগুলো কোথাও লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকে। প্রেমের জন্য বেশ রোমান্টিক উপমা!

আর আছে ‘ইমোশনাল এয়ারবিএনবি’ (Emotional Airbnb)। নাম শুনেই যার অর্থ কিছুটা বোঝা যায়। এমন একজন মানুষ, যে আপনাকে সাময়িকভাবে তার মানসিক সমস্যার ‘আবাসন’ হিসেবে ব্যবহার করে। হৃদয়ভাঙার গল্প নিয়ে আসে, আপনার কাছে সব কষ্ট উজাড় করে দেয়, মনটা একটু হালকা হলে আবার চলে যায়।

তবে সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগেই রয়েছে ‘সফট লঞ্চ’ (Soft Launch)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রেমিক বা প্রেমিকার পরিচয় সরাসরি না দিয়ে শুধু একটি কাটা হাতের ছবি, দুটি কফির কাপ কিংবা কারও ছায়া পোস্ট করা—এটাই সফট লঞ্চ। এরপর শুরু হয় রহস্য সমাধানের পালা। বন্ধুদের প্রত্যেকে নিজের মতো করে অনুমান করতে থাকে, ছবির আড়ালে থাকা মানুষটি আসলে কে!

তাই কেউ যদি এখন আপনাকে বলে, ‘আমি তোমার সঙ্গে কথা বলছি’—তাহলে ধরে নেওয়ার আগে একটু থামুন। তিনি কি সত্যিই শুধু কথা বলছেন, নাকি আপনাকে সফট লঞ্চ করছেন, পকেটিং করছেন, কিংবা অজান্তেই আপনাকে বানিয়ে ফেলেছেন তার ‘ইমোশনাল এয়ারবিএনবি’?

অবস্থা এমন যে, সঙ্গী খোঁজার আগে হয়তো একটা অভিধানই কিনে নেওয়া ভালো!

কালের আলো/এসএ

নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০০০

নেপাল ও চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের দেওয়া সর্বশেষ আপডেটের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বলেছে, তাদের দেশে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৮৭ জনে। অপরদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল চীন। এতে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩ জনে পৌঁছেছে।

৯৮৭টি মরদেহের পাশাপাশি অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপাল। এতে করে দেশটিতে এখন নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৩ হাজার ৯১৬ জনে পৌঁছেছে। অপরদিকে তিব্বতে নিখোঁজ আছেন ৫৪৬ জন।

ফলে দুই দেশে মোট নিখোঁজ আছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সপ্তম দিনের উদ্ধার কাজ চলছে আজ। এখনো যেহেতু সাড়ে চার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন, তাই নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। যারা বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে হিমালয়ের দেশটিতে ঘুরতে এসেছিলেন। অপরদিকে চীনে ২৩ দেশের ২৬১ বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে গত বুধবার আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। কিন্তু ওই পানির শক্তি এত বেশি ছিল যে বন্যায় নিহত মানুষের মরদেহ ভেসে কয়েকশ মাইল দূরে চলে এসেছে। পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় মরদেহগুলো নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল নেপাল। তাই আপাতত ডিএনএ সংগ্রহ করে সেগুলো গণকবরে সমাহিত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিচয় শনাক্ত হলে কবর থেকে তুলে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সূত্র: এএফপি
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ