খুঁজুন
                               
, ,
           

করোনা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর কর্মপরিকল্পনা, ডিসিরা রিকুইজিশন দিলে হবে ‘ক্যাম্প’ স্থাপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
করোনা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর কর্মপরিকল্পনা, ডিসিরা রিকুইজিশন দিলে হবে ‘ক্যাম্প’ স্থাপন

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বিদেশফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের প্রথম ধাপ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনভর তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত; করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মাঠে সেনাবাহিনী

গুরুত্বপূর্ণ এসব বৈঠকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের পর বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে।

আবার উপকূলীয় ৬ জেলার ১৯ টি উপজেলায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম শুরু করেছে নৌ বাহিনী। আর হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জরুরি পরিবহন কাজে নিয়োজিত থাকবে বিমান বাহিনী। খবর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তৃতির ঝুঁকি এড়াতে গত এক মাসে বিদেশ থেকে দেশে আসা প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এই দায়িত্ব পেয়েই মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে বৈঠক করেছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: সারাদেশে মাঠে নামলো সেনাবাহিনী

এই বৈঠকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় একটি সমন্বিত কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কোন এলাকায় কতজন বিদেশফেরত রয়েছেন, তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে কীনা, নিশ্চিত করা না হলে তাদের চিহ্নিত করে ঘরবন্দী করা ও পুরো বিষয়টি মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। আবার অনেক এলাকায় সেনা কর্মকর্তারা বৈঠক করে এলাকা পর্যবেক্ষণও করেন।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সেনা কর্মকর্তারা প্রথমে কোন কাজটি করবেন, কীভাবে সেলফ কোয়ারেন্টাই নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় গাইড লাইন দিয়েছে সেনা সদরদপ্তর। সোমবার (২৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে সারাদেশে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আরও পড়ুন: পথে পথে সেনাবাহিনীর জীবাণু নাশক স্প্রে কার্যক্রম (ভিডিও)

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠকে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি কোথাও মেডিকেল সহায়তা, ফিল্ড হসপিটাল ও কোয়ারেন্টাইন সেল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্র কালের আলোকে নিশ্চিত করেছে, যে শহর থেকে ক্যান্টনমেন্ট কাছে সেই এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করবে না সেনাবাহিনী। এসব এলাকায় তারা ক্যান্টনমেন্ট থেকে গিয়েই জেলা প্রশাসনকে সব রকমের সহায়তা দেবে। কেবলমাত্র জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) যেখানে রিকুইজিশন দিবেন সেখানে সার্বক্ষণিক সেনাবাহিনীর উপস্থিতির জন্য ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলা, প্রতিরোধ ও জনসমাগমকে নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর টিম গোপালগঞ্জে কাজ শুরু করেছে। দুপুরে তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বিষয়টি খোলাসা করে সূত্রটি কালের আলোকে আরও জানিয়েছে, ঢাকা, যশোর এবং সিলেটের ক্যান্টনমেন্ট থেকেই এসব এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে সেনা সদস্যরা। এসব ক্যান্টনমেন্ট থেকে শহরগুলো কাছে হওয়ায় এসব এলাকায় আলাদা ক্যাম্প স্থাপনের কোন প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন: বক্সের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

ইতোমধ্যেই বেশিরভাগ জেলা প্রশাসকরাই (ডিসি) সেনাবাহিনী চেয়ে রিকুইজিশন দিয়েছে। সরকার যেভাবে চাইবে সেইভাবেই দায়িত্ব পালন করবে সেনা সদস্যরা। তবে বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে দেশের সব জেলাতেই সেনাবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্র জানিয়েছে, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের কাজ করা হয়েছে। এখন বিভিন্ন ইউনিটে বিভক্ত হয়ে কাজ শুরু হবে। জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন সবাইকে নিয়ে সমন্বিত দল হয়ে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হবে।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাতে বাড়ির বাইরে যেতে না পারে এবং একসঙ্গে যাতে দুজন চলাচল না করে-এই নির্দেশনা মানাতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা দেবে সেনা সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ব্যাপারে বৈঠক করেছেন।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে গণজমায়েতের কোনো সুযোগ নেই। কেউ কারো সংস্পর্শে আসতে পারবে না। বিনা প্রয়োজনে কেউ যেন বাসা থেকে বের না হয়। তবে অনেকের চিকিৎসা, বাজার বা ওষুধ লাগতে পারে। কিন্তু শুধু শুধু চায়ের দোকানে বসে থাকবো, গল্প করব এটা করতে দেওয়া হবে না।

আমাদের বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিয়ে বিস্তারিত খবর

রাঙামাটিতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জেলা ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে গঠিত টিম করোনা প্রতিরোধে বিকেলে শহরের পাথরঘাটা, পাবলিক হেলথ, কলেজে গেট, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

এই সময় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের বাসায় গিয়ে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কেউ সম্প্রীতি সময়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে বাইরে ঘুরছেন কিনা সে বিষয়ে তদারকি করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাশ জানিয়েছেন, ‘জনগণকে সচেতন করার জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক কক্ষে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করেছে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। রংপুরে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

সরকারের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। আমাদের মূল কাজ প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা।’

বগুড়া সেনানিবাস থেকে ৪০ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মেহেরপুর পৌঁছেছেন। দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আতাউল গনির সভাপতিত্বে যৌথ সভায় বক্তব্য রাখেন বগুড়া সেনা ক্যাম্পের ৪০ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফখরুদ্দিন, পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি, সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসির উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান ও ক্যাপ্টেন রাকিব।

এই বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০৪ প্রবাসীর বাড়িতে লাল পতাকা লাগানো হয়েছে।

মানিকগঞ্জ শহরে দুপুরে সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। এ সময় জেলা পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক দুপুর থেকে শপিং মল, বাণিজ্যকেন্দ্র, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন পার্ক, মেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান, সাপ্তাহিক হাট, চায়ের দোকানের আড্ডাসহ জনসমাগম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী যশোরে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।

খুলনায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা কার্যক্রম শুরু করেছেন। দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আই কে এম মোস্তাহসেনুল বাকী।

এদিন দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে দিনাজপুরে সেনাবাহিনী মাঠে নামবে।

বৈঠকে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মামুনুর রহমান সিদ্দিকী, মেজর এসএম মমিনুল ইসলাম, মেজর আরিফ, বিজিবির লে. কর্নেল রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এখানেও তিনটি ইউনিটে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনকে সহায়তার জন্য টাঙ্গাইলে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসের লে. কর্নেল সোহেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী যশোরে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এদিন দুপুরে সেনা সদস্যদের একটি টিম যশোরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।

যশোর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লে. কর্নেল নেয়ামুল ইসলাম বলেন, ‘হোম কোয়ারেন্টিনে যারা আছেন তাদের কারণে যেন সাধারণ মানুষ আক্রান্ত না হন সেজন্য সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

নারায়ণগঞ্জে দুপুর ১২টার দিকে সেনাবাহিনী মাঠে নামে। এরআগে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। পরে সেনাবাহিনী নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় টহল শুরু করেন।

ময়মনসিংহ বিভাগীয়, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তারা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল আব্দুল মোত্তাকীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

করোনাভাইরাস মোকাবেলা, প্রতিরোধ ও জনসমাগমকে নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর টিম গোপালগঞ্জে কাজ শুরু করেছে। দুপুরে তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানান, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম প্রথমে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

করোনা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করেছে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। রংপুরে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, সারাদেশের মতো রংপুর প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দল করোনা মোকাবিলায় কাজ করবে। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে।

করোনাভাইরাস ইস্যুতে সারাদেশের মতো ময়মনসিংহেও শুরু হয়েছে সেনা সদস্যদের তৎপরতা। তবে বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে মাঠ পর্যায়ে পুরোদমে তাদের কাজ শুরু হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে বিভাগীয়, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সেনা কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দিনে যাবতীয় কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে মাঠ পর্যায়ে পুরোদমে তাদের কাজ শুরু হবে। মূলত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সহায়তা করবে সেনাবাহিনী।

এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, করোনামোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং করোনাভাইরাস সম্পর্কে সতর্কতা জোরদার করতে প্রশাসনের সাথে যুগপৎভাবে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

এসময় সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মেহেদী হাসান, মেজর শাহেদ হাসান, মেজর তানিয়া রশিদ, জেলা পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামান, সিভিল সার্জন এ বি এম মশিউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

রুপালি পর্দায় কয়েক দশক ধরে সৌন্দর্য, অভিনয় ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে আছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা, এসেছে নতুন প্রজন্ম, বদলেছে দর্শকের রুচি। তবে পূর্ণিমাকে ঘিরে দর্শকের মুগ্ধতায় যেন ভাটা পড়েনি।

পর্দায় নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি এখনো ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করলেই প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। সময়ের সঙ্গে তাঁর সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে পরিণত এক দীপ্তি।

ছবি>> সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ছবিকে ঘিরেও দেখা গেছে একই চিত্র। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ আর মুখের মিষ্টি হাসিতে পরিশীলিত এক লুকে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পরিপাটি সাজে মুগ্ধতা

ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপের সঙ্গে সাদা প্যান্ট পরেছেন পূর্ণিমা। এর সঙ্গে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার যোগ করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ছিল আভিজাত্য, তবে ছিল না বাড়াবাড়ি।

তবে পোশাকের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে তাঁর স্বাভাবিক হাসি ও সাবলীল উপস্থিতি। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।

ছবি>> সংগৃহীত

‘নিজের ভেতরের আলোকে নিভতে দিও না’

ছবির সঙ্গে পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের উত্থান-পতনকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।’

পূর্ণিমার এই কথার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরাও। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ঝড় আসবেই; কিন্তু নিজের ভেতরের আলোটা যেন কখনো নিভে না যায়, এটাই জীবনের আসল শক্তি।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘ঠিক বলেছেন, জীবনে যা কিছু হোক থেমে থাকা যাবে না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যগুলোই যেন বলে দেয়, পূর্ণিমার সঙ্গে দর্শকের সম্পর্ক কেবল তাঁর অভিনীত চরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের ধরন বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসা ও আগ্রহ এখনো রয়ে গেছে।

১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পূর্ণিমার। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রথম সিনেমাতেই তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ।

অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের নজরে আসেন পূর্ণিমা। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান থেকে শুরু করে শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।

রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির আলাদা জনপ্রিয়তা

ঢালিউডে বেশ কিছু জনপ্রিয় জুটির মধ্যে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির গ্রহণযোগ্যতা ছিল আলাদা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়।

বিশেষ করে ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেয়। সিনেমাটির জনপ্রিয়তা রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটিকেও আরও শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

ছবি>> সংগৃহীত

ছোট পর্দাতেও ছিল সফল উপস্থিতি

শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘লাল নীল বেগুনী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী। এরপর ‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’, ‘লাভ অ্যান্ড কোং’সহ বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে।

অভিনয়ের স্বীকৃতিও মিলেছে

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি। তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।

বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। বিজ্ঞাপনেও রয়েছে তাঁর উপস্থিতি।

সময় বদলেছে, মুগ্ধতা নয়

পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—দীর্ঘ এই পথচলায় বদলেছে বয়স, বদলেছে সময়, বদলেছে চলচ্চিত্রের পরিবেশও।

তবে দর্শকের চোখে পূর্ণিমার সেই মুগ্ধতা এখনো অটুট। নতুন প্রজন্মের অনেক তারকা নিয়মিত পর্দায় থাকলেও পূর্ণিমা অনিয়মিত হয়েও আলোচনায় থাকেন।

ছবি>> সংগৃহীত

সময়ের সঙ্গে তাঁর জীবনে যোগ হয়েছে অনেক বছর, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা কিংবা সৌন্দর্যের দীপ্তিতে যেন তার প্রভাব পড়েনি। তাই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স হয়তো সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা—যে সংখ্যা তাঁর মুগ্ধতাকে মাপতে পারে না।

কালের আলো/জেএন

সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা। দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে এবার সেই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে মালদ্বীপের মনোরম সমুদ্রসৈকতে অবকাশযাপন করছেন নয়নতারা। নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত আর রোদেলা আবহে বেশ স্বচ্ছন্দ সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে তাকে।

সিনেমার শুটিং ও পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে পাওয়া এই সময়টুকু নিজের মতো করেই উপভোগ করছেন অভিনেত্রী। সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি, রোদ পোহানো এবং সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অবকাশযাপনের কিছু মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গেও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

ছবি<< সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মালদ্বীপে কাটানো সময়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন নয়নতারা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শেয়ার করা ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই তা ভক্ত-অনুরাগীদের নজর কাড়ে। ছবিগুলোতে রোদেলা দিনে সৈকতের বালুবেলায় হালকা হলুদ রঙের পোশাকে হেঁটে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।

ছবি<< সংগৃহীত

নয়নতারার এই অবকাশযাপনের লুকেও ছিল বেশ স্বচ্ছন্দ ও স্টাইলিশ ছোঁয়া। চোখে সানগ্লাস, মাথায় টুপি এবং পরনে হালকা রঙের পোশাক—সব মিলিয়ে একেবারে রিল্যাক্সড মুডে ধরা দিয়েছেন তিনি। পেছনে নীল সমুদ্র আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছবিগুলোকে দিয়েছে আরও আকর্ষণীয় আবহ।

ছবি<< সংগৃহীত

ছবিগুলোর লোকেশন হিসেবে মালদ্বীপের ফারি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর মালে অ্যাটলে অবস্থিত বিলাসবহুল রিসোর্ট পাতিনা মালদ্বীপকে ট্যাগ করেছেন নয়নতারা। সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশে অভিনেত্রীর অবকাশযাপনের এসব ছবি প্রকাশের পর তার ভক্তদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।

ছবি<< সংগৃহীত

তবে শুধু অবকাশযাপন নয়, কাজের জগতেও আলোচনায় রয়েছেন নয়নতারা। সম্প্রতি তাকে বড়পর্দায় দেখা গেছে ‘হাই’ সিনেমায়। বিষ্ণু এদাভান পরিচালিত রোমান্টিক কমেডি ঘরানার এই সিনেমায় দেবায়ানি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কাভিন।

সিনেমাটিতে ময়িল ও দেবায়ানি—সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই চরিত্রের জীবন ও তাদের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা, মিথ্যা ও নানা নাটকীয় মোড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে কাহিনি।

চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, সিনেমাটি গতানুগতিক রোমান্টিক গল্পের বাইরে খুব নতুন কিছু উপস্থাপন না করলেও এর নাটকীয়তা ও গল্পের বিভিন্ন জটিলতা দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে। সিনেমায় নয়নতারার অভিনয়ও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

এদিকে সিনেমার পর্দায় ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অবকাশের মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন অভিনেত্রী। মালদ্বীপের সৈকতে তার রোদেলা দিনের ছবিগুলো তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমুদ্রের নীল জল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নয়নতারার এই স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান সামিরা খান মাহী

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান সামিরা খান মাহী

নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে সম্ভাবনাময় একজন সামিরা খান মাহী। সাবলীল অভিনয়, চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজ করার আগ্রহ দিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। ইমরাউল রাফাত পরিচালিত ‘বকুল ফুল’ নাটকে পাগলির চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি ‘বিয়ে করতে গিয়ে’, ‘সকাল বিকাল রাত্রি’, ‘গার্লস স্কোয়াড’সহ বেশ কিছু নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন।

শুরুটা মডেলিং দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে অভিনয়েই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন মাহী। সামনে নিজেকে আরও ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে মেলে ধরতে চান তিনি। নিজের ক্যারিয়ার, অভিনয়ের দর্শন, জনপ্রিয়তা ও সিনেমায় কাজের ইচ্ছা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

যেভাবে মিডিয়ায় এলাম

২০১৪ সালে একটি রিয়ালিটি শোর মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু মাহীর। ‘র‌্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’য় প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিংয়ে পা রাখেন তিনি। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন।

নিজের শুরুর গল্প বলতে গিয়ে মাহী বলেন, “২০১৪ সালে একটি রিয়ালিটি শো ‘র‌্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’র মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার শুরু। প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিং জগতে পা রাখি। এরপর বাংলালিংক, প্রাইড গার্লস, সেলরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছি।”

অভিনয়ে তার প্রথম কাজ ধারাবাহিক নাটক ‘তরুণ তুর্কী’। এরপর একে একে অনেক নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

মাহী বলেন, “অভিনয়ের জগতে প্রথম পা রাখি ধারাবাহিক নাটক ‘তরুণ তুর্কী’র মাধ্যমে। এরপর ‘পারিবারিক গোলযোগ’, ‘নীড় খোঁজে গাঙচিল’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’, ‘শুভ্রার ওয়ারড্রব’, ‘আকাশ বাড়িয়ে দাও’, ‘ম্যাচিং ব্রাদার’, ‘এক পা দু-পা’সহ আরও অনেক জনপ্রিয় নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছি।”

যে কাজগুলো বদলে দিয়েছে পথ

ক্যারিয়ারে বেশ কিছু কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন মাহী। বিশেষ করে ‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’ ও ‘বকুল ফুল’ নাটকে অভিনয়ের পর দর্শকের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে শুরু করে।

মাহীর ভাষায়, “আমি মনে করি, যে সময়টায় ‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’, ‘বকুল ফুল’ নাটকে অভিনয় করেছিলাম, তখন আরও কয়েকটি নাটকে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছি। এরপর দর্শক আমাকে সিরিয়াসলি নেওয়া শুরু করেন।”

বর্তমান সময়ে অভিনয়ের সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেয়ে সেটি ধরে রাখাকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন মাহী।

“আগের থেকে জনপ্রিয়তা একটু ইজি; কিন্তু জনপ্রিয়তা পেলেই হয় না, টিকিয়ে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।

দর্শকের ভালোবাসা পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে নিজের সৌভাগ্য মনে করেন মাহী। তিনি বলেন, “আমি যে সময়ে শুরু করলাম, তখন আরও ২০ জনের মতো এসেছিলাম। সবাই তো আর ক্লিক করলেন না। এ ক্ষেত্রে এটাও বলা যায়, দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এতটাও সোজা নয়। বিশেষ করে ভালোবাসা পাওয়াটা ভেরি ডিফিকাল্ট। আমার সৌভাগ্য, আমি অল্প সময়ে এটি পেয়েছি।”

ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই

এক ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না মাহী। বরং নিজেকে এমন একজন অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চান, যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে সমানভাবে মানিয়ে নিতে পারেন।

“আমি ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই। সব ধরনের অভিনয় করব,” বলেন তিনি।

তবে দর্শক অনেক সময় একজন শিল্পীকে নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে কাজ করলে ভিউয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হয় বলে মনে করেন মাহী।

তার কথায়, “দর্শক একরকম নিয়েই নেন। তো ওটার বাইরে চলে গেলে ভিউয়ে ঝামেলা হয়। যদিও মাঝেমধ্যে ভিউ ম্যাটার করে না, যখন আপনি অনেক ভালো কাজ করেন।”

ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকের রুচিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মাহী বলেন, “আমরা যদি ভালো কিছু দিই, তাহলে অডিয়েন্সের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে। এখন একই জিনিস যদি দিতেই থাকি, যেটা তারা পছন্দ করেন, তখন তো উপলব্ধি পরিবর্তন হলো না। এজন্য মাঝেমধ্যে আমার মন খারাপ হয়।”

‘সবার নিজস্বতা থাকা দরকার’

অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের নিজস্বতা থাকা জরুরি বলে মনে করেন মাহী। নিজের বিশেষ দক্ষতার জায়গা হিসেবে সিলেটি ভাষায় কথা বলার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

মাহী বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবার নিজস্বতা থাকা দরকার। যেমন আমার একটা বিশেষ দক্ষতা আছে, সিলেটী ভাষায় কথা বলতে পারি, যেটা দর্শক পছন্দ করেন। অনেকে আমাকে ভার্সেটাইল অভিনেত্রী বলেন।”

সহশিল্পীদের কাউকেই প্রতিযোগী হিসেবে দেখেন না এই অভিনেত্রী। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

“আমি কাউকে আমার প্রতিযোগী মনে করি না। কাউকে এমনটা মনে করলে হিংসার বিষয়টা চলে আসবে। আমি চাই সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে,” বলেন মাহী।

‘আমি একদম পানির মতো’

নিজের অভিনয়ের ধরন বোঝাতে বেশ চমৎকার একটি উদাহরণ দিয়েছেন মাহী। নিজেকে পানির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “আমি একদম পানির মতো। যেই পাত্রে রাখবেন, সেই পাত্রের আকারই ধারণ করব।”

চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এই ক্ষমতাকেই নিজের অন্যতম শক্তি মনে করেন তিনি। সহকর্মীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে চান মাহী।

“সেই জায়গা থেকে আমি সবার সঙ্গে নাইস। আমি কখনো কারও সঙ্গে খারাপ হতেই পারব না,” বলেন তিনি।

‘হাওয়া’ দেখে সিনেমায় আগ্রহ

ছোট পর্দা ও ওয়েবের পাশাপাশি বড় পর্দায়ও কাজ করতে চান মাহী। ‘হাওয়া’ সিনেমাটি দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার।

তবে প্রচলিত অর্থে শুধু গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা নেই তার। গল্প ও চরিত্রকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান এই অভিনেত্রী।

মাহী বলেন, “‘হাওয়া’ সিনেমাটি দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা জেগেছে। তেমন গল্পের সিনেমায় বেশি কাজ করতে চাই। অনেক সুন্দর আর গ্ল্যামার লাগতে হবে, এটা আমি চাই না। ক্যারেক্টারটা প্লে করে আসতে চাই।”

‘হাওয়া’ সিনেমার তুষি চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ওখানে কিন্তু তুষিকে অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে, এমন না; কিন্তু চরিত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

‘যেনতেন গল্প আর চরিত্রে কাজ করা উচিত নয়’

কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন মাহী। শুধু নিয়মিত কাজ করার জন্য যেকোনো গল্প বা চরিত্রে অভিনয় করতে চান না তিনি। নিজের কাজের মধ্যে সবসময় বৈচিত্র্য রাখাই তার লক্ষ্য।

তার ভাষায়, “আমি আসলে মনে করি যেনতেন গল্প আর চরিত্রে কাজ করা উচিত নয়, কারণ আমি গতানুগতিক অভিনেত্রী হতে চাই না। বরাবরই আমার কাজের মধ্যে যেন ভ্যারিয়েশন থাকে, সেটিই আমার লক্ষ্য।”

কাজের সংখ্যা কম হলেও ভালো কাজকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে মাহী বলেন, “গল্প বাছতে গিয়ে দেখা যায়, অন্যদের থেকে আমার কাজ পরিমাণে কম। এতেই খুশি, কারণ ভালো কাজ কম হলেও তাতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা যায়।”

সামিরা খান মাহীর কথায় স্পষ্ট, সংখ্যার চেয়ে কাজের মান এবং চরিত্রের বৈচিত্র্যই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়জীবনে তাই একের পর এক ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভাঙতে চান তিনি। দর্শকের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়াই এখন তার লক্ষ্য।

কালের আলো/জেএন