খুঁজুন
                               
, ,
           

আবদুর রাজ্জাকের বইয়ে নতুন প্রজন্ম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
আবদুর রাজ্জাকের বইয়ে নতুন প্রজন্ম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

রাজধানীতে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত ‘Bangladesh Jamaat-e-Islami: Its History and Politics’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গণতান্ত্রিক সমাজে অন্যের মত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বক্তব্য পছন্দ না হলেই তা প্রত্যাখ্যান করা সঠিক নয়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। University Press Limited থেকে প্রকাশিত বইটি রাজনীতিসংশ্লিষ্টদের পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, বইটি ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের জীবনদর্শন ও সমাজচিন্তার প্রতিফলন। তাঁর মতে, ওপর থেকে ইসলামি শাসন চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সমাজ থেকেই ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে রাষ্ট্র গড়ে তোলার চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ।

আবদুর রাজ্জাকের নতুন প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মূল্যায়নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আবদুর রাজ্জাকের অবস্থান জাতির কাছে আরও আগে পরিষ্কার হলে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত।

অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকে কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণায় আবদুর রাজ্জাকের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।

বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আলী রিয়াজ, সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী ও সাংবাদিক কামাল আহমেদ।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

ট্রাম্পের নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। এ ছাড়া সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক হতে পারে।

এ ছাড়া বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকাও তুলনামূলক ছোট রাখা হচ্ছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

হাসিনার আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
হাসিনার আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের সরকার। ঢাকার এই উদ্যোগ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নয়াদিল্লি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টিও এই পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে—এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া কী?

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন দেখেছি, তবে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে কিছু জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’

এরআগে গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টিও এই পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ।

তিনি বলেন, আগের সরকারের করা কিছু ব্যবস্থায় বিদেশি জাহাজকে বাংলাদেশের জাহাজের তুলনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এসব চুক্তির পর্যালোচনার ফলাফল খুব শিগগিরই জানানো হবে বলেও জানান চিফ হুইপ। তবে কোন কোন চুক্তি বহাল থাকবে, সংশোধন হবে বা বাতিল হতে পারে—এ বিষয়ে সরকার এখনো নির্দিষ্ট কোনো তালিকা প্রকাশ করেননি তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএউচ

তরুণদের উচ্চ রক্তচাপ: অবহেলার সুযোগ নেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
তরুণদের উচ্চ রক্তচাপ: অবহেলার সুযোগ নেই

উচ্চ রক্তচাপকে যথার্থই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। অনেক সময় কোনো সুস্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধে এবং ধীরে ধীরে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতাসহ নানা প্রাণঘাতী অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, উচ্চ রক্তচাপ এখন আর শুধু বয়স্ক মানুষের সমস্যা নয়। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি প্রায় ১২ শতাংশ তরুণের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের কারণ।

একটি দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী যদি অল্প বয়সেই অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিতে পড়ে, তার প্রভাব শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাত পড়ে জাতীয় অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতার ওপরও। অথচ জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনিয়মিত জীবনযাপন, রাত জাগা, অপর্যাপ্ত ঘুম, দীর্ঘ সময় কাজ বা পড়াশোনা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ তরুণদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় সতর্কসংকেত। এর সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ, ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কোমলপানীয়ের অভ্যাস যুক্ত হলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। ধূমপান, মাদক গ্রহণ ও স্থূলতাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব শুধু চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়টি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্র—সব পর্যায়েই গুরুত্ব পেতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা নিতে গিয়ে যেন কোনো রোগী ওষুধের সংকটে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ওষুধ সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ড. মলয় কান্তি মৃধা গবেষণাভিত্তিক কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্বাস্থ্য বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁদের বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত যে, উচ্চ রক্তচাপের মতো বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গবেষণা, প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি এবং যথাযথ অর্থায়ন।

গণমাধ্যমকেও এ ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। আতঙ্ক সৃষ্টি নয়, বরং সঠিক তথ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তরুণদের সুস্থ রাখা মানে দেশের ভবিষ্যৎ কর্মশক্তিকে সুরক্ষিত রাখা। তাই উচ্চ রক্তচাপের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিকে এখনই গুরুত্ব দিয়ে ব্যক্তি সচেতনতা থেকে রাষ্ট্রীয় নীতি—সব পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আজকের অবহেলা যেন আগামী দিনের বড় স্বাস্থ্যসংকটে পরিণত না হয়।

কালের আলো/এম/এএইচ