খুঁজুন
                               
, ,
           

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পায়রা নদীতে  ইলিশ শিকার

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পায়রা নদীতে  ইলিশ শিকার

মা-ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাঙ্গাশিয়ার হাজিরহাট ও রাজাগঞ্জের মধ্যবর্তী নদী এলাকায় অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি নৌকায় জেলেদের ইলিশ ধরতে দেখা গেছে। প্রশাসনের অভিযান চলার কথা থাকলেও প্রকাশ্যে মাছ শিকারের এমন দৃশ্য নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চলছে মাছ শিকার

রবিবার দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে নদীতে এ চিত্র দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা হচ্ছে। পাঙ্গাশিয়া, আলগী, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়াসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এ তৎপরতা চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ধরার নৌকাগুলোতে শক্তিশালী ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে জেলেরা দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারছেন। অন্যদিকে, অভিযান পরিচালনাকারী দলের পক্ষে একসঙ্গে সব এলাকায় নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জনবলসংকট, টহল দল মাত্র একটি

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, তাঁদের টহল দল কিছুক্ষণ আগেই ওই এলাকা ঘুরে এসেছে। জনবলসংকট এবং মাত্র একটি টহল দল থাকায় সব জায়গায় সমানভাবে নজরদারি করা কঠিন হচ্ছে। তবে টহল দল বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সকালে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় ব্যস্ত ছিলেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় জানিয়েছে, এর আগে ৮ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়মিত অভিযানে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ১১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। তবে জনবল ও বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুতগতির নৌযানের সংকটের কারণে অবৈধ মাছ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন ঘাটে ইলিশ মজুতের অভিযোগ

নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে ধরা ইলিশের একটি অংশ গোপনে কেনাবেচা ও মজুত করা হচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয় সূত্রগুলোর। উপজেলার হাজিরহাট, লেবুখালী ফেরিঘাট, ভাঙ্গার মাথা, আঙ্গারিয়া বন্দর, পাতাবুনিয়ার হাট, জেলেপাড়া, উত্তর মুরাদিয়া ও জোয়ারগরবদিসহ বিভিন্ন ঘাটে বরফের বাক্সে ইলিশ মজুত রাখার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পাঙ্গাশিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন বলেন, এভাবে নির্বিচারে মা-ইলিশ ধরা চলতে থাকলে অচিরেই নদীগুলো ইলিশশূন্য হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে বাজারে ইলিশ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ

স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মা-ইলিশ শিকার করা হলে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তাঁদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, পর্যাপ্ত জনবল এবং দ্রুতগতির টহল নৌযানের ব্যবস্থা জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ধরা ইলিশের কেনাবেচা ও মজুত বন্ধে ঘাটগুলোতেও অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বাঁশের সাঁকো থেকে কাঠের সেতু, তবু কাটেনি অপেক্ষা

নোয়াখালীর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ
বাঁশের সাঁকো থেকে কাঠের সেতু, তবু কাটেনি অপেক্ষা

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের কাটাখালী খালের ওপর দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে চলাচলের ভরসা ছিল বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকিপূর্ণ সেই সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে। মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কিংবা ব্যবসার মালামাল পরিবহন—প্রতিটি কাজেই পোহাতে হয়েছে দুর্ভোগ। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে সেখানে নির্মিত হয়েছে কাঠের সেতু। এতে স্বস্তি ফিরেছে খালের দুই পাড়ের মানুষের জীবনে। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, অস্থায়ী এই কাঠের সেতুর জায়গায় একদিন নির্মিত হবে টেকসই পাকা সেতু।

হাতিয়ার তমরদ্দি বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে কাটাখালী খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে এখন সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতুটি দেখতে আশপাশের এলাকা থেকেও মানুষ আসছেন। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর কাঠের সেতু পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে আনন্দ দেখা গেছে। তবে এই আনন্দের সঙ্গে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত যোগাযোগব্যবস্থার স্মৃতি এবং স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা।

৫১ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই ছিল ভরসা

জানা যায়, আশির দশকের শুরুর দিকেও কাটাখালী খালের ওপর ইট, রড, সিমেন্ট ও বালু দিয়ে নির্মিত একটি সেতু ছিল। ‘কাটাখালী ব্রিজ’ নামে পরিচিত ওই সেতুর ওপর দিয়ে যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করত। তৎকালীন থানা সদর বাথানখালী থেকে তমরদ্দি বাজার হয়ে সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা বাজার পর্যন্ত বাস চলাচল করত। সেখান থেকে জাহাজমারা পর্যন্তও যাতায়াতের পথ ছিল এটি।

একপর্যায়ে সেতুটি ভেঙে গেলে সরকারি উদ্যোগে দরপত্র আহ্বান করে সেটি অপসারণ করা হয়। কিন্তু পুরোনো সেতুর জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় বিপাকে পড়েন দুই পাড়ের বাসিন্দারা। নিজেদের প্রয়োজনে তাঁরা চাঁদা তুলে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। এরপর বছরের পর বছর সেই সাঁকোই হয়ে ওঠে পারাপারের একমাত্র ভরসা।

বর্ষা মৌসুম শেষে সাঁকো মেরামত করতে হতো স্থানীয়দেরই। কখনো বাঁশ বদলাতে হয়েছে, কখনো ভাঙা অংশ জোড়া দিয়ে চলাচলের উপযোগী করতে হয়েছে। এভাবেই কেটে গেছে কয়েক দশক। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তিন গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের দুর্ভোগ

কাটাখালী খালের দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে পূর্ব জোড়খালী, জোড়খালী ও কোরালিয়া গ্রাম। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের মানুষকে তমরদ্দি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে ওই খালের ওপরের সাঁকো পার হতে হতো।

উপজেলা সদর ওছখালি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। বাজারে যাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা ব্যবসার মালামাল আনা-নেওয়া—সব ক্ষেত্রেই সাঁকো পারাপার ছিল বড় বাধা।

বিশেষ করে বর্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যেত। পিচ্ছিল ও দুর্বল সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, কেউ কেউ গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতাও হারিয়েছেন।

রোগী হাসপাতালে নেওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ

সাঁকোর কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হতো মুমূর্ষু রোগী, বয়স্ক মানুষ ও গর্ভবতী নারীদের। খালের দক্ষিণ পাড়ে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সিরাজ মিয়া (৮৫) জানান, ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই সাঁকো দিয়ে তমরদ্দি বাজারে যাতায়াত করেছেন। দিনের বেলায় কোনোভাবে পারাপার করা গেলেও রাতে চলাচল ছিল অত্যন্ত কঠিন।

তিনি জানান, একবার তাঁর ছেলের স্ত্রীর প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও রাতের অন্ধকারে খাল পার হওয়া সম্ভব হয়নি। সারারাত অপেক্ষার পর পরদিন সকালে নৌকায় করে তাঁকে খাল পার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সিরাজ মিয়ার ভাষ্য, যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে গ্রামের মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রেও অন্য এলাকার মানুষের অনীহা ছিল। বিভিন্ন নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও পরে তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

মালামাল পার করতে গিয়ে পঙ্গু ভ্যানচালক

কোরালিয়া গ্রামের বাসিন্দা নবির উদ্দিন (৫০) ও শমশের আলী (৬০) জানান, তাঁদের দোকানের মালামাল আনতে হয় তমরদ্দি বাজার থেকে। ভ্যানচালকেরা খালের ওপারে মালামাল রেখে দেন। এরপর মাথায় করে সাঁকো পার হয়ে সেগুলো দোকানে পৌঁছে দিতে হয়।

শমশের আলী জানান, গত বছর নুর ইসলাম নামের এক ভ্যানচালক চিনির বস্তাসহ সাঁকো ভেঙে খালে পড়ে যান। এতে তাঁর এক হাত ও এক পা ভেঙে যায়। ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও তিনি সুস্থ হতে পারেননি। বর্তমানে তিনি পঙ্গু অবস্থায় বাড়িতে বসবাস করছেন।

শুধু ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহন নয়, সাঁকো পারাপার করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদেরও দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

শমশের আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামের শিক্ষার্থীদের তমরদ্দি উচ্চবিদ্যালয় ও তমরদ্দি মাদ্রাসায় যেতে এই সাঁকো পার হতে হয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এক ছাত্রী সাঁকো থেকে খালে পড়ে ভেসে যেতে থাকলে সহপাঠীদের চিৎকার শুনে খালপাড়ের দোকান থেকে লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

২০ বছর আগেও হয়েছিল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ বছর আগে কাটাখালী খালের ওপর নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। একজন ঠিকাদার কাজ পেয়ে নির্মাণকাজ শুরু করলেও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির কারণে কাজ বন্ধ করে দেন বলে জানা যায়। পরে তিনি নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিয়ে যান। ফলে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি।

এর আগে ২০১৯ সালে কাটাখালী খালের ওপর দিয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায়। তবু দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কাঠের সেতু

সম্প্রতি কোনো এক কাজে ওই এলাকায় গিয়ে বাঁশের সাঁকোটি দেখেন হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। স্থানীয়দের কাছ থেকে সাঁকোটির দীর্ঘ ইতিহাস ও দুর্ভোগের কথা শুনে তিনি কাঠের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে নির্মিত হয় নতুন সেতুটি।

সেতুটি পুরোপুরি কাঠ দিয়ে তৈরি। নিচে রয়েছে সিমেন্টের খুঁটি, তার ওপর কাঠের পাটাতন। দুই পাশে দেওয়া হয়েছে হাতল। রং করে সাজানো হয়েছে পুরো সেতু। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও এটি দেখতে আসছেন।

প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের সোনাদিয়া থেকে সেতুটি দেখতে আসেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরিয়ান ফরিদ। তাঁর মতে, বিশেষ রঙে সাজানো দীর্ঘ সেতুটি দূর থেকে দেখতে ছোট নদীর ওপর নির্মিত বড় সেতুর মতো মনে হয়। এটি এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার অসুবিধার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাগুলো কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিল। এতে মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। একটি সাঁকোকে সেতুতে রূপান্তরের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে ইট-পাথরের স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বলা হয়েছে।

ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ার প্রত্যাশা

কাটাখালী খালের ওপর কাঠের সেতু নির্মাণের ফলে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

তমরদ্দি বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি হোসেন আহম্মদ বলেন, সেতুটি নির্মিত হওয়ায় তমরদ্দি বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য কয়েক গুণ বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন। হাতিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের নিঝুম দ্বীপ, জাহাজমারা ও চরচেঙ্গা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে তমরদ্দি বাজারের ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও জমজমাট হতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যাতায়াত সহজ হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া, জরুরি চিকিৎসা নেওয়া এবং কৃষি ও ব্যবসার পণ্য পরিবহন আগের তুলনায় সহজ হবে। দীর্ঘদিনের যোগাযোগবিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে তিন গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন আসবে।

স্বস্তি মিলেছে, অপেক্ষা এখন পাকা সেতুর

কাঠের সেতু নির্মাণের পর স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। তবে তাঁরা এটিকে স্থায়ী সমাধানের শেষ ধাপ হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের প্রত্যাশা, কাঠের সেতুর জায়গায় দ্রুত একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণ করা হবে, যাতে ভারী যানবাহন চলাচলসহ দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলা মানুষের কাছে কাঠের সেতুটি তাই শুধু পারাপারের পথ নয়—এটি স্বস্তি, সম্ভাবনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে ওঠার নতুন আশার প্রতীক। এখন তাঁদের অপেক্ষা, সেই আশা কবে স্থায়ী সেতুতে রূপ নেবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

সংরক্ষিত আসনে পুরুষ, দাঁড়িয়ে থাকেন নারী-প্রবীণরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত আসনে পুরুষ, দাঁড়িয়ে থাকেন নারী-প্রবীণরা

রাজধানী ঢাকার লোকাল বাসে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ নাগরিকদের যাতায়াত ক্রমেই দুর্ভোগ ও ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। সংরক্ষিত আসনে বসার সুযোগ না পাওয়া, বাসে ওঠানামার সময় অসতর্কতা এবং সহকারী কর্মীর অভাবে প্রতিদিনই নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা। যাত্রীসেবার চেয়ে মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় নগর পরিবহনে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআর) এবং শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) যৌথ পর্যবেক্ষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পর্যবেক্ষণের তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক মাস ধরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন রুটের অর্ধশতাধিক বাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ সময় যাত্রী, পরিবহনশ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে নগর পরিবহনের নানা অনিয়ম ও যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র পাওয়া গেছে।

সংরক্ষিত আসনেও বসার সুযোগ নেই

পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য প্রতিটি বাসে নয়টি আসন সংরক্ষিত রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিছু বাসে এ বিষয়ে নির্দেশনার কথা লেখা থাকলেও অধিকাংশ বাসে তা উল্লেখ নেই। সংগঠন দুটির দাবি, কোনো বাসেই নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।

যাত্রীভর্তি লোকাল বাসে সংরক্ষিত আসনে পুরুষ যাত্রীদের বসে থাকতে দেখা গেছে। অন্যদিকে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি অস্বস্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকিও বাড়ছে।

৮০ শতাংশ বাসে নেই হেলপার

ঢাকার লোকাল বাসে চলাচলের আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে সহকারী কর্মী বা হেলপার না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। পর্যবেক্ষণে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের প্রায় ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার নেই।

সংগঠন দুটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন চালক মালিকের কাছ থেকে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া নেন। পরে একজন কন্ডাক্টর নিয়ে সড়কে বাস চালান। দিন শেষে মালিকের পাওনা পরিশোধ করে অবশিষ্ট টাকা চালক ও কন্ডাক্টর ভাগ করে নেন। খরচ কমানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে হেলপার রাখা হয় না।

ঝুঁকি নিয়ে বাসে ওঠানামা

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কন্ডাক্টররা বিভিন্ন স্টপেজ ও সড়কের যত্রতত্র বাস থামিয়ে দ্রুত যাত্রী ওঠানামা করান। একই সময়ে তাঁদের বাসের ভেতরে ভাড়া আদায়ের কাজও করতে হয়। ফলে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে বাসে উঠতে ও নামতে হয়।

বিশেষ করে বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে। সংগঠন দুটির দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে।

অনিয়ম বন্ধে চার দফা সুপারিশ

নগর পরিবহনে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে চারটি সুপারিশ করেছে জাতীয় কমিটি ও এসসিআরএফ।

সুপারিশগুলো হলো—

১. নগর পরিবহনের সব বাসে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীসহ নির্ধারিত শ্রেণির যাত্রীদের জন্য নয়টি আসন সংরক্ষণের নির্দেশনা কার্যকর করা।

২. প্রতিটি বাসে চালক ও কন্ডাক্টরের পাশাপাশি একজন হেলপার নিয়োগ নিশ্চিত করা।

৩. চালক কিংবা কন্ডাক্টরের কাছে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া দেওয়ার প্রথা বন্ধ করা।

৪. সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো কঠোরভাবে প্রতিহত করা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, ঢাকা শহরের লোকাল বাসগুলো নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চলাচল করছে। বাসমালিকদের যাত্রীসেবার চেয়ে মুনাফার দিকে নজর বেশি।

এসব অনিয়ম প্রতিরোধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত আসনের ব্যবহার, বাসে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ এবং নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামার নিয়ম কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করছে সংগঠন দুটি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

রিয়াদগামী ১০ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তি কমাতে মন্ত্রীর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
রিয়াদগামী ১০ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তি কমাতে মন্ত্রীর নির্দেশ

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ১০টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রী। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ার অপারেটরদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

যাত্রীদের আগাম তথ্য দেওয়ার নির্দেশ

মন্ত্রী বলেন, ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এয়ার অপারেটরদের যাত্রীদের যথাযথভাবে দেখভাল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁদের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমানো যায়।

তিনি বলেন, ফ্লাইটের বিষয়ে যাত্রীদের আগেভাগে জানাতে হবে। যাঁরা ইতিমধ্যে বিমানবন্দরে এসে পড়েছেন, তাঁদের ভোগান্তি কমাতেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব

রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় ফ্লাইটের পরিবর্তিত সময়সূচি সম্পর্কে আগাম তথ্য দেওয়া এবং বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্থগিত ফ্লাইটগুলো কখন চালু হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি