খুঁজুন
                               
, ,
           

খালাস নিতে গিয়ে মিলল না ৪০ ফুটের কনটেইনার, তদন্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
খালাস নিতে গিয়ে মিলল না ৪০ ফুটের কনটেইনার, তদন্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্সভর্তি ৪০ ফুট লম্বা একটি কনটেইনারের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। কনটেইনারটিতে শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের কাঁচামাল থাকায় উদ্বেগে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সাভারের গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের নামে আমদানি করা এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭ নম্বরের কনটেইনারটি ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ জাহাজে করে গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে আসে।

পরে আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট গত ২২ আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। কাস্টমস ও বন্দরের প্রয়োজনীয় রাজস্ব ও অন্যান্য চার্জ পরিশোধের পর গত ৩০ আগস্ট কনটেইনারটি খালাস নিতে গেলে সেটি কিপ ডাউন ও ডেলিভারি দিতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ সময় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটিকে কনটেইনারটির অবস্থান খুঁজে বের করতে বলা হয়। পরে ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোঁজ করেও কনটেইনারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি টার্মিনাল ম্যানেজার, এটিও ও টিওকে প্রতিদিন জানানো হয়।

এ ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, সব ধরনের কাস্টমস ও বন্দরের চার্জ পরিশোধের পর কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গিয়ে সেটি পাওয়া যায়নি। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কনটেইনারটির কোনো হদিস মিলছে না। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় আটকে আছে। নির্ধারিত সময়ে কাঁচামাল না পাওয়ায় গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের রপ্তানি কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, অভিযোগের চিঠি তারা পেয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পেশাদার সাংবাদিকদের কার্ড নিশ্চিতে নতুন উদ্যোগ ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
পেশাদার সাংবাদিকদের কার্ড নিশ্চিতে নতুন উদ্যোগ ইসির

জাতীয় নির্বাচনসহ দেশের সব ধরনের নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের অনলাইনে কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সফটওয়্যার প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নির্ভরশীল। অতীতে অনেক অপেশাদার ব্যক্তি ও দলীয় নেতাকর্মী সাংবাদিক কার্ড পেয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ইসির নতুন উদ্যোগে যেন প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকরা সহজে কার্ড পাওয়ার সুযোগ পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে তথ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ টেলিভিশন, নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনলাইনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ইসি। তবে পর্যাপ্ত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ছাড়াই ওয়েবসাইট চালু করায় আবেদনকারীদের তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসার অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমের আপত্তি ও সমালোচনার পর ওই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে কমিশন।

এবার আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ ও কার্যকর সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চাকরি নেই, তবু রোজ দাঁড়ান সড়কে—একনজর দেখবেন প্রধানমন্ত্রীকে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
চাকরি নেই, তবু রোজ দাঁড়ান সড়কে—একনজর দেখবেন প্রধানমন্ত্রীকে

সকাল নয়টা বাজলেই লোকটি এসে দাঁড়ান রাজধানীর রমনার সেই সড়কের পাশে। গায়ে নিরাপত্তাপ্রহরীর পোশাক। হাতে ধানের শীষ। চোখ তাঁর সড়কের দিকে। একসময় এই জায়গাটিই ছিল তাঁর কর্মস্থল। এখন সেখানে তাঁর কোনো চাকরি নেই। প্রায় এক মাস আগে বন্ধ হয়ে গেছে পাশের এটিএম বুথটি। চলে গেছে তাঁর কাজও। কিন্তু জায়গাটি ছাড়েননি তিনি। প্রতিদিনের মতো এখনো আসেন। কারণ, এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • হাতে ধানের শীষ, গায়ে পুরোনো নিরাপত্তার পোশাক
  • জীবনের টানাপোড়েনের মাঝেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রতিদিনের অপেক্ষা

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন আবদুস সালাম। গাড়ি সামনে দিয়ে চলে গেলে তিনি সালাম জানান। কখনো প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে হাত নাড়ার সাড়া আসে। কখনো হয়তো শুধু এক ঝলক চোখে পড়ে। তারপর গাড়িবহর চলে যায়। আর তাঁর সকালও যেন পূর্ণ হয়। ষাটোর্ধ্ব এই মানুষের কাছে সেই কয়েক সেকেন্ডের দেখাই অনেক।

কর্মস্থল হারিয়েও হারাননি সকাল
রাজধানীর মানিকনগরে ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকেন আবদুস সালাম। মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে এখনো বেকার। ফলে বয়স বাড়লেও সংসারের দায় থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ হয়নি তাঁর। জীবনের বড় একটা সময় কেটেছে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে। প্রায় ২৫ বছর দূরপাল্লার পরিবহনের চালক ছিলেন। কয়েক বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থমকে যায় তাঁর কর্মজীবন। প্রায় তিন বছর বাড়িতেই ছিলেন। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফেরেন—এবার ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে। সেই চাকরিটিও টিকল না। কিন্তু চাকরি হারানোর পর যে মানুষটির প্রতিদিনের গন্তব্য বদলে যাওয়ার কথা, তাঁর সকালটি বদলায়নি। আগের মতোই পোশাক পরেন। ব্যাগে ধানের শীষ নেন। তারপর চলে আসেন সেই পুরোনো কর্মস্থলের কাছে। কাজ নেই, আয় নেই—তবু এই অভ্যাসে কোনো ছেদ নেই।

অপেক্ষার মধ্যে রাজনীতি, রাজনীতির মধ্যে আবেগ
আবদুস সালামের এই অপেক্ষাকে শুধু রাজনৈতিক আনুগত্য দিয়ে ব্যাখ্যা করলে গল্পটির বড় অংশই বাদ পড়ে যায়। এখানে রাজনীতির সঙ্গে মিশে আছে ব্যক্তিগত আবেগ, বিশ্বাস আর এক ধরনের আত্মিক প্রশান্তি। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি কাছে গিয়ে দেখেন না। কথা বলার সুযোগও নেই। গাড়ি থামে না। দূরত্ব থেকেই তাঁর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তবু সেই দূরত্ব যেন তাঁর অনুভূতিতে কোনো বাধা তৈরি করেনি।প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি দেখা তাঁর কাছে দিনের একটি নির্দিষ্ট ঘটনা। গাড়ি না গেলে তাঁর মধ্যে থেকে যায় আফসোস। আর গাড়ি এলে, সালামের জবাব মিললে বা অন্তত একবার চোখে পড়লে, সেই মুহূর্তটিই হয়ে ওঠে আনন্দের।

একদিনের একটি ঘটনা তাঁর মনে বিশেষভাবে গেঁথে আছে। প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ধানের শীষ হাতে দৌড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। গাড়ি থেকে হাত নাড়ার ইশারা পেয়েছিলেন। সেই ক্ষণিকের প্রতিক্রিয়াই তাঁর কাছে বড় পাওয়া হয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য হয়তো সেটি ছিল চলন্ত গাড়ি থেকে দেওয়া একটি স্বাভাবিক শুভেচ্ছা। কিন্তু আবদুস সালামের কাছে তা ছিল নিজের ভালোবাসা পৌঁছে যাওয়ার প্রমাণ।

গাড়ি চলে যায়, অপেক্ষা থেকে যায়
রমনার ওই জায়গার চায়ের দোকানদারও এখন তাঁকে চেনেন। প্রতিদিন আসেন, দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রী এলে সালাম দেন, তারপর চলে যান। দৃশ্যটি তাঁর কাছে এখন আর নতুন নয়।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুস সালামের মতো আরও অনেকে নিয়মিত সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার অপেক্ষা করেন। কেউ হাত নাড়েন, কেউ চোখের ইশারায় শুভেচ্ছা জানান। গাড়ি থামে না, কথাও হয় না। তবু মানুষের এই ক্ষণিকের যোগাযোগে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের অনুভূতি।আবদুস সালামের গল্পে সেই অনুভূতিই সবচেয়ে স্পষ্ট।

জীবনের কঠিন হিসাবেও আনন্দ
একজন মানুষের জীবনে চাকরি হারানো মানে শুধু একটি কর্মসংস্থান হারানো নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সংসারের অনিশ্চয়তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ, নিজের চিকিৎসা ও আগামী দিনের চিন্তা।আবদুস সালামের জীবনেও সেই হিসাব আছে।কিন্তু সেই কঠিন হিসাবের বাইরে তিনি নিজের জন্য একটি ছোট্ট আনন্দের জায়গা রেখে দিয়েছেন। প্রতিদিন সকালে সেই জায়গাটিতে এসে দাঁড়ান। পুরোনো পোশাক পরেন। হাতে নেন ধানের শীষ। অপেক্ষা করেন।প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি আসে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখের সামনে দিয়ে চলে যায়। তিনি সালাম জানান।তারপর আবার ফিরে যান নিজের অনিশ্চিত জীবনে। পরদিন সকাল হলে আবার আসেন। চাকরি হারিয়েছেন আবদুস সালাম, কিন্তু হারাননি অপেক্ষা। কারণ তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখা শুধু একটি মুহূর্ত নয়—এটি তাঁর দিনের সেই ছোট্ট শান্তি, যা কোনো চাকরি হারানোর সঙ্গে হারিয়ে যায়নি।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে। ১৪ হাজার শিক্ষক পদায়নের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৪ হাজার শিক্ষক পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদায়ন সম্পন্ন করার জন্য নতুন করে শিক্ষক বদলি বন্ধ রাখা হবে। ১৪ হাজার শিক্ষকের পদায়ন শেষ হলে পুনরায় বদলি কার্যক্রম শুরু করা হবে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষক পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি