খুঁজুন
                               
, ,
           

ভারতের ‘স্থগিত’ ঘোষণা মানলেন না আদালত, সিন্ধু চুক্তি নিয়ে কী হবে এবার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
ভারতের ‘স্থগিত’ ঘোষণা মানলেন না আদালত, সিন্ধু চুক্তি নিয়ে কী হবে এবার?

সিন্ধু নদীর উৎপত্তি চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পশ্চিমাংশে মানসসরোবর হ্রদের কাছাকাছি। হিমালয় পেরিয়ে নদীটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষ পর্যন্ত আরব সাগরে গিয়ে মিশেছে। সিন্ধু ও এর প্রধান পাঁচ উপনদী—ঝিলম, চেনাব, বিয়াস, শতদ্রু ও রাভি—মিলে গড়ে উঠেছে বিশাল সিন্ধু নদীব্যবস্থা।

সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত বলেছে, ভারত একতরফাভাবে চুক্তিটি ‘স্থগিতাবস্থায়’ রাখার ঘোষণা দিলেও ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে ভারত এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির দাবি, যে সালিসি আদালত রায় দিয়েছে, সেটির গঠনই সিন্ধু পানি চুক্তির বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলে সিন্ধু নদীব্যবস্থার পানিবণ্টন নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।

পাকিস্তানের পাঞ্জাবের কৃষি ও সেচব্যবস্থা রাভি ও শতদ্রু নদীর ওপরের গুরুত্বপূর্ণ হেডওয়ার্কসের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সেগুলো ভারতের ভূখণ্ডে পড়ে। ফলে দুই দেশের মধ্যে পানি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হয়। প্রায় নয় বছর আলোচনার পর ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর করাচিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান সিন্ধু পানি চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় তিন নদী—রাভি, বিয়াস ও শতদ্রুর পানির ওপর ভারতের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন নদী—সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের পানির প্রধান অধিকার পায় পাকিস্তান।

তবে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি ব্যবহারে ভারতকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। নির্দিষ্ট শর্তে ভারত এসব নদীতে ‘রান অব দ্য রিভার’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ এবং সীমিত পরিমাণ পানি সংরক্ষণ করতে পারে।

চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকির জন্য গঠন করা হয় ‘পার্মানেন্ট ইন্ডাস কমিশন’। ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে কমিশনার এতে দায়িত্ব পালন করেন।

বিরোধ নিষ্পত্তির জন্যও চুক্তিতে তিন স্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়—‘প্রশ্ন’, ‘পার্থক্য’ ও ‘বিরোধ’। সাধারণ বিষয়ে কমিশন পর্যায়ে সমাধানের কথা রয়েছে। কারিগরি মতপার্থক্য হলে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং গুরুতর বিরোধের ক্ষেত্রে সাত সদস্যের সালিসি আদালতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, চুক্তিতে উজানের দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি ব্যবহারে অতিরিক্ত বিধিনিষেধের মুখে রয়েছে। নয়াদিল্লির মতে, এর প্রভাব বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে সেচ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে পড়েছে।

এ ছাড়া ভারত মনে করে, পাকিস্তান বারবার চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ব্যবহার করে ভারতীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আপত্তি তুলেছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যেও সিন্ধু পানি চুক্তি টিকে ছিল। ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধ এবং ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাতও চুক্তিকে অকার্যকর করতে পারেনি।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও ২০২৪ সালের আগস্টে ভারত চুক্তিটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য পাকিস্তানকে নোটিশ দেয়।

এরপর ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত জানায়, সিন্ধু পানি চুক্তি ‘abeyance’ বা স্থগিতাবস্থায় রাখা হচ্ছে।

সমস্যা হলো, ‘abeyance’ শব্দটি চুক্তিতে নেই এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি আইনে এর নির্দিষ্ট কারিগরি অর্থও নেই। পরবর্তী সময়ে এই শব্দের আইনি ব্যাখ্যাই বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

পাকিস্তানের আবেদনের পর দ্য হেগের সালিসি আদালত ভারতের সিদ্ধান্তের আইনি অবস্থান পরীক্ষা করে।

আদালত বলেছে, ‘abeyance’ শব্দটির নিজস্ব নির্দিষ্ট আইনি অর্থ নেই। তাই শুধু শব্দটি নয়, ভারতের সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব বিবেচনা করতে হবে।

আদালতের মতে, ভারতের পদক্ষেপ কার্যত চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু সিন্ধু পানি চুক্তিতে কোনো পক্ষকে একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার অধিকার দেওয়া হয়নি।

ফলে আদালতের সিদ্ধান্ত—ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে নতুন কোনো চুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন বা বাতিল না করা পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি কার্যকর থাকবে।

আদালত ভারতের আরও কিছু যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে। সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রয়োজন কিংবা দুই দেশের সামরিক সংঘাত—এসবকে চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করার যথেষ্ট আইনি কারণ হিসেবে গ্রহণ করেনি আদালত।

রায়টি ভারতের জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হলেও নয়াদিল্লি শুরু থেকেই এই সালিসি আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

ভারতের দাবি, একই বিষয়ে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ও সালিসি আদালত—দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়া চালানো সিন্ধু পানি চুক্তির কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণেই ভারত সালিসি আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেয়নি।

ফলে ভারত বলছে, যে আদালতের আইনগত বৈধতাই তারা স্বীকার করে না, তার রায়ও তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

অন্যদিকে পাকিস্তান এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ইসলামাবাদ দাবি করতে পারে, ভারত একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত করে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী অবস্থান নিয়েছে।

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে বিরোধ এখন আর শুধু পানি বণ্টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ভারত-পাকিস্তানের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের অংশ হয়ে উঠেছে।

একদিকে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত বলছে, চুক্তি এখনো কার্যকর। অন্যদিকে ভারত সেই আদালতের এখতিয়ারই স্বীকার করছে না।

ফলে সামনে মূল প্রশ্ন হচ্ছে—দুই দেশ কি আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাবে, নাকি সিন্ধু নদীর পানি দুই দেশের রাজনৈতিক ও কৌশলগত টানাপোড়েনের আরও বড় অংশ হয়ে উঠবে?

৬৬ বছর ধরে একাধিক যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যেও টিকে থাকা এই চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে।

কালের আলো/এসএ

বিক্ষোভে উত্তাল স্পেন, চাপে সানচেজ সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
বিক্ষোভে উত্তাল স্পেন, চাপে সানচেজ সরকার

আফ্রিকার উপকূলে স্পেনের বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সেউতায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে স্পেনের বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি—প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের পদত্যাগ।

গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেন। তাঁদের বেশির ভাগকে পরে ফেরত পাঠানো হলেও প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনো অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। অনেকে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও সমুদ্রসৈকতেও অবস্থান করছেন। এতে সেউতায় জননিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসননীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

সেউতায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রবেশের পেছনে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। স্পেনের একটি পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় সীমান্তের কাছে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। সীমান্ত পার হওয়া অভিবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের কার্যকরভাবে বাধা দেয়নি।

তবে প্রতিবেদনে সরাসরি বলা হয়নি যে মরক্কো সরকার বা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে অভিবাসীদের সেউতায় প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও মরক্কোকে সরাসরি দায়ী করতে রাজি নন। তাঁর দাবি, মানবপাচারকারী চক্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বিপুলসংখ্যক মানুষকে সীমান্ত পার হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে।

অন্যদিকে মরক্কোও নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সেউতায় অভিবাসীদের ঢলের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমান্ত পার হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্পেনের তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান মালদিতা।

কিছু বার্তায় মরক্কো-সেউতা সীমান্তের বেড়াকে সহজে পার হওয়া সম্ভব এবং তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। এসব প্রচারণা মানুষের মধ্যে সীমান্ত পার হওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই প্রচারণার পেছনে কারা ছিল এবং এর সঙ্গে কোনো সংগঠিত মানবপাচারকারী চক্র জড়িত ছিল কি না, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

সেউতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সীমান্ত পেরিয়ে আসা অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁদের স্পেনের অন্যান্য অঞ্চলে পুনর্বণ্টন করতে হবে।

বুধবার স্পেনের বিভিন্ন শহরে বড় আকারের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী মাদ্রিদে সরকারি হিসাবে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষোভে যোগ দেন প্রধান বিরোধী দল পিপির নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো। তিনি অভিযোগ করেন, সেউতাকে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে এবং সরকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল।

কট্টর ডানপন্থী ভক্স পার্টির নেতা সান্তিয়াগো আবাসকালও সানচেজ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্পেনের স্বার্থের চেয়ে মরক্কো সরকারের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সানচেজ সরকার।

সেউতায় বিক্ষোভকারীরা ‘সেউতা বিক্রির জন্য নয়’ এবং অঞ্চলটিকে রক্ষার দাবিতে স্লোগান দেন।

সেউতার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বোঝা যায় স্থানীয় শিক্ষক ডেভিড হার্নান্দেজের বক্তব্যে। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট ছিল না এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় তা অনেক দেরিতে এসেছে।

তাঁর মতে, সেউতার বাসিন্দারা স্পেনের অন্য নাগরিকদের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সীমান্তের নিরাপত্তা ও স্থানীয় মানুষের উদ্বেগকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

এই ক্ষোভ এখন শুধু অভিবাসননীতি নিয়ে নয়; বরং কেন্দ্রীয় সরকারের সক্ষমতা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

সেউতা ও পাশের স্প্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল মেলিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে মরক্কো। ফলে অঞ্চল দুটিকে ঘিরে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে।

সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা তাই শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট নয়; দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন চাপ তৈরি করেছে।

মরক্কোর সীমান্তরক্ষীদের ভূমিকা নিয়ে স্পেনের পুলিশ প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত মরক্কো ইচ্ছাকৃতভাবে অভিবাসীদের সীমান্ত পার হতে দিয়েছে—এমন সরাসরি প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

সেউতার সংকট এখন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের জন্য একাধিক দিক থেকে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চাপ, অন্যদিকে হাজারো অভিবাসীর মানবিক ও আইনি অধিকার রক্ষার প্রশ্ন রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিরোধী দলগুলোর তীব্র রাজনৈতিক চাপ এবং মরক্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—সেউতায় এত বিপুলসংখ্যক মানুষ কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারলেন এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে স্পেন কী ব্যবস্থা নেবে।

সেউতার বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, ইউরোপের অভিবাসন সংকট শুধু শরণার্থী গ্রহণ বা প্রত্যাবাসনের প্রশ্ন নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য, মানবপাচার, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—সবকিছু মিলেই এটি এখন একটি জটিল নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ইস্যু।

সেউতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে না পারলে এই সংকট সানচেজ সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে। আর মরক্কোর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর না মিললে দুই দেশের সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: BBC

কালের আলো/এসএ

 

দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজ শহর ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন। রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটাই তার প্রথম সফর।

সফরের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। পরদিন তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এ ছাড়া সংক্ষিপ্ত এই সফরে রাষ্ট্রপতি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও এলাকার ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করবেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আগামী ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু বলেন, রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও আসছেন এই খবর শোনার পর তৃণমূল থেকে শুরু করে সব স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রপতিকে দেখার জন্য সবাই অপেক্ষা করে আছে।

রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানোর অংশ হিসাবে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, মোড় ও সরকারি দপ্তরগুলো চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রং করার কাজ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

গুজব ছড়িয়ে মানুষকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা চলছে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
গুজব ছড়িয়ে মানুষকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা চলছে: তারেক রহমান

দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর পাশাপাশি মানুষকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিসরে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু পরিচয় মুখ্য নয়। সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। কোনো অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার সব নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সেবায়েত ও পুরোহিতদের হাতে চেক তুলে দেন।

কালের আলো/এমএসআইপি/এএইচ