খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার আগে ভাবুন—এটা কি গুজব?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার আগে ভাবুন—এটা কি গুজব?

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

২৫ এপ্রিল ২০২৬। সকালবেলা মতিন রহমান মোবাইলে চোখ রাখতেই আতকে উঠলেন। ফেসবুকে সবাই শেয়ার করছেন, দেশে নাকি উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে সবাইকে বাসায় থাকতে বলা হচ্ছে। তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। তাপমাত্রার কারণে মোবাইল ফেটে যেতে পারে, গাড়ির ফুয়েল ট্যাংক বাস্ট হতে পারে—সে জন্য ফুল ট্যাংকি তেল ভরতে মানা করা হচ্ছে। আর শেষে বলা হচ্ছে, এটা ‌‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’র বার্তা।

কী ভয়ানক ব্যাপার! মতিন সাহেব কোনো রকম হাত-মুখ ধুয়ে পরিচিত যত মানুষ আছে, সবাইকে মেসেজটি দিলেন। তারা আবার তাদের পরিচিতজনদের দিলেন। মোটামুটি একটা বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো। যারা মেসেজটি যাচাই না করেই ছড়ালেন, তারা সবাই শিক্ষিত লোক। মানুষের ভালো করার উদ্দেশ্যে খারাপ করে ফেললেন।

এখন আসা যাক, মেসেজটি যে ভুয়া—তা বোঝার কিছু উপায় আছে। এটা বুঝতে পারলে আপনি সতর্ক হবেন এবং ভবিষ্যতে ভুয়া মেসেজ দেখলে সহজে বুঝতে পারবেন।

প্রথমত, যে তাপমাত্রার কথা বলা হচ্ছে তা অবাস্তব। কোনো স্বীকৃত আবহাওয়া দপ্তর (যেমন- আইএমডি) কখনোই এ ধরনের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেয় না যে, তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠবে। সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ায় ৪২-৪৭ ডিগ্রি হওয়াকেই চরম দাবদাহ ধরা হয়। সাম্প্রতিক রিপোর্টে বাংলাদেশের তাপমাত্রা অনেক কম (৩৭-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেঞ্জে)। রোদে মোবাইল ব্যবহার করলে ফোন গরম হতে পারে, কিন্তু শুধু তাপমাত্রার কারণে পকেটে বা হাতে থাকা মোবাইল বোমা বা বাজির মতো ফেটে যাবে—এমন দাবি ভিত্তিহীন।

মেসেজটির সূত্রও ঠিক নেই। ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’ লেখা থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা শহরের নাম নেই। এটি একটি বৈশ্বিক ‘চেইন মেসেজ’, যা বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়। আর এ ধরনের মেসেজ নতুন নয়—একই লেখা ২০১৯, ২০২২, ২০২৩ সালেও এপ্রিল-মে মাসে ভাইরাল হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে কিছু দেখলেই তা ছড়িয়ে দেওয়া যাবে না। আগে দেখুন গ্রহণযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে বিষয়টা এসেছে কি না। আপনি চাইলে জেমিনি, চ্যাটজিপিটি, ক্লোড এআই-এর কাছ থেকে এক মিনিটে আসল সত্য জেনে নিতে পারেন। এ জন্য কোনো টাকা খরচ করতে হবে না।

অতিরিক্ত গরমে ভালো থাকতে হলে দিনের সবচেয়ে গরম সময় (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা) বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পানি ও তরল পানীয় যেমন- খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, দই বা ঘোল বেশি করে খান। হালকা সুতির ঢিলেঢালা কাপড় পরুন এবং রোদে গেলে মাথায় ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন। ঘর ঠান্ডা রাখতে জানালা খুলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন বা ফ্যান বা এসি ব্যবহার করুন। ভারী ও তেলযুক্ত খাবার কম খান এবং ফলমূল বেশি খান, শরীর খুব ক্লান্ত লাগলে বা মাথা ঘোরা, বমি ভাব হলে দ্রুত ছায়ায় বা ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিন। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন—এগুলো মেনে চললে গরমে সুস্থ থাকা সহজ হবে।

তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অন্য সব দায়িত্বের মতো আপনার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব না ছড়ানো। বরং কেউ গুজব ছড়ালে তাকে ভুল ধরিয়ে দেওয়া।

এম/এএইচ

তেজগাঁওয়ে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
তেজগাঁওয়ে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৩২

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগে অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য জানান।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. শরীফুল ইসলাম ওরফে রনি (৩৮), উম্মে খুলসুম রানী, মো. রাব্বি (২৫), মো. জনি গাজী (২৪), মো. শাকিল (২৩), মো. সাগর, মো. বাদশা মিয়া, মো. জুয়েল, কৃষ্ণচন্দ্র, মো. শাকিল (১০), মো. সজল ভূঞা (২২), মো. এরশাদ হোসেন (২৬), মো. বাপ্পী (২০), মো. আব্দুর রহিম রাজীব (২১), মো. সোহেল মিয়া (১৯), মো. আফছার মোল্লা (২৪), মো. মহসিন (২৫), মনজুর এলাহি সজীব (৪২), মিরাজ হোসেন (২০), মো. রাকিবুল ইসলাম (২৮), মো. রবিন ইসলাম আলিফ (২০), মো. ফাহাদ হোসেন (৩২), মো. জাহাঙ্গীর (২০), মো. মাসুদ খান রনি (৩০), মো. সোহেল (২৬), মো. মিলন (২২), মো. সুমন মিয়া (৪৫), মো. জয়নাল আবেদিন (৪৪), মো. ফজলে রাব্বী (৩৬), আ. মজিদ (২৩), মো. সুমন (৪২) ও মো. টোকেন মিয়া ওরফে মো. রোকেন মোল্যা (২৮)।

ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের বরাত দিয়ে এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, সোমবার (২৫ মে) বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এ ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ২ জন, শেরেবাংলানগর থানায় ২ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ১৪ জন, আদাবর থানায় ৮ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৪ জন ও হাতিরঝিল থানায় ২ জন।

গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট

ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার অংশ জুড়ে দেখা দিয়েছে যানজট। সন্ধ্যার পর থেকেই এ পথে বাড়তে থাকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ। এতে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় পেরিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাইপাস পর্যন্ত যানজটে নাকাল হচ্ছে ঘরমুখী হাজার হাজার মানুষ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যার পর থেকে এ যানজটের চিত্র দেখা গেছে। গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা বাস স্টেশন এলাকা পর্যন্ত তীব্র যানজট দেখা গেছে। ধীরে ধীরে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত যানজট ছাড়িয়ে গেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত।

জানা গেছে, সন্ধ্যার পর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাকসহ ছোট বড় যানবাহন রাজধানী ঢাকা, সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। এতে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় তীব্র জটলা সৃষ্টি হয়।

যার ফলে সেখানকার যানজট ছাড়িয়ে গেছে জেলার ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত। এছাড়াও চন্দ্রার পর থেকে উত্তরের পথে বাড়ছে যানজট। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও শেষ হচ্ছে না সড়ক।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, দিনভর এ জেলার মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত কোথাও কোনো যানজটের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। যাত্রীবাহী বাসসহ সব ধরনের যানবাহন অবাধে ও নির্বিঘ্নে এ সড়ক পাড় হয়ে গেছে।

তবে, রাত ৯টার পর থেকে কালিয়াকৈর থেকে মির্জাপুর অংশে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্ত যানজট রয়েছে।

এর আগে, শিল্প নগরী গাজীপুরে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে সব শিল্প কারখানা ছুটির পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় যানবাহন ও যাত্রীদের তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। এরমধ্যে দুই ঘণ্টার মুষলধারের বৃষ্টিতে জবুথবু হয়ে যায় হাজার হাজার যাত্রীরা।বৃষ্টির পর একযোগে সড়কে অবস্থান করে লাখের অধিক যাত্রী। এতে সড়কে দেখা দেয় যানবাহনের সংকট। এতে ঘরমুখী এসব মানুষ দিশেহারা হয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে পড়েন যানবাহনের জন্য।

চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ইতিহাস পরিবহন বাসের চালক সুমন ঢাকা পোস্টকে বলেন, এক ঘণ্টায় এক কিলোমিটার জায়গা এসেছি। চন্দ্রা এলাকা পার হতে পারলে রক্ষা পাই। যাত্রীরা অনেকেই যানজটে বসে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

বগুড়াগামী একতা পরিবহনের যাত্রী সামির হোসেন বলেন, যানজটের কথা আর বলতে চাই না। সন্ধ্যা ৬টায় গাজীপুর থেকে ছেড়ে রাত সাড়ে ৯টায় চন্দ্রা পৌঁছলাম। বাকি পথ আরও কয় ঘণ্টা লাগে বলা মুশকিল।

সোহান ট্রাভেলস বাসের চালক মুজাহিদ মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, উত্তরা থেকে বিকেলে ছেড়ে এসে এই মাত্র চন্দ্রা পৌঁছলাম। যানজটের কারণে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি বন্ধ করেও বসে থেকেছি। যানজট না থাকলে আমাদের খরচ ও কমে যাত্রীদের ভোগান্তিও কম হয়।

এ ব্যাপারে গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, শেষ মুহূর্তে মানুষ ও যানবাহনের চাপে পরিস্থিতি একটি বেসামাল হয়ে গেছে। তবে, সকাল থেকে এখনও পর্যন্ত আমাদের পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা রয়েছে। অন্তত ২০ লাখ মানুষ গাজীপুর ছাড়ছেন। এছাড়াও কয়েকশত দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহন তো আছেই। যার ফলে এই সড়কের চন্দ্রা এলাকায় চাপ রয়েছে। তবে, আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

আর মাত্র একদিন পরই মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে। এ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

তারেক রহমান লিখেন, ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ শুভক্ষণে তিনি দেশ ও বিশ্বের সব মুসলমানকে ঈদ মোবারক জানান।

তিনি আরও লিখেন, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানরা ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইসলামের এই উৎসব কেবল আনন্দের নয়, বরং স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন ও ত্যাগের চিরন্তন বার্তা বহন করে। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত এই দিবসকে মুসলিম উম্মাহর কাছে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

তিনি ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, সবার ত্যাগ কবুল হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও বিশ্বে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হোক।

তারেক রহমান বলেন, এই পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক। আল্লাহ আমাদের কোরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তাঁর রহমত ও বরকতে জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।

কালের আলো/এসআর/এএএন