খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

যে বিশ্বকাপ মেসি না জিতলেও চলবে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
যে বিশ্বকাপ মেসি না জিতলেও চলবে

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ৩৮ বছর বয়স এবং ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফা বিশ্বকাপ। লিওনেল মেসি ২০২৬ সালের এই ফুটবল বিশ্বকাপে এমন এক উচ্চতায় দাঁড়িয়ে পা রাখছেন, যেখানে ইতিহাসের কোনো ফুটবলার এর আগে কখনো পৌঁছাতে পারেননি।

সমস্ত চাপ আর দায়বদ্ধতার ওপাড়ে গিয়ে, কোনো ঋণ বা নিজেকে প্রমাণ করার তাড়না ছাড়াই এবার তিনি বিশ্বমঞ্চে হাজির। লুসাইল স্টেডিয়ামের সেই অবিস্মরণীয় রাতের পর থেকে ফুটবলকে দেখার তার দৃষ্টিভঙ্গিটাই পুরো বদলে গেছে। আর প্রচণ্ড মানসিক চাপের এই আধুনিক ফুটবলে মেসির এই নির্ভার রূপটিই যেন এক নীরব বিপ্লব। ২০২২ সালের ১৮ই ডিসেম্বরের সেই রাতে লুসাইল স্টেডিয়ামের উত্তাপ ফুটবল বিশ্ব আগে খুব কমই দেখেছে।

সেদিন ৩৫ বছর বয়সী মেসি যখন চোখ বন্ধ করে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কোনো স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পর তিনি ভয়ে চোখ খুলছেন না; পাছে চোখ খুললেই যদি সেই স্বপ্ন উধাও হয়ে যায়। সেই দীর্ঘ ফাইনালটি কেবল একটি শিরোপা নির্ধারণ করেনি, বরং মেসির ভেতরের এক বিশাল শূন্যতা ও দায় মিটিয়ে দিয়েছিল।

বছরের পর বছর ধরে একদল মানুষ শ্রেষ্ঠত্বের দাবির নামে তার ওপর যে অন্যায্য চাপের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল, সেই রাতে তার অবসান ঘটে। সেই রাতটি একটি যুগের সমাপ্তি টেনেছিল, আর এরপর যা শুরু হয়েছে তা সম্পূর্ণ নতুন এক গল্প। উত্তর আমেরিকায় ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে ফুটবল বিশ্বে যে বড় প্রশ্নটি ঝুলছিল, তার অবসান ঘটিয়ে মেসি নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে তিনি খেলছেন। তবে এই নিশ্চিতকরণ বিতর্কের অবসান ঘটায়নি, বরং এক নতুন ও আকর্ষণীয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়টি কোনো কিছু প্রমাণ করার তাগিদ ছাড়াই বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন।

২০২৬ সালের মেসি এমন এক অনন্য ফেনোমেনন যাকে কোনো গণ্ডিতে ফেলা কঠিন। তিনি নিজের উত্তরাধিকার বা লেগাসি সম্পূর্ণ করার জন্য এবার খেলছেন না, কারণ তা ইতিমধ্যেই কাতারেই অমর ও অক্ষত হয়ে গেছে। তিনি এবার ফিরেছেন একেবারেই মানবিক এক কারণে; কারণ তিনি খেলতে চেয়েছেন। এত চড়াই-উতরাইয়ের পর একজন এলিট অ্যাথলেটের জন্য কেবল ‘নিজের ইচ্ছায়’ খেলতে চাওয়াটাই হলো স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ।

কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসির সেই চেনা বিষণ্ণতা বা অদৃশ্য চাপের মুখাবয়ব আর দেখা যায় না। যা একসময় বাধ্যবাধকতা ছিল, তা এখন স্রেফ ইচ্ছায় পরিণত হয়েছে; যা ছিল চাপ, তা এখন এক পরম প্রিভিলেজ বা অধিকার।

২০২৫ মৌসুমে ইন্টার মায়ামির হয়ে তার পরিসংখ্যান সব যুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখায়: নিয়মিত মৌসুমে ২৯টি গোল ও ১৯টি অ্যাসিস্ট করে তিনি জিতেছেন এমভিপি (মোস্ট ভেলুয়েবল প্লেয়ার) ও গোল্ডেন বুট। এরপর প্লে-অফে মাত্র ৬ ম্যাচে ৬ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট করে ক্লাবকে এনে দিয়েছেন প্রথম এমএলএস কাপের শিরোপা। এটি কোনো ফুরিয়ে যাওয়া খেলোয়াড়ের শেষ আর্তনাদ নয়, বরং একজন ফুটবল ঈশ্বরের নিখুঁত ও শান্ত পদচারণা।

গত ডিসেম্বরের এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই বলেছিলেন, ‘আমি দিন ধরে ধরে এগোই, নিজের প্রতি সৎ এবং বাস্তববাদী থাকার চেষ্টা করি। যখন ভালো বোধ করি, উপভোগ করি। যখন করি না, তখন আমি সেখানে না থাকাই পছন্দ করি।’ এখানে কোনো নাটকীয় বিদায়ের ঘোষণা নেই, আছে শুধু অনুমতি ছাড়া নিজের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দেওয়া এক মানুষ।

একটা সময় ছিল যখন আর্জেন্টিনার জার্সি ও মেসির সম্পর্কটা ছিল এক চাপা উত্তেজনার; যেখানে গভীর ভালোবাসা থাকলেও ছিল না পাওয়ার ক্ষত আর ভারী নীরবতা। কাতার ২০২২ কেবল তাকে ট্রফি দেয়নি, তাকে তার দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসার ফিরিয়ে দিয়েছে। আজ মেসিকে একা আর্জেন্টিনার বোঝা টানতে হয় না, বরং পুরো আর্জেন্টিনা তাকে পরম মমতায় আগলে রাখে।

কোচ লিওনেল স্কালোনি এমন এক দল গড়েছেন যা মেসিকে ছাড়াও জিততে পারে, তবে মেসিকে সঙ্গে নিয়ে তারা হয়ে ওঠে আরও বহুগুণ শক্তিশালী। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছিল এককভাবে মেসির কাঁধে ভর করে, যেখানে তার প্রতিভা দলকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল সম্ভাবনার শেষ সীমা পর্যন্ত।

কিন্তু ২০২৬ সালে সমীকরণ বদলে গেছে: আর্জেন্টিনা এখন মেসিকে ছাড়াও চলতে পারে, তবে তারা মেসিকে সাথে নিয়েই চলতে চায়। পরনির্ভরশীলতা আর চাওয়ার মাঝখানের এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটুকুই মেসিকে তার সেরা রূপে ফুটিয়ে তুলেছে।

ফুটবলের স্মৃতি বড় দীর্ঘ। পেলে তিনটি বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলকে ব্রাজিলের নিজস্ব শিল্পে রূপ দিয়েছিলেন। ম্যারাডোনা জিতেছিলেন মাত্র একটি বিশ্বকাপ, কিন্তু মেক্সিকোর মাটিতে ‘হ্যান্ড অব গড’ আর পুরো দেশের আকাশসম চাপ কাঁধে নিয়ে জেতা সেই একটি শিরোপাই তাকে ফুটবল বিশ্বে অমর করে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল। মেসি নিজের মহাকাব্য লিখেছেন কাতারে, এক নতুন প্রজন্মের সাথে যারা তাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে জড়িয়ে ধরেছে।

এটি মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা ফুটবল ইতিহাসে এক সম্পূর্ণ কুমারী ভূমি। আন্তোনিও কারভাহাল, লোথার ম্যাথুস, রাফায়েল মার্কেজ সবাই থেমেছেন পাঁচটিতে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও এই বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ আসর স্পর্শ করবেন। এক অবিশ্বাস্য যুগের দুই মহানায়ক একসঙ্গে ফুটবলের দীর্ঘতম ও সেরা চক্রটির সমাপ্তি টানতে যাচ্ছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি খেলবেন, তা নিশ্চিত। তবে তিনি এই আসরটি কীভাবে উপভোগ করবেন, তা এখনো অলেখা। কোনো ঋণ নেই, কোনো বিচার বা সমালোচনার ভয় নেই; কেবল একজন মানুষ যিনি সবকিছুর ওপাড়ে গিয়ে খেলাটি চালিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও সত্য কারণটি খুঁজে পেয়েছেন। এত সব পাওয়া আর দেওয়ার পর ফুটবল কিন্তু মেসির কাছে এখনো ঋণী; তবে কোনো শিরোপার জন্য নয়, শুধু বিশ্বমঞ্চে তার আরও একটি ম্যাচের সৌন্দর্যের জন্য।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত এ তহবিলের অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা, সংসদ সদস্যের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক ও আত্মীয়তাসহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

তালিকায় থাকা বুলু আকতার (স্বামী: আহমদুল হক), হাসনা খাতুন (পিতা: আজিজুর রহমান), হোসনেরা বেগম (পিতা: আহমদ মিয়া), মুছাৎ হোসনেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া), রাজিয়া আকতার (স্বামী: আমিরুল হক), হানিফাতুল মোজাহেবা (স্বামী: হাফেজ আজগর হোসেন), আজিজুল হক (পিতা: আব্দুল হক) এবং মরিয়ম বেগম (পিতা: মোহাম্মদ মুছা) একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে তাদের অনেককে সংসদ সদস্যের আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তালিকায় এমপি এনামের চাকতাই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জসিম উদ্দিন (পিতা: মোহাম্মদ ছৈয়দ), মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (পিতা: নুরুল ইসলাম), মোহাম্মদ শাকেল (পিতা: মোহাম্মদ সেলিম), মো. ওমর ফারুক (পিতা: মো. নূরুল ইসলাম) এবং পিকলু চৌধুরী (পিতা: রতন চৌধুরী)।

এ ছাড়া, সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর (পিতা: মোহাম্মদ আবুল কালাম) এবং বাড়ির টি-বয় তানজিমুল হক আহাদকে (পিতা: আহমদুল হক) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একই গ্রাম ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া  বলেন, আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তাছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই: ডা. জাহেদ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই: ডা. জাহেদ 

প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়) ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ভারত আমন্ত্রণ জানালে নিশ্চয়ই যাবো। আমি এই কথাটা খুব স্পষ্ট করে দিচ্ছি— আমি যদি প্রোপার ইনভিটেশন পাই, আমি নিশ্চয়ই যাবো। আমি ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে চাই, লজিক্যালি অ্যান্ড রেশনালি। কথাটা খুব ইম্পর্টেন্ট।”

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কথা বললে কারও কারও কাছে মনে হয় যে আমি দেশ বিকিয়ে দিতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই সরকার কখনও করবে না। সবার আগে বাংলাদেশ বলছি আমরা। সুতরাং ভারতের সঙ্গে আমরা এনগেজ করতে চাই। আমাদের সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক কিছুতে আমাদের উন্নতি করার সুযোগ আছে। আমরা যে জায়গায় ছিলাম সেখান থেকে তো আমরা নেমেও এসেছি। ইন্টেরিমের সময় সম্পর্কটা যথেষ্ট খারাপ পর্যায়ে গেছে। সেগুলো সরিয়ে রেখে আমরা এনগেজ করতে চাই। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাই। আমাদের এক্সচেঞ্জ নানান ফর্মে হতে পারে।”

তিনি বলেন, “শুধু সেটা না। গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই পানি চুক্তি রিনিউয়াল নিয়ে কথা আছে। আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। আমাদের পানি আমাদের অভিন্ন আরও টোটাল ৫৩টা নদী আছে। আমাদের রাইট আছে। আমাদের ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে হবে এবং সেখানে যদি কোনোভাবে রোল প্লে করতে পারি আমি সেটা লুফে নেবো। আমি এটা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই। আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে সেই আচরণের জন্য আমি যা করেছি এটা ওই আচরণের একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই ভারত তার এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসবেন। একটা গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে—ইনফ্যাক্ট ইন্টেরিম সরকারের সময় তারা অনেকবার এই কথাবার্তা বলেছেন যে, গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে তারা, নতুন সরকার যেটা আসবে যেটা জনগণের ম্যান্ডেট-প্রাপ্ত তার সঙ্গে তারা এনগেজ করবেন। আমি আশা করি তারা সেটা এগিয়ে যাবেন এবং আমি যদি কোথাও কোনোভাবে রোল প্লে করার সুযোগ পাই, ইনভিটেশন পাই নিশ্চয়ই ভারতে যাবো। আবারও বলছি ব্যক্তি জাহেদ ওখানে কিছু করে নাই। আসলে আমি বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে নেইনি। বিষয়টি দেখেছি যে, একটা রাষ্ট্রের একটা সরকারের একটা পজিশনের একজন মানুষের সঙ্গে এই আচরণ হচ্ছে, সেই কারণে আসলে ওটা করেছি।”

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি