খুঁজুন
                               
, ,
           

শৈল্পিক কারুময়তায় বিজয় দিবসের লোগোর প্রশংসায় স্পিকার; প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
শৈল্পিক কারুময়তায় বিজয় দিবসের লোগোর প্রশংসায় স্পিকার; প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত বিজয়ের মাসের প্রথম দিন। আলোর খেলায় বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসের নান্দনিক উপস্থাপনের দৃশ্যপট। কাউন্ট ডাউনের অবসান ঘটিয়ে সুইচ চাপলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। পাশেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠান মঞ্চে সারফি লাইটের মুগ্ধতার বিচ্ছুরণ। এলইডিতে থ্রিডি অ্যানিমেশন’র মাধ্যমে চোখের সামনে চলতি বছরের মহান বিজয় দিবসের লোগোর অবয়ব। শৈল্পিক কারুময়তায় প্রথমেই দেখা গেলো ৭ বীরশ্রেষ্ঠের ছবি, এর মধ্যে ৩ জন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। এরপর মাথা উঁচু করে ভেসে উঠলো দিগন্তজুড়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা স্বাধীনতার স্মারক জাতীয় স্মৃতিসৌধ; রক্তের দামে কেনা লাল-সবুজের মানচিত্র।

বাম পাশে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদের ছবি, ডান পাশে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ওপরের দু’দিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিবশতবর্ষের লোগো। সবার ওপরে ‘মহান বিজয় দিবস-২০২১’। ইলেকট্রিক কনফেটির মাধ্যমে উদযাপিত হলো মাহেন্দ্রক্ষণটি। তখন অমর স্বপ্নের জ্যোতি সবার চোখে।

বিজয়ের বৈজয়ন্তী উড়ানোর সূচনা দিনে বুধবার (০১ ডিসেম্বর) স্বপ্নিল-আলোকোজ্জ্বল এক মুহুর্তের স্বাক্ষী তখন ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স। উন্মোচিত হলো সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১’র লোগো।

অনুষ্ঠানে স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী সেনাবাহিনীর তৈরি অনবদ্য-অনিন্দ্য সুন্দর লোগো’র প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর বিজয় দিবসের লোগো’র মাধ্যমে দেশাত্নবোধ জাগ্রত হবে বলেও মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সম্পন্ন হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সহযাত্রী হতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন।

মহান জাতীয় সংসদের এই অভিভাবক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র ও যন্ত্রপাতি সংযোজন করে সশস্ত্রবাহিনীকে আরো সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দূর্দান্ত কাজ করার মধ্যে দিয়ে জাতির আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রস্তুতকৃত মহান বিজয় দিবস লোগো’র মাধ্যমে দেশাত্মবোধ জাগ্রত হবে দেশের প্রতিটি প্রান্তে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আন্দোলন সংগ্রাম ও স্বাধীনতা অর্জন ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে লোগোটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক আগ্রহে সেনাবাহিনী অভূতপূর্ব আধুনিকায়নের পথে
বাঙালির কাঙ্ক্ষিত মুক্তিসংগ্রামে বিজয় অর্জনের মাস ডিসেম্বরের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে সেনাপ্রধান জেনারেল ড. এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ’র। ১৯৬৩ সালের পহেলা ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ফলশ্রুতিতে এই দিনটি তাঁর জন্মদিনও।

বাঙালি জাতিসত্তা আর নিজস্ব ভূমির গৌরবদীপ্ত বিজয় ও অহংকারের মাসটিতে দাঁড়িয়ে নিজের বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করেন সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি হৃদয়ের অতল থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করে বলেন, ‘২০২১ সালটি বাংলাদেশের জন্য একটি এতিহাসিক বছর, কারণ এই বছরে আমরা একই সাথে উদযাপন করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী।

আর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ-বাংলাদেশ।

সেনাপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমরদ্ধ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর একান্তিক আগ্রহ এবং প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ অভূতপূর্ব আধুনিকায়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সকল সেনা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘যাঁরা শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধেই নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশে ও বিদেশে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন।’

এর আগে অনুষ্ঠানে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ লোগো’র পটভূমি বর্ণনা করেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। অনুষ্ঠানে বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধান এবং সশস্ত্রবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সুপার এল নিনো: বাড়বে তীব্র গরম, মৃত্যুর শঙ্কা ৪ লাখ ৫১ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
সুপার এল নিনো: বাড়বে তীব্র গরম, মৃত্যুর শঙ্কা ৪ লাখ ৫১ হাজার

চলতি বছরের ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত তীব্র গরমে আগামী ছয় মাসে ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষকেরা এ পূর্বাভাস দিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময়ে এই অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এ সময়ে অতিরিক্ত তীব্র গরমের দিনের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে বিভিন্ন দেশে তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে নাইজেরিয়া

গবেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নাইজেরিয়া। দেশটিতে প্রায় ৩১ হাজার ৪০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও সুদান—যেখানে যথাক্রমে ১৯ হাজার ৩০০ এবং ১৭ হাজার ৬০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের নাইজেরিয়া, সুদান, নাইজার ও চাদে অতিরিক্ত তাপের কারণে ছয় মাসে প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সম্মিলিতভাবে আরও প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

ভারত-পাকিস্তানেও বাড়তে পারে ঝুঁকি

গবেষকেরা বলছেন, এল নিনো ২০২৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হলে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তর গোলার্ধে ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালে তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব চলতি বছরের এল নিনোকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য জলবায়ুর একটি আগাম চিত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে যে ধরনের তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, কয়েক দশকের মধ্যে তা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পরিণত হতে পারে।

গবেষকেরা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদান ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর অর্থনীতিবিদ মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, গবেষণার ফলাফলের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকেরা বুঝতে পারবেন কোন কোন এলাকায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে আগামী কয়েক মাসে হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

যে পেস জুটির সামনে নব্বইয়ের দশকে কাঁপতেন ব্যাটাররা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
যে পেস জুটির সামনে নব্বইয়ের দশকে কাঁপতেন ব্যাটাররা

ক্রিকেট ইতিহাসে দুর্দান্ত পেস বোলিং জুটির অভাব নেই। তবে ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসের নাম উচ্চারিত হয় আলাদা আবহে। পাকিস্তানের এই দুই কিংবদন্তি শুধু গতি দিয়ে নয়, সুইং, রিভার্স সুইং ও নিখুঁত ইয়র্কারের সমন্বয়ে নব্বইয়ের দশকে ব্যাটারদের সামনে তৈরি করেছিলেন কঠিন এক পরীক্ষা।

একসঙ্গে দুই প্রান্ত থেকে তাঁদের আক্রমণ সামলানো ছিল ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই ‘টু ডব্লিউস’ নামে পরিচিত এই জুটি আজও ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত পেস জুটি।

দুই প্রান্ত থেকে ভিন্ন আক্রমণ

ওয়াসিম ছিলেন বাঁহাতি পেসার, আর ওয়াকার ডানহাতি। ফলে দুজনের বোলিংয়ের অ্যাঙ্গেল ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

এক প্রান্ত থেকে বাঁহাতি অ্যাঙ্গেলে বল সুইং করাতেন ওয়াসিম। অন্য প্রান্তে ওয়াকার গতি ও মুভমেন্ট দিয়ে ব্যাটারকে চাপে রাখতেন। এই বৈচিত্র্যই তাঁদের জুটিকে আরও কার্যকর করে তুলেছিল।

আইসিসির হল অব ফেমে ওয়াসিমকে সুইং ও সিম বোলিংয়ের অন্যতম সেরা কারিগর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াকার পরিচিত ছিলেন রিভার্স সুইং এবং ইন-সুইং ইয়র্কারের দক্ষ কারিগর হিসেবে।

রিভার্স সুইংয়ে আলাদা পরিচয়

ওয়াসিম-ওয়াকারের বোলিংয়ের অন্যতম বড় অস্ত্র ছিল রিভার্স সুইং। পুরোনো বলকে বাতাসে অস্বাভাবিকভাবে দুই দিকে মুভ করিয়ে ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার কৌশলে দুজনই ছিলেন দক্ষ।

বিশেষ করে ওয়াকারের দ্রুতগতির ইয়র্কার ছিল ব্যাটারদের জন্য বড় হুমকি। রিভার্স সুইংয়ের সঙ্গে তাঁর ইন-সুইং ইয়র্কারের সমন্বয় তাঁকে নব্বইয়ের দশকের অন্যতম ভয়ংকর পেসারে পরিণত করেছিল।

ওয়াসিমের দক্ষতা ছিল আরও বহুমাত্রিক। একই ধরনের অ্যাকশন থেকে বল দুই দিকে সুইং করাতে পারতেন তিনি। পাশাপাশি উচ্চ গতির ইয়র্কারেও ছিলেন কার্যকর।

সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার কোর্টনি ওয়ালশও ওয়াসিমকে তাঁর সময়ের অন্যতম বিধ্বংসী বাঁহাতি পেসার হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর সুইং, ইয়র্কার ও রিভার্স সুইংয়ের দক্ষতার কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন আলোচনায়।

পরিসংখ্যানেও বড় অর্জন

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়াসিম আকরামের পরিসংখ্যানও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। টেস্টে ১০৪ ম্যাচে তাঁর উইকেট ৪১৪টি। ওয়ানডেতে ৩৫৬ ম্যাচে নিয়েছেন ৫০২ উইকেট।

অন্যদিকে ওয়াকার ইউনিস ৮৭ টেস্টে নিয়েছেন ৩৭৩ উইকেট। ওয়ানডেতে ২৬২ ম্যাচে তাঁর শিকার ৪১৬ উইকেট।

আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে দুজনের উইকেট যোগ করলে সংখ্যাটি ৯০০ ছাড়িয়ে যায়। তবে তাঁদের প্রভাব শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা কঠিন।

শুধু গতি নয়, ছিল বুদ্ধির খেলাও

ওয়াসিম ও ওয়াকারের বিশেষত্ব শুধু বলের গতি কিংবা সুইংয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাটারের দুর্বলতা বুঝে লাইন, লেংথ ও মুভমেন্ট পরিবর্তন করতেও তাঁরা ছিলেন দক্ষ।

নতুন বলে সুইং, পুরোনো বলে রিভার্স সুইং এবং ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইয়র্কার—একটি স্পেলের মধ্যেই আক্রমণের ধরন বদলে দিতে পারতেন তাঁরা।

ফলে তাঁদের বিপক্ষে ব্যাট করা শুধু শারীরিক চ্যালেঞ্জ ছিল না, ছিল মানসিক পরীক্ষাও। ব্যাটারকে একই সঙ্গে গতি, সুইং ও বলের অনিশ্চিত মুভমেন্ট সামলাতে হতো।

কেন আজও আলাদা

আধুনিক ক্রিকেটে প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রশিক্ষণের কারণে পেস বোলিংয়ের ধরন অনেক বদলে গেছে। কিন্তু ওয়াসিম-ওয়াকারের জুটির বিশেষত্ব ছিল তাঁদের পারস্পরিক পরিপূরকতা।

একজন বাঁহাতি, অন্যজন ডানহাতি। একজন সুইংয়ে দুর্দান্ত, অন্যজন রিভার্স সুইং ও ইয়র্কারে ভয়ংকর। দুজনের অস্ত্রভাণ্ডার একে অপরকে আরও কার্যকর করে তুলেছিল।

তাই শুধু উইকেটের সংখ্যা দিয়ে ‘টু ডব্লিউস’-এর প্রভাব বোঝা কঠিন। ব্যাটারের ওপর টানা চাপ তৈরি করা এবং দুই প্রান্ত থেকে ভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়াই ছিল তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

ক্রিকেট ইতিহাসে সেই কারণেই ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসের জুটি পেস বোলিংয়ের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে।

কালের আলো/এসএ

ফিফা এসিয়ান কাপের আগে পূর্ণ স্কোয়াড পেল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ফিফা এসিয়ান কাপের আগে পূর্ণ স্কোয়াড পেল বাংলাদেশ

ফিফা এসিয়ান কাপে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আর দুই দিন পর। এর আগে গতকাল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন কানাডাপ্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম। তাঁর যোগদানে অনুশীলনে প্রথমবারের মতো ২৩ সদস্যের পুরো স্কোয়াডকে একসঙ্গে পেয়েছেন হেড কোচ টমাস ডুলি।

ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর জাকার্তায় পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। এরপর দলের সঙ্গে যোগ দেন হামজা চৌধুরী। গতকাল ফারহান আলী ওয়াহিদ ও শমিত সোমও দলের সঙ্গে যোগ দেন।

ভিসা জটিলতার কারণে শুরুতে দলের সঙ্গে যেতে পারেননি মিডফিল্ডার মো. সোহেল রানা। সেই জটিলতা কাটিয়ে তিনিও পৌঁছে গেছেন জাকার্তায়। তাঁর যোগদানে বাংলাদেশের মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

পুরো দল পেয়ে খুশি ডুলি

২৩ সদস্যের পুরো দলকে একসঙ্গে অনুশীলনে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন টমাস ডুলি। তিনি বলেন, সবাই উপস্থিত থাকায় এখন পুরোপুরি অনুশীলন করা সম্ভব হচ্ছে।

ডুলির ভাষায়, জাকার্তার মাঠ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভালো। টার্ফে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা উপভোগ করেছেন খেলোয়াড়েরা। অনুশীলন সেশনে দলের খেলোয়াড়দের এনার্জিও ভালো ছিল বলে জানিয়েছেন কোচ।

প্রস্তুতির জন্য সময় কম

তবে পুরো স্কোয়াড হাতে পেলেও প্রথম ম্যাচের আগে প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় পাচ্ছে না বাংলাদেশ। বিশেষ করে দলে নতুন কয়েকজন খেলোয়াড় থাকায় তাঁদের দ্রুত নিজেদের মধ্যে মানিয়ে নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ডুলি।

কোচ বলেন, পুরো স্কোয়াড নিয়ে প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য তাঁদের হাতে মাত্র দুই থেকে তিন দিন সময় রয়েছে। দলের কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় আগে শমিত, হামজা ও ফাহাদের সঙ্গে খেলেননি। তাই দ্রুত পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

মোরসালিনের চোট নিয়ে অপেক্ষা

এদিকে শেখ মোরসালিনের চোট নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর পায়ের কাফ মাসলে এখনো সমস্যা আছে বলে জানিয়েছেন ডুলি।

মোরসালিনের স্ক্যান রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে দল। রিপোর্ট পাওয়ার পর তাঁর অনুশীলনে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল থেকেই তিনি অনুশীলনে ফিরতে পারেন বলে আশা করছেন কোচ।

প্রথম ম্যাচের আগে পূর্ণ স্কোয়াড পাওয়ার স্বস্তি এলেও অল্প সময়ে নতুন ও পুরোনো খেলোয়াড়দের সমন্বয় করেই মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে।

কালের আলো/এসএ