খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

হরমুজে ইরানের ৭ ‘দ্রুতগামী নৌকায়’ হামলার দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
হরমুজে ইরানের ৭ ‘দ্রুতগামী নৌকায়’ হামলার দাবি ট্রাম্পের

গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজে ইরানের সাতটি ‘দ্রুতগামী নৌকা’ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তাদের তেল অবকাঠামো ও একটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে ছোট আকারের সাতটি নৌযানে (দ্রুতগতির নৌকা) হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এই অভিযান চালিয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ইরান এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে ।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে অভিহিত করেছেন।

শিপিং কোম্পানি মারস্ক জানিয়েছে, তাদের একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিরাপত্তায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং জাহাজটি নিরাপদে উপসাগর ত্যাগ করেছে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে কোনো রাজনৈতিক সংকটের সামরিক সমাধান নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।’

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান উত্তেজনার কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

ইউএই জানিয়েছে, তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। পাশাপাশি ফুজাইরাহ বন্দরে একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ইরান ইউএই-কে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইউএই বলেছে, তারা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং ঘটনাটিকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখার কথা জানিয়েছে।

এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফ্রান্স হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে এবং যুক্তরাজ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের ওপরে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বহু জাহাজ আটকে পড়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাবে, তবে বাধা এলে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করা হবে। সূত্র: বিবিসি।

কালের আলো /এসাআর /এএএন

ঈদের পর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
ঈদের পর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

Oplus_131072

সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদের পর প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সোমবার (২৫ মে) ঢাকার ফার্মগেটে ৬৫ বছরের ওপরে, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঈদের সময় নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে রোববার (২৪ মে) রাতে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছেন। চট্টগ্রাম ও সিলেটের ২টি কোচে আজ থেকে নারীরা আলাদা যাত্রা করতে পারবেন। আর ঈদের পর প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, সাড়ে ৪ মিনিট পরপর চলছে মেট্রোরেল। নতুন কোচ কেনা সম্ভব হলে আরও সময় কমানো যাবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, মেট্রোরেলে যাত্রায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের মতো শিক্ষার্থীদেরও কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। ২৫ শতাংশ ছাড়ে বিশেষ কার্ড মেট্রোরেল ও আন্তঃনগর রেলে দেওয়া হবে।

ঈদুল আজহা ঘিরে দুদিনে দেড় কোটির ওপর লোক ঢাকা ছাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, টিকিট কেটে যাবেন বা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করবেন, সেই অপেক্ষা করেন না যাত্রী। এই প্রক্রিয়া নিরুৎসাহিত করি। ফিটনেস গাড়ি পর্যাপ্ত নেই। তবে পর্যায়ক্রমে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রোববার ড্রাইভারের ভুলের কারণে টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হয়েছে। রাস্তা ম্যানেজম্যান্টের ত্রুটি ছিল না।

কালের আলো/এসএকে

স্বস্তির ঈদযাত্রায় বৃষ্টির বাগড়া, ভোগান্তি চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
স্বস্তির ঈদযাত্রায় বৃষ্টির বাগড়া, ভোগান্তি চরমে

টানা তাপপ্রবাহ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করা রাজধানীবাসী আজ দুপুরে পেয়েছে স্বস্তির বৃষ্টি। তবে সেই বৃষ্টি ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ও কোরবানির পশুর হাটে তৈরি করেছে নতুন ভোগান্তি।

সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন সড়কে যানজট ও ধীরগতির কারণে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অন্যদিকে পশুর হাটগুলোতে কাদা ও পানি জমে বিপাকে পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

সোমবার (২৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। এর আগে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছিল। সোমবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল ঘন কালো মেঘে ঢাকা। এর সঙ্গে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলে কমে আসে তীব্র গরমের তাপমাত্রা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে অনেক সড়কে পানি জমে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়ে। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ আগে থেকেই বেশি থাকায় বৃষ্টির পর সেই ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড় ও গাবতলী এলাকায় বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের।

যাত্রাবাড়ীতে বরিশালগামী যাত্রী রাকিব ইসলাম বলেন, ‘গরমের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় একটু স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় গাড়ি খুব ধীরে চলছে। সকাল থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি।’

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ঈদযাত্রা ও পশুর হাটে ভোগান্তি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নেত্রকোণার  হাওরাঞ্চলে ঈদের আনন্দ ম্লান, গো- খাদ্যের ও  তীব্র সংকট

নেএকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
নেত্রকোণার  হাওরাঞ্চলে ঈদের আনন্দ ম্লান,  গো- খাদ্যের ও  তীব্র সংকট

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং বিএডিসির বি ধান-৮৮ মিশ্রণ বীজের কারণে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। চোখের সামনে   পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার ১০ উপজেলার প্রায় ৭৮ হাজার কৃষক। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা থাকলেও কৃষক পরিবারগুলোতে নেই উৎসবের আমেজ; বরং বিরাজ করছে হতাশা, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৪৩ টন বোরো ধান। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। শুধু ধান নয়, বন্যার পানিতে সবজি, মাছ ও অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। কারণ গ্রামের অধিকাংশ কৃষক ধান কাটতে না পারায় গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য খড়ও সংগ্রহ করতে পারেননি।

কেন্দুয়া উপজেলার পানগাঁও গ্রামের কৃষক নুরু মিয়া জানান, অতিবৃষ্টিতে তার ৩০ থেকে ৩৫ কাটা জমির ধান নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ফিশারি পুকুরের মাছেও ভাইরাস ছড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতি বছর কোরবানি দিই। এবারও ইচ্ছা আছে। কিন্তু কীভাবে দেবো, আল্লাহই ভালো জানেন। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে গেছে।”

একই উপজেলার বাইগনি গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, “ঈদ আসছে, কিন্তু ঘরে কোনো আনন্দ নেই। ছেলেমেয়েদের নতুন কাপড় কিনে দিতে পারিনি। ধান বিক্রি করতে না পারায় হাতে টাকাও নেই।”

মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কৃষক আবদুল করিম বলেন, “সব জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। প্রতি বছর কোরবানি দিই, এবারও দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আল্লাহ নিশ্চয়ই একটা ব্যবস্থা করবেন।”

মনোহরপুর গ্রামের কৃষক আলম বলেন, “ফসল আল্লাহর দান, তিনি নিয়ে গেছেন। কী আর করার আছে। প্রতি বছর কোরবানি দিই, এবারও দেবো।”

খালিয়াজুড়ি উপজেলার কৃষক আবুল কাশেম জানান, ঋণ করে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “যেভাবেই হোক কোরবানি তো দিতে হবে।”

মোহনগঞ্জ উপজেলার কৃষক পায়েল মিয়া ও রুকেল মিয়া বলেন, বছরের একমাত্র বোরো ফসলের আয়ে তাদের পুরো বছর চলে। কিন্তু এবার বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। সামান্য কিছু ধান কাটলেও রোদ না থাকায় সেগুলোও নষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না নিলে তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

ঈদের আনন্দ ম্লান, হতাশা, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তাই যেনো নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলবাসীর  সম্ভল।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি