খুঁজুন
                               
, ,
           

একটি নতুন থানা ও ৩ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
একটি নতুন থানা ও ৩ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রামের হাটহাজারীকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ এবং ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ ও গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন ৩টি উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভা বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১০০০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে রোববার (২৮ জুন) জারি করা সভার নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, নতুন থানা ও উপজেলা গঠন এবং জেলা সীমানা পুনর্গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন ও আলোচনা করা হবে।

সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সভায় আরও আলোচনা হবে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে।

অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচিত হবে।

সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী এবং কমিটির সদস্যদের সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সভার কার্যপত্র আগেই সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সভা শেষে কার্যপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও জনসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

কালের আলো/এসএকে

ডিএনসিসির ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে: প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
ডিএনসিসির ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে: প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

‎মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মিরপুরের বাইশটেকী এলাকায় কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

‎শফিকুল ইসলাম বলেন, নগরীর অধিকাংশ খাল দখল হওয়ায় ভরাট হয়ে আছে, যা খনন করে জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।

‎তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) সারা দেশে খাল খনন করছেন, ঢাকা শহরের খালও আমরা খনন করবো। ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে, যা বাইশটেকী দিয়ে শুরু হবে।

‎এসময় বিগত ১৭ বছর যত্রতত্র উন্নয়নের নামে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। যত্রতত্র এসব উন্নয়নে ডিএনসিসির ফান্ড সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

‎প্রশাসক আরও বলেন, ডিএনসিসির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান আছে। তবে জনগণের সহযোগিতা দরকার।

‎এসময় মিরপুরের পানির সমস্যা সমাধানে বেশ কয়েকটি পানির পাম্প নির্মাণ কাজ কয়েকদিনের মধ্যে শুরু হবে বলে জানান তিনি।

‎শফিকুল ইসলাম বলেন, পানির সমস্যা এক দিনে হয়নি। তবে আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে পানির পাম্প নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

জুলাই হত্যা মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা রইল না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি কেএম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ খায়রুল হকের জামিনের আদেশ দেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।

পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা হয়েছে। তবে আজকের মামলায় জামিন হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে খোবাইব (২০) নামে এক যুবক নিহত হন।

এ ঘটনায় তার ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। খায়রুল হক মামলাটির একজন এজাহারভুক্ত আসামি।

এর আগে এ মামলায় গত ২১ জুন সাবেক এ প্রধান বিচারপতির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। জামিনও পেলেন।

২০২৪ সালের ২৪ জুলাই সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অবশেষে তার মুক্তির দুয়ার খুলল।

কালের আলো/এসআর/এএএন

এ রায়ে মোটেই সন্তুষ্ট নই : ইনুর সাজা নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
এ রায়ে মোটেই সন্তুষ্ট নই : ইনুর সাজা নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ে সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের আটটি অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে প্রসিকিউশনের তিনটি চার্জ (অভিযোগ) তথা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আর বাকিগুলো প্রমাণিত হয়নি। প্রমাণিত তিনটি চার্জের প্রতি চার্জে ১০ বছর করে সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে ৬ ও ৭ নম্বর চার্জে এক লাখ করে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। তবে আমরা এ রায়ে মোটেই সন্তুষ্ট নই।

আটটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইনুর বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ হলো ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে হওয়া সিদ্ধান্তে একাত্মতা পোষণ করেছিলেন। অর্থাৎ ওই বৈঠকে কারফিউ জারির মধ্য দিয়ে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশনা এবং আন্দোলন দমনের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতকে নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যতম শরিক নেতা হিসেবে ইনুও সেই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি ট্যাগ’ দিয়েছিলেন তিনি। শেখ হাসিনার সঙ্গেও একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন। ফোনালাপে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সায় দেন জাসদ সভাপতি। ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলার মধ্য দিয়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন রকমের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দিতে এসব অভিযোগ প্রমাণ করেছেন। অডিও-ভিডিওর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন তারা। এছাড়া সাফাই সাক্ষ্যে দেওয়া লিখিত বক্তব্যেও ইনু স্বীকার করেছিলেন। তার স্বীকারোক্তির পরও অন্যান্য চার্জ প্রমাণিত হবে না, এটা আমাদের কাছে বোধগম্য মনে হয়নি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ইনুকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে ট্রাইব্যুনাল যে সাজা দিয়েছেন, এটা একেবারেই স্বেচ্ছামূলক। তারা যথাযথভাবে সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আমরা মনে করি। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে অবশ্যই আপিল করবো। একইসঙ্গে তিনটি চার্জে দেওয়া শাস্তিও অপ্রতুল। অতএব এ সাজা বাড়াতেও আমরা আপিল করবো। রায়ের কপি পেলেই উচ্চ আদালতে যাবো।

কালের আলো/এসএকে