খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক বার্তা

নিজেদের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে পাল্টাপাল্টি সামরিক বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরান চাইলে তার দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান পাঠিয়েছে দ্বিমুখী বার্তা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ফক্স নিউজের ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরান যদি আলোচনা করতে চায়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা (ইরান) যদি কথা বলতে চায়, তবে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা আমাদের ফোন করতে পারে। আপনারা জানেন, সেখানে টেলিফোন আছে। আমাদের কাছে চমৎকার ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ইরান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এতে বিজয়ী হবে।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া দ্বিমুখী বার্তায় ইরান মনে করছে, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বর্তমান যুদ্ধবিরতি চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তারা এই সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান এবং যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হওয়ার পরেই কেবল পরবর্তী আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে।

এই লক্ষ্য অর্জনে ইরান বর্তমানে দুটি ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। প্রথমত, কূটনৈতিক মাধ্যম; যেখানে দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি বিভিন্ন আলোচনা ও মধ্যস্থতায় অংশ নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, সামরিক সতর্কতা; যার মাধ্যমে তারা প্রতিপক্ষকে এই বার্তা দিচ্ছে যে, শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব বা উস্কানির কড়া জবাব দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান আসলে একটি ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চাইছে, যাতে অঞ্চলটি বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।

এদিকে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধিদের পাকিস্তানে পাঠানোর কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের সেই সফর বাতিল করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফের একটি প্রতিনিধি দলের পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

মূলত ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তি আলোচনার সূত্রপাত করতেই এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এই সফর বাতিলের ঘোষণা দেন।

তবে কী কারণে হঠাৎ এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি বাতিল করা হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কারণ এখনো জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ভূ-রাজনৈতিক কোনো সমীকরণ বা আলোচনার অভ্যন্তরীণ শর্ত নিয়ে জটিলতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইরানের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, মারা যান দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ অনেক কর্মকর্তা। একটি স্কুলে হামলায় শতাধিক শিশুও মারা যায়। প্রাণ হারিয়েছে বহু বেসামরিক নাগরিকও।

তবে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি ইরানও। তারা অনবরত ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে দেশটির বিভিন্ন শহর ফিলিস্তিনের গাজার মতো বানিয়ে দিয়েছে। প্রথমে আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং পরে তার ছেলে মোস্তফা খামেনির নেতৃত্বে হামলা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও। যার অধিকাংশই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও।

এছাড়া তুরুপের তাস হিসেবে তাদের নিয়ন্ত্রিত অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। যে জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ আমদানি-রফতানি হয়। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশ ছুঁতে শুরু করে।

অবশেষে এক মাসের বেশি সময় যুদ্ধ চলার পর পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। গত ২২ এপ্রিল সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর নানা হুমকি-ধমকি দিলেও পরে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেমিডেন্ট ট্রাম্প।

তবে সামরিক যুদ্ধ বন্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ এখনো চলমান। ভারত মহাসাগরে অবরোধ ঘোষণা করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের একটি কার্গোসহ তারা আটকে দিয়েছে বেশ কয়েকটি জাহাজ। এভাবে মোস্তফা খামেনিদের ওপর চাপ বাড়াতে ব্যস্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অন্যদিকে মিত্র কয়েকটি দেশ বাদে অন্য সবার জন্য হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। জাহাজ থেকে আদায় করা হচ্ছে টোল। যার ফলে দেশে দেশে জ্বালানি তেলের অবস্থা এখনো শোচনীয়। এই যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হওয়ার শঙ্কা।

তবে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। কারণ, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উভয় দেশই কঠিন কঠিন সব শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যার কোনোটাই মানছেন না ট্রাম্প কিংবা মোস্তফা খামেনি।

তাই বিশ্বশান্তির কথা চিন্তা করে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হবে, নাকি যেকোনো সময় আবারও শুরু হবে দুই দেশের ধ্বংসের খেলা, তাই নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশসহ গোটা দুনিয়া।

কালের আলো/ এসাআর /এএএন

দেশের ১০ অঞ্চলে ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
দেশের ১০ অঞ্চলে ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা

দেশের অন্তত ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

একই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ অবস্থায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অন্যদিকে গতকাল রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা-ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এছাড় ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

টাংগাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতিতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই ট্রাকে চেপে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। 

সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

কালিহাতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ফসলহানি : ঈদ আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ফসলহানি : ঈদ আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

আগাম ও রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ফসলহানির মুখে পড়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার কৃষকরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য না থাকায় জেলার শত শত কৃষক পরিবার এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কৃষিপ্রধান জেলা কুড়িগ্রাম। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে চলতি বছর আগাম ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে জেলায় বোরো ধান, পাট, ভুট্টা ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের খেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাঁন্দামারী গ্রামের প্রায় শতাধিক কৃষকের শত শত একর বোরো ধান তলিয়ে গেছে।

বাধ্য হয়ে এসব জমি থেকে কোমর পানিতে নেমে আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন তারা। মাঠের পাকা বোরো ধানসহ নানা ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং হাতে নগদ টাকা না থাকায়, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চরম দুশ্চিন্তা ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিস্তীর্ণ বোরো ফসলের জমি, আলু, সবজি ও ভুট্টার খেত সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। ফলে আয়ের প্রধান উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা ঈদ আনন্দের বদলে পড়েছেন তীব্র আর্থিক সংকটে। হাতে নগদ অর্থ না থাকায় পরিবারের জন্য নতুন পোশাক বা ঈদের প্রয়োজনীয় সওদা করাও তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কৃষক নওশাদ আলী বলেন, “ফসল হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি। এবার কোরবানি দেওয়া তো দূরের কথা, সাধারণ বাজার করাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

আরেক কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, তলিয়ে যাওয়া ফসল কাটতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, তার ওপর শ্রমিকের মজুরিও বেশি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই ধান কাটছি। ঋণ করে আবাদ করেছিলাম, কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে ধান ভালো হয়নি।

বাজারেও এখন ধানের দাম কম, তাই চরম বিপাকে পড়েছি। ভেবেছিলাম আবাদ ভালো হলে কিছু ধান বিক্রি করে কোরবানি দেব, কিন্তু তা আর হলো না। ছেলে-মেয়ের জন্য ঈদের নতুন কাপড়ও এখনো কিনতে পারিনি।

চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ী হাট এলাকার আমেনা বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছি না। আশা ছিল ধান বিক্রি করে জামা-কাপড় কিনব, এখন দেখছি আর কেনা হবে না।

রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, চলতি মাসের ১৩ মে এক দিনেই ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে ১৭৬ মিলিমিটার এবং ২১ মে পর্যন্ত ৬১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

যাত্রাপুর হাটের ইজারাদার আব্দুর রহিম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।

সাধারণত প্রতিটি কোরবানির হাটে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০-এর বেশি পশু বিক্রি হতো। কিন্তু এবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাটে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি পশু বিক্রি হচ্ছে। এই বৈরী পরিবেশ স্থানীয় পশুর হাটসহ সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলার অনেক কৃষক এবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধান, ভুট্টাসহ কাটা ফসল ঘরের শুকনো স্থানে ছড়িয়ে কিংবা উঁচু স্থানে রেখে বাতাস ও রোদে শুকানোর পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

২০ মে পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর এবং রৌমারী উপজেলায় ৫১ হেক্টর জমির বোরো ধান, পাট ও শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ৪০০ জন কৃষকের প্রায় ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি