খুঁজুন
                               
, ,
           

গুমের বিচারে বাধা ঠেকাতে আইন করা হচ্ছে: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
গুমের বিচারে বাধা ঠেকাতে আইন করা হচ্ছে: চিফ প্রসিকিউটর

গুমের তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনে বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ডাকসু আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভায় ‘শুনতে কি পাও’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে গুমের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে এমন ভয়াবহ সব তথ্য পাওয়া গেছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য এবং বিভিন্ন নথিপত্রে এসব ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, গুমের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে না পারলে গুম প্রতিরোধে আইন ও সামাজিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আমরা বুঝতে পারব না।

গুমের ঘটনায় এক প্রত্যক্ষদর্শীকে দিনের পর দিন জিজ্ঞাসাবাদের একটি ঘটনা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই ব্যক্তি প্রথম কয়েক দিন কোনো তথ্য দিতে চাননি। পরে গভীর রাতে তিনি তদন্তকারীদের জানান, এতদিন তিনি যা বলেছেন, তা মোট ঘটনার মাত্র এক শতাংশ। এরপর তিনি বিস্তারিত বলতে শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তার বক্তব্য টাইপ করার একপর্যায়ে টাইপিস্টের হাতও অবশ হয়ে যায়।

তাজুল ইসলাম বলেন, গুমের পর হত্যার ঘটনায় একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো। বন্দিদের গোপন আটককেন্দ্র থেকে রাতে বের করে বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হতো। পরে গুলি করে বা বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে হত্যা করে লাশ নদী, খাল কিংবা নালায় ফেলে দেওয়া হতো।

তিনি জানান, তদন্তে এমন একজন সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তার সাক্ষ্য পাওয়া গেছে, যিনি ২০১১ সালে পদ্মা নদীতে একটি অভিযানে তিনজন বন্দিকে হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা তিন বন্দিকে নিয়ে স্পিডবোটে ওঠেন। পরে নদীর মাঝখানে গিয়ে একজনকে গুলি করে এবং আরেকজনকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়। তৃতীয় ব্যক্তিকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে লাশগুলো নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই কর্মকর্তা এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় পরবর্তী সময়ে তাকে বদলি করা হয়েছিল। তদন্তে তার বদলির তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে ওই সময়ের সংবাদপত্রের প্রতিবেদনও খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে একই রাতে ওই এলাকার আশপাশে কয়েকটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়।

গুমের ঘটনায় সাংকেতিক শব্দ ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বন্দিদের হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়াকে বিভিন্ন সাংকেতিক নামে ডাকা হতো। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ অপরাধ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদেরও চাপ ও হুমকি দেওয়া হতো।

শীতলক্ষ্যা ও বলেশ্বর নদীতে গুমের পর লাশ ফেলার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। তাজুল ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে এক রাতে একাধিক মানুষকে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়ার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে। বন্দিদের ট্রলারে করে নদীর নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে শরীর চেপে ধরে মাথায় গুলি করে, পেট কেটে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

তিনি আরও বলেন, হত্যার সময় বন্দিদের মাথার বিশেষ টুপি খুলে দেওয়া হতো, যাতে মাথায় গুলি সরাসরি করা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট নৌকার মাঝিদের কাছ থেকেও এ ধরনের ঘটনার সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। গুলি করার সময় রক্ত ও মগজ ছিটকে পড়া ঠেকাতে বালিশ ব্যবহার করা হতো বলেও সাক্ষ্য পাওয়া গেছে।

বলেশ্বর নদীর ঘটনায় প্রায় ২০ থেকে ২২ জন সাক্ষীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই যে অজস্র কাহিনী, এটা সিস্টেমেটিক উপায়ে গোটা রাষ্ট্রকে একটা ভয়ের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছিল।

প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইন নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে ওই বাহিনী ছাড়া অন্য বাহিনী তদন্ত করবে। কিন্তু বাস্তবে একটি গুমের ঘটনায় একাধিক বাহিনী যুক্ত থাকায় কোন বাহিনী মূল অপরাধ করেছে, তা নির্ধারণ করাই কঠিন।

তাজুল ইসলাম বলেন, আপনি কীভাবে আইডেন্টিফাই করবেন যে কোন বাহিনী অপহরণটা করেছে? কারণ আমরা যে মামলাগুলো তদন্ত করেছি, সেখানে দেখা গেছে এক বাহিনী অপহরণ করে, আরেক বাহিনীর হাতে দেয়, অন্য একটি গ্রুপ বন্দি রাখে এবং হত্যার সময় আবার আরেক গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ কারণে প্রস্তাবিত আইনকে ‘অকার্যকর ও অদ্ভু’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাজুল ইসলাম। তার অভিযোগ, গুমের অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ওপর ছেড়ে দিলে অভিযুক্ত বাহিনীই নিজেদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে। এতে আলামত নষ্ট কিংবা তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাজুল ইসলাম বলেন, যিনি গুম করে মানুষ মেরে ফেলছেন, তার কাছে সুপারিশ করা হচ্ছে— অনুগ্রহ করে আপনি সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করুন। এই আইনের প্রস্তাবটা কাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য?

তিনি আরও বলেন, কোনো বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ওই বাহিনীর সদস্যদেরই আরও বড় বিপদের মুখে ফেলতে পারে। কারণ অপরাধ গোপন করার চেষ্টা পরবর্তী সময়ে আলাদা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং বিচ্ছিন্ন গুমের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে।

এই আইনজীবী বলেন, গোপন করে কেউ কোনোদিন রক্ষা পায় না। জিয়াউল হাসানও মনে করেছিল গোপন করে সে রক্ষা পাবে। কিন্তু দুই কাঁধে দুই ফেরেশতা সব লিখে রাখছে।

বর্তমান সরকারের প্রতি গুমের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারকে একটি বড় সুযোগ দিয়েছে। সঠিকভাবে আইন প্রণয়ন ও বিচার নিশ্চিত করতে পারলে জনগণ ভবিষ্যতেও তাদের সমর্থন করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে আমরা ফিফটি-ফিফটি দিব আপনাদের। আপনাকেই ভোট দিব। ঠিকমতো আইনগুলো করেন, ঠিকমতো বিচারগুলো করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সংঘাতের বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের জনগণ নতুন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছে। এই পরিবেশকে আবার সংঘাত ও অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আবার কেন অন্ধকারের দিকে যেতে চান? আপনাদের জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছে। সরকারি দল-বিরোধী দল আপনারা কেউ যদি আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, এই জনগণ কিন্তু আগের জনগণ না। যারা ৩৬ জুলাইয়ে বিপ্লব করতে পেরেছে, তারা আপনাদেরকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ অধিবেশনের উদ্বোধন হয়। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এর আগে সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বনেতাদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

কালের আলো/এমএসআইপি 

পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা  রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে এককভাবে নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিষয়ে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠনের তাগিদ
  • অপরাধীদের গোপন তথ্য দিতে আহ্বান
  • মাদকবিরোধী অভিযানে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমিত পুলিশ, বাড়াতে হবে জনসম্পৃক্ততা
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একটি থানায় কর্মরত সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এককভাবে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের ধরন ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ-জনগণের সমন্বয় কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর রেখে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তা জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতাও বাড়তে পারে—এমন একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

‘বিতর্ক সৃষ্টি করে পুলিশকে দুর্বল করার চেষ্টা’
পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অপরাধীদের শনাক্ত করতে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপনে পুলিশকে দিতে হবে।

একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ দলের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে যেন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।

মিথ্যা মামলা নয়, আইনের প্রয়োগে সতর্কতা
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা মামলা নেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সংবাদকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে এলাকায় যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একদিকে পুলিশের সক্রিয়তা, অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন—দুই দিকের ভারসাম্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকা ধরে অভিযান
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য, জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং নাগরিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে পাঁচ দিনের সফরে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌঁছান ইয়াসের খান চৌধুরী। সফরের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএএএমকে

সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে চালু হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ । ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

চ্যানেলটি চালুর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর কয়েক দিন আগে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ করেন।

সরাসরি প্রশাসনের ভিডিও

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের ভিডিও, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘোষণা সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের অতীতের নির্বাচিত ভিডিও এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফুটেজও এতে দেখানো হচ্ছে।

সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বক্তব্য প্রচারের নজির অবশ্য নতুন নয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চলমান বিরোধের মধ্যে নতুন চ্যানেলটি চালু হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে CNN, পলিটিকো ও MS NOW ২১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ সুবিধা এবং প্রেসিডেন্টের কাভারেজ নিয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

টেলিভিশন পুলে সংকট

হোয়াইট হাউসে সব টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে প্রবেশ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো একটি টিভি পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে আসছে। CNN, ABC, CBS, NBC ও Fox News এই ব্যবস্থার অংশ।

CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য বড় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ স্থগিত করে। ফলে ট্রাম্পের কয়েকটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কাভারেজে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প কি?

ট্রাম্প টিভিতে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্য প্রশাসন নিজেই তৈরি, বাছাই ও প্রচার করবে। ফলে এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মতো বাইরের সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, যাচাই বা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি সংবাদপ্ল্যাটফর্ম নয়।

সমর্থকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আলাদা।

এদিকে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর করা মামলার মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

কালের আলো/এসএ