খুঁজুন
                               
, ,
           

গণমাধ্যমের সম্পাদকরা এক মঞ্চে, বড় চমক বিএনপির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:২২ অপরাহ্ণ
গণমাধ্যমের সম্পাদকরা এক মঞ্চে, বড় চমক বিএনপির

কালের আলো রিপোর্ট:

প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই দেশে ফেরাকে ঘিরে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপি। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু, ওয়াটার গার্ডেনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও নির্বাহী প্রধানদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতিতে বড় এক চমক দিয়েছে দেশের প্রধান এই রাজনৈতিক দল।

বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে কারওয়ান বাজারে দেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাত্র তিনদিনের মাথায় এই মতবিনিময় সভা আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। স্বভাবতই বিএনপি’র মতবিনিময় সভায় আলোচনায় বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে দুটি পত্রিকার কার্যালয়ে হামলার বিষয়টি।

সম্পাদক, বার্তাপ্রধান ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রায় সবাই একবাক্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার নিশ্চিয়তা চেয়েছে ভোট ও ক্ষমতার রাজনীতিতে এগিয়ে থাকা এই দলটির কাছ থেকে। এই বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছেন, অতীতের সব তিক্ততা ভুলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন–পীড়নের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে গণমাধ্যমকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।’ এই সভার আয়োজন করে ‘তারেক রহমান-স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটি’। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি একে আজাদ, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী ফাহিম আহমেদ, বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন যোগ দেন মত বিনিময়ে।

নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুদুর রহমান খলিলী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, বিবিসির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, এটিএন বাংলার পরিচালক (বার্তা) হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অফ নিউজ শরীফুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার, উপস্থাপক আবদুর নূর তুষার, কাজী জেসিন, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মধ্যে আরো ছিলেন নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, দি সান এর রেজাউল করিম লোটাস, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ, আমার দেশ এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, জনকণ্ঠের খোরশীদ আলম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ মারুফ কামাল খান, বাংলা বাজারের রাশেদুল হক, বাংলা নিউজের তৌহিদুর রহমান মিঠু, ইটিভির আবদুস সালাম, ডিবিসির লোটন ইকরাম, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী। এছাড়া এসএ টিভির মাহমুদ আল ফয়সাল, এনটিভির ফখরুল ইসলাম কাঞ্চন, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবির সুমন, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, ইনডিপেনডেন্ট টিভির মোস্তফা আকমল, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের রেজানুল হক রাজা, নাগরিক টিভির এরফানুল হক নাহিদ, জিটিভির গাউসুল আজম বিপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, দেশ টিভির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, এখন সময়ের তুষার আবদুল্লাহ, নিউ এজের শহীদুজ্জামান, যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, স্টার নিউজের ওয়ালিউল মিরাজ, মোহনা টিভির এম এ মালেক, গ্রিন টিভির মাহমুদ হাসান, দীপ্ত টিভির এএম আকাশ, ঢাকা পোস্টের কামরুল ইসলাম, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সাংবাদিক এম এ আজিজ, মহিউদ্দিন খান মোহন, জাহিদুর রহমান রনি, নিউজ টোয়েন্টিফোরের ডিএমডি গিয়াস উদ্দিন রিমন, শীর্ষ নিউজের একরামুল হকসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেনসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কোনো রিপোর্ট তথ্যভিত্তিক না হলে আমরা ক্ষমা চাইব : মাহফুজ আনাম
  • দেশে একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা বিপজ্জনক : মতিউর রহমান
  • নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হলে সামনে ‘মহাবিপদ’: এ কে আজাদ
  • দেশের বর্তমান সব সংকট মোকাবিলায় তারেক রহমানের মতো নেতা প্রয়োজন: এ এম এম বাহাউদ্দীন
  • যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে : মতিউর রহমান চৌধুরী
  • পত্রিকা অফিসে হামলা জাতির জন্য লজ্জার: সালাহউদ্দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরুর পর প্রথমবারের মতো দেশের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও অনলাইনের সম্পাদক, বার্তা প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে উপলক্ষ্য করে হলেও এর ইতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হিসেবেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হামলা-ভাংচুর আর অগ্নিসংযোগে আক্রান্ত প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের পক্ষে এমনিতেই বলিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণ করেছেন দেশের সংবাদপত্রের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। তাঁরা ওই রাতকে দেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অপশক্তির উত্থান ঠেকানোর পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য গড়তে দেশের শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত নিয়ামকের ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কোনো রিপোর্ট তথ্যভিত্তিক না হলে আমরা ক্ষমা চাইব : মাহফুজ আনাম
মতবিনিময় সভায় নিজের বক্তব্যে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘এটি শুধু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার বিষয় নয়, বরং সুশাসনের জন্য অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, ‘আপনি যদি সত্য কথা শুনতে না চান, তাহলে আপনি ভুল করবেন এবং সেই ভুল বারবার করবেন।’ সাংবাদিকতায়ও ভুল হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেই ভুল ধরিয়ে দিলে তা সংশোধনের দায়িত্ব গণমাধ্যমের। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি দেখান কোনো রিপোর্ট তথ্যভিত্তিক নয় বা ভুল, আমরা ক্ষমা চাইব। ডেইলি স্টার সবচেয়ে বেশি ক্ষমা চেয়েছে। কারণ, আমরা ভুল স্বীকার করি।’

বাংলাদেশের ৫৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো সরকারই প্রকৃত অর্থে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা গ্রহণ করেনি, এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নতুন বাংলাদেশে স্বাধীন ও সমালোচনামূলক গণমাধ্যম মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন ধরনের মিডিয়া পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তাঁর মতে, তারেক রহমানের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সময়। কারণ, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এই মুহূর্তে একধরনের ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থার মধ্যে আছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে, পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনার কথা তুলে ধরে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫৩ বছরের বয়সে কখনো কোনো মিডিয়া অফিসে আগুন দেওয়া হয়নি। প্রথমবারের মতো প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে আগুন জ্বালানো হয়েছে। কেন? আমরা কী অপরাধ করেছি? এটা সমস্ত মিডিয়ার প্রশ্ন করা উচিত।’ বিএনপির কাছে পরিবর্তনের প্রত্যাশা রেখে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমাদের ৫৩ বছরের রাজনীতিতে বড় অভিজ্ঞতা হলো কোনো সরকারই কখনো সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে গ্রহণ করেনি। আমি আশা করব, নতুন বাংলাদেশে বিএনপি সেই জায়গায় পরিবর্তন আনবে।’

দেশে একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা বিপজ্জনক : মতিউর রহমান
দেশে একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের আরও আগে দেশে ফেরা সম্ভব হলে বিএনপি ও দেশের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারত বলে মনে করেন। তারেক রহমানের অনুপস্থিতি বিএনপির জন্য নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আগামী দিনে সরকার গঠনকারী দলের জন্য সময়টা হবে বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময় বলে মনে করেন প্রথম আলো সম্পাদক। মতিউর রহমান আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির কাছ থেকে আরও বেশি সহ্যশক্তি, আরও বেশি সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা দেখতে পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এখনো দেশের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে এবং নির্বাচনে তারা বড় ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারে-এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যে দল ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে, তাদের নেতৃত্ব, আচরণ ও বিনয় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’

প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী তালিকা নিয়েও মানুষের মধ্যে খুব বেশি উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। কিছু জায়গায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে কি না, তা ভেবে দেখা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি। জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলেও মত দেন প্রথম আলো সম্পাদক। তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে সংবাদপত্র খুব স্বস্তিতে ছিল-এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে তুলনামূলকভাবে সে সময়টি ছিল কিছুটা বেশি সহনশীল। অন্যদিকে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ১৫-১৬ বছরে সংবাদপত্র শিল্প সবচেয়ে বেশি ভীতি ও চাপের মধ্য দিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে শুধু সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলেই হবে না; সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে একটি জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা। এত বিভক্ত সমাজ নিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না। মতিউর রহমান বলেন, ‘এই সময়টাতে শুধু প্রথম আলো নয়, পুরো গণমাধ্যমকেই ভয়াবহ চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে তা ছিল ভয়ংকর।’ এ সময় ডিজিএফআইসহ (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপ, মালিকানা বদল, সম্পাদক পরিবর্তন ও শেয়ার হস্তান্তরের চেষ্টার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হলে সামনে ‘মহাবিপদ’: এ কে আজাদ
দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে সামনে ‘মহাবিপদ’ অপেক্ষা করছে-এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ। তিনি বলেছেন, বিদেশিরা বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে উদ্গ্রীব হয়ে তাকিয়ে আছে। নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, তার ওপর দেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নোয়াব সভাপতি বলেন, ‘এই নির্বাচনটা যদি আমাদের দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা না পায়, তাহলে সামনে আমাদের মহাবিপদ। অনেক বিদেশি-যাদের সঙ্গে আমরা ব্যবসা করি-তারা কিন্তু খুব উদ্গ্রীবভাবে তাকিয়ে আছে আমাদের নির্বাচনের দিকে।’

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সাংবাদিকদের ও বিএনপির বলে মনে করেন এ কে আজাদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সবচেয়ে বড় দল। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে গিয়ে কোথাও বিএনপিকে ১০টি সিট হারাতেও হয়, আমার মনে হয় এখনকার যে প্রথম আলো সার্ভে করেছে, তাতে বিএনপির ক্ষমতায় আসতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না।’ গণমাধ্যমকে উন্মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নোয়াব সভাপতি বলেন, ‘আমাদের যদি উন্মুক্ত করে দেন, গঠনমূলক সমালোচনা করার সুযোগ দেন তাহলে আমরা দায়িত্বশীলভাবে সেটা করব।’ নির্বাচনের পর সরকার দায়িত্ব নিলে নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপ করার প্রস্তাব দেন তিনি। এ কে আজাদ বলেন, ‘এভরি সিক্স মান্থ আপনারা যদি আমাদেরকে এইভাবে আহ্বান করেন, তাহলে আমরা আপনাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে পারব।’ একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, ‘সব যে সঠিকভাবে আমরা উপস্থাপন করি, তা-ও না। আমাদের ভেতরেও ভুলভ্রান্তি হয়। আমরা অ্যাপোলজি (দুঃখপ্রকাশ) করি। আপনারা আমাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেন।’ তবে তিনি বলেন, গণমাধ্যম যখন দুর্নীতি ও অন্যায় তুলে ধরে, তখন সরকারের দায়িত্ব তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া। ‘আপনারা যদি বলেন-আপনারা যে দুর্নীতি বা অন্যায় তুলে ধরেছেন, আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি-তাহলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষা, সেটা সফল হবে।’

দেশের বর্তমান সব সংকট মোকাবিলায় তারেক রহমানের মতো নেতা প্রয়োজন: এ এম এম বাহাউদ্দীন
বাংলাদেশের বর্তমান সব সংকট মোকাবিলায় তারেক রহমানের মতো নেতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বড় সংকট হলো নেতৃত্বের সংকট। আমাদের একজন নেতা প্রয়োজন। মাসখানেক আগেও তারেক রহমানকে নিয়ে অনেকের মনে দ্বিমত ছিল যে, তিনি কতটুকু কী করতে পারবেন। কিন্তু বর্তমানে তারেক রহমানের সঠিক ও শক্তিশালী অবস্থানের পক্ষে সকলেরই সমর্থন রয়েছে।’ এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, ‘সংবাদপত্রের ওপর যে ধরনের সংকট শুরু হয়েছে, তা তো মাত্র শুরু। সামনের দিকে আরও কী হতে পারে, তা আমরা এখনো বলতে পারছি না।’ বিএনপি’র ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে অনেক উসকানি সত্ত্বেও বিএনপি ইতোমধ্যে যে ধৈর্য ও দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক।’ ইনকিলাব সম্পাদক আরও বলেন, ‘তারেক রহমান আগামী দিনের সংবাদপত্রের জন্য যে আশাবাদ ও পরিকল্পনার কথা বলছেন, তার যদি ২৫ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেন, তাতেও আমরা সন্তুষ্ট।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির এক ডাকে কোটি লোক হাজির হবে। দেশের এই বিশাল জনশক্তি এবং সংবাদমাধ্যম যদি একত্রে কাজ করে, তবে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে কোনো সমস্যা থাকবে না।’

যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে : মতিউর রহমান চৌধুরী
‘আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ যেটা আসছে, তা মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে। সেই রাষ্ট্রের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়, তাহলে আমরা কেউই থাকব না’- বলে মন্তব্য করেছেন মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, ‘একটা অস্থির সময়। কঠিন সময়। দেশটা দু’ভাগে বিভক্ত। বিভাজনের মধ্যে কথা বলাও খুব ডিফিকাল্ট (কঠিন)। তবে আজকের এই অনুষ্ঠানে এসে আমার খুবই ভালো লেগেছে এই কারণে- বিএনপির যে তিনজন নেতা বক্তৃতা করেছেন, আগামী দিনে দলটি ক্ষমতায় এলে মিডিয়া পলিসি কী হবে? সালাহউদ্দিন আহমেদ ও রিজভী আহমেদ দুজনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। আমি খুবই আশাবাদী হতে চাই- আগামী দিনে যদি এর সিকিভাগ বাস্তবায়িত হয়। কারণ হলো এই অস্থির সময়ে আমরা সবাই কিন্তু অস্থির। মিডিয়াও অস্থির, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কথা বলাও এখন ডিফিকাল্ট। সে কারণে বলছি, যদি মিডিয়া পলিসি যেটা বলা হয়েছে, তারা সেটা বাস্তবায়ন করেন তাহলেই বোধহয় বাংলাদেশের মিডিয়া সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কারণ অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে। তারেক রহমান এমন এক সময়ে আসছেন, যখন বাংলাদেশের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরাপত্তা। মানুষ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে চায়, কিন্তু মানুষ এখন তা ভাবতে পারছে না। চারদিকের পরিস্থিতি যেভাবে যাচ্ছে আমরা যখন কথা বলছি, তখন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ। দিল্লিতে আমাদের হাই কমিশনারের বাসভবনে হামলা হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন প্রহরীরা। মতিউর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর উপর হামলা হলো। এরপরে কী হবে কেউ জানে না। সে কারণে এই অবস্থায় বিএনপির কাছে মানুষের প্রত্যাশা সবচাইতে বেশি। বিএনপি মানুষের পাশে থাকবে। তারেক রহমান আসবেন। তিনি সেই প্রতিশ্রুতি দেবেন। সেটা আমি জানি। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে- আমরা সবাই নিরাপদ থাকতে চাই, লিখতে চাই। আমাদের কথা বলতে দিন। আপনারা যদি এটা নিশ্চিত করেন , সাধুবাদ জানাবো। আর নাহলে আবারও হয়তোবা আমরা আপনাদের সমালোচনা করব। কিন্তু এই সমালোচনা যেন হঠকারীতায় পরিণত না হয়, সেই দিকটাও দেখতে হবে আমাদের। তিনি বলেন, এই অবস্থায় আজকে এখানে আমরা যারা সমবেত হয়েছি, আমাদের সহকর্মীরা, সবাই এই কথাই বলবেন- আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ যেটা আসছে, সেটাকে মোকাবেলা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ না হই রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে। সেই রাষ্ট্রের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়, তাহলে আমরা কেউই থাকব না। আগামী দিনের সুন্দর ভবিষ্যত, তারেক রহমানের আগমনকে আমি শুভেচ্ছা জানাই, আমি মনে করি তিনি এলে বাংলাদেশের চেহারা হয়তোবা পাল্টে যাবে।

পত্রিকা অফিসে হামলা জাতির জন্য লজ্জার: সালাহউদ্দিন
মতবিনিময় সভায় পত্রিকা অফিসে হামলা জাতির জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ দৃশ্য সারাবিশ্ব দেখেছে। সেটা আমাদের জন্য লজ্জার। এটা কোনভাবে আমরা শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশ করে, ক্ষমা প্রার্থনা করে সমাপ্ত করতে পারবো না। এখানে সরকারের দায়িত্ব ছিল সবচাইতে বেশি। আমরা জেনেছি হামলার বিষয়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট ছিল। কিন্তু সেটা আমলে নেয়া হলো না কেন- এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলার পরেও শুনেছি এক দুই ঘন্টা পরে তারা সাড়া দিয়েছে। সেটা কেন? কাদের হাতে আমরা এই রাষ্ট্রব্যবস্থা দেব? নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের ভূমিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, কিছুদিন যাবত গণমাধ্যমকে চিহ্নিত করে, টার্গেট করে হামলা করতে দেখেছি। নতুন নয়। কিছু স্থাপনায়, ঠিকানায় মবোক্রেসিকে এলাও করা হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি কিন্তু কেন হয়ে যাবে মবোক্রেসি। তাকে কেন লালন করতে দেয়া হবে। এগুলো আমি সরকারের দুর্বলতাকেই ইঙ্গিত করছি এগুলো আরো কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশ নিয়ে গণপ্রত্যাশা, গণআকাক্সক্ষা অনেক বেশি। পূর্ণ গণতন্ত্র চায় বাংলাদেশের সব মানুষ। গণতন্ত্রকে সর্বক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে চায়। গণতন্ত্র বিনির্মাণের জন্য যে প্রতিষ্ঠান সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে- যাতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে। গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, অনেকে গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলে। সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট থাকবে, আছে কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের বিবেচনায় সবসময় আমরা যেন দেশের পক্ষেই থাকি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি জনগণ দেয় তাহলে আমাদের সহযোগিতা থাকবে সর্বোচ্চ। আমরা অতীত ভুলে যেতে চাই তবে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী কি করেছে সেটা স্মরণে রাখতে চাই।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, জনগণ আশা করছে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের খুটিটা শক্তিশালী হয়। তিনি বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর কষ্টকর নির্বাসিত জীবন যাপন করেছেন। তার এই প্রত্যাবর্তনকে আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য কাজে লাগাতে চাই। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শফিক রেহমানের মতো বর্ষীয়ান সাংবাদিকদের যেভাবে জেলে নিয়ে যে আচরণ করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ফ্যাসিবাদের আমলে একটা ঘন কালো অন্ধকারের সময় পার করেছি। প্রত্যেকেই কমবেশি আক্রান্ত হয়েছি। এখনো যে সমস্ত বিষয়গুলো আমাদের সামনে আসছে তা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। একজন তরুণ নেতার এমন মৃত্যুর আমরা প্রতিবাদ জানাই। তার কথার কারণে জীবন দিতে হবে এটা মেনে নেয়ার মতো না। তিনি বলেন, কারও বক্তব্য এবং মতামতের জন্য তার উপর আক্রমণ হওয়া ফ্যাসিবাদোত্তর সময়ে কাম্য নয়। ভারতে গদি মিডিয়ার কথা বলা হয়, তেমনি স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে মিডিয়াও ভূমিকা পালন করে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

১০ হাজার হেক্টরের বিলে ৬ হাজার হেক্টর কচুরিপানায় ঢাকা, বিপাকে কৃষক

পাবনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
১০ হাজার হেক্টরের বিলে ৬ হাজার হেক্টর কচুরিপানায় ঢাকা, বিপাকে কৃষক

পাবনার সুজানগরের ‘শস্যভান্ডার’ হিসেবে পরিচিত গাজনার বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কচুরিপানা। এতে চলতি মৌসুমে বোনা আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। শুধু আমন ধান নয়, আসন্ন শুকনো মৌসুমে পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আয়তনের গাজনার বিলের বড় একটি অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। সাময়িকভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও বছরের পর বছর সমস্যাটির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তাই স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

১০ হাজার হেক্টরের বিলে কচুরিপানার বিস্তার
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজনার বিলে এ বছর প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। বর্ষায় বিলে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকরা। সাধারণত পানির গভীরতা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বোনা আমন ধানের গাছও বেড়ে ওঠে। কিন্তু এবার কচুরিপানার ব্যাপক বিস্তারে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে বিলের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর অংশ কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিজেদের চেষ্টায় কচুরিপানা সরাতে পারছেন না কৃষকরা
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার আগে কচুরিপানা ধ্বংস করতে সরকারি উদ্যোগে কীটনাশক বা রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। এতে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে কচুরিপানা পচে নষ্ট হলেও বর্ষা শুরু হলে আবারও এর বিস্তার ঘটে। ফলে বছরের পর বছর একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের।

গাজনার বিল এলাকার সাধুপুর গ্রামের আমন চাষি গফুর বলেন, জমিতে এত কচুরিপানা জমেছে যে নিজেরা চেষ্টা করেও তা সরাতে পারছেন না। এতে ধানগাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খয়রান এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কচুরিপানার কারণে বছরের পর বছর ধান ও পেঁয়াজের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা থেকে কৃষকদের মুক্তি দিতে কৃষি বিভাগের স্থায়ী সমাধান বের করা উচিত। উলাট গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন মনে করেন, শুধু বিষ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে কচুরিপানা ধ্বংসের চেষ্টা না করে শুকনো মৌসুমে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ করে বিল থেকে এগুলো তুলে ফেলা প্রয়োজন। এতে কৃষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমতে পারে।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগ, স্থায়ী সমাধানের দাবি
কচুরিপানা অপসারণের বিষয়ে সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সরকারি উদ্যোগে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় কৃষক, শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কচুরিপানা সরানোর কাজ করছেন। ফসল উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান দাবি করেছেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বিলে কচুরিপানার পরিমাণ কম রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুরু থেকেই কীটনাশক প্রয়োগ করে কচুরিপানা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমে অবশিষ্ট কচুরিপানা অপসারণ করা হবে। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, গাজনার বিল থেকে কচুরিপানা অপসারণে কৃষি বিভাগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

রাসায়নিক প্রয়োগে জলজ পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা
কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে রাসায়নিক প্রয়োগের ফলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কচুরিপানা অপসারণে যান্ত্রিক পদ্ধতি কিংবা শ্রমিকের মাধ্যমে তুলে ফেলার মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কচুরিপানা হতে পারে জৈব সারের কাঁচামাল
কচুরিপানাকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে কৃষিকাজে ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুকনো মৌসুমে বিল থেকে কচুরিপানা তুলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরি করা যেতে পারে। এতে একদিকে বিলের পানি ও কৃষিজমি কচুরিপানার চাপ থেকে মুক্ত হবে, অন্যদিকে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য জৈব সার পাবেন।

দোতলা কৃষি পদ্ধতির উদ্ভাবক কৃষিবিদ জাফর সাদেক বলেন, নিয়ম মেনে বিষ প্রয়োগ করলে মাছ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে তাঁর মতে, কচুরিপানাকে কৃষি ও কৃষকের জন্য সম্পদে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। এগুলো তুলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জৈব সার তৈরি করা সম্ভব। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ব্যবহার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গাজনার বিলের কচুরিপানা সমস্যা সমাধানে তাই শুধু সাময়িক রাসায়নিক প্রয়োগ নয়, পরিকল্পিতভাবে অপসারণ, পরিবেশের সুরক্ষা এবং জৈব সার উৎপাদনের মতো উদ্যোগও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি উঠেছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমন ধানের ফলন এবং পরবর্তী মৌসুমের পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের অনিশ্চয়তা থেকেই যেতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

নদীভাঙন-পানির সংকটে জর্জরিত নলিয়ান, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে উন্নয়নের আশা

খুলনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
নদীভাঙন-পানির সংকটে জর্জরিত নলিয়ান, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে উন্নয়নের আশা

খুলনার দাকোপ উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে হেলিকপ্টারে নলিয়ানে পৌঁছে জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

হেলিকপ্টারে নলিয়ানে, পরে নৌপথে মোংলার যাত্রা
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী হেলিকপ্টার খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানের মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান তিনি।

সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে পন্টুন থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার আশায় সকাল থেকেই সেখানে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর আগমন ঘিরে পুরো এলাকায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।

সফরসঙ্গী হিসেবে মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের প্রত্যাশা স্থানীয়দের
দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার আগ্রহের পাশাপাশি এসব সমস্যার সমাধান নিয়েও আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে উপকূলীয় এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন সম্ভাবনা আরও গুরুত্ব পাবে।

সফর ঘিরে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থান নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়েও তল্লাশি চালানো হয়। সফরকে সামনে রেখে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়।

সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে মোংলায় একাধিক কর্মসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর নলিয়ানে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটির উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। মোংলায় গিয়ে সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দরের জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে আশার আলো
মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগের পরিবেশ সম্প্রসারিত হবে, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল পেতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 দেশের বাজারে কমল সোনা-রুপার দাম, জেনে নিন নতুন দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
 দেশের বাজারে কমল সোনা-রুপার দাম, জেনে নিন নতুন দর

বিশ্ববাজারের ধারাবাহিকতায় দেশের বাজারেও কমেছে সোনা ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন দরে সোনা ও রুপা বিক্রি কার্যকর হয়েছে। বাজুসের জুয়েলারি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক সভায় সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২২ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১৯ হাজার ৪০৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১৮ হাজার ৫৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ১৫ হাজার ৯২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫ টাকা।

রুপার দামও কমেছে
সোনার পাশাপাশি কমেছে রুপার দামও। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ২৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১৫ টাকা।

দামের সঙ্গে যুক্ত হবে ভ্যাট ও মজুরি
বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে। পাশাপাশি অলংকারের নকশা অনুযায়ী বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি প্রযোজ্য হবে।তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, সোনা ও রুপার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলংকার তৈরির মজুরি নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

পুরোনো অলংকার কেনা ও বিনিময়ে যে নিয়ম
পুরোনো সোনা বা রুপার অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ কর্তন করতে হবে। অন্যদিকে, পুরোনো অলংকার কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম জানিয়েছে বাজুস। এ ছাড়া অলংকার বিনিময় কিংবা পুরোনো অলংকার কেনার সময় আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে নতুন দাম
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে। তাই সোনা বা রুপার অলংকার কেনার আগে ক্রেতাদের নতুন মূল্যতালিকা, প্রযোজ্য মজুরি এবং ভ্যাটের বিষয়টি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি