পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, অন্য দেশের প্রতি আনুগত্য এবং তাদের শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব না পেলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আইনজীবী আসলাম মিয়া দাবি করেছেন, সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা এবং নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাই করা অপরিহার্য।
নোটিশে সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২৫ বছর বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য। তবে ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন, তবে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।
অবশ্য ৬৬(২এ) অনুচ্ছেদে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের পর সাংবিধানিক অবস্থানের যে বিশেষ বিধান রয়েছে, সেটিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের বর্তমান আইনগত অবস্থা ও ইতিহাস পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ড. খলিলুর রহমান। নোটিশে তার ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিষয়ে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নোটিশে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো হলো-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিক কিনা? তারা কখনো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন কিনা?
বর্তমানে বা অতীতে কোনো বিদেশি পাসপোর্ট ধারণ করেছেন কিনা? কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছিলেন কি না? এবং বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী কবে ত্যাগ করেছেন?
নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ গ্রহণের সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রতি সত্যিকারের বিশ্বাস ও আনুগত্য এবং সংবিধান রক্ষার অঙ্গীকার করতে হয়। বিদেশি নাগরিকত্ব বা আনুগত্য থাকলে এই শপথের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আইনজীবী আসলাম মিঞা জানান, এই নোটিশটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ নয়; বরং নাগরিকদের মনে ওঠা প্রশ্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার একটি প্রক্রিয়া।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই মন্ত্রীর পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব ত্যাগ ও গ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি পরীক্ষার আহ্বান জানিয়ে নোটিশে বলা হয়, যদি কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অযোগ্যতা না থাকলে তাদের পদে বহাল থাকার আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করতে হবে।
সাত দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পাওয়া গেলে বা বিষয়টি অনিষ্পন্ন থাকলে সংবিধান ও আইনের আলোকে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array