খুঁজুন
                               
, ,
           

সবুজের মাঝে শুভ্র পদ্ম, মুগ্ধ কেশরিয়া বিলের দর্শনার্থীরা

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সবুজের মাঝে শুভ্র পদ্ম, মুগ্ধ কেশরিয়া বিলের দর্শনার্থীরা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেশরিয়া বিল এখন শ্বেতপদ্মের অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে। বিস্তীর্ণ জলাশয়জুড়ে ফুটে থাকা হাজারো শ্বেতপদ্ম আর সবুজ পাতার সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিলের পাড়ে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ।

নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনিরপাট বাজারসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কেশরিয়া বিলের অবস্থান। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছর ধরে বিলটিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাচ্ছে বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ শ্বেতপদ্ম। গ্রীষ্মকাল থেকে ফুল ফোটা শুরু হলেও শরৎকালে এর সমারোহ বেড়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের পানিতে ভেসে আছে বড় বড় গোলাকার সবুজ পাতা। সেসব পাতার মাঝ থেকে ডাঁটা মেলে মাথা উঁচু করে ফুটে আছে অসংখ্য শ্বেতপদ্ম। দূর থেকে পুরো বিলটিকে মনে হচ্ছে সবুজের ওপর আঁকা শুভ্র এক প্রাকৃতিক ক্যানভাস।

ভোরের দৃশ্য এখানে আরও আকর্ষণীয়। কুয়াশা ও শিশিরে পদ্মের পাপড়ি ঝলমল করে ওঠে। হালকা বাতাসে শান্ত পানির ওপর একসঙ্গে দুলতে থাকে অসংখ্য ফুল। নৌকায় করে বিলের ভেতরে গেলে চারপাশের পদ্মফুলের সৌন্দর্য আরও কাছ থেকে উপভোগ করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শোভা ও সবিতা রায় বলেন, কেশরিয়া বিল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের ভাণ্ডার। শরৎকালে শ্বেতপদ্মের সমারোহ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন।

কলেজ শিক্ষক সঞ্জীব রায় বলেন, শ্বেতপদ্ম পবিত্রতা, শুভ্রতা ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের প্রতীক। সনাতন ধর্মে এ ফুলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেবী সরস্বতী ও লক্ষ্মীর আসন হিসেবেও শ্বেতপদ্ম ব্যবহৃত হয়।

উন্নয়নকর্মী ফরিদুল জুলফিকার বলেন, পদ্মবিল ও পদ্মফুল দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে জলজ বাস্তুসংস্থানের জন্যও এর গুরুত্ব রয়েছে। পদ্মমধু সংগ্রহ, পদ্মবীজের ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে স্থানীয় মানুষের জীবিকার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, কেশরিয়া বিলের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। যথাযথভাবে পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা গেলে এটি নাগেশ্বরীর অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনস্থলে পরিণত হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও শ্বেতপদ্মের এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ পাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা নবাবগঞ্জের খামারিরা

দিনাজপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা নবাবগঞ্জের খামারিরা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় গোখাদ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন গরু পালনকারী কৃষক ও খামারিরা। খড়, ভুসি ও সবুজ ঘাস কিনতে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে তাদের। এতে বেড়ে গেছে গরু পালনের ব্যয়, কমে আসছে লাভের পরিমাণ। বিশেষ করে অল্প পুঁজি নিয়ে গরু পালন করা প্রান্তিক খামারিরা পড়েছেন বেশি চাপে। খামারিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নতুন ধানের প্রতিটি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। ভুসির বস্তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, নেপিয়ার ঘাসের প্রতিটি চারা কিনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। বাড়তি দামে এসব খাদ্য কিনে দুধ উৎপাদন ও গরু মোটাতাজাকরণে লাভের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন বহু পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসার চালান, আবার কেউ গরু মোটাতাজা করে বিক্রির মাধ্যমে বাড়তি আয় করেন। কিন্তু গোখাদ্যের দাম বাড়তে থাকায় এসব খামারের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পশুখাদ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, সে অনুপাতে দুধের বিক্রিমূল্য কিংবা গরুর বাজারদর বাড়ছে না। ফলে খামারিদের লাভ কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনেকেই গরু পালনে আগ্রহ হারাতে পারেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নবাবগঞ্জে ৯৫টি দুগ্ধ খামার, ৮৫টি ছাগলের খামার ও ৩৮টি ভেড়ার খামার রয়েছে। এসব খামারের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত।

উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুন্দন গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি সাহেব আলী বলেন, গরুর খাবারের ব্যবস্থা করতেই এখন তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের খাবার কেনা যেত, এখন সেই টাকায় অনেক কম খাবার পাওয়া যায়। গরুকে না খাইয়ে রাখার সুযোগ নেই। ফলে সংসারের অন্যান্য খরচের পাশাপাশি পশুখাদ্যের টাকা জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাহেব আলী জানান, বর্তমানে নতুন ধানের প্রতিটি আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে গরু পালনের দৈনন্দিন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। দুধ উৎপাদনকারী খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল বলেন, গরুর খাবারের খরচ বেড়ে গেলে দুধ বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। নিয়মিত খাবার দিতে না পারলে দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে বেশি দাম দিয়েই খাবার কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগে ভুসির বস্তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। বর্তমানে তা প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি নেপিয়ার ঘাসের প্রতিটি চারার দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

গরুর খাবারের ব্যয় শুধু খড় ও ভুসি কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে খৈল, সবুজ ঘাস, শ্রমিকের মজুরি, চিকিৎসা ও পরিচর্যার খরচও যুক্ত রয়েছে। বাড়তি ব্যয় সামলাতে গিয়ে কোনো খামারি খাবারের পরিমাণ বা মান কমিয়ে দিলে গবাদিপশুর পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে গরুর ওজন বৃদ্ধি, দুধ উৎপাদন ও প্রজননক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকেও দুর্বল করতে পারে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মানিক রহমান বলেন, খাদ্যের ঘাটতি হলে গরুর ওজন, দুধ উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই খামারিদের সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নিয়মিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। খাদ্যের দাম কিংবা সরবরাহ নিয়ে সমস্যা হলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, গবাদিপশুর জন্য শুধু খড় দিলেই হবে না। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস, পরিষ্কার পানি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম দানাদার খাবার দিতে হবে। খামারিরা বাড়ির আশপাশে নেপিয়ারসহ উপযোগী ঘাস চাষ করতে পারেন। পাশাপাশি মৌসুমে খড় সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করলে সংকটের সময় পশুখাদ্যের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, গোখাদ্যের বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি খামারিদের ঘাস চাষে প্রশিক্ষণ, উন্নত পদ্ধতিতে খড় সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী পশুখাদ্য উৎপাদনে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন কৃষকের সম্পদ, পরিবারের বাড়তি আয়ের উৎস এবং অনেকের জীবিকার অবলম্বন। তাই গোখাদ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়তে পারে দুধ উৎপাদন ও স্থানীয় খামার ব্যবস্থায়। খামারিদের প্রত্যাশা, সাশ্রয়ী দামে পশুখাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

রাজধানীতে ৪৩ মামলা, গ্রেপ্তার ৬৬২ জন

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ৪৩ মামলা, গ্রেপ্তার ৬৬২ জন

রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও আমদানিনিষিদ্ধ নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪০ জন রয়েছেন। এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৯৩ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৯২ জন, মতিঝিল বিভাগে ৮২ জন, লালবাগ বিভাগে ৭৮ জন, গুলশান বিভাগে ৭৮ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৭ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে ছয়জনকে।

অভিযানকালে পুলিশ একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাকু, ৪ হাজার ৬২১ পিস ইয়াবা, ৭১২ গ্রাম গাঁজা এবং ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ৩০০ বোতল আমদানিনিষিদ্ধ অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্য ইস্কাফ, একটি মোটরসাইকেল, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৩ হাজার ৮২০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ডিএমপি জানায়, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

জাপানে প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
জাপানে প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টায় টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, দেশটির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।

সফরে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ গুরুত্ব পাবে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করা, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ সফরের অন্যতম লক্ষ্য। এ ছাড়া বাংলাদেশে জাপানি শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল রূপান্তর নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

জাপানের ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক

সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। জাপানের বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি।

এ ছাড়া সফরের অংশ হিসেবে চিবা অঞ্চলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়ার টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে জাপানের শিল্পপ্রযুক্তি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন খাত সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাসহ ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

প্রতিনিধি দলে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মুস্তাকুর রহমান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা

স্বাধীনতার পর থেকেই জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও রপ্তানি সম্প্রসারণে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি