খুঁজুন
                               
, ,
           

মোটরযান থেকে উচ্চগতির রেল, জাপানি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
মোটরযান থেকে উচ্চগতির রেল, জাপানি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাতগুলো হলো মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্প। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকালে টোকিওর জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার (জেট্রো) হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে মূল বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

৩০–৫০ বছরের অংশীদারত্ব গড়ার আহ্বান

তারেক রহমান বলেন, আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানকে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দেশটিতে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনও ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কম। ফলে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পকারখানা স্থাপন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বে রূপান্তরের সময় এসেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ

দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সর্বশেষ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এটিই প্রথম এ ধরনের চুক্তি। এর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে।

চুক্তিটি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তরুণ শ্রমশক্তি ও বড় বাজারে বিনিয়োগের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের বাজার ও শ্রমশক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, গড়ে ২৭ বছর বয়সী তরুণ শ্রমশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে জাপানি কোম্পানিগুলো উৎপাদন, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোটরযান উৎপাদন ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ

মোটরযান উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকে টয়োটা বাংলাদেশে একটি যানবাহন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে টয়োটাকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি এ খাতে অন্য জাপানি কোম্পানিগুলোরও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

জ্বালানি খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনায় বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রে জাপানের জ্বালানি কোম্পানি জেরা (জেইআরএ)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

প্রযুক্তি, মহাকাশ ও স্যাটেলাইটে সহযোগিতা

মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। এসব ক্ষেত্রে জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধান করতে চায় বাংলাদেশ।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও শিল্প সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ছয় প্রধান শহরকে যুক্ত করে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা

রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করে দেশব্যাপী উড়ালপথে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও বিনিয়োগ সহায়তা চান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, প্রস্তাবিত রেল নেটওয়ার্কের জন্য জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ, রুটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে জাপানের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ফসল, ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদিত হয়। এসব কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ খাতের সম্ভাবনা যাচাই করতে জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সুমিতোমো করপোরেশন জাপানি মানদণ্ড অনুসরণ করে এ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। সেখানে বিনিয়োগের মাধ্যমে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে।

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় জাপানি কোম্পানিগুলোর উদ্বেগের বিষয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ছাড় ও করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কথা সরকার শুনেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাঁদের আস্থা অর্জন, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং বিনিয়োগের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব।

জাপানি ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব

দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের জন্য জাপানে যান। পরে দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগান।

এ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি লাখ লাখ তরুণকে জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা দুই দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যৌথ বিনিয়োগ ও সহযোগিতার প্রত্যাশা

বাংলাদেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের যৌথ অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার সময় জাপান পাশে ছিল। এখন শিল্পায়ন ও নতুন সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তরের সময় এসেছে।

এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের জন্য পারস্পরিক সুযোগ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জেট্রো এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা। অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিনজি ওয়াকায়ামা। এ সময় সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহজ করতে গৃহীত সংস্কার ও নতুন উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ফেসবুক লাইভের পর হামলা, দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সাথীর

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
ফেসবুক লাইভের পর হামলা, দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সাথীর

ময়মনসিংহের ভালুকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি ও দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার। তাঁর ছেলে মো. জুনায়েদের দাবি, চাঁদা দাবির কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ড হওয়ায় তাঁর মায়ের কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতারের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) আদালত সাথী আক্তারকে ৫০০ টাকার মুচলেকায় নিজ জিম্মায় জামিন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ নভেম্বর।

চুরির ঘটনায় ক্ষোভ থেকে ফেসবুক লাইভ

সাথী আক্তার ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেসে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁর ভাষ্য, প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি ব্যবসা করছেন। সম্প্রতি তাঁর প্রতিষ্ঠানে একাধিক চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

সাথী জানান, তাঁর তিনটি শোরুমের এসির তার ও বিদ্যুতের মিটার থেকে তার কেটে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৫ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে নিজের কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

সাথী আক্তারের অভিযোগ, ফেসবুক লাইভের পর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে তাঁকে গালাগাল ও মারধর করেন। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সাথীর ছেলে মো. জুনায়েদ বলেন, তাঁর মায়ের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে চুরি হচ্ছিল। একপর্যায়ে ক্ষোভ থেকে তিনি ফেসবুক লাইভে কথা বলেন। এরপর কয়েকজন নেতা এসে ঝামেলা করেন এবং দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে তাঁর অভিযোগ।

জুনায়েদের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় এবং মোবাইল ফোনে কথোপকথন রেকর্ড হয়ে যাওয়ায় ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার পর তাঁর মাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে চাঁদা দাবি, হামলা ও ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

‘দলকে ভালোবেসেছি, আজ সেই দলের লোকেরাই অপদস্থ করেছে’

সাথী আক্তার জানান, বিএনপির দুঃসময়ে দলটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি নেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারেও ভূমিকা রেখেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে দলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না বলে জানান সাথী।

তিনি বলেন, “আমি এই দলকে ভালোবাসি। দলের দুঃসময়ে যখন অনেকে ভয়ে কথা বলতো না, তখন আমি নেত্রীর জন্য আন্দোলনে ছিলাম। আজ সেই দলের নেতাকর্মীদের হাতেই আমাকে অপদস্থ হতে হয়েছে। আমি শুধু আমার মনের কষ্ট প্রকাশ করেছি।”

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের ছবিসংবলিত একটি কার্ড পোস্ট করা হয়েছিল। ওই পোস্টে স্থানীয় নেতার প্রতি তাঁর সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুললেন আইনজীবী

সাথী আক্তারের আইনজীবী মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাথী একজন নারী উদ্যোক্তা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাথীকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে কেন তাঁকেই গ্রেফতার করা হলো।

আইনজীবী জানান, ২৫ অক্টোবরের একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালতে শুনানির সময় পুলিশের প্রতিবেদনে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কার পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরে আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের বক্তব্য

ময়মনসিংহ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোস্তাছিনুর রহমান জানান, ভালুকা থানা পুলিশ ২৬ অক্টোবর সাথী আক্তারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাঁকে নিজ জিম্মায় ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন। পরবর্তী তারিখে পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবেন।

এর আগে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লাইভকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

 

গণপূর্তে বদলি-পদায়ন: লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
গণপূর্তে বদলি-পদায়ন: লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তাদের গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন, লটারির আগেই কর্মস্থল নির্ধারণ, জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পদায়ন ঘিরে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

গ্রেডিং শিট পরিবর্তনের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীদের এ-প্লাস, এ, বি, সি ও ডি—এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পদায়নের ব্যবস্থা করা হলেও ক্যাটাগরি নির্ধারণের লিখিত মানদণ্ড ও মূল্যায়নপদ্ধতি স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সততা ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

একাধিক বাক্সে আলাদাভাবে কর্মকর্তাদের নাম রেখে লটারি প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, ক্যাটাগরি নির্ধারণের ভিত্তি ও লটারির নিয়ম প্রকাশ করা হলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করা সহজ হবে।

গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার চার-পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মবিভাগে কোন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে, তা লটারির আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন এনে কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়নের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে আ ন ম মাজহারুল ইসলাম, মো. জিয়াউর রহমান, আহসান হাবীব, রেজা তাইমুর মালিক, মাসুম বিল্লাহ ও রাশেদ আহসানসহ কয়েকজনের পদায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাজহারুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংসদ ভবন, এমপি হোস্টেল, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদর দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পদায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, প্রশাসনিক অনুমোদন ও নিরাপত্তা যাচাই যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

কয়েকজন কর্মকর্তার পদায়ন ঘিরে অভিযোগ

সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় এবং বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এ পদায়ন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রেজা তাইমুর মালিক, রাশেদ আহসান ও রাজিবুল ইসলামসহ কয়েকজনের কর্মস্থল পরিবর্তন এবং দায়িত্ব বণ্টনের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে কারও নাম লটারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও কারও নাম বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কেন এমন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দেড় হাজার প্রকৌশলীর বদলি

অভিযোগ অনুযায়ী, অল্প সময়ের ব্যবধানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল), ২০০ জন সহকারী প্রকৌশলী, ২১৯ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং ১২০ জন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ প্রায় দেড় হাজার প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে।

এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, লটারিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা, নাম অন্তর্ভুক্তি, ক্যাটাগরি নির্ধারণ ও পদায়নের ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন।

১২০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের পাশাপাশি কথিত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অভিযোগ যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বিবরণী, সম্পদ কেনার অর্থের উৎস এবং নিকটাত্মীয়দের নামে অর্জিত সম্পদের তথ্য পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মসংক্রান্ত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

লটারি পদ্ধতির পক্ষে মন্ত্রীর বক্তব্য

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছিলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের উপযুক্ত কর্মস্থলে পদায়নের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে, আগস্টে ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে এবং ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৩০ জনকে এ পদ্ধতিতে বদলি-পদায়ন করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যক্তিকে উপযুক্ত স্থানে পদায়নের পাশাপাশি গণপূর্ত বিভাগকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চায় সরকার। রূপপুর প্রকল্প ঘিরে গণপূর্ত বিভাগের যে বদনাম হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পদায়নে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করলে তা উদ্বেগের বিষয়। তাই গ্রেডিং শিট, লটারির নথি, কর্মকর্তাদের তালিকা, পদায়নের অনুমোদন এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চালক ও গাড়ির ফিটনেস যাচাইয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
চালক ও গাড়ির ফিটনেস যাচাইয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই: সড়কমন্ত্রী

চালকদের দক্ষতা ও যানবাহনের ফিটনেস নিয়ে কথা বললে চালক ও মালিকেরা একজোট হয়ে যান বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সব চালক অদক্ষ নন। তবে যাঁদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেসের বিষয়টিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

পরিবহন মালিকদের উপযুক্ত চালক নিয়োগে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মালিকেরা যোগ্য চালক নির্বাচন করে তাঁদের নাম সুপারিশ করলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। চালকের যোগ্যতার বিষয়ে মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক হারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তবে সব ধরনের দুর্ঘটনাকে একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত না করে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।

বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং প্রতিদিন গড়ে ৮৪ জনের প্রাণহানির যে তথ্য সামনে আসে, তা কতটা সঠিক, কারা কীভাবে এসব তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কতটুকু—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রকৃত তথ্য ছাড়া সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, চালকদের আচরণ, সচেতনতা ও দক্ষতার ঘাটতি এবং যানবাহনের ফিটনেসের সমস্যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চালকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চালকেরা নিজের জীবনের পাশাপাশি অন্যের জীবনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন ও নির্দেশনা না মানলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই চালকদের আচরণ ও দায়িত্ববোধে পরিবর্তন আনতে হবে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহারের নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এসব এলাকার ঝুঁকি কমানোর কাজও চলছে। এ ছাড়া মহাসড়কের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকা সংযোগস্থলগুলো চিহ্নিত করে যান চলাচলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

যাত্রীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, অনুপযুক্ত যানবাহনে যাতায়াত, চলন্ত বাসে ঝুলে থাকা এবং যেখানে-সেখানে রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। যথাযথ যাচাই ছাড়াই কোনো যানবাহন বা চালককে সড়কে চলাচলের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন মালিক, চালক, যাত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান, সড়ক সম্পর্কিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস এবং সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি