খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সরকারি অর্থায়নে চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১ হাজার ৩৬ ফ্ল্যাট

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
সরকারি অর্থায়নে চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১ হাজার ৩৬ ফ্ল্যাট

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ম সভায় এ সিদ্ধান্ত দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মানবিক বিবেচনায় প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় আলোচ্যসূচির ১৩ নম্বরে ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন চসিক কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবিত প্রকল্প। এতে প্রকল্পের ব্যয় পুনর্নির্ধারণ এবং অর্থায়ন কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সভায় জানান, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৩১ দশমিক ৪২৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছিল ১৮৫ দশমিক ১৪১৪ কোটি টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ছিল ৪৬ দশমিক ২৮৫৪ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ব্যয় বেড়ে ৩০৯ দশমিক ৩৫২০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। নতুন প্রস্তাবে ৬১ দশমিক ৮৭০৪ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নের কথা থাকলেও তা বহন করা চসিকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ইউটিলিটি ব্যয় ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায়ই অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়। এ বাস্তবতায় প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন চাওয়া হয়। তিনি বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেন।

প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জানানো হয়, প্রাথমিক প্রাক্কলন গণপূর্ত বিভাগের ২০১৮ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ২০২৩ সালের হালনাগাদ রেট শিডিউল এবং নতুন ডিজাইন অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করায় প্রায় ৭৭ দশমিক ৯২৫২ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

এদিকে, সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বান্ডেল কলোনিতে জায়গা সংকটের কারণে নির্ধারিত দুইটি ভবনের মধ্যে একটি নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে ভবনটি ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে চসিকের নিজস্ব জমিতে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের ড্রয়িং, ডিজাইন ও তদারকির জন্য ২০২০ সালে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ খাতে ৪ দশমিক ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ায় অতিরিক্ত দুই কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত সেবকদের পুনর্বাসনে সময় লাগায় কাজ শুরুতে দেরি হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর ৬ মাস বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পের আওতায় মোট সাতটি ভবন নির্মাণ করা হবে, যেখানে ১ হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৬০০ বর্গফুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইশতেহার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
ইশতেহার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জনগণের দৃষ্টিতে সফল হতে হলে সকল নেতাকর্মীকে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

রোববার (৩১ মে) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সরকারের লক্ষ্য, সামাজিক মূল্যবোধ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, দেশে ফেরার পর মনে হয়েছে পারিবারিক শিক্ষায় কিছুটা অভাব তৈরি হয়েছে, এই বিষয়ে আমাদের নজর দেওয়া উচিত।

সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বাড়াতে বর্তমান সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পিতার স্মৃতি চারণ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জিয়াউর রহমানকে দিয়ে বাংলাদেশকে অনেকে চিনতো, অনেকে বাংলাদেশ মানেই জিয়াউর রহমান ভাবতো। একজন সন্তান হিসেবে এটি আমাকে গভীরভাবে গর্বিত করে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উপায়ে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং বর্তমান সরকারও সেই পথনির্দেশিকা মেনেই যাবতীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা আর পূরণ হয়নি। গত ১৭ বছর বাংলাদেশে কী চলেছে, তা দেশের সব মানুষ জানে। এই দীর্ঘ সময়ে বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, জাতি এর সাক্ষী।

তিনি বলেন, একটি অত্যন্ত জটিল ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সামনে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এই কঠিন সময়ে যদি আমরা হেসেখেলে চলি, তবে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে যেটি ছিল বিএনপির ইশতেহার, এখন সেটি দেশের জনগণের ইশতেহার। যারা এই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তাদের আশা-ভরসা পূরণ করতে হবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন বিএনপি সরকার শহীদ জিয়ার দর্শন থেকেই দেশ পরিচালনা করছে এবং ইশতেহারেও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার তখনই সফল হবে, যখন দলের লোকজন সরকারকে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের মন্ত্রীরা পরিশ্রম করলেই সফলতা আসবে না। যেভাবে নির্বাচনে সার্বিক সহযোগিতা করে জয় এসেছে, ঠিক একইভাবে সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের দৃষ্টিতে সফল হতে হলে সকল নেতাকর্মীকে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ মিটার না থাকা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে রাজধানীর মগবাজারে আদ্ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল অভিযান চালায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তারা এ জরিমানা করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

নৌপথে নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হতে দেব না: নৌপ্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
নৌপথে নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হতে দেব না: নৌপ্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, নাগরিকরা নৌপথে ভোগান্তির শিকার হবে, এটা আমরা হতে দেব না। রোববার (৩১ মে) বিকেল ৩টার দিকে আকস্মিক সফরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গা থেকে অধিক সংখ্যক মানুষ নৌপথে চলাচল করে প্রত্যেকটি জায়গা চাঁদপুর, বরিশাল, মজুচৌধুরীঘাট ও ইলিশা আমরা গিয়েছি। হাতিয়া থেকে শুরু করে সবগুলো ঘাটেই আমরা গিয়েছি।

আমাদের দায়িত্ব এটা, মানুষগুলোকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। আগামীকাল থেকে যেন নিরাপদে সবাইকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ানো যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা যখন ঘাটগুলোতে যাই তখন ছোটখাটো ভুলগুলো আমাদের চোখে পড়ে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আমরা মানুষকে কথা দিয়েছি, তারা নিরাপদে প্রিয়জনের কাছে যাবে এবং নিরাপদে ফেরত যাবে। সে জায়গাটি আমরা ভালোভাবে শেষ করতে পারছি।

আমরা প্রত্যেকটি কাজকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছি, মানুষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য। এ ছাড়া, ভোলার ইলিশা নদীবন্দরকে একটি সুন্দর নদীবন্দর হিসেবে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যেসব নৌযান সরকারি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সেগুলোকে শুমারির মাধ্যমে চিহ্নিত করছি। সবগুলো নৌযানের ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতাকে মাথায় রেখে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসছি এবং নৌযান শুমারি শেষ হয়ে গেলে অবৈধ নৌযানের বিষয়টি থাকবে না।

যেসব জায়গায় আরও সংখ্যক জাহাজ দরকার সেসব জায়গায় আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানা জাহাজ যুক্ত করার চেষ্টা করবো।

এ সময় বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি