খুঁজুন
                               
, ,
           

গুমের বিচারে বাধা ঠেকাতে আইন করা হচ্ছে: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
গুমের বিচারে বাধা ঠেকাতে আইন করা হচ্ছে: চিফ প্রসিকিউটর

গুমের তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনে বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ডাকসু আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভায় ‘শুনতে কি পাও’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে গুমের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে এমন ভয়াবহ সব তথ্য পাওয়া গেছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য এবং বিভিন্ন নথিপত্রে এসব ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, গুমের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে না পারলে গুম প্রতিরোধে আইন ও সামাজিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আমরা বুঝতে পারব না।

গুমের ঘটনায় এক প্রত্যক্ষদর্শীকে দিনের পর দিন জিজ্ঞাসাবাদের একটি ঘটনা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই ব্যক্তি প্রথম কয়েক দিন কোনো তথ্য দিতে চাননি। পরে গভীর রাতে তিনি তদন্তকারীদের জানান, এতদিন তিনি যা বলেছেন, তা মোট ঘটনার মাত্র এক শতাংশ। এরপর তিনি বিস্তারিত বলতে শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তার বক্তব্য টাইপ করার একপর্যায়ে টাইপিস্টের হাতও অবশ হয়ে যায়।

তাজুল ইসলাম বলেন, গুমের পর হত্যার ঘটনায় একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো। বন্দিদের গোপন আটককেন্দ্র থেকে রাতে বের করে বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হতো। পরে গুলি করে বা বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে হত্যা করে লাশ নদী, খাল কিংবা নালায় ফেলে দেওয়া হতো।

তিনি জানান, তদন্তে এমন একজন সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তার সাক্ষ্য পাওয়া গেছে, যিনি ২০১১ সালে পদ্মা নদীতে একটি অভিযানে তিনজন বন্দিকে হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা তিন বন্দিকে নিয়ে স্পিডবোটে ওঠেন। পরে নদীর মাঝখানে গিয়ে একজনকে গুলি করে এবং আরেকজনকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়। তৃতীয় ব্যক্তিকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে লাশগুলো নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই কর্মকর্তা এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় পরবর্তী সময়ে তাকে বদলি করা হয়েছিল। তদন্তে তার বদলির তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে ওই সময়ের সংবাদপত্রের প্রতিবেদনও খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে একই রাতে ওই এলাকার আশপাশে কয়েকটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়।

গুমের ঘটনায় সাংকেতিক শব্দ ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বন্দিদের হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়াকে বিভিন্ন সাংকেতিক নামে ডাকা হতো। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ অপরাধ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদেরও চাপ ও হুমকি দেওয়া হতো।

শীতলক্ষ্যা ও বলেশ্বর নদীতে গুমের পর লাশ ফেলার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। তাজুল ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে এক রাতে একাধিক মানুষকে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়ার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে। বন্দিদের ট্রলারে করে নদীর নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে শরীর চেপে ধরে মাথায় গুলি করে, পেট কেটে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

তিনি আরও বলেন, হত্যার সময় বন্দিদের মাথার বিশেষ টুপি খুলে দেওয়া হতো, যাতে মাথায় গুলি সরাসরি করা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট নৌকার মাঝিদের কাছ থেকেও এ ধরনের ঘটনার সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। গুলি করার সময় রক্ত ও মগজ ছিটকে পড়া ঠেকাতে বালিশ ব্যবহার করা হতো বলেও সাক্ষ্য পাওয়া গেছে।

বলেশ্বর নদীর ঘটনায় প্রায় ২০ থেকে ২২ জন সাক্ষীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই যে অজস্র কাহিনী, এটা সিস্টেমেটিক উপায়ে গোটা রাষ্ট্রকে একটা ভয়ের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছিল।

প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইন নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে ওই বাহিনী ছাড়া অন্য বাহিনী তদন্ত করবে। কিন্তু বাস্তবে একটি গুমের ঘটনায় একাধিক বাহিনী যুক্ত থাকায় কোন বাহিনী মূল অপরাধ করেছে, তা নির্ধারণ করাই কঠিন।

তাজুল ইসলাম বলেন, আপনি কীভাবে আইডেন্টিফাই করবেন যে কোন বাহিনী অপহরণটা করেছে? কারণ আমরা যে মামলাগুলো তদন্ত করেছি, সেখানে দেখা গেছে এক বাহিনী অপহরণ করে, আরেক বাহিনীর হাতে দেয়, অন্য একটি গ্রুপ বন্দি রাখে এবং হত্যার সময় আবার আরেক গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ কারণে প্রস্তাবিত আইনকে ‘অকার্যকর ও অদ্ভু’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাজুল ইসলাম। তার অভিযোগ, গুমের অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ওপর ছেড়ে দিলে অভিযুক্ত বাহিনীই নিজেদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে। এতে আলামত নষ্ট কিংবা তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাজুল ইসলাম বলেন, যিনি গুম করে মানুষ মেরে ফেলছেন, তার কাছে সুপারিশ করা হচ্ছে— অনুগ্রহ করে আপনি সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করুন। এই আইনের প্রস্তাবটা কাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য?

তিনি আরও বলেন, কোনো বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ওই বাহিনীর সদস্যদেরই আরও বড় বিপদের মুখে ফেলতে পারে। কারণ অপরাধ গোপন করার চেষ্টা পরবর্তী সময়ে আলাদা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং বিচ্ছিন্ন গুমের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে।

এই আইনজীবী বলেন, গোপন করে কেউ কোনোদিন রক্ষা পায় না। জিয়াউল হাসানও মনে করেছিল গোপন করে সে রক্ষা পাবে। কিন্তু দুই কাঁধে দুই ফেরেশতা সব লিখে রাখছে।

বর্তমান সরকারের প্রতি গুমের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারকে একটি বড় সুযোগ দিয়েছে। সঠিকভাবে আইন প্রণয়ন ও বিচার নিশ্চিত করতে পারলে জনগণ ভবিষ্যতেও তাদের সমর্থন করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে আমরা ফিফটি-ফিফটি দিব আপনাদের। আপনাকেই ভোট দিব। ঠিকমতো আইনগুলো করেন, ঠিকমতো বিচারগুলো করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সংঘাতের বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের জনগণ নতুন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছে। এই পরিবেশকে আবার সংঘাত ও অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আবার কেন অন্ধকারের দিকে যেতে চান? আপনাদের জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছে। সরকারি দল-বিরোধী দল আপনারা কেউ যদি আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, এই জনগণ কিন্তু আগের জনগণ না। যারা ৩৬ জুলাইয়ে বিপ্লব করতে পেরেছে, তারা আপনাদেরকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এসব অভিযোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুদকের অভিযোগকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট ফের সচল হয়েছে। ফলে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেওয়া হবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ কমে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

এর আগে কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণেও গোড্ডা কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। গত ৭ আগস্ট ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।

দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় ওই সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।

১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পিডিবি প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে গণতন্ত্রের নিয়মিত চর্চা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। দেশের মানুষ একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায়।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল হলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে জন্মাষ্টমী ও রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা, পুরোহিত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সন্তোষ শর্মা। এসব পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তুষ্টির বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান।

এ সময় পরিষদের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিনিধিদল আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সাদরে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা, ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি