খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকার গঠনের মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায়

‘ফ্যামিলি কার্ড’ দিয়ে কথা রাখলেন তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
‘ফ্যামিলি কার্ড’ দিয়ে কথা রাখলেন তারেক রহমান

সরকার গঠনের তিন সপ্তাহের মাথায় নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে নিজের কথা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডের ৩৭ হাজারের বেশি নারীপ্রধান পরিবারকে মাসিক ২৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। আগামী এক মাসের মধ্যে কৃষক কার্ডও তুলে দেওয়া হবে। প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারায় আজ ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জন্য যেমন একটি আবেগের দিন, তেমনি তাঁর সরকার ও দল বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক, একটি আবেগের দিন।’

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে চায় সরকার। তারই অংশ হিসেবে ফ্যামলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।’

বেলা পৌনে ১১টার দিকে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ১৭টি পরিবারের হাতে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। পরে মঞ্চে স্থাপিত ল্যাপটপের মাধ্যমে সবুজ বাটন চেপে উপকারভোগীদের মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের ভাতার টাকা পাঠিয়ে দেন তিনি। প্রতিজনের অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৪ কোটি নারীর কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে অনুষ্ঠানে জানান সরকারপ্রধান। কার্ড বিতরণের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা.জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তিনি দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর পরিবেশন করা হয় বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে সংগীতের সঙ্গে তাল মেলান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. আবু ইউসুফ। সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনসহ বেশ কয়েকজন। স্থানীয় বাসিন্দা বেগম পারভিন, বেগম সমলা, বকুলা বেগম, বেগম জ্যোৎস্না, তসলিমা আখতার, বেগম রাশেদা আখতার, বেগম হোসনা আখতার, রিনা বেগম, বেগম শামসুন্নাহার, রোখসানা আখতার, মোসাম্মাৎ মাহফুজা, বেগম লিনা আখতার, মোসাম্মাৎ সুমি খাতুন, আকলিমা বেগম, মিনারা বেগমকে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়া নারীদের একজন রাশেদা। উদ্বোধনের পর তিনি অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা চলে এসেছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

সকাল থেকেই টিঅ্যান্ডটি মাঠে জড়ো হন নিম্ন আয়ের বহু মানুষ। তাদের অনেকের মুঠোফোনে এরই মধ্যে সরকারি সহায়তার টাকা জমা হওয়ার বার্তা পৌঁছে গেছে। ঈদের আগে রাষ্ট্রীয় অর্থ সহায়তা পেয়ে অনেকের চোখে-মুখে ছিল আনন্দের অশ্রু। কেউ এই টাকায় ওষুধের খরচ মেটানোর স্বপ্ন দেখছেন, কেউবা ভাবছেন কিছুটা সঞ্চয়ের কথা। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এই ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এটা নিয়ে যেন কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। দলমত-নির্বিশেষে সবাই এই কার্ড পাবেন, কিন্তু সবাই টাকা পাবেন না। টাকা পাবেন কেবল হতদরিদ্র। বাকি যাঁরা টাকা পেলেন না, তাঁরা তাঁদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ডোনেট করলেন।’ সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড আজ স্বপ্ন নয়। ফ্যামিলি কার্ড আজ সবার দোরগোড়ায়। ফ্যামিলি কার্ড একটি ভরসার নাম, আস্থার নাম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্টিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু, যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত মেগান বোল্ডিন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশিদ, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি সৈয়দ হায়দার, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মিচেল লি, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দেলওয়াহাব সাইদানি এবং ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

আগামী মাসের মধ্যে বহু কৃষক ভাইয়ের মাঝে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে
সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর এক মাসের কম সময়ের মধ্যে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছে। আমরা কৃষক কার্ডের কাজও শুরু করেছি। আগামী মাসের মধ্যে বহু কৃষক ভাইয়ের মাঝে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষাকে বিনা মূল্যে করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারীসমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেই এখন ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক এলাকার ১৫ হাজার নারীকে কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চার কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই।’ তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই দেশ আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এই কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে বিএনপি বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে তাঁর দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন। তাই আজ একটি স্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক দিন। এখন ১৪ জায়গায় কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে সবার কাছে তাঁরা এই কার্ড নিয়ে যেতে পারবেন বলে আশাবাদী। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে এই কার্ড চালু করা হলো।

কালের আলো/এম/এএইচ

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমকে মন্ত্রণালয়টির ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

একইসঙ্গে বর্তমান সচিব মোহা. রায়হান কাওছারকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার(৬ জুলাই)  এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ড. ফাহমিদা খানম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

এর আগে তিনি জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইনস্টিটিউটের (ন্যাকসিআই) নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ের জন্য জেলার সব ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সর্বসাধারণের ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বরগুনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বরগুনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ

সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতালা নামক এলকার গ্রিড সবস্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকার গ্রিড সাবস্টেশনটির মাধ্যমে বরগুনা সদর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণের নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

রাতে হঠাৎ করে ওই সাবস্টেশনটির ভেতরে একটি বিকট শব্দ হয়। এর পরপরই স্টেশনটির ৬ নম্বর ফিডারে আগুন লেগে যায়। আগুনের স্থায়িত্ব মাত্র ১ থেকে ২ মিনিট হলেও স্টেশনের ভিতরে থাকা অন্য ফিডার, বিভিন্ন তারের সংযোগ পুড়ে যাওয়াসহ কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বরগুনা সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৬৭ হাজার গ্রাহক এখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, রাতে অফিসেই ছিলাম। হঠাৎ করে বিকট একটা শব্দ হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ১১ কেভি এসিআর বিস্ফোরণ হয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও অনেক তার ও যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।

আমরা কাজ শুরু করেছি এবং সকল যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করছি। তবে যে যন্ত্রাংশটি পুড়েগেছে তা পটুয়াখালী থেকে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের চেষ্টা  অব্যাহত রয়েছে। রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু করতে না পারলেও আগামীকাল সকালের মধ্যে চালু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভ্যান্তরীন ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বোঝা যাচ্ছে না কেনো এ ঘটনা ঘটেছে৷

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি