ভাঙনের কবলে বাবুগঞ্জ, নদীতে বিলীন দুই শতাধিক বসতঘর
বরিশালের বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন। ইতোমধ্যে পাকা সড়ক, ইটের সলিং ও কাঁচা রাস্তা, বেড়িবাঁধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ দুই শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সম্প্রতি ভাঙন আরও তীব্র হওয়ায় নদীতীরবর্তী পরিবারগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
দুই শতাধিক স্থাপনা বিলীন
স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে শুধু সুগন্ধা নদীর ভাঙনেই দুই শতাধিক স্থাপনা নদীতে হারিয়ে গেছে। বারবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে নিতে নদীতীরের বাসিন্দারা এখন ক্লান্ত। সানি-কেদারপুর থেকে স্টিমারঘাট সড়কের বিভিন্ন অংশও ভাঙনের কবলে পড়েছে। একই সঙ্গে অসংখ্য ইটের রাস্তা, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, মসজিদ ও কবরস্থান নদীতে বিলীন হয়েছে।
নতুন করে ভাঙন
চলতি শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে কেদারপুর ইউনিয়নের সানি কেদারপুর, কেদারপুর খেয়াঘাট, পূর্ব ভূতেরদিয়া মোল্লারহাট ও পশ্চিম ভূতেরদিয়া এলাকায় সুগন্ধা নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া রহমতপুর ইউনিয়নের রাজগুরু, লোহালিয়া, ক্ষুদ্রকাঠি, দোয়ারিকা, মানিককাঠি ও ছোট মীরগঞ্জ; দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার, রাকুদিয়া, উত্তর বাহেরচর, দক্ষিণ রাকুদিয়া, ইদেলকাঠি ও চর সাধুকাঠি এবং চাঁদপাশা ইউনিয়নের রফিয়াদি, ময়দানের হাট ও সায়োরকোলচর এলাকাতেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।
মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন রহমতপুর ও চাঁদপাশা ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার ইটের সলিং রাস্তা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
হুমকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া মোল্লারহাট বাজার, সানি কেদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ সুগন্ধা নদীর মাত্র ১০০ ফুট দূরে অবস্থান করছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানও যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
‘রাক্ষসী নদী সব কেড়ে নিয়েছে’
সানি কেদারপুর গ্রামের ৮০ বছর বয়সী মফিজ উদ্দিন বলেন, সুগন্ধা নদীতে ভাঙার আর কিছুই বাকি নেই। তার স্বজনদের কবরও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাপ-দাদার ধানি জমি ও বড় ঘর ছিল, কিন্তু নদী সব কেড়ে নিয়েছে। এখন তার আর কিছুই নেই।
লোহালিয়া গ্রামের শামসের আলী বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীতে তাদের বাপ-দাদার জমি বিলীন হয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নতুন বাড়ি করলেও সেটিও এখন ভাঙনের মুখে। দীর্ঘ ২০ বছরেও ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল জানান, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে তাকে নিজের ঘর চারবার সরাতে হয়েছে।
স্থায়ী বাঁধের দাবি
রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন শিকদার বলেন, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার জানানো হয়েছে। তবে এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীগুলো বালুমহাল হিসেবে ইজারা দেওয়া না হলেও প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, মীরগঞ্জ ফেরিঘাটের বেড়িবাঁধ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ নদীতে ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array