খুঁজুন
                               
, ,
           

মকবুল হজের ৭ লক্ষণ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
মকবুল হজের ৭ লক্ষণ

হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুকন ও ফরজ ইবাদত। অনেক ত্যাগ ও শ্রমের বিনিময়ে একজন মুমিন হজে যান। হজের মূল সার্থকতা হলো তা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়া, যাকে বলা হয় ‘হজ্জে মাবরুর’। হজ কবুল হলে হাজি নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করল এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ হতে বিরত রইল, সে সেদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে হজ থেকে ফিরে আসবে, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।’ (সহিহ বুখারি: ১৫২১)

আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত, হালাল উপার্জন এবং গুনাহমুক্ত হজের প্রতিদান হিসেবে রাসুলুল্লাহ (স.) জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তবে হজ কবুল হলো কি না, তা বোঝার জন্য ওলামায়ে কেরাম কোরআন ও হাদিসের আলোকে ৭টি বিশেষ লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন-

১. জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ও আমলের স্পৃহা

হজ কবুল হওয়ার সবচেয়ে বড় আলামত হলো- হজ থেকে ফিরে আসার পর হাজির আমলে ও চরিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসা। ওলামায়ে কেরাম বলেন, কোনো ইবাদত কবুল হওয়ার চিহ্ন হলো- সেই ইবাদতের পর আরও একটি ভালো কাজ করার তাওফিক পাওয়া। হজ করার পর যদি আমল ও আখলাকে আগের চেয়ে উন্নতি লক্ষ্য করা যায়, তবে তা হজ কবুলের বড় ইঙ্গিত।

২. আমল শেষে অন্তরে অদৃশ্য প্রশান্তি

ইবাদতের পর এক অদৃশ্য প্রশান্তি অনুভব করা, যা জাগতিক আনন্দ থেকে ভিন্ন- এটি হজ কবুলের অন্যতম বড় লক্ষণ। ইমাম গাজালি (রহ.)-এর মতে, ইবাদতের পর অন্তরে যে স্বস্তি অনুভূত হয়, তা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য ওই আমল কবুলের একটি সূক্ষ্ম স্বীকৃতি।

৩. দুনিয়ার মোহ হ্রাস ও পরকালের প্রতি আগ্রহ

হজ শেষে হাজির মন থেকে দুনিয়ার যশ ও সম্পদের পাহাড় গড়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমে যায় এবং আখেরাতের পাথেয় গোছানোর চিন্তা প্রবল হয়। বিখ্যাত আলেম হাসান বসরি (রহ.)-কে ‘হজ্জে মাবরুর’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন- ‘হজ্জে মাবরুর হলো- হজ থেকে ফিরে এসে দুনিয়ার প্রতি বিমুখ হওয়া এবং আখেরাতের প্রতি আগ্রহী হওয়া।’

৪. গুনাহের প্রতি ঘৃণা ও তাওবার আধিক্য

হজ থেকে ফিরে আসার পর যদি দেখা যায় যে, যেকোনো গুনাহের কাজের প্রতি হাজির মনে ভয় ও অনীহা তৈরি হয়েছে, তবে বুঝতে হবে আল্লাহ তাকে পছন্দ করেছেন। মানুষের মনে ইস্তেগফার ও তাওবার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা মকবুল হজের আলামত।

৫. বিনয়, শিষ্টাচার ও পরোপকার

হজ কবুল হওয়া হাজিদের আচার-ব্যবহারে নম্রতা প্রকাশ পায়। সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ (স.)-কে হজে মাবরুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি দুটি গুণের কথা বলেছিলেন- ‘ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করা এবং সবার সাথে নরম ও মিষ্টি ভাষায় কথা বলা।’ (মুসনাদে আহমদ)। অহংকারমুক্ত ও সহজ-সরল জীবনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া কবুল হজের নিদর্শন।

৬. ইবাদতে অতৃপ্তি ও কবুল না হওয়ার ভয়

একজন নিষ্ঠাবান হাজি যত আমলই করুন না কেন, তা তার কাছে অল্প মনে হবে। তার মনে সবসময় এই ভয় থাকবে যে, ‘আমার আমলটি আল্লাহ কবুল করলেন তো?’ এই বিনয় ও ভয়ই তাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যায়। যেকোনো আমল কবুল না হওয়ার এই ভয় মুমিনকে ইবাদতে আরও যত্নবান করে তোলে।

৭. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি

হজ পরবর্তী জীবনে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও মহব্বত বহুগুণ বেড়ে যায়। সুন্নাহর প্রতি অনুরাগ এবং দ্বীনি বিষয়ের প্রতি গভীর টান অনুভব করা হজ কবুলের বিশেষ আলামত।

সতর্কতা

হজ করার পর জীবনে যদি কোনো পরিবর্তন না আসে, ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে বিরত থাকার আগ্রহ না বাড়ে এবং আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি যত্নবান না হওয়া যায়, তাহলে হজ কবুল হওয়ার বিষয়টি সন্দেহমুক্ত নয়। (আপকে মাসায়েল: ৪/২৫)

হজ করা বড় কথা নয়; হজ কবুলের জন্য ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলা এবং জীবনব্যাপী হজের শিক্ষা ধারণ করাই আসল সার্থকতা। ‘কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া কিছুই নয়।’ (সহিহ বুখারি: ১৭৭৩) আল্লাহ তাআলা সকল হাজির হজকে ‘হজ্জে মাবরুর’ হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

কোস্টগার্ডের নতুন মহাপরিচালক মঈনুল হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
কোস্টগার্ডের নতুন মহাপরিচালক মঈনুল হাসান

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ পেয়েছেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।

‎বুধবার (১৯ আগস্ট) তাকে প্রেষণে এই নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এজন্য তার চাকরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

‎অন্যদিকে, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকের দায়িত্ব চালিয়ে আসা রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হককে নৌবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, ১৮ দিনে এলো ১৯৬ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ
প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, ১৮ দিনে এলো ১৯৬ কোটি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।

গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৩১ শতাংশ বেশি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এমনটাই জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট একদিনেই দেশে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৪৮২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের ৩৯৮ কোটি ডলারের তুলনায় ২১.৩ শতাংশ বেশি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শেষ বক্তব্যে কাঁদলেন ফখরুল, এমপিদের কাছে চাইলেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
শেষ বক্তব্যে কাঁদলেন ফখরুল, এমপিদের কাছে চাইলেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার সহকর্মীদের সামনে শেষবারের মতো বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্মরণ করলেন প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে, কৃতজ্ঞতা জানালেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলত্রুটি বা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাইলেন তিনি। এরপরই দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান ফখরুল।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় ঘটে এ আবেগঘন মুহূর্ত। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মির্জা ফখরুলের পক্ষে দলীয় এমপিদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর বার্তাও দেন।

বেলা ২টায় শুরু হওয়া সভা চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা। সভায় বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার-পাঁচবার কান্নায় ভেঙে পড়েন ফখরুল। তার আবেগঘন বক্তব্যে সভাকক্ষেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে যাওয়ার পর দলীয় সহকর্মীদের এই আবহ ও সান্নিধ্য মিস করবেন বলেও জানান তিনি। এ সময় তিনি সবার কাছে দোয়া চান এবং বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। দলের দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে ফখরুল দলের হাল ধরেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠিন সময়ে তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। এ সময় তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। এ জন্য তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলকে বিজয়ী করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার কোনো বিকল্প নেই।

দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য-এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তারেক রহমান। স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ