খুঁজুন
                               
, ,
           

‘কাহিনি এখনো বাকি’ দিয়ে আলোচনায় মৌমিতা বড়ুয়া

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
‘কাহিনি এখনো বাকি’ দিয়ে আলোচনায় মৌমিতা বড়ুয়া

১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশের পর থেকেই শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে কণ্ঠশিল্পী মৌমিতা বড়ুয়ার নতুন গান ‘কাহিনি এখনো বাকি’। নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া আর সেই সময়ের সংগীতের আবহকে সামনে রেখে তৈরি গানটির সুর ও মেজাজে স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে শাহরুখ খান–কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’-এর প্রভাব।

আসিফ জাহাঙ্গীর পরিচালিত ওয়েব সিনেমা ‘মিশন ডিডিএলজে’-এর জন্য গানটি তৈরি করা হয়েছে। গানটির সুর করেছেন সৈয়দ নাফিস। মৌমিতা বড়ুয়ার সঙ্গে এতে কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। গানটি প্রকাশের পর থেকেই নব্বইয়ের দশকের গান ও বলিউডের সেই সময়ের আবহে বেড়ে ওঠা শ্রোতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।

বাবার ডায়েরিতে জমে থাকা গান

মৌমিতা বড়ুয়ার সংগীতজীবনের শুরুটা পরিবারের হাত ধরেই। তাঁর বাবা ত্রিদিব বড়ুয়া বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী। ফলে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন মৌমিতা ও তাঁর ছোট বোন।

বাবার হাতে লেখা গানের ডায়েরিই ছিল তাঁদের গানের খাতা। সেই ডায়েরিতে থাকা পুরোনো সিনেমার গান গাইতে গাইতেই ছোটবেলায় সংগীতের সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত হন মৌমিতা।

বিশেষ করে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমার গানগুলোর সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও বাবার ডায়েরির মাধ্যমে। মৌমিতা বলেন, সিনেমাটি মুক্তির সময় হয়তো তাঁর জন্মই হয়নি। কিন্তু বাবার ডায়েরিতে গানগুলো পাওয়া যেত এবং ছোটবেলায় তিনি ও তাঁর বোন সেসব গান গাইতেন।

শাহরুখ খান ও ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছিল তাঁর বাবা-মায়েরও পছন্দের। ফলে নব্বইয়ের দশকের শাহরুখের সিনেমা ও গান তাঁদের পারিবারিক স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

‘সেরাকণ্ঠ’ থেকে সংগীতের পথচলা

ছোটবেলা থেকেই পরিবারের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও আত্মীয়দের কাছ থেকেও সংগীতচর্চায় উৎসাহ পেয়েছেন মৌমিতা। বাবার কাছেই তাঁর সংগীতে হাতেখড়ি। পরে সুব্রত দাস ও পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন তিনি।

২০১৭ সালে রিয়েলিটি শো ‘সেরাকণ্ঠ’-এ অংশ নিয়ে বড় পরিসরে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পান মৌমিতা। তাঁর ভাষায়, প্রতিযোগিতাটিতে বিভিন্ন ধরনের গান গাওয়ার সুযোগ ছিল। ফলে নিজেকে একজন ভার্সেটাইল শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার অভিজ্ঞতাও পেয়েছেন সেখানে।

ওয়েব সিরিজের গানেও পরিচিতি

রিয়েলিটি শোর পর ধীরে ধীরে পেশাদার সংগীতাঙ্গনে নিজের জায়গা তৈরি করতে থাকেন মৌমিতা। ২০২৪ সালে জাহিদ প্রীতমের ওয়েব সিরিজ ‘ফ্রেঞ্জি’-এর ‘প্রেমের মতোন লাগে’ গানটি তাঁকে শ্রোতাদের কাছে আরও পরিচিত করে তোলে।

এরপর বিভিন্ন ধরনের গান নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এ বছর ‘কর্ণফুলী দুলি দুলি’সহ একাধিক গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটি বিশেষভাবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে জানান মৌমিতা।

গানটির প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ি মানুষের জমি, ঘরবাড়ি ও ঠিকানা হারানোর যে অভিজ্ঞতা, তা সমতলের মানুষের পক্ষে পুরোপুরি অনুভব করা কঠিন। সেই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই গানটি তৈরি করা হয়েছে।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের শেষদিকের কাজেও কণ্ঠ

প্রয়াত গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ‘একটি ছেলে’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন মৌমিতা। গানটির সুর করেছেন অপু আমান। মৌমিতা জানান, মৃত্যুর আগে গাজী মাজহারুল আনোয়ার যে কয়েকটি প্রজেক্টে কাজ করেছিলেন, গানটি তার একটি। এমনকি তাঁকে সামনে বসিয়েই গানটির কথা লিখেছিলেন তিনি।

গানটির রেকর্ডিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই এটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ ইকবালের লেখা ও কুমার বিশ্বজিতের সুরে ‘তোমায় রেখেছিলাম এগিয়ে’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন মৌমিতা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে ‘মেঘের দেখা’। গানটির কথা লিখেছেন সৈয়দ নাফিস এবং সুর করেছেন মিঠুন চক্র।

সংগীতের পথেই এগোতে চান

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মৌমিতা বড়ুয়ার বক্তব্যও বেশ সরল। সংগীতকে নিজের ইচ্ছামতো কোনো নির্দিষ্ট পথে পরিচালনা করার চেয়ে সংগীত যেদিকে নিয়ে যাবে, সেদিকেই এগিয়ে যেতে চান তিনি।

তাঁর কথায়, ‘মিউজিককে কখনো আমার হাত ধরে হাঁটাই না। আমি মিউজিকের হাত ধরে হাঁটি।’ ভবিষ্যতে ঠিক কী করবেন, সেটি এখনই নির্দিষ্ট করে বলতে চান না এই শিল্পী।

গান গাওয়ার পাশাপাশি শিশুদের সংগীত শেখান মৌমিতা। তাঁর কাছে এটিও সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ভবিষ্যতে তাঁর কাছ থেকে গান শেখা কয়েকজন শিশু যদি তাঁকে তাদের সংগীতজীবনের শুরুর মানুষ হিসেবে মনে রাখে, সেটিকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখেন তিনি।

চট্টগ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মৌমিতা বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। সংগীতের পাশাপাশি শিশুদের গান শেখানো এবং নতুন নতুন গানে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে তাঁর পথচলা। ‘কাহিনি এখনো বাকি’ সেই যাত্রায় যোগ করেছে নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিমাখা এক নতুন অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্প’: কাতারের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্প’: কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্পের মতো’ প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি।

তিনি বলেছেন, চলমান সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ‘কম্পন’ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন শেখ মোহাম্মদ। রোববার কাতার ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের আহ্বান

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হবে এবং কোনো রাষ্ট্র অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারবে না।

তাঁর ভাষায়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে সংঘাতের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, কোনো রাষ্ট্রকে যদি দীর্ঘ সময় ধরে অনিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়, তাহলে কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমেই সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। উত্তেজনার উৎসগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোর সমাধান এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

জ্বালানি ও নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ

চলমান সংঘাতের প্রভাব কাতারের অর্থনীতিতেও পড়ছে বলে স্বীকার করেছেন শেখ মোহাম্মদ। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও পরে তা জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ ও বিনিয়োগের মতো অর্থনৈতিক বিষয়েও ছড়িয়ে পড়েছে।

তাঁর মতে, এসব বিষয় আলাদা নয়; বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে পরস্পর সম্পর্কিত।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, সংকটের সময় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ ও বিনিয়োগের প্রশ্নে গিয়ে ঠেকে। এত কিছু যখন ব্যাহত হচ্ছে, তখন কোন বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করা যায়—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

‘উত্তেজনা বাড়ানোর চক্র’ এড়ানোর আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে উত্তেজনা বাড়ানোর চক্র থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সামরিক বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। বরং সংঘাতের উৎসগুলো সমাধান করা এবং দেশগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।

কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ভিত্তি নিয়ে সাম্প্রতিক সংকটের সময়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, দেশটি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলেও দাবি করেন শেখ মোহাম্মদ। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব কাতারের ওপরও পড়ছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরুর চেষ্টা

এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দোহা।

নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেসব বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

সূত্র: আল–জাজিরা

কালের আলো/এসএ

অপ্রতিম হত্যা

হাজিরা খাতায় এখনও আছে অপ্রতিমের নাম, নেই শুধু সে

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
হাজিরা খাতায় এখনও আছে অপ্রতিমের নাম, নেই শুধু সে

কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ‘ক’ শাখার শিক্ষার্থী এশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। হাজিরা খাতায় তার নাম এখনও রয়েছে, রোল নম্বর ২৯। তবে আর কোনোদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ডাকবেন না সেই রোল নম্বর। সহপাঠীদের কোলাহলের মাঝেও থাকবে না অপ্রতিমের পরিচিত মুখ। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল অপ্রতিম। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সে স্কুলে এসেছিল। ওই দিন বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবলও খেলেছিল। এরপর শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে।

অপ্রতিমের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহপাঠীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানান্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রোববার বিদ্যালয় খোলার পর যথারীতি হাজিরা নেওয়া হয়। তখন হাজিরা খাতায় অপ্রতিমের নামের পাশে লেখা হয় অনুপস্থিত। কিন্তু সহপাঠীরা জানে, এই অনুপস্থিতি আর কোনোদিন কাটবে না।

অপ্রতিমের সহপাঠী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফেসবুকে বন্ধুর নিখোঁজ হওয়ার খবর দেখে তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি। তার ভাষ্য, নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলেও তারা একসঙ্গে ফুটবল খেলেছেন। তখন বুঝতে পারেননি সেটিই হবে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের শেষ দেখা।

আরেক সহপাঠী মো. সিয়াম বলেন, অপ্রতিমকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে এসে বুক কেঁপে উঠছে। এত দ্রুত তাকে বিদায় দিতে হবে, তা কখনও ভাবেননি। তার ভাষায়, ক্লাসে অপ্রতিমের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কোনোদিন পূরণ হবে না।

অপ্রতিমের শ্রেণিশিক্ষক মহিবুল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবারই সর্বশেষ বিদ্যালয়ে এসেছিল অপ্রতিম। শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার পর শিক্ষক ও সহপাঠীরা তার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সুরতহালকারী এসআই সাইফুল ইসলাম। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান তিনি।

এদিকে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসানকে (১৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা রোববার রাতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে। প্রিয় সহপাঠীকে হারিয়ে তাই শোকের ভারে নীরব তার স্কুলের শ্রেণিকক্ষ। হাজিরা খাতায় রোল নম্বর ২৯ থাকলেও সেই বেঞ্চে আর ফিরবে না অপ্রতিম।

কালের আলো/এমএসআইপি 

উদ্বোধনের আগেই সাড়ে ৭ কোটি টাকার সেতুতে ফাটল

ঈশ্বরদী (পাবনা)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
উদ্বোধনের আগেই সাড়ে ৭ কোটি টাকার সেতুতে ফাটল

পাবনার ঈশ্বরদীতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু ছয় বছরেও চালু হয়নি। দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় নির্মাণ শেষ হলেও সেতুটি স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না। এরই মধ্যে উদ্বোধনের আগেই সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া গনির ঘাটে পদ্মার শাখা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে সেতুটি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ২০২১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে কাজ চলার পর সম্প্রতি সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণ শেষ হয়েছে। তবে দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক এখনও নির্মাণ করা হয়নি।

৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের পরও যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় দুই পাশের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নিতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বাড়ছে।

এক স্থানীয় কৃষক বলেন, সেতুটি চালু হবে—এমন আশায় তারা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু সেতু নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় আগের মতোই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বেড়েছে নির্মাণ ব্যয়

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, চরকুড়ুলিয়া এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের দুর্ভোগ কমাতে গনির ঘাট এলাকায় সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। কাজ পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তিন দফায় সময় বাড়িয়ে নেয়। এতে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা।

উদ্বোধনের আগেই ফাটল

সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। এরই মধ্যে বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা সেতুর নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সেতুর নির্মাণমান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দ্রুত মানসম্মত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যশোরের আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ফুল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি