খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সাংবাদিক ও ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার নিন্দা শিবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক ও ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার নিন্দা শিবিরের

‘ভুয়া ও বানোয়াট’ স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে প্রাণনাশের আশঙ্কায় শাহবাগ থানায় জিডি করতে যাওয়া ছাত্রশিবিরের কর্মীর ওপর হামলা ও ডাকসুর একাধিক নেতা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের কর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ওপর দায় চাপায় একটি কুচক্রী মহল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে হলে এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের আশঙ্কায় আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহবাগ থানায় জিডি করতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা মব তৈরি করে তার ওপর হামলা করে। পরবর্তীতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি যোবায়ের ও সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে মোহাম্মদ তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে থানায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুধু তাই নয়, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদসহ ডাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সেখানে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হয় সন্ত্রাসীরা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে প্রায় ১২ জন সাংবাদিক আহত হন। পুলিশের উপস্থিতিতে থানার ভেতর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে দেশের জনগণ কতটা অনিরাপদ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নতজানু ও ভঙ্গুর।

ছাত্রশিবির বিবৃতিতে দাবি করে, সারা দেশে শিক্ষাঙ্গন দখলে নিতে ছাত্রদল বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্রসমাজ যে নতুন ছাত্ররাজনীতির প্রত্যাশা করেছিল, যেখানে পেশিশক্তি আর সংঘাতের পরিবর্তে আদর্শ ও জ্ঞানভিত্তিক চর্চা হবে, ছাত্রদল সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিতে চায়। তারা নির্বাচনের পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং সরকারের প্রটোকল নেওয়া ও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি প্রবর্তন করতে চাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তারা বিনা উসকানিতে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আজকের এই ন্যাক্কারজনক হামলা সেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই অংশ।

তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যর্থতার ফলে সৃষ্ট জনরোষকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসসমূহ অস্থিতিশীল করছে ছাত্রদল। অবিলম্বে শাহবাগ থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে দাবি আদায়ে বাধ্য করবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ঈদের পর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
ঈদের পর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

Oplus_131072

সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদের পর প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সোমবার (২৫ মে) ঢাকার ফার্মগেটে ৬৫ বছরের ওপরে, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঈদের সময় নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে রোববার (২৪ মে) রাতে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছেন। চট্টগ্রাম ও সিলেটের ২টি কোচে আজ থেকে নারীরা আলাদা যাত্রা করতে পারবেন। আর ঈদের পর প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, সাড়ে ৪ মিনিট পরপর চলছে মেট্রোরেল। নতুন কোচ কেনা সম্ভব হলে আরও সময় কমানো যাবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, মেট্রোরেলে যাত্রায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের মতো শিক্ষার্থীদেরও কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। ২৫ শতাংশ ছাড়ে বিশেষ কার্ড মেট্রোরেল ও আন্তঃনগর রেলে দেওয়া হবে।

ঈদুল আজহা ঘিরে দুদিনে দেড় কোটির ওপর লোক ঢাকা ছাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, টিকিট কেটে যাবেন বা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করবেন, সেই অপেক্ষা করেন না যাত্রী। এই প্রক্রিয়া নিরুৎসাহিত করি। ফিটনেস গাড়ি পর্যাপ্ত নেই। তবে পর্যায়ক্রমে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রোববার ড্রাইভারের ভুলের কারণে টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হয়েছে। রাস্তা ম্যানেজম্যান্টের ত্রুটি ছিল না।

কালের আলো/এসএকে

স্বস্তির ঈদযাত্রায় বৃষ্টির বাগড়া, ভোগান্তি চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
স্বস্তির ঈদযাত্রায় বৃষ্টির বাগড়া, ভোগান্তি চরমে

টানা তাপপ্রবাহ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করা রাজধানীবাসী আজ দুপুরে পেয়েছে স্বস্তির বৃষ্টি। তবে সেই বৃষ্টি ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ও কোরবানির পশুর হাটে তৈরি করেছে নতুন ভোগান্তি।

সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন সড়কে যানজট ও ধীরগতির কারণে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অন্যদিকে পশুর হাটগুলোতে কাদা ও পানি জমে বিপাকে পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

সোমবার (২৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। এর আগে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছিল। সোমবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল ঘন কালো মেঘে ঢাকা। এর সঙ্গে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলে কমে আসে তীব্র গরমের তাপমাত্রা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে অনেক সড়কে পানি জমে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়ে। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ আগে থেকেই বেশি থাকায় বৃষ্টির পর সেই ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড় ও গাবতলী এলাকায় বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের।

যাত্রাবাড়ীতে বরিশালগামী যাত্রী রাকিব ইসলাম বলেন, ‘গরমের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় একটু স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় গাড়ি খুব ধীরে চলছে। সকাল থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি।’

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ঈদযাত্রা ও পশুর হাটে ভোগান্তি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নেত্রকোণার  হাওরাঞ্চলে ঈদের আনন্দ ম্লান, গো- খাদ্যের ও  তীব্র সংকট

নেএকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
নেত্রকোণার  হাওরাঞ্চলে ঈদের আনন্দ ম্লান,  গো- খাদ্যের ও  তীব্র সংকট

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং বিএডিসির বি ধান-৮৮ মিশ্রণ বীজের কারণে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। চোখের সামনে   পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার ১০ উপজেলার প্রায় ৭৮ হাজার কৃষক। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা থাকলেও কৃষক পরিবারগুলোতে নেই উৎসবের আমেজ; বরং বিরাজ করছে হতাশা, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৪৩ টন বোরো ধান। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। শুধু ধান নয়, বন্যার পানিতে সবজি, মাছ ও অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। কারণ গ্রামের অধিকাংশ কৃষক ধান কাটতে না পারায় গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য খড়ও সংগ্রহ করতে পারেননি।

কেন্দুয়া উপজেলার পানগাঁও গ্রামের কৃষক নুরু মিয়া জানান, অতিবৃষ্টিতে তার ৩০ থেকে ৩৫ কাটা জমির ধান নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ফিশারি পুকুরের মাছেও ভাইরাস ছড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতি বছর কোরবানি দিই। এবারও ইচ্ছা আছে। কিন্তু কীভাবে দেবো, আল্লাহই ভালো জানেন। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে গেছে।”

একই উপজেলার বাইগনি গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, “ঈদ আসছে, কিন্তু ঘরে কোনো আনন্দ নেই। ছেলেমেয়েদের নতুন কাপড় কিনে দিতে পারিনি। ধান বিক্রি করতে না পারায় হাতে টাকাও নেই।”

মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কৃষক আবদুল করিম বলেন, “সব জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। প্রতি বছর কোরবানি দিই, এবারও দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আল্লাহ নিশ্চয়ই একটা ব্যবস্থা করবেন।”

মনোহরপুর গ্রামের কৃষক আলম বলেন, “ফসল আল্লাহর দান, তিনি নিয়ে গেছেন। কী আর করার আছে। প্রতি বছর কোরবানি দিই, এবারও দেবো।”

খালিয়াজুড়ি উপজেলার কৃষক আবুল কাশেম জানান, ঋণ করে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “যেভাবেই হোক কোরবানি তো দিতে হবে।”

মোহনগঞ্জ উপজেলার কৃষক পায়েল মিয়া ও রুকেল মিয়া বলেন, বছরের একমাত্র বোরো ফসলের আয়ে তাদের পুরো বছর চলে। কিন্তু এবার বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। সামান্য কিছু ধান কাটলেও রোদ না থাকায় সেগুলোও নষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না নিলে তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

ঈদের আনন্দ ম্লান, হতাশা, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তাই যেনো নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলবাসীর  সম্ভল।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি