খুঁজুন
                               
, ,
           

কোরবানির পশুর বয়স কত বছর হওয়া জরুরি

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
কোরবানির পশুর বয়স কত বছর হওয়া জরুরি

কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্য হাসিলের এক অনন্য উপায়। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর প্রতিবছর কোরবানি করেছেন এবং যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন।

অতএব, যাদের আল্লাহ তাআলা সামর্থ্য দান করছেন, তাদের উচিত কোরবানি করা।

কোরবানির পরিচয়
কোরবানি শব্দটি আরবি।

এর অর্থ উৎসর্গ করা, জবাই করা। পরিভাষায়, নির্দিষ্ট প্রাণী নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য জবাই করাকে কোরবানি বলে।

(কামুসুল ফিকহি)

কোরবানির হুকুম
ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম জুফার, ইমাম হাসান, ইমাম কুদুরির মতে, সামর্থ্যবান ব্যক্তির কোরবানি করা ওয়াজিব। (শরহে বেকায়া, পৃষ্ঠা-৪৭৩)
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত
মুসলিম, স্বাধীন, মুকিম, নিসাব পরিমাণ সম্পদ তথা (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মালিক হওয়া।
(হেদায়া, শরহে বেকায়া)

যেসব প্রাণী দিয়ে কোরবানি বৈধ
ওলামায় কিরামের মতে, উট, গরু, মহিষ, ছাগল, দুম্বা, ভেড়া। এই ছয়টি প্রাণী দিয়ে কোরবানি করা বৈধ।

কোরবানির পশুর বয়স
উট পাঁচ বছর, গরু-মহিষ দুই বছর, ছাগল এক বছর। দুম্বা, ভেড়া ছয় মাসেরটা দেখতে এক বছরের মতো হলে তা দিয়ে কোরবানি জায়েজ হবে।
ওই বয়সের এক দিন কম হলেও কোরবানি হবে না। (শরহে বেকায়া)

যেসব প্রাণী দিয়ে কোরবানি জায়েজ নেই
১. দুই চোখ অথবা এক চোখ অন্ধ;
২. ল্যাংড়া-খোঁড়া পশু, যা কোরবানির স্থানে হেঁটে যেতে পারে না;
৩. দুর্বল, দাঁতহীন, কানহীন;
৪. স্তনের বোঁটা কাটা, কান কাটা, পা কাটা, লেজ কাটা।

কোরবানির অংশীদার
একা কোরবানি দেওয়া উত্তম। শরিকে দিলে উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত শরিক এবং ছাগল, দুম্বা, ভেড়া সর্বোচ্চ এক শরিক দিতে পারবে। (ফাতাওয়া কাজিখান-৩/৩৪৯)

শরিক নির্বাচন
একাধিক মানুষ একত্রে কোরবানি করতে চাইলে সর্বপ্রথম আসে শরিক নির্বাচন করা। কোনো শরিকের উদ্দেশ্য খারাপ থাকলে যেমনিভাবে তার নিজের কোরবানি নষ্ট হবে, তেমনিভাবে অন্যদের কোরবানিও নষ্ট হয়ে যাবে।
তাই শরিকি কোরবানিতে আগে শরিকদের ব্যাপারে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া উচিত, যাতে কোরবানি সহিহ শুদ্ধভাবে আদায় হয়। পশু ক্রয়ের পর অংশীদার গ্রহণ করা মাকরুহ। (আল ইখতিয়ার-৫/১৮)

শরিকানাসংশ্লিষ্ট কয়েকটি মাসআলা
১. একটি গরু, মহিষ বা উটে নফল, ওয়াজিব ও মানতের কোরবানি করা যাবে। তবে উত্তম হলো সবার নিয়ত অভিন্ন হওয়া। (বাদায়ে উস সানায়ে-৪/২০৯)
২. কোরবানির পশুতে আকিকার নিয়তে কোনো ভাগ নিলে কোরবানিও আদায় হবে, আকিকাও আদায় হবে। (বিদায়ে উস সানায়ে-৫/৭২)
৩. কোরবানির পশুতে ওলিমা ও সুন্নতে খতনার উদ্দেশ্যে কোনো অংশ নেওয়া যাবে না। (রদ্দুল মুহতার)

কোরবানি করার সময়
ইমাম আবু হানিফা, জমহুর ওলামায় কিরামের মতে, ঈদের সালাতের আগে কোরবানি করা বৈধ নয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের আগে কোরবানি করল সে যেন নিজের জন্য করল, আর যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের পরে করল সে যেন আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের জন্য করল।’ (শরহে বেকায়া)

কোরবানির শেষ সময়
ইমান আবু হানিফা ও মালেক (রহ.)-এর মতে, কোরবানির শেষ সময় ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। (শরহে বেকায়া)

কোরবানির গোশতের বিধান
কোরবানির গোশত তিন ভাগ করা মুস্তাহাব-এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং এক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য। কোরবানির গোশত বিক্রি করা হারাম। (শরহে বেকায়া)
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কোরবানির গোশত পাল্লা দিয়ে মেপে বণ্টন করতে হবে, অনুমান করে বণ্টন করা হারাম। (আল জাওহারাতুন নায়িরাহ-২/৩২৮)

কোরবানির চামড়ার বিধান
চামড়া নিজে ব্যবহার করতে পারবে অথবা কাউকে হাদিয়া দিতে পারবে, তবে যদি চামড়া বিক্রি করা হয় তাহলে এই টাকা গরিব-মিসকিনকে দিতে হবে। (হেদায়া)

কালের আলো/এসআর/এএএন

ঢাকা-১৭ আসনের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ঢাকা-১৭ আসনের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন তিনি।

বিএনপি মিডিয়া সেল জানায়, দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা। এ আসনের মধ্যে রয়েছে গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, কড়াইল বস্তি, বারিধারা, শাহজাদপুর, কালাচাঁদপুর, ভাষানটেক, মাটিকাটা ও ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আটপুকুর পাড় এলাকায় অবস্থিত সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শনকালে তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। উন্নত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মৎস্যবীজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি খামারগুলোতে সৌরবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে উৎপাদন কার্যক্রম আরও টেকসই হবে।’

টাঙ্গাইলে সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম উদ্বোধন ও খামারের ব্রুড মাছের পুকুরে মাছ পর্যবেক্ষণ এবং খামার প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।

এ সময় মৎস্য অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারসমূহের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মশিউর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পদ্মা ব্যারেজ হলে ২৪ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

রাজবাড়ী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
পদ্মা ব্যারেজ হলে ২৪ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের ২৪টি জেলার অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষি খাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

তিনি জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজবাড়ীতে এসে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন।

মন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সমীক্ষা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার সারা দেশে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি