খুঁজুন
                               
, ,
           

গুমের বিচারে বাধা ঠেকাতে আইন করা হচ্ছে: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
গুমের বিচারে বাধা ঠেকাতে আইন করা হচ্ছে: চিফ প্রসিকিউটর

গুমের তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনে বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ডাকসু আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভায় ‘শুনতে কি পাও’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে গুমের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে এমন ভয়াবহ সব তথ্য পাওয়া গেছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য এবং বিভিন্ন নথিপত্রে এসব ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, গুমের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে না পারলে গুম প্রতিরোধে আইন ও সামাজিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আমরা বুঝতে পারব না।

গুমের ঘটনায় এক প্রত্যক্ষদর্শীকে দিনের পর দিন জিজ্ঞাসাবাদের একটি ঘটনা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই ব্যক্তি প্রথম কয়েক দিন কোনো তথ্য দিতে চাননি। পরে গভীর রাতে তিনি তদন্তকারীদের জানান, এতদিন তিনি যা বলেছেন, তা মোট ঘটনার মাত্র এক শতাংশ। এরপর তিনি বিস্তারিত বলতে শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তার বক্তব্য টাইপ করার একপর্যায়ে টাইপিস্টের হাতও অবশ হয়ে যায়।

তাজুল ইসলাম বলেন, গুমের পর হত্যার ঘটনায় একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো। বন্দিদের গোপন আটককেন্দ্র থেকে রাতে বের করে বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হতো। পরে গুলি করে বা বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে হত্যা করে লাশ নদী, খাল কিংবা নালায় ফেলে দেওয়া হতো।

তিনি জানান, তদন্তে এমন একজন সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তার সাক্ষ্য পাওয়া গেছে, যিনি ২০১১ সালে পদ্মা নদীতে একটি অভিযানে তিনজন বন্দিকে হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা তিন বন্দিকে নিয়ে স্পিডবোটে ওঠেন। পরে নদীর মাঝখানে গিয়ে একজনকে গুলি করে এবং আরেকজনকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়। তৃতীয় ব্যক্তিকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে লাশগুলো নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই কর্মকর্তা এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় পরবর্তী সময়ে তাকে বদলি করা হয়েছিল। তদন্তে তার বদলির তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে ওই সময়ের সংবাদপত্রের প্রতিবেদনও খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে একই রাতে ওই এলাকার আশপাশে কয়েকটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়।

গুমের ঘটনায় সাংকেতিক শব্দ ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বন্দিদের হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়াকে বিভিন্ন সাংকেতিক নামে ডাকা হতো। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ অপরাধ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদেরও চাপ ও হুমকি দেওয়া হতো।

শীতলক্ষ্যা ও বলেশ্বর নদীতে গুমের পর লাশ ফেলার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। তাজুল ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে এক রাতে একাধিক মানুষকে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়ার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে। বন্দিদের ট্রলারে করে নদীর নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে শরীর চেপে ধরে মাথায় গুলি করে, পেট কেটে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

তিনি আরও বলেন, হত্যার সময় বন্দিদের মাথার বিশেষ টুপি খুলে দেওয়া হতো, যাতে মাথায় গুলি সরাসরি করা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট নৌকার মাঝিদের কাছ থেকেও এ ধরনের ঘটনার সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। গুলি করার সময় রক্ত ও মগজ ছিটকে পড়া ঠেকাতে বালিশ ব্যবহার করা হতো বলেও সাক্ষ্য পাওয়া গেছে।

বলেশ্বর নদীর ঘটনায় প্রায় ২০ থেকে ২২ জন সাক্ষীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই যে অজস্র কাহিনী, এটা সিস্টেমেটিক উপায়ে গোটা রাষ্ট্রকে একটা ভয়ের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছিল।

প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইন নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে ওই বাহিনী ছাড়া অন্য বাহিনী তদন্ত করবে। কিন্তু বাস্তবে একটি গুমের ঘটনায় একাধিক বাহিনী যুক্ত থাকায় কোন বাহিনী মূল অপরাধ করেছে, তা নির্ধারণ করাই কঠিন।

তাজুল ইসলাম বলেন, আপনি কীভাবে আইডেন্টিফাই করবেন যে কোন বাহিনী অপহরণটা করেছে? কারণ আমরা যে মামলাগুলো তদন্ত করেছি, সেখানে দেখা গেছে এক বাহিনী অপহরণ করে, আরেক বাহিনীর হাতে দেয়, অন্য একটি গ্রুপ বন্দি রাখে এবং হত্যার সময় আবার আরেক গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ কারণে প্রস্তাবিত আইনকে ‘অকার্যকর ও অদ্ভু’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাজুল ইসলাম। তার অভিযোগ, গুমের অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ওপর ছেড়ে দিলে অভিযুক্ত বাহিনীই নিজেদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে। এতে আলামত নষ্ট কিংবা তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাজুল ইসলাম বলেন, যিনি গুম করে মানুষ মেরে ফেলছেন, তার কাছে সুপারিশ করা হচ্ছে— অনুগ্রহ করে আপনি সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করুন। এই আইনের প্রস্তাবটা কাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য?

তিনি আরও বলেন, কোনো বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ওই বাহিনীর সদস্যদেরই আরও বড় বিপদের মুখে ফেলতে পারে। কারণ অপরাধ গোপন করার চেষ্টা পরবর্তী সময়ে আলাদা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং বিচ্ছিন্ন গুমের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে।

এই আইনজীবী বলেন, গোপন করে কেউ কোনোদিন রক্ষা পায় না। জিয়াউল হাসানও মনে করেছিল গোপন করে সে রক্ষা পাবে। কিন্তু দুই কাঁধে দুই ফেরেশতা সব লিখে রাখছে।

বর্তমান সরকারের প্রতি গুমের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারকে একটি বড় সুযোগ দিয়েছে। সঠিকভাবে আইন প্রণয়ন ও বিচার নিশ্চিত করতে পারলে জনগণ ভবিষ্যতেও তাদের সমর্থন করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে আমরা ফিফটি-ফিফটি দিব আপনাদের। আপনাকেই ভোট দিব। ঠিকমতো আইনগুলো করেন, ঠিকমতো বিচারগুলো করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সংঘাতের বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের জনগণ নতুন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছে। এই পরিবেশকে আবার সংঘাত ও অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আবার কেন অন্ধকারের দিকে যেতে চান? আপনাদের জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছে। সরকারি দল-বিরোধী দল আপনারা কেউ যদি আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, এই জনগণ কিন্তু আগের জনগণ না। যারা ৩৬ জুলাইয়ে বিপ্লব করতে পেরেছে, তারা আপনাদেরকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে থাকা ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করা। ফলে দুই দলের জন্যই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকছে দুই দলের সামনে।

ফাইনালের স্বপ্নই বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা
বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এটি দলটির জন্য উল্লেখযোগ্য অবস্থান। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাকে তাঁরা চাপ হিসেবে নয়, বরং অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

শান্তর ভাষ্য, দল প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করেছে। বাড়তি কিছু করার চেষ্টা না করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা এবং ইতিবাচক ফল এনে দেওয়া প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে চান তাঁরা। অধিনায়ক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ হলেও দল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চায়। খেলোয়াড়দের ওপর অবাস্তব প্রত্যাশা না চাপিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা।

চার জয়ে ফাইনালের সম্ভাবনা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে থাকা ছয়টি টেস্ট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সমীকরণ অনুযায়ী, এই ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিততে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে। তবে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে অন্য দলগুলোর ফল এবং পয়েন্ট তালিকার হিসাবের ওপরও। অন্যদিকে, বর্তমানে তালিকার আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য সেরা ছয়ের মধ্যে থেকে চক্র শেষ করা। ফলে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের জন্য লড়তে হবে ক্যারিবীয়দের।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দল এখন পর্যন্ত ২২টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ক্যারিবীয়রা জিতেছে ১৫টিতে, বাংলাদেশ পাঁচটিতে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এটি দুই দলের ১২তম টেস্ট সিরিজ। আগের সিরিজগুলোর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটটি এবং বাংলাদেশ দুটি জিতেছে। একটি সিরিজ ড্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের আগের ১০ টেস্টের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে সাতটিতে। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুটি ম্যাচে, অন্যটি ড্র হয়েছে। মিরপুরে দুই দলের আগের চার টেস্টের তিনটিতে জিতেছে ক্যারিবীয়রা, বাংলাদেশ জিতেছে একটিতে। ২০২১ সালে মিরপুরে সর্বশেষ টেস্টে বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ঘরের মাঠে সেই পরিসংখ্যান বদলানোর লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিকদের।

সাম্প্রতিক ফল নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ঘাটতি দেখা গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর জিম্বাবুয়ের মাঠে ইনিংস ব্যবধানে হারের অভিজ্ঞতা হয়েছে দলের। পরে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন টেস্টে স্বাগতিকদের হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ। তবে সম্প্রতি আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্র করার পর ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচেই হেরেছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও। ঘরের মাঠে পরিচিত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে ভালো ফল করতে চাইবে শান্তর দল।

পেস আক্রমণে তাসকিনসহ চারজন
গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকছেন তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। তাঁদের ভূমিকা এবং কন্ডিশন অনুযায়ী খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক শান্ত।

তিনি বলেন, পেসাররা প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন। কোন পরিস্থিতিতে কে খেলবেন, সে বিষয়েও তাঁদের ধারণা রয়েছে। সিরিজের যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য প্রত্যেকে প্রস্তুত থাকাটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে দুটি লক্ষ্য—টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং ফাইনালের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতীতের পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই সতর্ক থাকতে হবে স্বাগতিকদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। একই সঙ্গে আইনের সীমার মধ্যে থেকে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সই করা এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ
সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দেওয়া বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে বিপিএসএ। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যের মূল তাৎপর্য ছিল—আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমনে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগে অকারণ দ্বিধা তৈরি হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬ হামলা
বিবৃতিতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিপিএসএ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৭০ জন। সংগঠনটির ভাষ্য, পুলিশের ওপর হামলার এসব ঘটনা সদস্যদের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিপিএসএ মনে করে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকলে পুলিশ সদস্যরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনগত সীমারেখা মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনের মধ্যে থেকেই দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব আইনের মধ্যে রয়েছে দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ আইন, ১৮৬১ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল। তবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এ পরিস্থিতিতে আইন অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইন প্রয়োগে পেশাদার আচরণ, নিরপেক্ষতা এবং বিধিবিধানের যথাযথ অনুসরণ প্রয়োজন।

জননিরাপত্তায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান
বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্যকে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও জোরদার করার সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগে তাঁদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনগত সীমা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা বা অপতৎপরতা চালানো হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করবে জোটটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মামুনুল হক জানান, লংমার্চের তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ শেষে কর্মসূচি কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, লংমার্চ সফল করতে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালালে যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে।

গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চ যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, তাঁরা সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন না। কর্মসূচিতে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তাঁরা। কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করলেও সরকারের আচরণে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মামুনুল হক। তাঁর অভিযোগ, ইসি সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ এবং ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন রয়েছে। ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শকের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলে সফরে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন।

বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি