খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ, খোকনের বক্তব্য নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ, খোকনের বক্তব্য নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যাখ্যা

তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয় নিয়ে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এজলাস ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তবে দুজনের বক্তব্যে ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে।

মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, শুনানির একপর্যায়ে তিনি প্রধান বিচারপতিকে বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের আয়-রোজগার কমে গেছে। এ মন্তব্যের পর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার তর্ক হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারকেরা এজলাস ছেড়ে চলে যান।

অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আইনজীবীদের কল্যাণ বা স্বার্থ নিয়ে কোনো আলোচনা থেকে ঘটনাটির সূত্রপাত হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মামলায় আদালতের কাছে তথ্য গোপনের অভিযোগে একজন নারী আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই অর্থ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ওই মামলার বাদী পাঁচটি রিট পিটিশন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী আবেদনে আগের একটি মামলা খারিজ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি বলে আদালতের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখা হয়।

তার দাবি, সকালে ওই মামলার আদেশ দেওয়ার সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে দুপুরের দিকে অন্য একটি মামলার কার্যক্রমের মধ্যে তিনি ওই জরিমানার প্রসঙ্গ তোলেন। তখন প্রধান বিচারপতি জানান, শুনানি ও তথ্য পর্যালোচনা করেই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেটি পরিবর্তন করা হবে না।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের আয় কমে গেছে। প্রধান বিচারপতি জানতে চান, তিনি কি সত্যিই এমন মন্তব্য বোঝাতে চেয়েছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রধান বিচারপতি ওই মন্তব্যকে আদালত অবমাননার শামিল বলে উল্লেখ করে জানান, এমন পরিস্থিতিতে তিনি আর সেদিন আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। এরপর তিনি এজলাস ত্যাগ করেন এবং আপিল বিভাগের অন্য বিচারকেরাও সরে যান।

রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও সততাকে প্রধান বিচারপতি গুরুত্ব দেন। আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে কোনো বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলেও তা আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনা নিয়ে প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের অন্য বিচারকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ক্যাশলেস লেনদেনে দুর্নীতি ও ব্যবসার খরচ কমবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
ক্যাশলেস লেনদেনে দুর্নীতি ও ব্যবসার খরচ কমবে: অর্থমন্ত্রী

ক্যাশলেস লেনদেন বাড়লে দুর্নীতির সুযোগ কমার পাশাপাশি ব্যবসার খরচও কমবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে ডিজিটালাইজেশন ও ক্যাশলেস লেনদেন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ‘ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিমের জন্য ডায়নামিক বাংলা কিউআর চালু’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ট্রাস্ট ব্যাংকের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম চালু করা হয়।

আমির খসরু বলেন, নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে প্রতিটি লেনদেনের একটি তথ্যভিত্তিক রেকর্ড তৈরি হয়। এতে অর্থের প্রবাহ অনুসরণ করা সহজ হয় এবং কর আদায় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে সরকারের সক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে কর ফাঁকির সুযোগ কমে আসে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, লেনদেনের তথ্য সহজে পাওয়া গেলে নীতিনির্ধারণেও তা কাজে লাগে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে অর্থের গতিপ্রবাহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। ফলে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর বারবার করের চাপ তৈরির প্রবণতাও কমানো সম্ভব।

আমির খসরু বলেন, ডিজিটাল সেবা বাড়লে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কাজের জন্য মানুষকে বারবার কার্যালয়ে যেতে হয় না। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়। একইভাবে বন্দর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অটোমেশন বাড়ানো গেলে ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমবে।

বাংলাদেশে ক্যাশলেস লেনদেন আরও কার্যকর করতে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মধ্যে আন্তঃসংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তার মতে, বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হলে বিভিন্ন আর্থিক সেবার মধ্যে পারস্পরিক ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

আমির খসরু বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। একটি আধুনিক ও গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে দক্ষতা বাড়াতে পারলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

আমির খসরু বলেন, ক্যাশলেস অর্থনীতি শুধু লেনদেনের পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয় নয়। এর সঙ্গে অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা, কর আদায়ের সক্ষমতা, জবাবদিহি এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ও জড়িত। ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন বাড়িয়ে এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সার্বভৌম মর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্ব চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
সার্বভৌম মর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্ব চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ন্যায়সঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কারণে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, এ বিষয়ে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভারতের আগ্রহের কথা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

নোট মুদ্রণে ব্যয় দ্বিগুণ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
নোট মুদ্রণে ব্যয় দ্বিগুণ

নতুন টাকা ছাপানোর খরচ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকনোট মুদ্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ফলে এক বছরে খরচ বেড়েছে ২২৪ কোটি ১৪ লাখ ৮ হাজার টাকা, অর্থাৎ ৯৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অডিটরস রিপোর্ট ও অডিটেড ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টসে এই ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে। পাঁচ অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করলেও দেখা যায়, সর্বশেষ অর্থবছরেই নোট মুদ্রণে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে।

বেশি টাকা ছাপানোর কারণে নয়
নোট মুদ্রণের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কি বাজারে সরবরাহের জন্য এবার অনেক বেশি নতুন নোট ছাপানো হয়েছে? বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা বলছে, বিষয়টি তেমন নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন নোট মুদ্রণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি। ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে নোটের পরিমাণের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং একটি নোট উৎপাদনের পেছনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়াই এবারের ব্যয় বৃদ্ধির বড় কারণ।

নোট মুদ্রণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানের কাগজ বা কালি ব্যবহার করা যায় না। নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণ প্রয়োজন হয়। এসব পণ্যের সরবরাহকারীও বিশ্বজুড়ে সীমিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, নোট তৈরির কাগজ ও কালি অত্যন্ত বিশেষায়িত হওয়ায় এসব উপকরণের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কম। ফলে সরবরাহকারীদের সঙ্গে দাম কমানোর জন্য বড় ধরনের দর-কষাকষির সুযোগ থাকে না।

তার ব্যাখ্যায়, বিশেষায়িত কাগজ ও কালি তৈরির প্রক্রিয়াই তুলনামূলক ব্যয়বহুল। এমনকি বিশ্বের সব দেশেও ব্যাংকনোট তৈরির নিরাপত্তা কাগজ উৎপাদন হয় না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব উপকরণের দাম বাড়লে বাংলাদেশকেও বাড়তি ব্যয় বহন করতে হয়।

আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ভূমিকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এবার নোট মুদ্রণের ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির বড় ভূমিকা রয়েছে। বৈশ্বিকভাবে কাগজের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহের খরচও বেড়েছে।

আরিফ হোসেন খানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি বিনিময় হারের প্রভাবও কিছুটা রয়েছে। তবে সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাগজ ও কালির মূল্যবৃদ্ধিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশে ব্যাংকনোট ছাপানোর কাজ করে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড—এসপিসিবিএল। তবে নোট তৈরির প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণের একটি অংশ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের নোট মুদ্রণের ব্যয়ের সরাসরি যোগ রয়েছে।

ডলারের বিনিময় হারও মুদ্রণ ব্যয়ে প্রভাব
আমদানিনির্ভর উপকরণ ব্যবহারের কারণে ডলারের বিনিময় হারও মুদ্রণ ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু গত এক বছরে এ ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন শেষে আন্তঃব্যাংক গড় বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা। ২০২৬ সালের জুন শেষে সেটি বেড়ে হয়েছে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে পরিবর্তন মাত্র ৮ পয়সা, বা প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। যেখানে নোট মুদ্রণের ব্যয় বেড়েছে ৯৫ শতাংশের বেশি, সেখানে বিনিময় হারের সামান্য পরিবর্তনকে এই বিশাল ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবই বেশি।

খরচ বাড়িয়েছে নতুন নকশা
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিযুক্ত নোটের পরিবর্তে নতুন নকশার ব্যাংকনোট চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের নকশা পরিবর্তনের কাজও এগিয়েছে। তবে নতুন নকশার কারণে মুদ্রণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—এমন ধারণা নাকচ করেছেন আরিফ হোসেন খান। তাঁর মতে, নকশা পরিবর্তনের ব্যয় তুলনামূলকভাবে খুব কম। নতুন নকশা মুদ্রণপ্রক্রিয়ায় কিছু বাড়তি জটিলতা তৈরি করলেও ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ এটি নয়।

পাঁচ বছরের চিত্রে এবারই সর্বোচ্চ
নোট মুদ্রণের ব্যয়ের গতিপথেও এবারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি স্পষ্ট। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৩৮৪ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ সালে তা কমে হয় ৩৭৪ কোটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ২০২৩-২৪ সালে ৩৩৭ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় আরও কমে ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় নেমেছিল। কিন্তু এক বছর পরই তা বেড়ে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

ফলে পরিসংখ্যান বলছে, এবার শুধু আগের বছরের তুলনায় নয়, গত পাঁচ অর্থবছরের যেকোনো সময়ের তুলনায় নোট মুদ্রণে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—নতুন নোটের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও এই ব্যয় বেড়েছে। অর্থাৎ এবারের হিসাব মূলত বেশি টাকা ছাপার চেয়ে টাকা তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ার চিত্রই তুলে ধরছে। বিশেষায়িত কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজার, সরবরাহ সংকট এবং সীমিত সরবরাহকারীর কারণে এই ব্যয় আগামী দিনেও বাংলাদেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়ের চাপ হয়ে থাকতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ