খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

জনগণের আস্থা অর্জন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
জনগণের আস্থা অর্জন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের আস্থা অর্জন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেডে’ তিনি এ আহ্বান জানান।

জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক তৈরী হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা অবশ্যই আপনাদের দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবে সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে এটি সরকারেরও সাফল্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজ ‘দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন’। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা এবং নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে-আপদে জনগণ যেন থানা-পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। এই মালিক যখন বিপদে পড়ে থানায় যায় সেখানে তারা আপনাদের আচরণে যেন কিছু হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের অংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখা দরকার, আইনি সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষ প্রথমেই থানায় আসে। পুলিশের সহায়তা চান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিপদে না পড়লে মানুষ থানায় যায় না। তাই থানায় যাওয়ার পর তার বিপদ কমবে মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আপনারা অবশ্যই যে কোনো বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। তবে সেখানে যদি মানবিকতার ছোঁয়া থাকে তাহলে আপনাদের কারণে সরকারের সাফল্যগুলো জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

পুলিশ সদস্যদের মাঠ পর্যায়ে সরকারের দূত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা তাদের দক্ষতা এবং তাৎক্ষণিক কৌশলী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন; তারা হচ্ছেন রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার।’

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলো। সেই অন্ধকারের সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। আমি মনে করি, জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ ও আধুনিক মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এই কঠিন কাজটিই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। সুতরাং সাধ্যের সবটুকু দিয়েই সরকার আপনাদের চাওয়া-পাওয়াগুলো অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা থানাগুলোর পরিবেশ এমনভাবে করতে চাই, যা আইজি সাহেব ওনার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, যেন একজন মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি থানায় গিয়ে নির্ভয়ে তার অভিযোগ জানাতে পারেন এবং একসঙ্গে প্রতিকারও পেতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। এ কারণেই পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। তাই কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডে’র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।’

মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা চুরি-ডাকাতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা রয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। দেশে মাদক এবং অনলাইন জুয়ার ব্যাপারেও জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ‘মাদক সরবরাহকারী এবং মাদকের উৎসমূল’ টার্গেট করে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কার্যক্রম চালাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ বিকাশমান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ লক্ষ্যেই সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।’

সরকার প্রধান বলেন, এ লক্ষ্যে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ও ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাসহ এসব বিষয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুম-অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বদলি, পদোন্নতি কিংবা পুলিশে নিয়োগ এসব ক্ষেত্রে মেধা যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততাকেই আমরা প্রাধান্য দিতে চাই।’

পুলিশে বাহিনীকেও আরও দক্ষ এবং আধুনিক করে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দ্রুত পরবর্তনশীল এই বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পুলিশ বাহিনীকে আরও দক্ষ এবং আধুনিক করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের আবাসন সংকট সমাধান, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, রেশন এবং ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।’

সরকার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি দুর্বল শাসন কাঠামো, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমন বাস্তবতায় আমাদের পক্ষে আপনাদের সব প্রত্যাশা কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েকমাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবো না।

অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় ঐক্যই প্রধান শক্তি উল্লেখ করে তিনিন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পথ সহজ নয়, কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য মহৎ। আমরা একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/এসএকে

৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, ১১ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, ১১ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

দেশের ১১টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সরকারি সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি সংস্থাটি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

টানা তিন জয়ে নকআউটে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
টানা তিন জয়ে নকআউটে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো

ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে আরও একবার মেক্সিকান ফুটবলের মহোৎসব দেখা গেল। আজ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এ’-র শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ ব্যবধানে অনায়াসে হারিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক মেক্সিকো। এই জয়ে ৩ ম্যাচে শতভাগ সাফল্য ও পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করল স্বাগতিকরা। অন্যদিকে, এই হারের পর গ্রুপ পর্বের তলানিতে থেকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল চেক প্রজাতন্ত্র।

প্রথমার্ধে চেক রক্ষণভাগ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে মেক্সিকোর আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে মেক্সিকোকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন মাতেও চাভেজ। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লিড নেয় স্বাগতিকরা। প্রথম গোলের ঠিক ৬ মিনিট পর চেক ডিফেন্সের চরম অসতর্কতার সু্যোগ লুফে নেন জুলিয়ান কুইনোনেস।

প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের এলোমেলো অবস্থার সুযোগ নিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এরপর ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে আলভারো ফিদালগো এক চমৎকার ক্রসে বল জালে জড়ালে মেক্সিকোর ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয়।

ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে এই রাতটি মেক্সিকান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে। দলের অভিজ্ঞ ও কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিলিয়ার্মো ওচোয়াকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামান কোচ। এর মাধ্যমে ৪০ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার ইতিহাসের অন্যতম বিরল কীর্তি হিসেবে ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে খেলার অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করেন। আজতেকার গ্যালারি ভরা হাজার হাজার দর্শক এই প্রবীণ প্রাচীরকে মাঠে নামতে দেখে তুমুল করতালিতে বরণ করে নেন।

এই গ্রুপ থেকে ৩ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পা রাখল মেক্সিকো। একই রাতে অন্য ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স-আপ হিসেবে ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে কোরিয়া এবং ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে চেক প্রজাতন্ত্র।

স্বাগতিক মেক্সিকোকে তাদের শেষ ৩২ বা রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচের জন্য অন্য কোথাও ভ্রমণ করতে হচ্ছে না। আগামী ৩০ জুন এই আজতেকা স্টেডিয়ামেই তারা নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে। ঘরের মাঠের চেনা কন্ডিশন এবং ওচোয়ার মতো কিংবদন্তির অনুপ্রেরণা নিয়ে মেক্সিকানরা এখন আরও দূর যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ