খুঁজুন
                               
, ,
           

গণমাধ্যমের সম্পাদকরা এক মঞ্চে, বড় চমক বিএনপির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:২২ অপরাহ্ণ
গণমাধ্যমের সম্পাদকরা এক মঞ্চে, বড় চমক বিএনপির

কালের আলো রিপোর্ট:

প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই দেশে ফেরাকে ঘিরে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপি। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু, ওয়াটার গার্ডেনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও নির্বাহী প্রধানদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতিতে বড় এক চমক দিয়েছে দেশের প্রধান এই রাজনৈতিক দল।

বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে কারওয়ান বাজারে দেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাত্র তিনদিনের মাথায় এই মতবিনিময় সভা আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। স্বভাবতই বিএনপি’র মতবিনিময় সভায় আলোচনায় বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে দুটি পত্রিকার কার্যালয়ে হামলার বিষয়টি।

সম্পাদক, বার্তাপ্রধান ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রায় সবাই একবাক্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার নিশ্চিয়তা চেয়েছে ভোট ও ক্ষমতার রাজনীতিতে এগিয়ে থাকা এই দলটির কাছ থেকে। এই বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছেন, অতীতের সব তিক্ততা ভুলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন–পীড়নের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে গণমাধ্যমকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।’ এই সভার আয়োজন করে ‘তারেক রহমান-স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটি’। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি একে আজাদ, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী ফাহিম আহমেদ, বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন যোগ দেন মত বিনিময়ে।

নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুদুর রহমান খলিলী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, বিবিসির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, এটিএন বাংলার পরিচালক (বার্তা) হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অফ নিউজ শরীফুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার, উপস্থাপক আবদুর নূর তুষার, কাজী জেসিন, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মধ্যে আরো ছিলেন নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, দি সান এর রেজাউল করিম লোটাস, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ, আমার দেশ এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, জনকণ্ঠের খোরশীদ আলম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ মারুফ কামাল খান, বাংলা বাজারের রাশেদুল হক, বাংলা নিউজের তৌহিদুর রহমান মিঠু, ইটিভির আবদুস সালাম, ডিবিসির লোটন ইকরাম, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী। এছাড়া এসএ টিভির মাহমুদ আল ফয়সাল, এনটিভির ফখরুল ইসলাম কাঞ্চন, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবির সুমন, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, ইনডিপেনডেন্ট টিভির মোস্তফা আকমল, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের রেজানুল হক রাজা, নাগরিক টিভির এরফানুল হক নাহিদ, জিটিভির গাউসুল আজম বিপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, দেশ টিভির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, এখন সময়ের তুষার আবদুল্লাহ, নিউ এজের শহীদুজ্জামান, যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, স্টার নিউজের ওয়ালিউল মিরাজ, মোহনা টিভির এম এ মালেক, গ্রিন টিভির মাহমুদ হাসান, দীপ্ত টিভির এএম আকাশ, ঢাকা পোস্টের কামরুল ইসলাম, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সাংবাদিক এম এ আজিজ, মহিউদ্দিন খান মোহন, জাহিদুর রহমান রনি, নিউজ টোয়েন্টিফোরের ডিএমডি গিয়াস উদ্দিন রিমন, শীর্ষ নিউজের একরামুল হকসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেনসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কোনো রিপোর্ট তথ্যভিত্তিক না হলে আমরা ক্ষমা চাইব : মাহফুজ আনাম
  • দেশে একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা বিপজ্জনক : মতিউর রহমান
  • নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হলে সামনে ‘মহাবিপদ’: এ কে আজাদ
  • দেশের বর্তমান সব সংকট মোকাবিলায় তারেক রহমানের মতো নেতা প্রয়োজন: এ এম এম বাহাউদ্দীন
  • যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে : মতিউর রহমান চৌধুরী
  • পত্রিকা অফিসে হামলা জাতির জন্য লজ্জার: সালাহউদ্দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরুর পর প্রথমবারের মতো দেশের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও অনলাইনের সম্পাদক, বার্তা প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে উপলক্ষ্য করে হলেও এর ইতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হিসেবেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হামলা-ভাংচুর আর অগ্নিসংযোগে আক্রান্ত প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের পক্ষে এমনিতেই বলিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণ করেছেন দেশের সংবাদপত্রের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। তাঁরা ওই রাতকে দেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অপশক্তির উত্থান ঠেকানোর পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য গড়তে দেশের শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত নিয়ামকের ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কোনো রিপোর্ট তথ্যভিত্তিক না হলে আমরা ক্ষমা চাইব : মাহফুজ আনাম
মতবিনিময় সভায় নিজের বক্তব্যে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘এটি শুধু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার বিষয় নয়, বরং সুশাসনের জন্য অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, ‘আপনি যদি সত্য কথা শুনতে না চান, তাহলে আপনি ভুল করবেন এবং সেই ভুল বারবার করবেন।’ সাংবাদিকতায়ও ভুল হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেই ভুল ধরিয়ে দিলে তা সংশোধনের দায়িত্ব গণমাধ্যমের। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি দেখান কোনো রিপোর্ট তথ্যভিত্তিক নয় বা ভুল, আমরা ক্ষমা চাইব। ডেইলি স্টার সবচেয়ে বেশি ক্ষমা চেয়েছে। কারণ, আমরা ভুল স্বীকার করি।’

বাংলাদেশের ৫৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো সরকারই প্রকৃত অর্থে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা গ্রহণ করেনি, এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নতুন বাংলাদেশে স্বাধীন ও সমালোচনামূলক গণমাধ্যম মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন ধরনের মিডিয়া পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তাঁর মতে, তারেক রহমানের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সময়। কারণ, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এই মুহূর্তে একধরনের ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থার মধ্যে আছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে, পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনার কথা তুলে ধরে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫৩ বছরের বয়সে কখনো কোনো মিডিয়া অফিসে আগুন দেওয়া হয়নি। প্রথমবারের মতো প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে আগুন জ্বালানো হয়েছে। কেন? আমরা কী অপরাধ করেছি? এটা সমস্ত মিডিয়ার প্রশ্ন করা উচিত।’ বিএনপির কাছে পরিবর্তনের প্রত্যাশা রেখে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমাদের ৫৩ বছরের রাজনীতিতে বড় অভিজ্ঞতা হলো কোনো সরকারই কখনো সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে গ্রহণ করেনি। আমি আশা করব, নতুন বাংলাদেশে বিএনপি সেই জায়গায় পরিবর্তন আনবে।’

দেশে একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা বিপজ্জনক : মতিউর রহমান
দেশে একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের আরও আগে দেশে ফেরা সম্ভব হলে বিএনপি ও দেশের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারত বলে মনে করেন। তারেক রহমানের অনুপস্থিতি বিএনপির জন্য নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আগামী দিনে সরকার গঠনকারী দলের জন্য সময়টা হবে বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময় বলে মনে করেন প্রথম আলো সম্পাদক। মতিউর রহমান আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির কাছ থেকে আরও বেশি সহ্যশক্তি, আরও বেশি সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা দেখতে পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এখনো দেশের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে এবং নির্বাচনে তারা বড় ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারে-এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যে দল ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে, তাদের নেতৃত্ব, আচরণ ও বিনয় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’

প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী তালিকা নিয়েও মানুষের মধ্যে খুব বেশি উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। কিছু জায়গায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে কি না, তা ভেবে দেখা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি। জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলেও মত দেন প্রথম আলো সম্পাদক। তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে সংবাদপত্র খুব স্বস্তিতে ছিল-এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে তুলনামূলকভাবে সে সময়টি ছিল কিছুটা বেশি সহনশীল। অন্যদিকে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ১৫-১৬ বছরে সংবাদপত্র শিল্প সবচেয়ে বেশি ভীতি ও চাপের মধ্য দিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে শুধু সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলেই হবে না; সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে একটি জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা। এত বিভক্ত সমাজ নিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না। মতিউর রহমান বলেন, ‘এই সময়টাতে শুধু প্রথম আলো নয়, পুরো গণমাধ্যমকেই ভয়াবহ চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে তা ছিল ভয়ংকর।’ এ সময় ডিজিএফআইসহ (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপ, মালিকানা বদল, সম্পাদক পরিবর্তন ও শেয়ার হস্তান্তরের চেষ্টার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হলে সামনে ‘মহাবিপদ’: এ কে আজাদ
দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে সামনে ‘মহাবিপদ’ অপেক্ষা করছে-এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ। তিনি বলেছেন, বিদেশিরা বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে উদ্গ্রীব হয়ে তাকিয়ে আছে। নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, তার ওপর দেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নোয়াব সভাপতি বলেন, ‘এই নির্বাচনটা যদি আমাদের দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা না পায়, তাহলে সামনে আমাদের মহাবিপদ। অনেক বিদেশি-যাদের সঙ্গে আমরা ব্যবসা করি-তারা কিন্তু খুব উদ্গ্রীবভাবে তাকিয়ে আছে আমাদের নির্বাচনের দিকে।’

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সাংবাদিকদের ও বিএনপির বলে মনে করেন এ কে আজাদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সবচেয়ে বড় দল। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে গিয়ে কোথাও বিএনপিকে ১০টি সিট হারাতেও হয়, আমার মনে হয় এখনকার যে প্রথম আলো সার্ভে করেছে, তাতে বিএনপির ক্ষমতায় আসতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না।’ গণমাধ্যমকে উন্মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নোয়াব সভাপতি বলেন, ‘আমাদের যদি উন্মুক্ত করে দেন, গঠনমূলক সমালোচনা করার সুযোগ দেন তাহলে আমরা দায়িত্বশীলভাবে সেটা করব।’ নির্বাচনের পর সরকার দায়িত্ব নিলে নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপ করার প্রস্তাব দেন তিনি। এ কে আজাদ বলেন, ‘এভরি সিক্স মান্থ আপনারা যদি আমাদেরকে এইভাবে আহ্বান করেন, তাহলে আমরা আপনাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে পারব।’ একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, ‘সব যে সঠিকভাবে আমরা উপস্থাপন করি, তা-ও না। আমাদের ভেতরেও ভুলভ্রান্তি হয়। আমরা অ্যাপোলজি (দুঃখপ্রকাশ) করি। আপনারা আমাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেন।’ তবে তিনি বলেন, গণমাধ্যম যখন দুর্নীতি ও অন্যায় তুলে ধরে, তখন সরকারের দায়িত্ব তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া। ‘আপনারা যদি বলেন-আপনারা যে দুর্নীতি বা অন্যায় তুলে ধরেছেন, আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি-তাহলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষা, সেটা সফল হবে।’

দেশের বর্তমান সব সংকট মোকাবিলায় তারেক রহমানের মতো নেতা প্রয়োজন: এ এম এম বাহাউদ্দীন
বাংলাদেশের বর্তমান সব সংকট মোকাবিলায় তারেক রহমানের মতো নেতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বড় সংকট হলো নেতৃত্বের সংকট। আমাদের একজন নেতা প্রয়োজন। মাসখানেক আগেও তারেক রহমানকে নিয়ে অনেকের মনে দ্বিমত ছিল যে, তিনি কতটুকু কী করতে পারবেন। কিন্তু বর্তমানে তারেক রহমানের সঠিক ও শক্তিশালী অবস্থানের পক্ষে সকলেরই সমর্থন রয়েছে।’ এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, ‘সংবাদপত্রের ওপর যে ধরনের সংকট শুরু হয়েছে, তা তো মাত্র শুরু। সামনের দিকে আরও কী হতে পারে, তা আমরা এখনো বলতে পারছি না।’ বিএনপি’র ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে অনেক উসকানি সত্ত্বেও বিএনপি ইতোমধ্যে যে ধৈর্য ও দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক।’ ইনকিলাব সম্পাদক আরও বলেন, ‘তারেক রহমান আগামী দিনের সংবাদপত্রের জন্য যে আশাবাদ ও পরিকল্পনার কথা বলছেন, তার যদি ২৫ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেন, তাতেও আমরা সন্তুষ্ট।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির এক ডাকে কোটি লোক হাজির হবে। দেশের এই বিশাল জনশক্তি এবং সংবাদমাধ্যম যদি একত্রে কাজ করে, তবে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে কোনো সমস্যা থাকবে না।’

যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে : মতিউর রহমান চৌধুরী
‘আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ যেটা আসছে, তা মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে। সেই রাষ্ট্রের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়, তাহলে আমরা কেউই থাকব না’- বলে মন্তব্য করেছেন মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, ‘একটা অস্থির সময়। কঠিন সময়। দেশটা দু’ভাগে বিভক্ত। বিভাজনের মধ্যে কথা বলাও খুব ডিফিকাল্ট (কঠিন)। তবে আজকের এই অনুষ্ঠানে এসে আমার খুবই ভালো লেগেছে এই কারণে- বিএনপির যে তিনজন নেতা বক্তৃতা করেছেন, আগামী দিনে দলটি ক্ষমতায় এলে মিডিয়া পলিসি কী হবে? সালাহউদ্দিন আহমেদ ও রিজভী আহমেদ দুজনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। আমি খুবই আশাবাদী হতে চাই- আগামী দিনে যদি এর সিকিভাগ বাস্তবায়িত হয়। কারণ হলো এই অস্থির সময়ে আমরা সবাই কিন্তু অস্থির। মিডিয়াও অস্থির, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কথা বলাও এখন ডিফিকাল্ট। সে কারণে বলছি, যদি মিডিয়া পলিসি যেটা বলা হয়েছে, তারা সেটা বাস্তবায়ন করেন তাহলেই বোধহয় বাংলাদেশের মিডিয়া সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কারণ অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে। তারেক রহমান এমন এক সময়ে আসছেন, যখন বাংলাদেশের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরাপত্তা। মানুষ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে চায়, কিন্তু মানুষ এখন তা ভাবতে পারছে না। চারদিকের পরিস্থিতি যেভাবে যাচ্ছে আমরা যখন কথা বলছি, তখন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ। দিল্লিতে আমাদের হাই কমিশনারের বাসভবনে হামলা হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন প্রহরীরা। মতিউর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর উপর হামলা হলো। এরপরে কী হবে কেউ জানে না। সে কারণে এই অবস্থায় বিএনপির কাছে মানুষের প্রত্যাশা সবচাইতে বেশি। বিএনপি মানুষের পাশে থাকবে। তারেক রহমান আসবেন। তিনি সেই প্রতিশ্রুতি দেবেন। সেটা আমি জানি। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে- আমরা সবাই নিরাপদ থাকতে চাই, লিখতে চাই। আমাদের কথা বলতে দিন। আপনারা যদি এটা নিশ্চিত করেন , সাধুবাদ জানাবো। আর নাহলে আবারও হয়তোবা আমরা আপনাদের সমালোচনা করব। কিন্তু এই সমালোচনা যেন হঠকারীতায় পরিণত না হয়, সেই দিকটাও দেখতে হবে আমাদের। তিনি বলেন, এই অবস্থায় আজকে এখানে আমরা যারা সমবেত হয়েছি, আমাদের সহকর্মীরা, সবাই এই কথাই বলবেন- আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ যেটা আসছে, সেটাকে মোকাবেলা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ না হই রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে। সেই রাষ্ট্রের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়, তাহলে আমরা কেউই থাকব না। আগামী দিনের সুন্দর ভবিষ্যত, তারেক রহমানের আগমনকে আমি শুভেচ্ছা জানাই, আমি মনে করি তিনি এলে বাংলাদেশের চেহারা হয়তোবা পাল্টে যাবে।

পত্রিকা অফিসে হামলা জাতির জন্য লজ্জার: সালাহউদ্দিন
মতবিনিময় সভায় পত্রিকা অফিসে হামলা জাতির জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ দৃশ্য সারাবিশ্ব দেখেছে। সেটা আমাদের জন্য লজ্জার। এটা কোনভাবে আমরা শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশ করে, ক্ষমা প্রার্থনা করে সমাপ্ত করতে পারবো না। এখানে সরকারের দায়িত্ব ছিল সবচাইতে বেশি। আমরা জেনেছি হামলার বিষয়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট ছিল। কিন্তু সেটা আমলে নেয়া হলো না কেন- এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলার পরেও শুনেছি এক দুই ঘন্টা পরে তারা সাড়া দিয়েছে। সেটা কেন? কাদের হাতে আমরা এই রাষ্ট্রব্যবস্থা দেব? নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের ভূমিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, কিছুদিন যাবত গণমাধ্যমকে চিহ্নিত করে, টার্গেট করে হামলা করতে দেখেছি। নতুন নয়। কিছু স্থাপনায়, ঠিকানায় মবোক্রেসিকে এলাও করা হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি কিন্তু কেন হয়ে যাবে মবোক্রেসি। তাকে কেন লালন করতে দেয়া হবে। এগুলো আমি সরকারের দুর্বলতাকেই ইঙ্গিত করছি এগুলো আরো কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশ নিয়ে গণপ্রত্যাশা, গণআকাক্সক্ষা অনেক বেশি। পূর্ণ গণতন্ত্র চায় বাংলাদেশের সব মানুষ। গণতন্ত্রকে সর্বক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে চায়। গণতন্ত্র বিনির্মাণের জন্য যে প্রতিষ্ঠান সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে- যাতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে। গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, অনেকে গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলে। সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট থাকবে, আছে কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের বিবেচনায় সবসময় আমরা যেন দেশের পক্ষেই থাকি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি জনগণ দেয় তাহলে আমাদের সহযোগিতা থাকবে সর্বোচ্চ। আমরা অতীত ভুলে যেতে চাই তবে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী কি করেছে সেটা স্মরণে রাখতে চাই।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, জনগণ আশা করছে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের খুটিটা শক্তিশালী হয়। তিনি বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর কষ্টকর নির্বাসিত জীবন যাপন করেছেন। তার এই প্রত্যাবর্তনকে আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য কাজে লাগাতে চাই। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শফিক রেহমানের মতো বর্ষীয়ান সাংবাদিকদের যেভাবে জেলে নিয়ে যে আচরণ করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ফ্যাসিবাদের আমলে একটা ঘন কালো অন্ধকারের সময় পার করেছি। প্রত্যেকেই কমবেশি আক্রান্ত হয়েছি। এখনো যে সমস্ত বিষয়গুলো আমাদের সামনে আসছে তা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। একজন তরুণ নেতার এমন মৃত্যুর আমরা প্রতিবাদ জানাই। তার কথার কারণে জীবন দিতে হবে এটা মেনে নেয়ার মতো না। তিনি বলেন, কারও বক্তব্য এবং মতামতের জন্য তার উপর আক্রমণ হওয়া ফ্যাসিবাদোত্তর সময়ে কাম্য নয়। ভারতে গদি মিডিয়ার কথা বলা হয়, তেমনি স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে মিডিয়াও ভূমিকা পালন করে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে গিয়ে এ মন্তব্য করেন করেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনা সদস্যদের পরিচালিত ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা সদস্যদের অবস্থান, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি সেনা বাংকারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।

জাতীয় সংকট মোকাবেলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও আলোচনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা তার হলফনামা, পারিবারিক ব্যবসার বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে মোট ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি বিধি অনুসরণ করে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান জানান, পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, পরিচালনা ও মালিকানাসংক্রান্ত দায়িত্ব পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিবারের সদস্যরাই পরিচালনা করছেন।

এদিকে ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।

মিলটির ক্রেতা শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল আলম জানান, তিনি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৪২ কোটি টাকায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করেন এবং পরে এর সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে ৩১ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখ করা হলেও হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান। তার ভাষ্য, আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়; বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মীর শাহে আলম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফলে বর্তমানে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বা জমি ক্রয়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে পরিচিত। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসার মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি জানেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট সামঞ্জস্য ছিল না বলে তার মনে হয়েছে। তার মতে, হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা না করে আংশিক তথ্য প্রকাশ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৫০টি আমদানি চালানের কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বলছে, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক করা এসব কনটেইনারের অবস্থান জানতে গত নয় মাসে একাধিকবার চিঠি দিলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কনটেইনারগুলোর অবস্থান ও ডেলিভারির বিস্তারিত তথ্য অনেক আগেই লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে বন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টির সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে দুটি পৃথক আমদানি চালানকে ঘিরে। ওই বছরের জুনে নারায়ণগঞ্জের মেসার্স মাইনুল হাসান এন্টারপ্রাইজ ইন্দোনেশিয়া থেকে পাঁচ কনটেইনার তুলা আমদানি করে।

একই বছরের মে মাসে আহমেদ এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে চশমার ফ্রেম ও মাউন্টিং ঘোষণা দিয়ে একটি কনটেইনার পণ্য আমদানি করে। দুটি চালানেই ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য থাকার সন্দেহে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালানগুলো লক করে কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় কাস্টমস।

কিন্তু পরীক্ষার সময় ওই ছয়টি কনটেইনারের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে তারা দেখতে পান, একই ধরনের আরও শত শত চালান দীর্ঘদিন ধরে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক থাকলেও সংশ্লিষ্ট কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ২৫০টি বিল অব এন্ট্রি এখনও লক অবস্থায় রয়েছে। এসব চালানে মোট ৩৭৬টি কনটেইনার রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি বিল অব এন্ট্রি রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে এসব কনটেইনারের বর্তমান অবস্থান জানাতে গত নয় মাসে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এবং এর আগে ২৬ জানুয়ারি চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কাস্টমসের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা কনটেইনারগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি।

তবে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সোমবার (৬ জুলাই) বন্দর কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে এই অভিযোগকে মিথ্যা, অনুমাননির্ভর এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, ২৫০টি নয়, ২৪৭টি চালানের তালিকা দিয়েছিল কাস্টমস।

এর মধ্যে বেশিরভাগ চালানই ইতোমধ্যে খালাস হয়ে গেছে, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) স্থানান্তর করা হয়েছে, অথবা সিপিএর ইয়ার্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। কাস্টমসের সরবরাহ করা বেশ কয়েকটি কনটেইনার নম্বর ও বিল অব লেডিংয়ে ভুল ছিল। এ কারণে বাকি চালানগুলোর মিল পাওয়া যায়নি। কাগজপত্র অনুসারে চালানগুলো ইতোমধ্যেই কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক পত্রযোগাযোগের মাধ্যমে সংস্থাটিকে বিষয়টি অবহিতও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কাস্টমস যে ২৫০টি চালানের কথা বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ২৪৭টি। এর মধ্যে ১৬৪টি এফসিএল চালানে ২৯৩টি কনটেইনার রয়েছে।

এসবের মধ্যে ৮৮টি কাস্টমস আউটপাসের মাধ্যমে খালাস হয়েছে, ৭০টি আইজিএম অনুযায়ী বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৩১টি এখনও বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে। চারটি কনটেইনার নম্বরে ডিজিট বা প্রিফিক্সের ত্রুটিও রয়েছে।

তিনি বলেন, বাকি ৮৩টি এলসিএল চালানের মধ্যে আটটির পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে, ৩৫টি কনটেইনার বন্দরের সিএফএস ও শেডে রয়েছে। আর ৪০টি চালানের ক্ষেত্রে কাস্টমসের দেওয়া বিল অব লেডিং নম্বরের সঙ্গে বন্দরের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে।

তবে কাস্টম হাউসের উপকমিশনার (এআইআর) মো. তারেক মাহমুদ বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি তারা পাননি। কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

এদিকে, এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস, ইয়ার্ডে সংরক্ষণ এবং বন্দর ত্যাগ—পুরো প্রক্রিয়াই একাধিক স্তরের নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে এতগুলো কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম (বিলু) বলেন, এত সংখ্যক কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা সহজে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কনটেইনারগুলো সত্যিই নিখোঁজ কি না, সে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের সরেজমিন অনুসন্ধান এবং কাস্টমসেরও যাচাই করা প্রয়োজন, চালানগুলো ঠিক কোন পর্যায়ে লক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে আরও সমন্বয় থাকা অপরিহার্য। দুটি প্রতিষ্ঠান পাল্টাপাল্টি দোষারোপের পর্যায়ে না নিয়ে গিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি