খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবারও ধারাবাহিক বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবারও ধারাবাহিক বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ এবং চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবারও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে তিন ধাপে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১৫ জন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ, বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ উপদেষ্টারাও অংশ নেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপের বৈঠক বেলা ১১টায় শুরু হয়। এতে অংশ নেন- স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ সাইফুল ইসলাম; ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান; ট্রান্সকম লিমিটেডের করপোরেট ফাইন্যান্স পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন; কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান; প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কাজী জাহিন হাসান; ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ; এবং ব্র্যাকের সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর আজিজুল হক।

দ্বিতীয় ধাপের বৈঠক শুরু হয় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। এতে অংশ নেন- আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের চেয়ারম্যান এস কে শামীম উদ্দিন; আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সিইও সাইয়েদ জহুরুল আলম; লাল তীর সিডস লিমিটেডের পরিচালক তাজওয়ার এম আওয়াল এবং প্যারাগন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় তৃতীয় ধাপের বৈঠক। এতে অংশ নেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী; নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আমিনুল ইসলাম; টিকে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার এবং টিকে গ্রুপের পরিচালক তারিক আহমেদ।

বৈঠক শেষে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী জানান, দেশের কৃষি, শিল্প এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। চিনি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উৎসাহ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি । এই ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, ফল উৎপাদন, পোল্ট্রি, মৎস্য খাত এবং বীজ (সিড) ব্যবস্থাপনাসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য একটি সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। এসময় তিনি বলেন,আমরা চাই বাংলাদেশে কৃষিতে একটি বিপ্লব ঘটুক। উৎপাদন বাড়ুক এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সহজ ও গতিশীল হোক।

বৈঠকে কৃষি জোনিংয়ের বিষয়টিও উঠে আসে। কোন এলাকায় ধান, কোথায় ফল এবং কোথায় অন্যান্য শস্য উৎপাদন করা যায়, সে অনুযায়ী জোনভিত্তিক পরিকল্পনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন এবং বিনিয়োগ আরও উৎসাহিত করার কথা বলেছেন বলেও জানান এই ব্যবসায়ী নেতা। তিনি আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে সোলার ও ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) খাতে কর সুবিধা দিয়েছে। পাশাপাশি যমুনা সেতু পারাপারে ইভি যানবাহনের জন্য টোল সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে আহসান খান চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও শিল্প খাতে বড় ধরনের উন্নয়ন সম্ভব হবে।

এর আগে, গত ৪ এপ্রিল দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, শিল্প খাতের চ্যালেঞ্জ এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

নেত্রকোণার  হাওরাঞ্চলে ঈদের আনন্দ ম্লান, গো- খাদ্যের ও  তীব্র সংকট

নেএকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
নেত্রকোণার  হাওরাঞ্চলে ঈদের আনন্দ ম্লান,  গো- খাদ্যের ও  তীব্র সংকট

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং বিএডিসির বি ধান-৮৮ মিশ্রণ বীজের কারণে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। চোখের সামনে   পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার ১০ উপজেলার প্রায় ৭৮ হাজার কৃষক। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা থাকলেও কৃষক পরিবারগুলোতে নেই উৎসবের আমেজ; বরং বিরাজ করছে হতাশা, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৪৩ টন বোরো ধান। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। শুধু ধান নয়, বন্যার পানিতে সবজি, মাছ ও অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। কারণ গ্রামের অধিকাংশ কৃষক ধান কাটতে না পারায় গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য খড়ও সংগ্রহ করতে পারেননি।

কেন্দুয়া উপজেলার পানগাঁও গ্রামের কৃষক নুরু মিয়া জানান, অতিবৃষ্টিতে তার ৩০ থেকে ৩৫ কাটা জমির ধান নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ফিশারি পুকুরের মাছেও ভাইরাস ছড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতি বছর কোরবানি দিই। এবারও ইচ্ছা আছে। কিন্তু কীভাবে দেবো, আল্লাহই ভালো জানেন। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে গেছে।”

একই উপজেলার বাইগনি গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, “ঈদ আসছে, কিন্তু ঘরে কোনো আনন্দ নেই। ছেলেমেয়েদের নতুন কাপড় কিনে দিতে পারিনি। ধান বিক্রি করতে না পারায় হাতে টাকাও নেই।”

মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কৃষক আবদুল করিম বলেন, “সব জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। প্রতি বছর কোরবানি দিই, এবারও দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আল্লাহ নিশ্চয়ই একটা ব্যবস্থা করবেন।”

মনোহরপুর গ্রামের কৃষক আলম বলেন, “ফসল আল্লাহর দান, তিনি নিয়ে গেছেন। কী আর করার আছে। প্রতি বছর কোরবানি দিই, এবারও দেবো।”

খালিয়াজুড়ি উপজেলার কৃষক আবুল কাশেম জানান, ঋণ করে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “যেভাবেই হোক কোরবানি তো দিতে হবে।”

মোহনগঞ্জ উপজেলার কৃষক পায়েল মিয়া ও রুকেল মিয়া বলেন, বছরের একমাত্র বোরো ফসলের আয়ে তাদের পুরো বছর চলে। কিন্তু এবার বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। সামান্য কিছু ধান কাটলেও রোদ না থাকায় সেগুলোও নষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না নিলে তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

ঈদের আনন্দ ম্লান, হতাশা, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তাই যেনো নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলবাসীর  সম্ভল।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

Oplus_131072

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ থেকে শুরু হয়েছে। রোববার (২৪ মে) এশার নামাজের পর থেকেই হজযাত্রীরা ‘তাবুর নগরী’ খ্যাত মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। সোমবার (২৫ মে) দুপুর পর্যন্ত হাজিদের মিনায় পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়া চলবে।

হজের নিয়ম অনুযায়ী, সোমবার সারা দিন এবং রাত মিনায় ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পার করবেন হজযাত্রীরা। এরপর মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) হজের প্রধান রোকন বা মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য তারা মিনা থেকে আরাফার ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। যাকে বলা হয় অকুফে বা আরাফার ময়দানে অবস্থান।

আগামী বুধবার পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং শুরু হবে ঈদুল আজহা। এরপর হাজিরা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবেন।

মিনা ও আরাফাতসহ পবিত্র স্থানগুলোতে এখন তীব্র দাবদাহ বিরাজ করছে। সৌদি আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তীব্র গরম থেকে হাজিদের সুরক্ষা দিতে সৌদি সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পবিত্র স্থানগুলোতে ছায়া নিশ্চিত করতে বাড়তি শেড নির্মাণ, মিস্ট ফ্যান বা কৃত্রিম কুয়াশা তৈরির পাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হাজিদের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম ও ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল। গরমের কারণে অসুস্থতা এড়াতে হাজিদের ছাতা ব্যবহার ও পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র : গালফ নিউজ, আরব নিউজ

কালের আলো/এসএকে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

Oplus_131072

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে