খুঁজুন
                               
, ,
           

অতিথি পাখির কলকাকলিতে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে

নাটোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
অতিথি পাখির কলকাকলিতে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে

ভোরের আলো ফুটতেই জলরাশির ওপর ডানা মেলে উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। কোথাও সাদাবকের মাছ শিকার, কোথাও পানকৌড়ির ডুবসাঁতার, আবার কোথাও বালিহাঁসের দলবদ্ধ বিচরণ। পাখির কলকাকলি আর মাছের অবাধ বিচরণে প্রাণ ফিরে পেয়েছে উত্তরাঞ্চলের মৎস্য ও শস্যভান্ডারখ্যাত চলনবিল। শীতের আগমনে অতিথি পাখির আনাগোনায় বিলজুড়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ।

প্রচলিত আছে—গ্রাম দেখলে কলম, আর বিল দেখলে চলন। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত এ বিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমি প্রতি বছর নানা প্রজাতির পাখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হয়ে ওঠে। এ বছরও বিলের বিভিন্ন এলাকায় পাখির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। সাদাবক, গাংচিল, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক ও শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিচরণে মুখর হয়ে উঠেছে বিলের জলরাশি।

বিশেষ করে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের দুই পাশের জলাভূমি এবং সিংড়া-বারুহাঁস-তাড়াশ ডুবন্ত সড়কের আশপাশে পাখির আনাগোনা চোখে পড়ছে। ভোরের আলোয় দলবদ্ধ পাখির উড়ে চলা, অগভীর পানিতে মাছ শিকার এবং জলাভূমিতে তাদের ছোটাছুটি প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে।

চলনবিলের অগভীর পানিতে টেংরা, পুঁটি, পাতাসি, শিং ও মলা মাছের বিচরণ পাখিদের খাবারের জোগান দিচ্ছে। পানিতে ডুব দিয়ে মাছ ধরে খাওয়ার দৃশ্য বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জলাভূমির এই পরিবেশ শুধু পাখির খাদ্য ও আশ্রয়ের জোগানই দেয় না, বরং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিল হালতী ত্রিমোহনী কলেজের সহকারী অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানান, প্রতি বছর এ সময় খাবারের সন্ধানে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি চলনবিলে আসে। পাখিদের বিচরণে বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

তবে পাখির এই নিরাপদ বিচরণ সব সময় নির্বিঘ্ন থাকে না। একশ্রেণির শিকারি ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে। এ কারণে পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাঁদের সংগঠন ২০১২ সাল থেকে বিলের দুর্গম এলাকায় কাজ করছে। পাখি শিকারের ঘটনা প্রশাসনকে জানানো এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, চলনবিল জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জলাভূমি। এখানে অসংখ্য পাখির আগমন ঘটেছে। পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা ভোর থেকে কাজ করছেন। তাঁদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কয়েকজন পাখি শিকারির বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চলনবিলকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। বিলের পাখি ও পরিবেশ সংরক্ষণে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ কাজে প্রশাসন ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর পাখির কলকাকলিতে চলনবিল এখন এক অনন্য দৃশ্যপট। তবে এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে পাখি শিকার বন্ধ, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা জরুরি। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া গেলে চলনবিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দোতারায় সুর তোলেন, তবু দুমুঠো খাবারের নিশ্চয়তা নেই রইচের

পাবনা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
দোতারায় সুর তোলেন, তবু দুমুঠো খাবারের নিশ্চয়তা নেই রইচের

একসময় তাঁর গান শুনতে ভিড় জমাতেন মানুষ। সেই গানই ছিল জীবিকার অবলম্বন। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের বিনোদনের ধরন। ডিজিটাল যুগে লোকসংগীতের কদর কমে যাওয়ায় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অভাব-অনটনে দিন কাটছে পাবনার ঈশ্বরদীর লোকশিল্পী রইচ উদ্দিনের। শারীরিক অসুস্থতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেও বেঁচে থাকার তাগিদে দোতারা হাতে পথে পথে গান গেয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় বিভিন্ন স্থানে রইচ উদ্দিনের গান শুনতে মানুষের ভিড় জমত। গান গেয়েই ভালো আয়-রোজগার করতেন তিনি। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে শারীরিক সক্ষমতা, কমেছে আয়ের সুযোগও। স্থায়ী কোনো কাজ করার সামর্থ্য না থাকায় এখন পথেঘাটে, ট্রেনে-বাসে কিংবা দর্শনীয় স্থানে গান গেয়ে যা পান, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে তাঁর সংসার।

রইচ উদ্দিন জানান, রেডিওর যুগ থেকেই রাস্তাঘাটে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। আগে বিভিন্ন জায়গায় গান গেয়ে ভালো আয় হতো। এখন আগের মতো শরীরে শক্তি পান না। কিন্তু পেটের ক্ষুধা তো আর বয়স বোঝে না। গান গাইতে ইচ্ছা না করলেও বেঁচে থাকার তাগিদে দোতারা হাতে তুলে নিতে হয় তাঁকে।

স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার। তাঁদের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতেও হিমশিম খেতে হয়। রইচ উদ্দিনের ভাষ্য, শেষ কোরবানির ঈদে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছিলেন। এরপর আর সেই সুযোগ হয়নি। তাঁর কথায়, সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

শুক্র ও শনিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও পাকশী রেলস্টেশনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের গান শোনান রইচ উদ্দিন। সারাদিন গান গেয়ে তাঁর আয় হয় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এই সামান্য অর্থ দিয়েই চলে তাঁর ও পরিবারের জীবনযাপন।

ডিজিটাল যুগে লোকশিল্পীদের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে রইচ উদ্দিন বলেন, এখন তাঁর মতো শিল্পীদের গান আর আগের মতো কেউ শুনতে চান না। অনেকে গান গাইতে বলেন, কিন্তু টাকা না দিয়েই চলে যান। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, অথচ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন না। বর্তমানে তিনি কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা ভাতাও পাচ্ছেন না বলে জানান।

পাকশী রেলস্টেশনের বাদাম বিক্রেতা সালাম বলেন, সাধারণত শুক্র ও শনিবার রইচ উদ্দিন স্টেশনে আসেন। সারাদিন দোতারা হাতে গান গেয়ে যে সামান্য অর্থ উপার্জন করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে দিন কাটান তিনি।

স্থানীয় চা-দোকানি বাবু শেখ বলেন, রইচ উদ্দিন প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে ঈশ্বরদীতে আসেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর দুই চোখে সমস্যা রয়েছে। তারপরও ভিক্ষা না করে মুর্শিদি, বাউল, লালন, পল্লীগীতি ও ভাওয়াইয়া গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন তিনি।

রইচ উদ্দিনের মতো লোকশিল্পীদের দুরবস্থা স্থানীয় সচেতন মহলেরও নজর কেড়েছে। তাঁদের মতে, লোকসংগীত দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ এসব গানের শিল্পীরা বার্ধক্যে এসে আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সহায়তার অভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জীবনের শেষ সময়ে এসে রইচ উদ্দিন যেন কিছুটা স্বস্তিতে বাঁচতে পারেন, সে জন্য বিত্তবান ব্যক্তি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁর মতো অসচ্ছল লোকশিল্পীদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, রইচ উদ্দিন কোনো সরকারি ভাতা পান কি না, তা তাঁর জানা নেই। তবে তিনি ভাতা না পেয়ে থাকলে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

গত বছরের ক্ষতি কাটাতে আগাম আলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

দিনাজপুর সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
গত বছরের ক্ষতি কাটাতে আগাম আলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে আলু রোপণ। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে এবার লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তাঁরা। তবে বীজ, সার, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে হিলির খট্টামাধবপাড়া এলাকায় আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সেখানে বাড়তি ফসল হিসেবে আলু চাষ করেন কৃষকরা। এ অঞ্চলের উর্বর মাটি ও উপযোগী আবহাওয়ায় আলুর ভালো ফলন হয়। পাশাপাশি আগাম আলু বাজারে ওঠায় তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে প্রতিবছরই এলাকায় আগাম আলুর চাষ বাড়ছে।

তবে গত বছর বাজারে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েন অনেক কৃষক। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার আগাম আলু চাষে নেমেছেন তাঁরা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ প্রস্তুত করা জমিতে বীজ রোপণ করছেন।

খট্টামাধবপাড়া গ্রামের কৃষক মাহফুজুর রহমান বলেন, আগাম জাতের ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করে আলুর বীজ রোপণ করা হচ্ছে। আগাম জাতের আলুতে প্রতি বিঘায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মণ ফলন পাওয়া যায়। বাজারে আগে আলু তোলা সম্ভব হওয়ায় দামও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়। এতে কৃষকরা লাভবান হন।

একই গ্রামের কৃষক মাহবুব হোসেন বলেন, ধান কাটার পর এলাকার কৃষকরা আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরি ও জমি চাষের খরচ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বেশি হলেও ভালো ফলন ও দাম পাওয়া গেলে লাভের আশা করছেন তাঁরা।

কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, গত বছর আলু চাষ করে ভালো দাম না পাওয়ায় লোকসান হয়েছে। এ অঞ্চলে আগাম ধান কাটার পর জমিতে আলু চাষ করা হয়। আলু তোলার পর একই জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। এবার বীজ, সার ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বাড়বে। তাঁর মতে, আলুর দাম মণপ্রতি দুই হাজার টাকার বেশি হলে কিছুটা লাভ হতে পারে।

কৃষক ইব্রাহিম জানান, গত বছর প্রতি মণ আলু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছিল। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। সার, তেল, জমি চাষ ও কীটনাশকের দাম বাড়লেও উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ বাড়ছে। গত বছর পাঁচ থেকে ছয় বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তাঁর এক থেকে দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

কৃষক সিদ্দিক হোসেন বলেন, ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সেখানে আলু চাষ করেন তাঁরা। প্রায় দুই মাসের মধ্যে আলু তোলা যায়। এরপর একই জমিতে অন্য ফসল চাষের সুযোগ থাকে। বাজারে ভালো দাম পেলে কৃষক লাভবান হন, অন্যথায় লোকসান গুনতে হয়।

কৃষক সেলিম হোসেন বলেন, এবার এলাকার বেশির ভাগ কৃষকই আলু চাষে আগ্রহী। তবে গত বছরের তুলনায় বীজের দাম বেড়েছে। গত বছর যে আলুর বীজ ৮০০ টাকায় কেনা যেত, এবার তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ন্যায্যমূল্য না পেলে আলু চাষের প্রতি তাঁদের আগ্রহ ও আস্থা কমে যেতে পারে।

আলু রোপণ ঘিরে বেড়েছে কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততাও। শ্রমিক জাকিরুল ইসলাম বলেন, কোথাও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে আলু রোপণ। এরপর আলু তোলার কাজ শুরু হবে। সব মিলিয়ে প্রায় দুই মাস আলু চাষের কাজে ব্যস্ততা থাকবে। এতে তাঁদের কাজ ও আয় বাড়ছে, যা দিয়ে পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে।

শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় আলু চাষ শুরু হয়েছে। এখন তাঁরা আলু রোপণের কাজ করছেন। এ কাজ আরও ১৫ দিন চলতে পারে। এরপর শুরু হবে আলু তোলার মৌসুম। কৃষিশ্রমিকের কাজ করে যে আয় হয়, তা দিয়েই তাঁদের সংসার চলে।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। প্রতি মৌসুমেই এ অঞ্চলে আগাম আলুর আবাদ হয়। খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগাম জাতের আলুর জীবনকাল কম। মাত্র ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে এ আলু তোলা যায় এবং ফলনও ভালো হয়। আগাম আলুর তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকরা প্রতিবছর এ জাতের চাষ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করে চাষাবাদ করলে এবারও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবার আগাম আলু চাষে আশাবাদী হিলির কৃষকরা। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারে আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে, যাতে ভালো ফলন সত্ত্বেও লোকসানের আশঙ্কায় পড়তে না হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২২৪ স্কুলের ৭০টিতে মাঠ নেই, সংকটে শাহজাদপুরের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
২২৪ স্কুলের ৭০টিতে মাঠ নেই, সংকটে শাহজাদপুরের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। এতে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী। মাঠের অভাবে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণেও পিছিয়ে পড়ছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত বসছে সাপ্তাহিক হাট।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুরের ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে ৭০টি বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। শাহজাদপুর পৌর এলাকার চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও মাঠের সংকট রয়েছে।

মাঠ না থাকায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতে হয়। এতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো বিদ্যালয় ভালো ফল করলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের খাষ কাদাই বাদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত সাপ্তাহিক হাট বসে। উপজেলা পরিষদ প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে হাটটি ইজারা দিলেও এ থেকে বিদ্যালয়ের তহবিলে কোনো অর্থ জমা হয় না বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির হিল্টন।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো হলেও সেখান থেকে স্কুলের তহবিলে কোনো টাকা জমা হয় না। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের কেউ অবগত নন। তিনি যোগদানের অনেক আগে থেকেই মাঠে হাট বসছে।

শাহজাদপুর পৌর সদরের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিরণবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দরগাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইব্রাহিম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও মাঠসংকটে রয়েছে।

কিরণবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজা খাতুন বলেন, মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সমস্যায় পড়তে হয়। এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষেই অ্যাসেম্বলি করতে হয়।

শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য আল-মাহমুদ জানান, শত বছরের পুরোনো এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও খেলাধুলায় পিছিয়ে রয়েছে। মাঠের অভাবে জাতীয় দিবস ও আন্তবিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও ভালো ফল করা সম্ভব হচ্ছে না।

তাঁরা জানান, বিদ্যালয়ের কাছেই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন রয়েছে। সেখানে সরকারের কিছু ফাঁকা জমি আছে, যা স্থানীয় ভূমি অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে এগিয়ে আসতে হবে।

উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আহসান হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক পাপ্পু জানান, যেসব বিদ্যালয়ে এখনো খেলার মাঠ নেই, সেসব বিদ্যালয়ের জন্য মাঠের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগী হতে হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসেন বলেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলাও জরুরি। যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সেখানে মাঠের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এদিকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত হাটবাজার বসানোর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, স্কুলের মাঠে নিয়মিত হাটবাজার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। তাঁর উপজেলায় টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জায়গায় হাট বসানো হচ্ছে—এমন বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি