খুঁজুন
                               
, ,
           

উদ্বোধনের আগেই সাড়ে ৭ কোটি টাকার সেতুতে ফাটল

ঈশ্বরদী (পাবনা)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
উদ্বোধনের আগেই সাড়ে ৭ কোটি টাকার সেতুতে ফাটল

পাবনার ঈশ্বরদীতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু ছয় বছরেও চালু হয়নি। দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় নির্মাণ শেষ হলেও সেতুটি স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না। এরই মধ্যে উদ্বোধনের আগেই সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া গনির ঘাটে পদ্মার শাখা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে সেতুটি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ২০২১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে কাজ চলার পর সম্প্রতি সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণ শেষ হয়েছে। তবে দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক এখনও নির্মাণ করা হয়নি।

৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের পরও যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় দুই পাশের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নিতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বাড়ছে।

এক স্থানীয় কৃষক বলেন, সেতুটি চালু হবে—এমন আশায় তারা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু সেতু নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় আগের মতোই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বেড়েছে নির্মাণ ব্যয়

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, চরকুড়ুলিয়া এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের দুর্ভোগ কমাতে গনির ঘাট এলাকায় সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। কাজ পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তিন দফায় সময় বাড়িয়ে নেয়। এতে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা।

উদ্বোধনের আগেই ফাটল

সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। এরই মধ্যে বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা সেতুর নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সেতুর নির্মাণমান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দ্রুত মানসম্মত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যশোরের আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ফুল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

অপ্রতিম হত্যা

হাজিরা খাতায় এখনও আছে অপ্রতিমের নাম, নেই শুধু সে

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
হাজিরা খাতায় এখনও আছে অপ্রতিমের নাম, নেই শুধু সে

কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ‘ক’ শাখার শিক্ষার্থী এশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। হাজিরা খাতায় তার নাম এখনও রয়েছে, রোল নম্বর ২৯। তবে আর কোনোদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ডাকবেন না সেই রোল নম্বর। সহপাঠীদের কোলাহলের মাঝেও থাকবে না অপ্রতিমের পরিচিত মুখ। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল অপ্রতিম। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সে স্কুলে এসেছিল। ওই দিন বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবলও খেলেছিল। এরপর শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে।

অপ্রতিমের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহপাঠীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানান্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রোববার বিদ্যালয় খোলার পর যথারীতি হাজিরা নেওয়া হয়। তখন হাজিরা খাতায় অপ্রতিমের নামের পাশে লেখা হয় অনুপস্থিত। কিন্তু সহপাঠীরা জানে, এই অনুপস্থিতি আর কোনোদিন কাটবে না।

অপ্রতিমের সহপাঠী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফেসবুকে বন্ধুর নিখোঁজ হওয়ার খবর দেখে তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি। তার ভাষ্য, নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলেও তারা একসঙ্গে ফুটবল খেলেছেন। তখন বুঝতে পারেননি সেটিই হবে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের শেষ দেখা।

আরেক সহপাঠী মো. সিয়াম বলেন, অপ্রতিমকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে এসে বুক কেঁপে উঠছে। এত দ্রুত তাকে বিদায় দিতে হবে, তা কখনও ভাবেননি। তার ভাষায়, ক্লাসে অপ্রতিমের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কোনোদিন পূরণ হবে না।

অপ্রতিমের শ্রেণিশিক্ষক মহিবুল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবারই সর্বশেষ বিদ্যালয়ে এসেছিল অপ্রতিম। শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার পর শিক্ষক ও সহপাঠীরা তার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সুরতহালকারী এসআই সাইফুল ইসলাম। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান তিনি।

এদিকে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসানকে (১৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা রোববার রাতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে। প্রিয় সহপাঠীকে হারিয়ে তাই শোকের ভারে নীরব তার স্কুলের শ্রেণিকক্ষ। হাজিরা খাতায় রোল নম্বর ২৯ থাকলেও সেই বেঞ্চে আর ফিরবে না অপ্রতিম।

কালের আলো/এমএসআইপি 

‘কাহিনি এখনো বাকি’ দিয়ে আলোচনায় মৌমিতা বড়ুয়া

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
‘কাহিনি এখনো বাকি’ দিয়ে আলোচনায় মৌমিতা বড়ুয়া

১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশের পর থেকেই শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে কণ্ঠশিল্পী মৌমিতা বড়ুয়ার নতুন গান ‘কাহিনি এখনো বাকি’। নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া আর সেই সময়ের সংগীতের আবহকে সামনে রেখে তৈরি গানটির সুর ও মেজাজে স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে শাহরুখ খান–কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’-এর প্রভাব।

আসিফ জাহাঙ্গীর পরিচালিত ওয়েব সিনেমা ‘মিশন ডিডিএলজে’-এর জন্য গানটি তৈরি করা হয়েছে। গানটির সুর করেছেন সৈয়দ নাফিস। মৌমিতা বড়ুয়ার সঙ্গে এতে কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। গানটি প্রকাশের পর থেকেই নব্বইয়ের দশকের গান ও বলিউডের সেই সময়ের আবহে বেড়ে ওঠা শ্রোতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।

বাবার ডায়েরিতে জমে থাকা গান

মৌমিতা বড়ুয়ার সংগীতজীবনের শুরুটা পরিবারের হাত ধরেই। তাঁর বাবা ত্রিদিব বড়ুয়া বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী। ফলে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন মৌমিতা ও তাঁর ছোট বোন।

বাবার হাতে লেখা গানের ডায়েরিই ছিল তাঁদের গানের খাতা। সেই ডায়েরিতে থাকা পুরোনো সিনেমার গান গাইতে গাইতেই ছোটবেলায় সংগীতের সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত হন মৌমিতা।

বিশেষ করে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমার গানগুলোর সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও বাবার ডায়েরির মাধ্যমে। মৌমিতা বলেন, সিনেমাটি মুক্তির সময় হয়তো তাঁর জন্মই হয়নি। কিন্তু বাবার ডায়েরিতে গানগুলো পাওয়া যেত এবং ছোটবেলায় তিনি ও তাঁর বোন সেসব গান গাইতেন।

শাহরুখ খান ও ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছিল তাঁর বাবা-মায়েরও পছন্দের। ফলে নব্বইয়ের দশকের শাহরুখের সিনেমা ও গান তাঁদের পারিবারিক স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

‘সেরাকণ্ঠ’ থেকে সংগীতের পথচলা

ছোটবেলা থেকেই পরিবারের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও আত্মীয়দের কাছ থেকেও সংগীতচর্চায় উৎসাহ পেয়েছেন মৌমিতা। বাবার কাছেই তাঁর সংগীতে হাতেখড়ি। পরে সুব্রত দাস ও পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন তিনি।

২০১৭ সালে রিয়েলিটি শো ‘সেরাকণ্ঠ’-এ অংশ নিয়ে বড় পরিসরে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পান মৌমিতা। তাঁর ভাষায়, প্রতিযোগিতাটিতে বিভিন্ন ধরনের গান গাওয়ার সুযোগ ছিল। ফলে নিজেকে একজন ভার্সেটাইল শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার অভিজ্ঞতাও পেয়েছেন সেখানে।

ওয়েব সিরিজের গানেও পরিচিতি

রিয়েলিটি শোর পর ধীরে ধীরে পেশাদার সংগীতাঙ্গনে নিজের জায়গা তৈরি করতে থাকেন মৌমিতা। ২০২৪ সালে জাহিদ প্রীতমের ওয়েব সিরিজ ‘ফ্রেঞ্জি’-এর ‘প্রেমের মতোন লাগে’ গানটি তাঁকে শ্রোতাদের কাছে আরও পরিচিত করে তোলে।

এরপর বিভিন্ন ধরনের গান নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এ বছর ‘কর্ণফুলী দুলি দুলি’সহ একাধিক গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটি বিশেষভাবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে জানান মৌমিতা।

গানটির প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ি মানুষের জমি, ঘরবাড়ি ও ঠিকানা হারানোর যে অভিজ্ঞতা, তা সমতলের মানুষের পক্ষে পুরোপুরি অনুভব করা কঠিন। সেই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই গানটি তৈরি করা হয়েছে।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের শেষদিকের কাজেও কণ্ঠ

প্রয়াত গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ‘একটি ছেলে’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন মৌমিতা। গানটির সুর করেছেন অপু আমান। মৌমিতা জানান, মৃত্যুর আগে গাজী মাজহারুল আনোয়ার যে কয়েকটি প্রজেক্টে কাজ করেছিলেন, গানটি তার একটি। এমনকি তাঁকে সামনে বসিয়েই গানটির কথা লিখেছিলেন তিনি।

গানটির রেকর্ডিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই এটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ ইকবালের লেখা ও কুমার বিশ্বজিতের সুরে ‘তোমায় রেখেছিলাম এগিয়ে’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন মৌমিতা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে ‘মেঘের দেখা’। গানটির কথা লিখেছেন সৈয়দ নাফিস এবং সুর করেছেন মিঠুন চক্র।

সংগীতের পথেই এগোতে চান

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মৌমিতা বড়ুয়ার বক্তব্যও বেশ সরল। সংগীতকে নিজের ইচ্ছামতো কোনো নির্দিষ্ট পথে পরিচালনা করার চেয়ে সংগীত যেদিকে নিয়ে যাবে, সেদিকেই এগিয়ে যেতে চান তিনি।

তাঁর কথায়, ‘মিউজিককে কখনো আমার হাত ধরে হাঁটাই না। আমি মিউজিকের হাত ধরে হাঁটি।’ ভবিষ্যতে ঠিক কী করবেন, সেটি এখনই নির্দিষ্ট করে বলতে চান না এই শিল্পী।

গান গাওয়ার পাশাপাশি শিশুদের সংগীত শেখান মৌমিতা। তাঁর কাছে এটিও সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ভবিষ্যতে তাঁর কাছ থেকে গান শেখা কয়েকজন শিশু যদি তাঁকে তাদের সংগীতজীবনের শুরুর মানুষ হিসেবে মনে রাখে, সেটিকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখেন তিনি।

চট্টগ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মৌমিতা বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। সংগীতের পাশাপাশি শিশুদের গান শেখানো এবং নতুন নতুন গানে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে তাঁর পথচলা। ‘কাহিনি এখনো বাকি’ সেই যাত্রায় যোগ করেছে নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিমাখা এক নতুন অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ

গাজার ১৩ বছরের কিশোরীকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘থার্টিন ইন গাজা’,টরন্টোতে জিতেছে নেটপ্যাক পুরস্কার

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
গাজার ১৩ বছরের কিশোরীকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘থার্টিন ইন গাজা’,টরন্টোতে  জিতেছে নেটপ্যাক পুরস্কার

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় একটি শরণার্থীশিবিরে বেড়ে ওঠা ১৩ বছরের কিশোরীর জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘থার্টিন ইন গাজা’ জিতেছে ৫১তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) নেটপ্যাক পুরস্কার। ফিলিস্তিনি নির্মাতা হোসাম আবু দানের প্রথম কাহিনিচিত্র এটি।

১১ দিনব্যাপী টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ দিনে রোববার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম বা দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজের মধ্য থেকে সেরা ছবিকে দেওয়া হয় নেটপ্যাক পুরস্কার।

গাজার বাস্তবতায় ১৩ বছরের রাঘাদ

‘থার্টিন ইন গাজা’ ছবির গল্প ১৩ বছরের রাঘাদকে ঘিরে। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাবার সঙ্গে একটি শরণার্থীশিবিরে থাকা এই কিশোরী কৈশোরের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। একই সঙ্গে তাকে মোকাবিলা করতে হয় যুদ্ধ, নিরাপত্তাহীনতা এবং ব্যক্তিগত পরিসর হারানোর বাস্তবতা।

৭৭ মিনিটের ছবিটি পুরোপুরি গাজায় স্থানীয় ফিলিস্তিনি কলাকুশলীদের নিয়ে নির্মিত হয়েছে। টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সেন্টারপিস বিভাগে ছবিটির বিশ্ব উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়।

ছবিটিকে পুরস্কৃত করার ব্যাখ্যায় নেটপ্যাক জুরি জানায়, গাজার চলমান পরিস্থিতিকে ছবিটি কেবল দুর্ভোগের প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপন করেনি। বরং যুদ্ধের মধ্যেও মানুষের জীবনের নানা জটিলতা ও ব্যক্তিগত অনুভূতিকে শক্তিশালী দৃশ্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

জুরি ছবিটিকে ‘সাহসী ও জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন কণ্ঠের আগমন ঘটেছে।

পুরস্কার পাওয়ার পর নির্মাতা হোসাম আবু দান বলেন, গাজার মানুষের কণ্ঠ আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে—এটি তাঁদের জন্য গভীর গর্বের বিষয়। গাজার অসংখ্য বেদনাদায়ক গল্পের মধ্য থেকে একটি মানুষের গল্প বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।

ভারতের ‘আং’ পেল প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার

এবারের টিআইএফএফে ভারতের জন্যও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। থেজা রিও পরিচালিত ‘আং’ জিতেছে প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার।

ভারত–মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডের একটি গ্রামের শেষ জীবিত প্রধানকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। চলচ্চিত্রটির বেশির ভাগ সংলাপ কোনিয়াক ভাষায়।

পুরস্কার পাওয়ার পর থেজা রিও বলেন, নিজের জন্মভূমি ও জনগোষ্ঠীর গল্প এবং তাঁদের কণ্ঠ তুলে ধরাই ছিল তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। সেই চলচ্চিত্র নিয়ে টরন্টো এসে পুরস্কার পাওয়া তাঁর কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।

এবার প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারের গুরুত্বও বেড়েছে। প্রথমবারের মতো এই পুরস্কারজয়ী অ-ইংরেজি ভাষার ছবি অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে অস্কারের অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।

দর্শকের পছন্দ ‘লা বোলা নেগ্রা’

টিআইএফএফের মূল পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে স্পেনের ছবি ‘লা বোলা নেগ্রা’। হাভিয়ের কালভো ও হাভিয়ের আমব্রোসি পরিচালিত ছবিটির গল্প বিস্তৃত ১৯৩২, ১৯৩৭ ও ২০১৭—এই তিন সময়কে ঘিরে।

স্পেনের তিন পুরুষের জীবন, ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা ও যন্ত্রণার গল্পকে একই সূত্রে এনেছে চলচ্চিত্রটি। এর আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটি আলোচনায় আসে এবং সেখানে দুই নির্মাতা যৌথভাবে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পান।

টরন্টো উৎসবের পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠানে দুই নির্মাতা উপস্থিত ছিলেন না। তাঁরা তখন স্পেনে ছবিটির প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। তাঁদের পাঠানো বার্তা অনুষ্ঠানে পড়ে শোনানো হয়।

কানাডার সেরা ‘সানবার্ন’

সেরা কানাডীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে সারভিল পোবলেতের ‘সানবার্ন’। টরন্টোর ব্লিকার স্ট্রিট এলাকার একদল কিশোর-কিশোরীর বেড়ে ওঠার গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ছবিটি।

জুরির ভাষায়, ছবিটি প্রাণবন্ত, মজার এবং একই সঙ্গে মানবিক।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে সাইমন স্টোনের ‘এলসিনোর’। প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে দর্শকের পছন্দ হয়েছে ব্যারি অ্যাভরিচের ‘ডারলিন লাভ: আই নো হয়ার আ’ভ বিন’। মিডনাইট ম্যাডনেস বিভাগে দর্শকের পছন্দ হয়েছে ম্যাথিউ র‍্যানকিনের ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, ব্রায়ান মালরনি’।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের সংগঠন ফিপ্রেসির পুরস্কার পেয়েছে আইরিশ লেখক-নির্মাতা ডেভিড টারপিনের ‘অ্যানসেস্টরস’।

১১ দিনে ২৯৪টি চলচ্চিত্র

এবারের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ৭২টি দেশের মোট ২৯৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। ১১ দিনের উৎসবে ৯৮টি লালগালিচায় অংশ নিয়েছেন আট শতাধিক শিল্পী ও চলচ্চিত্রকর্মী।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৭৯ জন পরিচালক উৎসবে অংশ নেন। স্বীকৃত গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার। প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ‘টিআইএফএফ: দ্য মার্কেট’-এ অংশ নেন প্রায় ৭ হাজার প্রতিনিধি।

১০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ১১ দিনের আয়োজন শেষ হয় রোববার। পুরস্কার ঘোষণার পাশাপাশি শেষ দিনেও দর্শকদের জন্য উৎসবের বিভিন্ন আয়োজন চালু ছিল। পিপলস চয়েজ পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্রগুলোর বিশেষ বিনা মূল্যের প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবের প্রধান নির্বাহী ক্যামেরন বেইলি শেষ দিনে দর্শক উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, টিআইএফএফের দর্শকভিত্তি আগের মতোই শক্তিশালী এবং এবারও বিপুলসংখ্যক দর্শক উৎসবে অংশ নিয়েছেন।

কালের  আলো/এসএ