খুঁজুন
                               
, ,
           

বিজ্ঞানে ফেল করেছিলেন অমিতাভ, পরে পেশা হিসেবে বেছে নেন অভিনয়

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞানে ফেল করেছিলেন অমিতাভ, পরে পেশা হিসেবে বেছে নেন অভিনয়

বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন অভিনয় জগতে পা রাখার আগে ‘ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস’ (আইএফএস) বা পররাষ্ট্র সেবায় যোগ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। এমনকি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার পরিকল্পনাও ছিল তার। তবে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতে গিয়ে একপর্যায়ে পরীক্ষায় ফেলও করেছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।

সম্প্রতি জনপ্রিয় কুইজ শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি) ১৮-এর মঞ্চে নিজের ছাত্রজীবন ও পড়াশোনার সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব তথ্য জানান অমিতাভ।

কেবিসির মঞ্চে প্রতিযোগী প্রগতি কল্পেকরের সঙ্গে কথোপকথনের সময় বিষয়টি সামনে আসে। প্রগতি জানান, শো থেকে পাওয়া পুরস্কারের অর্থ তিনি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে আইএফএস কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ব্যবহার করতে চান।

প্রতিযোগীর এই স্বপ্নের কথা শুনে নিজের ছাত্রজীবনের কথা স্মরণ করেন অমিতাভ। তিনি জানান, পরিবারে স্নাতক ডিগ্রিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হতো। সে কারণে তিনি বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।

তবে ক্লাস শুরু হওয়ার পরই বুঝতে পারেন, বিষয়টি তার জন্য বেশ কঠিন। স্মৃতিচারণ করে অমিতাভ বলেন, স্কুলে ১০ বছর ধরে যা পড়েছিলেন, বিজ্ঞানের প্রথম লেকচারেই যেন তার অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্তটি তার জন্য ভুল ছিল।

অমিতাভ জানান, বিজ্ঞান বিভাগের একটি পরীক্ষায় তিনি ফেলও করেছিলেন। পরে খুব সামান্য নম্বরে পরীক্ষায় পাস করেন। বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠানে রসিকতাও করেন তিনি।

সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার প্রাথমিক ইচ্ছা এবং বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার সংগ্রাম পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন অমিতাভ বচ্চন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হয়েছেন।

কালের আলো/এসএ

সিডনি ম্যারাথনে রেকর্ড গোবনার, ক্যানসার নিয়েও দৌড়ে অনন্য ফুলার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
সিডনি ম্যারাথনে রেকর্ড গোবনার, ক্যানসার নিয়েও দৌড়ে অনন্য ফুলার

একই পথে ছুটেছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, অপেশাদার দৌড়বিদ, হুইলচেয়ার অ্যাথলেট এবং কেমোথেরাপি নেওয়া এক ক্যানসার রোগী। তবে সবার লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। কেউ শিরোপার জন্য, কেউ নিজের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য, আবার কেউ প্রমাণ করতে চেয়েছেন-কঠিন অসুস্থতাও মানুষের এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাকে থামাতে পারে না।

গতি, রেকর্ড ও জীবনজয়ের এমন নানা গল্প নিয়ে রোববার সিডনিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ম্যারাথন। এবারের আসরে ১৪০টির বেশি দেশের ৪০ হাজারেরও বেশি দৌড়বিদ অংশ নেন।

সিডনি সময় সকাল সাড়ে ৬টায় নর্থ সিডনি থেকে শুরু হয় মূল হাই-পারফরম্যান্স দৌড়। হারবার ব্রিজসহ শহরের বিভিন্ন পথ পেরিয়ে ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরের সিডনি অপেরা হাউসে গিয়ে শেষ হয় প্রতিযোগিতা।

পুরুষদের দৌড়ের শেষ কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল তীব্র লড়াই। পাঁচজনের অগ্রবর্তী দল তখনও কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। শেষ মুহূর্তে গতি বাড়িয়ে সবাইকে পেছনে ফেলেন ইথিওপিয়ার ২১ বছর বয়সী আদ্দিসু গোবনা।

২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি নতুন কোর্স রেকর্ড গড়েন গোবনা। গত বছর স্বদেশি হাইলেমারিয়াম কিরোসের গড়া ২ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৬ সেকেন্ডের রেকর্ড তিনি ভাঙেন ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ব্যবধানে।

গত বছর সিডনি ম্যারাথনে দ্বিতীয় হয়েছিলেন গোবনা। সেই দৌড়ের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে এক বছর প্রস্তুতি নিয়ে এবার ফিরেছিলেন তিনি। প্রত্যাবর্তনের দৌড়েই শিরোপার সঙ্গে গড়লেন নতুন রেকর্ড।

মাত্র চার সেকেন্ড পর ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দ্বিতীয় হন গোবনার স্বদেশি চিমদেসা দেবেলে গুদেতা। লেসোথোর তেবেলো রামাকোঙ্গোয়ানা ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে তৃতীয় হন। পুরুষ বিভাগের প্রথম তিনজনই আগের কোর্স রেকর্ডের চেয়ে কম সময়ে দৌড় শেষ করেন।

নারীদের বিভাগে অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোনো সুযোগ দেননি কেনিয়ার পেরেস জেপচিরচির। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও সাবেক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ২ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে শিরোপা জেতেন।

কেনিয়ার ইরিন চেপতাই ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ১১ সেকেন্ডে দ্বিতীয় এবং ইথিওপিয়ার শুর ডিমাইজ ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে তৃতীয় হন। তবে মাত্র ৯ সেকেন্ডের জন্য নারীদের কোর্স রেকর্ড ভাঙতে পারেননি জেপচিরচির। গত বছর সিফান হাসানের গড়া রেকর্ডটি ছিল ২ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ২২ সেকেন্ড।

হুইলচেয়ার বিভাগেও ছিল রেকর্ডের ছড়াছড়ি। পুরুষ বিভাগে যুক্তরাষ্ট্রের ড্যানিয়েল রোমানচুক ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে গত বছরের মার্সেল হাগের রেকর্ড ভেঙে দেন।

নারীদের বিভাগে সুইজারল্যান্ডের প্যারালিম্পিয়ান ম্যানুয়েলা শার সময় নেন ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ৪ সেকেন্ড। সুজান্না স্কারোনির আগের রেকর্ডের চেয়ে ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড কম সময়ে দৌড় শেষ করেন তিনি। এর মাধ্যমে অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজরসের আটটি কোর্সেই জয় পাওয়া প্রথম অ্যাথলেট হওয়ার কীর্তিও গড়েন শার।

স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পুরুষদের মধ্যে সবার আগে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছান অ্যান্ডি বুকানন। তার সময় ছিল ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ড। নারীদের মধ্যে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে দৌড় শেষ করেন এলি প্যাশলি। তিনি সময় নেন ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ২৮ সেকেন্ড।

তবে দিনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী গল্পটি ছিল ফাইভ ডকের টবি ফুলারের। ২৩ বছর বয়সে মাল্টিপল মায়েলোমা নামের রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত হন তিনি। কেমোথেরাপির ধকল সামলেই এবারের ম্যারাথনের স্টার্ট লাইনে দাঁড়ান ফুলার।

তার লক্ষ্য ছিল না শিরোপা কিংবা রেকর্ড। লড়াইটা ছিল নিজের শরীর ও অসুস্থতার বিরুদ্ধে। সেই লড়াই ৩ ঘণ্টা ১৮ মিনিটে শেষ করেন তিনি। কেমোথেরাপি নেওয়া অবস্থায় দ্রুততম ম্যারাথন সম্পন্ন করার কীর্তি হিসেবে তার অর্জন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছে।

দৌড়টি তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল বলে জানান ফুলার। প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত নিজের সর্বোচ্চটা দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত তিনি। দৌড় শেষে প্রিয়জনদের সঙ্গে কারি খেয়ে এই অর্জন উদযাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজরসের মর্যাদা পাওয়ার পর টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো সিডনি ম্যারাথন। আয়োজকদের হিসাবে, এই ম্যারাথনকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ৩৮ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ছাড়িয়েছে।

রোববার সিডনি অপেরা হাউসের সামনে তাই শুধু বিজয়ীদের নাম ও সময়ের হিসাব হয়নি। একদিকে ২১ বছরের এক তরুণ গত বছরের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে রেকর্ড গড়েছেন, অন্যদিকে হুইলচেয়ার অ্যাথলেটরা ভেঙেছেন নিজেদের সীমা। আর ক্যানসারের চিকিৎসা চলা এক তরুণ দেখিয়েছেন—কিছু জয় পদক দিয়ে নয়, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার সাহস দিয়ে মাপা হয়।

কালের আলো/এসএ

ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় ৮ জোন, আলাদা রঙের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় ৮ জোন, আলাদা রঙের পরিকল্পনা

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে প্রধান সড়কে ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ রাখা হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা বিন ওসমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট আটটি জোনে ই-রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। কোন ই-রিকশা কোন সড়কে চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। ই-রিকশাগুলো শুধু অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের সুযোগ পাবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই ও চার যাত্রী বহনকারী ই-রিকশাকে ঢাকায় নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা রাজধানীতে নিবন্ধন পাবে না। জেলা শহর ও গ্রামীণ এলাকায় দুই, চার ও ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।

নীতিমালা জারি হবে শিগগির

ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। নীতিমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে অথবা যত দ্রুত সম্ভব নীতিমালা জারি করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় ই-রিকশা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অথবা সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদও প্রয়োজন হবে।

ই-রিকশা তৈরির কারখানাগুলোকেও নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনা হবে। বুয়েট বা কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি করতে হবে। কারখানার জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।

চার্জিং পয়েন্টের ক্ষেত্রেও নীতিমালায় বিশেষ শর্ত রাখা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। এসব চার্জিং পয়েন্টের জন্যও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার লাইসেন্স নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি মান মেনে তৈরি ই-রিকশাই নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। নীতিমালা কার্যকর হলে রাজধানীতে ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

যানজট কমাতে সময় লাগবে

ঢাকার যানজট ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের। একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এজন্য সময় প্রয়োজন।

তিনি জানান, বাসস্ট্যান্ডের বাইরে গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা এবং ঢাকার পাইকারি কাঁচাবাজার শহরের বাইরে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান ফল পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

টানা দুই হারে তলানিতে টটেনহাম, ‘আতঙ্কিত নই’ ডি জার্বি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
টানা দুই হারে তলানিতে টটেনহাম, ‘আতঙ্কিত নই’ ডি জার্বি

প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি টটেনহাম হটস্পারের। টানা দুই ম্যাচে হেরে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে নেমে গেছে দলটি। তবে এমন পরিস্থিতিতেও দলে কোনো ‘আতঙ্ক’ নেই বলে দাবি করেছেন কোচ রবের্তো ডি জার্বি।

রোববার নিউক্যাসলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছে টটেনহাম। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে অ্যান্থনি এল্যাঙ্গা ও ইয়োয়ানে উইসার গোলেই জয় নিশ্চিত করে নিউক্যাসল।

দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম ছাড়তে শুরু করেন হাজারো টটেনহাম সমর্থক। ঘরের মাঠে শেষ ২৩ লিগ ম্যাচের মাত্র তিনটিতে জয় পাওয়া স্পার্সদের জন্য পরিস্থিতি যে কতটা হতাশাজনক, সেটিই যেন ফুটে ওঠে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়ায়।

গত দুই মৌসুমে কোনোমতে ১৭তম স্থানে থেকে অবনমন এড়িয়েছিল টটেনহাম। এবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় দলটি ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রায় ৬৩৬৬ কোটি টাকা খরচ করে বেশ কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়ায়। সমর্থকদের আশা ছিল, এবার অন্তত ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ফেরার লড়াইয়ে থাকবে দলটি।

কিন্তু মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। প্রথম দুই ম্যাচেই হার, কোনো গোল করতে না পারা এবং শূন্য পয়েন্ট নিয়ে ২০ দলের লিগ টেবিলের ২০তম স্থানে রয়েছে টটেনহাম।

নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচে ১৭টি শট নেয় টটেনহাম, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু কোনোবারই বল জালে জড়াতে পারেনি তারা। অন্যদিকে নিউক্যাসল লক্ষ্যে নেওয়া দুটি শট থেকেই গোল আদায় করে নেয়।

ম্যাচ শেষে ডি জার্বি অবশ্য দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি হতাশ নন। তিনি বলেন, রক্ষণভাগে উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে প্রথম গোল হজমের আগ পর্যন্ত নিউক্যাসলের চেয়ে তার দলই ভালো খেলেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডি জার্বির মতে, নতুন দলকে গড়ে তুলতে সময় প্রয়োজন। গত দুই মৌসুমের পরিস্থিতি বদলাতে হলে দলকে ধীরে ধীরে সংগঠিত করার ওপর জোর দিতে হবে।

তবে সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক জো হার্ট টটেনহামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নিউক্যাসলের খেলার ধরন ও পরিকল্পনা স্পষ্ট হলেও টটেনহামের ক্ষেত্রে এখনো সেই স্বচ্ছতা দেখা যাচ্ছে না। নতুন খেলোয়াড়দের দ্রুত দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আরেক সাবেক গোলরক্ষক রব গ্রিনও মনে করেন, গত মৌসুমের পুরোনো সমস্যাগুলো এখনো টটেনহামের মধ্যে রয়ে গেছে। ফলে সমর্থকদের ধৈর্য ও আস্থা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে আরও একজন খেলোয়াড় দলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ডি জার্বি। পাশাপাশি রিচার্লিসন ও সারের দল ছাড়ার গুঞ্জন নিয়েও তিনি জানান, ক্লাবের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রস্তাব এলে খেলোয়াড় বিক্রির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মার্চের শেষ দিকে টটেনহামের দায়িত্ব নেওয়া ডি জার্বি সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, মাত্র ১০ দিনে কিংবা একটি ট্রান্সফার উইন্ডোর মাধ্যমে গত দুই বছরের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মাঠে কঠোর পরিশ্রম করে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকেই এগোতে হবে দলকে।

কালের আলো/এসএ