খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকার পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সব পদক্ষেপ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
সরকার পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সব পদক্ষেপ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।

সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে  তারেক রহমান বলেন, এটি জনগণের অর্থ। যেহেতু আমরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি এবং দেশের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা আছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই জনগণের অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণের জন্য এবং দেশের কল্যাণে ব্যয় করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, যে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে জনগণের অর্থ ফেরত আসবে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন এই সরকার সেই পদক্ষেপই গ্রহণ করবে, ইনশাআল্লাহ।

পরবর্তীতে রাজশাহীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রণয়ন ও বিচারের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন।

পাচারকারীদের তালিকা তৈরি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অন্যায়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের তালিকা করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ রয়েছে, তারাই এই তালিকা তৈরি করছে।

বিগত সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার।

আমরা অতীতে দেখেছি, সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ তাদের ইচ্ছা-আগ্রহের কারণে দেশের আইনকানুন ও নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে যাকে যখন ইচ্ছা তুলে নিয়ে গেছে। যার কাছ থেকে যা মনে হয়েছে, জোর করে লিখিয়ে নিয়েছে।

বর্তমান সরকারের আইনি কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা দেশের প্রচলিত আইন মেনে কাজ করতে চাই এবং আইনের ভিত্তিতেই বিচার করতে চাই, যাতে কোনো মানুষ ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়।

আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনগতভাবেই আমরা সব প্রক্রিয়া গ্রহণ করব।

আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ীই এ দেশের জনগণের অর্থ তছরুপকারী বা অর্থ পাচারকারীদের শাস্তি নির্ধারিত হবে।

কালের আলো/এসএকে

রাত ১টার মধ্যে ২০ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
রাত ১টার মধ্যে ২০ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের আভাস

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারিপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চি দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়াও সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দ্রুত বিচার নিশ্চিতে তদন্তে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
দ্রুত বিচার নিশ্চিতে তদন্তে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ

জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা তদন্তে তদারকি জোরদার করে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) পুলিশ সদরদপ্তরে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত মে ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম এসব নির্দেশনা দেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ডিআইজি (অপারেশনস) মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, পেশাদারত্বের সঙ্গে মামলা তদন্ত করে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ সদস্যদের নিজেদের নিরাপত্তা এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন।

দুই দিনব্যাপী এ মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার প্রথম দিনে মেট্রোপলিটন ও রেঞ্জ পুলিশের কর্মকর্তারা এবং দ্বিতীয় দিনে বিশেষায়িত ইউনিটের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় মে মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি, সাজাপ্রাপ্ত আসামির গ্রেফতারি পরোয়ানা বাস্তবায়ন, মামলা তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি, সাজার হার এবং সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

কালের আলো/এম/এএইচ

মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমলেও মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা না থাকায় এখন ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি গণমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে গত এপ্রিল ও মার্চ মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয় বা এই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারপরও কতটুকু উন্নয়ন হবে, তা আমরা জানি না। তারপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেন সারা দেশ মুগ্ধ হয়ে শোনে। আমি একজন আইনের শিক্ষার্থী, আমিও উনার ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু উনার এই মুগ্ধতা যদি উনি উনার মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন এবং তার মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে, তাহলে এটি ছাঁটাই করার… প্রস্তাব আমি রাখতাম না।’

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর আগেও তিনি সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি ডেটাসহ তুলে ধরেছেন। খুনের চিত্র, ধর্ষণের চিত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র, ডাকাতির সংখ্যা মাসওয়ারী দিয়েছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে এই পর্যন্ত সমস্ত ডেটায় আমরা ঐতিহাসিকভাবে এগিয়ে আছি, উন্নত আছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের কেস রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি ধর্ষণের চিত্র পেয়েছি। তার একটা কারণ আছে, আগে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা রেকর্ড করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে। এখন থানায় গেলেই অথবা অনলাইনে জিডিসহ অন্যান্য কিছু দায়ের করতে পারেন। এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স নেই। যার কারণে সংখ্যাটা একটু বেড়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে সুখের কথা হলো, ধর্ষণ যেখানেই হোক, শিশু হোক, নারী হোক, যে অবস্থাতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিভাগ গ্রেপ্তারসহ চার্জশিট প্রদানের জন্য এবং মামলায় সহযোগিতা করার জন্য সাক্ষী উপস্থাপনসহ ট্রায়েলের সমস্ত ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।

তিনি বলেন, পল্লবী শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে। এটা বাংলাদেশের রেকর্ড। তনু হত্যার আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তার করা সক্ষম। বাকিগুলোও হবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ দলীয় পরিচয় দেখে কাউকে গ্রেপ্তার করে না; অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে। বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আমরা কখনও প্রাধান্য দেব না। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকা দরকার।

মন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সবাই কাজ করে। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয় না। এ সময় সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ডগ স্কোয়াড, অস্ত্র ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইনের পরিবর্তে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এসএকে