খুঁজুন
                               
, ,
           

করোনা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর কর্মপরিকল্পনা, ডিসিরা রিকুইজিশন দিলে হবে ‘ক্যাম্প’ স্থাপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
করোনা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর কর্মপরিকল্পনা, ডিসিরা রিকুইজিশন দিলে হবে ‘ক্যাম্প’ স্থাপন

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বিদেশফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের প্রথম ধাপ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনভর তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত; করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মাঠে সেনাবাহিনী

গুরুত্বপূর্ণ এসব বৈঠকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের পর বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে।

আবার উপকূলীয় ৬ জেলার ১৯ টি উপজেলায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম শুরু করেছে নৌ বাহিনী। আর হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জরুরি পরিবহন কাজে নিয়োজিত থাকবে বিমান বাহিনী। খবর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তৃতির ঝুঁকি এড়াতে গত এক মাসে বিদেশ থেকে দেশে আসা প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এই দায়িত্ব পেয়েই মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে বৈঠক করেছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: সারাদেশে মাঠে নামলো সেনাবাহিনী

এই বৈঠকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় একটি সমন্বিত কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কোন এলাকায় কতজন বিদেশফেরত রয়েছেন, তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে কীনা, নিশ্চিত করা না হলে তাদের চিহ্নিত করে ঘরবন্দী করা ও পুরো বিষয়টি মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। আবার অনেক এলাকায় সেনা কর্মকর্তারা বৈঠক করে এলাকা পর্যবেক্ষণও করেন।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সেনা কর্মকর্তারা প্রথমে কোন কাজটি করবেন, কীভাবে সেলফ কোয়ারেন্টাই নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় গাইড লাইন দিয়েছে সেনা সদরদপ্তর। সোমবার (২৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে সারাদেশে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আরও পড়ুন: পথে পথে সেনাবাহিনীর জীবাণু নাশক স্প্রে কার্যক্রম (ভিডিও)

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠকে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি কোথাও মেডিকেল সহায়তা, ফিল্ড হসপিটাল ও কোয়ারেন্টাইন সেল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্র কালের আলোকে নিশ্চিত করেছে, যে শহর থেকে ক্যান্টনমেন্ট কাছে সেই এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করবে না সেনাবাহিনী। এসব এলাকায় তারা ক্যান্টনমেন্ট থেকে গিয়েই জেলা প্রশাসনকে সব রকমের সহায়তা দেবে। কেবলমাত্র জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) যেখানে রিকুইজিশন দিবেন সেখানে সার্বক্ষণিক সেনাবাহিনীর উপস্থিতির জন্য ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলা, প্রতিরোধ ও জনসমাগমকে নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর টিম গোপালগঞ্জে কাজ শুরু করেছে। দুপুরে তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বিষয়টি খোলাসা করে সূত্রটি কালের আলোকে আরও জানিয়েছে, ঢাকা, যশোর এবং সিলেটের ক্যান্টনমেন্ট থেকেই এসব এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে সেনা সদস্যরা। এসব ক্যান্টনমেন্ট থেকে শহরগুলো কাছে হওয়ায় এসব এলাকায় আলাদা ক্যাম্প স্থাপনের কোন প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন: বক্সের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

ইতোমধ্যেই বেশিরভাগ জেলা প্রশাসকরাই (ডিসি) সেনাবাহিনী চেয়ে রিকুইজিশন দিয়েছে। সরকার যেভাবে চাইবে সেইভাবেই দায়িত্ব পালন করবে সেনা সদস্যরা। তবে বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে দেশের সব জেলাতেই সেনাবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্র জানিয়েছে, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের কাজ করা হয়েছে। এখন বিভিন্ন ইউনিটে বিভক্ত হয়ে কাজ শুরু হবে। জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন সবাইকে নিয়ে সমন্বিত দল হয়ে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হবে।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাতে বাড়ির বাইরে যেতে না পারে এবং একসঙ্গে যাতে দুজন চলাচল না করে-এই নির্দেশনা মানাতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা দেবে সেনা সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ব্যাপারে বৈঠক করেছেন।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে গণজমায়েতের কোনো সুযোগ নেই। কেউ কারো সংস্পর্শে আসতে পারবে না। বিনা প্রয়োজনে কেউ যেন বাসা থেকে বের না হয়। তবে অনেকের চিকিৎসা, বাজার বা ওষুধ লাগতে পারে। কিন্তু শুধু শুধু চায়ের দোকানে বসে থাকবো, গল্প করব এটা করতে দেওয়া হবে না।

আমাদের বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিয়ে বিস্তারিত খবর

রাঙামাটিতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জেলা ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে গঠিত টিম করোনা প্রতিরোধে বিকেলে শহরের পাথরঘাটা, পাবলিক হেলথ, কলেজে গেট, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

এই সময় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের বাসায় গিয়ে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কেউ সম্প্রীতি সময়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে বাইরে ঘুরছেন কিনা সে বিষয়ে তদারকি করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাশ জানিয়েছেন, ‘জনগণকে সচেতন করার জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক কক্ষে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করেছে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। রংপুরে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

সরকারের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। আমাদের মূল কাজ প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা।’

বগুড়া সেনানিবাস থেকে ৪০ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মেহেরপুর পৌঁছেছেন। দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আতাউল গনির সভাপতিত্বে যৌথ সভায় বক্তব্য রাখেন বগুড়া সেনা ক্যাম্পের ৪০ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফখরুদ্দিন, পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি, সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসির উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান ও ক্যাপ্টেন রাকিব।

এই বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০৪ প্রবাসীর বাড়িতে লাল পতাকা লাগানো হয়েছে।

মানিকগঞ্জ শহরে দুপুরে সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। এ সময় জেলা পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক দুপুর থেকে শপিং মল, বাণিজ্যকেন্দ্র, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন পার্ক, মেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান, সাপ্তাহিক হাট, চায়ের দোকানের আড্ডাসহ জনসমাগম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী যশোরে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।

খুলনায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা কার্যক্রম শুরু করেছেন। দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আই কে এম মোস্তাহসেনুল বাকী।

এদিন দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে দিনাজপুরে সেনাবাহিনী মাঠে নামবে।

বৈঠকে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মামুনুর রহমান সিদ্দিকী, মেজর এসএম মমিনুল ইসলাম, মেজর আরিফ, বিজিবির লে. কর্নেল রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এখানেও তিনটি ইউনিটে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনকে সহায়তার জন্য টাঙ্গাইলে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসের লে. কর্নেল সোহেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী যশোরে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এদিন দুপুরে সেনা সদস্যদের একটি টিম যশোরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।

যশোর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লে. কর্নেল নেয়ামুল ইসলাম বলেন, ‘হোম কোয়ারেন্টিনে যারা আছেন তাদের কারণে যেন সাধারণ মানুষ আক্রান্ত না হন সেজন্য সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

নারায়ণগঞ্জে দুপুর ১২টার দিকে সেনাবাহিনী মাঠে নামে। এরআগে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। পরে সেনাবাহিনী নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় টহল শুরু করেন।

ময়মনসিংহ বিভাগীয়, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তারা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল আব্দুল মোত্তাকীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

করোনাভাইরাস মোকাবেলা, প্রতিরোধ ও জনসমাগমকে নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর টিম গোপালগঞ্জে কাজ শুরু করেছে। দুপুরে তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানান, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম প্রথমে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

করোনা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করেছে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। রংপুরে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, সারাদেশের মতো রংপুর প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দল করোনা মোকাবিলায় কাজ করবে। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে।

করোনাভাইরাস ইস্যুতে সারাদেশের মতো ময়মনসিংহেও শুরু হয়েছে সেনা সদস্যদের তৎপরতা। তবে বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে মাঠ পর্যায়ে পুরোদমে তাদের কাজ শুরু হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে বিভাগীয়, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সেনা কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দিনে যাবতীয় কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে মাঠ পর্যায়ে পুরোদমে তাদের কাজ শুরু হবে। মূলত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সহায়তা করবে সেনাবাহিনী।

এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, করোনামোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং করোনাভাইরাস সম্পর্কে সতর্কতা জোরদার করতে প্রশাসনের সাথে যুগপৎভাবে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

এসময় সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মেহেদী হাসান, মেজর শাহেদ হাসান, মেজর তানিয়া রশিদ, জেলা পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামান, সিভিল সার্জন এ বি এম মশিউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরে সফরসঙ্গী হচ্ছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জাপানে অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। ভালোবাসা সবাইকে।’

পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের এ সফরে জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাত সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।

চার দিনের সফর শেষে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি এবং শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তিনি ঢাকা ছাড়েন। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের পাশাপাশি জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সফরসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

  • জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থেকে ইউনিক্লো ও টয়োটার সঙ্গে যোগাযোগ
  • বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব

আজ টোকিও পৌঁছানোর কথা
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। সফরকালে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম দিনে রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক
সফরের প্রথম দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারেক রহমান। বিকেলে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদানের পর দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প খাতে সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে এ বৈঠক। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশের বাজার ও উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

একই দিন চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। জ্বালানি অবকাঠামো ও আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি এসব খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা অন্বেষণের সুযোগ তৈরি হবে এ পরিদর্শনে।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় থাকবে শিল্পায়নের সম্ভাবনা
সফরের তৃতীয় দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এরপর জাপানের পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন তিনি।

এ ছাড়া জাপানের আরও ১৪টি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকের আয়োজন রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ধারাবাহিক যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আলোচনার প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব কতটা বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়, তার ওপর।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে টোকিওতে জেট্রোর কার্যালয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ফোরামটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

শেষ দিনে টয়োটার উৎপাদনব্যবস্থা দেখবেন প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সফরের শেষ দিনে শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের অন্যতম পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া, দক্ষতা উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। নাগোয়া থেকে বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে