খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

আ.লীগ শুধু দুর্নীতি নয়, অপচয়ও করেছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
আ.লীগ শুধু দুর্নীতি নয়, অপচয়ও করেছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শুধু দুর্নীতিই করেনি, দুর্নীতির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয়ও করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এবং নানা কারণে পিছিয়ে পড়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্পে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে কম অগ্রগতি হওয়া প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করে নতুন প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে শেরে-বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব বলেন। এ সময় তিনি দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সার্বিক পরিস্থিতি, অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে শুধুই দুর্নীতি হয়েছে তা নয়, দুর্নীতির পাশাপাশি অনেক অর্থের অপচয়ও হয়েছে। ফলে এখন শুধু নতুন প্রকল্প নেওয়াই নয়, পুরোনো প্রকল্পগুলো কী অবস্থায় আছে, সেগুলোর বাস্তব অগ্রগতি কতটুকু এবং জনগণের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার হয়েছে, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলমান প্রকল্পগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে পুনরুজ্জীবন করা হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে।

বর্তমান সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের প্রকল্প বাস্তবায়নের হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের মতো পরিস্থিতি সেখানে সবসময় ছিল না। প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন হয়নি, ব্যয় বেড়েছে, সংশোধন হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সুফলও পাওয়া যায়নি। এ বাস্তবতায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছর মেয়াদি একটি উন্নয়ন কৌশলপত্র তৈরির কাজ করছে, যার আলোকে ভবিষ্যতের বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা এখন পুনরুদ্ধার, পুনঃস্থাপন এবং পুনর্গঠনের তিন স্তরের কৌশলকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে। এই কৌশলগত কাঠামোর মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকর, বাস্তবসম্মত এবং জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা চলছে। বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেমন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। সরকার এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শুধু প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া নয়। প্রকল্পগুলোর খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ, ব্যয়-সুবিধা মূল্যায়ন, বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং গুণগত মান যাচাইয়ের কাজও মন্ত্রণালয়ের আওতায় পড়ে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন বিভাগ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং অর্জন নিয়মিত পর্যালোচনা করে থাকে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গতি আনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

দীর্ঘসূত্রিতা, অপচয় এবং অনিয়মের কারণ অনুসন্ধানে সরকার নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন। অতীতে যেসব প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে কারা দায়ী, কেন ব্যয় বেড়েছে, কেন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি এবং কোথায় কোথায় অপচয় বা ব্যর্থতা ঘটেছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত করা হবে। দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একটি প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৯০ শতাংশের বেশি হলেও দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলো সম্পন্ন হয়নি। এমন প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার অনুমোদন দেওয়া হলেও একইসঙ্গে সেসব প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রিতা ও ব্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের কাজ চলবে। কারণ উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থ ব্যয় হয় এবং সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

চলমান প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমানে প্রকল্পগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৬০ শতাংশের বেশি, সেগুলোতে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব প্রকল্পকে যৌক্তিকভাবে পুনর্বিন্যাস করে যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকৃত অর্থের সুফল জনগণ পেতে পারে।

অন্যদিকে যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি ৬০ শতাংশের নিচে, বিশেষ করে ৩০ শতাংশেরও কম, সেগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পকে পুনঃপরিকল্পনার মাধ্যমে অন্য প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করা যায় কি না, অথবা নতুন কাঠামোয় বাস্তবায়ন করা যায় কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নিয়মিত বৈঠক করছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬০ শতাংশের বেশি অগ্রগতি হওয়া প্রকল্পগুলো দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। আর যেসব প্রকল্পের কাজ ৩০ শতাংশের নিচে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে নতুন প্রকল্পের সঙ্গে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এতে করে একদিকে যেমন অপচয় কমবে, অন্যদিকে উন্নয়ন কার্যক্রমও আরও বাস্তবমুখী হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে একনেক সভায় মোট সাত হাজার তিন কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রকল্প। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প, ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন’ প্রকল্প এবং ‘পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘১০০টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পও একনেকের অনুমোদন লাভ করেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত এ তহবিলের অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা, সংসদ সদস্যের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক ও আত্মীয়তাসহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

তালিকায় থাকা বুলু আকতার (স্বামী: আহমদুল হক), হাসনা খাতুন (পিতা: আজিজুর রহমান), হোসনেরা বেগম (পিতা: আহমদ মিয়া), মুছাৎ হোসনেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া), রাজিয়া আকতার (স্বামী: আমিরুল হক), হানিফাতুল মোজাহেবা (স্বামী: হাফেজ আজগর হোসেন), আজিজুল হক (পিতা: আব্দুল হক) এবং মরিয়ম বেগম (পিতা: মোহাম্মদ মুছা) একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে তাদের অনেককে সংসদ সদস্যের আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তালিকায় এমপি এনামের চাকতাই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জসিম উদ্দিন (পিতা: মোহাম্মদ ছৈয়দ), মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (পিতা: নুরুল ইসলাম), মোহাম্মদ শাকেল (পিতা: মোহাম্মদ সেলিম), মো. ওমর ফারুক (পিতা: মো. নূরুল ইসলাম) এবং পিকলু চৌধুরী (পিতা: রতন চৌধুরী)।

এ ছাড়া, সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর (পিতা: মোহাম্মদ আবুল কালাম) এবং বাড়ির টি-বয় তানজিমুল হক আহাদকে (পিতা: আহমদুল হক) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একই গ্রাম ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া  বলেন, আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তাছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই: ডা. জাহেদ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই: ডা. জাহেদ 

প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়) ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ভারত আমন্ত্রণ জানালে নিশ্চয়ই যাবো। আমি এই কথাটা খুব স্পষ্ট করে দিচ্ছি— আমি যদি প্রোপার ইনভিটেশন পাই, আমি নিশ্চয়ই যাবো। আমি ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে চাই, লজিক্যালি অ্যান্ড রেশনালি। কথাটা খুব ইম্পর্টেন্ট।”

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কথা বললে কারও কারও কাছে মনে হয় যে আমি দেশ বিকিয়ে দিতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই সরকার কখনও করবে না। সবার আগে বাংলাদেশ বলছি আমরা। সুতরাং ভারতের সঙ্গে আমরা এনগেজ করতে চাই। আমাদের সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক কিছুতে আমাদের উন্নতি করার সুযোগ আছে। আমরা যে জায়গায় ছিলাম সেখান থেকে তো আমরা নেমেও এসেছি। ইন্টেরিমের সময় সম্পর্কটা যথেষ্ট খারাপ পর্যায়ে গেছে। সেগুলো সরিয়ে রেখে আমরা এনগেজ করতে চাই। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাই। আমাদের এক্সচেঞ্জ নানান ফর্মে হতে পারে।”

তিনি বলেন, “শুধু সেটা না। গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই পানি চুক্তি রিনিউয়াল নিয়ে কথা আছে। আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। আমাদের পানি আমাদের অভিন্ন আরও টোটাল ৫৩টা নদী আছে। আমাদের রাইট আছে। আমাদের ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে হবে এবং সেখানে যদি কোনোভাবে রোল প্লে করতে পারি আমি সেটা লুফে নেবো। আমি এটা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই। আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে সেই আচরণের জন্য আমি যা করেছি এটা ওই আচরণের একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই ভারত তার এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসবেন। একটা গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে—ইনফ্যাক্ট ইন্টেরিম সরকারের সময় তারা অনেকবার এই কথাবার্তা বলেছেন যে, গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে তারা, নতুন সরকার যেটা আসবে যেটা জনগণের ম্যান্ডেট-প্রাপ্ত তার সঙ্গে তারা এনগেজ করবেন। আমি আশা করি তারা সেটা এগিয়ে যাবেন এবং আমি যদি কোথাও কোনোভাবে রোল প্লে করার সুযোগ পাই, ইনভিটেশন পাই নিশ্চয়ই ভারতে যাবো। আবারও বলছি ব্যক্তি জাহেদ ওখানে কিছু করে নাই। আসলে আমি বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে নেইনি। বিষয়টি দেখেছি যে, একটা রাষ্ট্রের একটা সরকারের একটা পজিশনের একজন মানুষের সঙ্গে এই আচরণ হচ্ছে, সেই কারণে আসলে ওটা করেছি।”

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি