খুঁজুন
                               
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করবেন, এভাবে তো ভালো সম্পর্ক হবে না: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করবেন, এভাবে তো ভালো সম্পর্ক হবে না: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমরা চাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করবেন এভাবে তো ভালো সম্পর্ক হবে না।

রোববার (১০ মে) ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ৪৫তম জাতীয় কাউন্সিল ২০২৬ এ বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতে নির্বাচন তাদের নিজস্ব ব্যাপার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বারবার বাংলাদেশিদের সীমান্তে কেন গুলি করা হবে। সীমান্তে রক্তপাত কবে বন্ধ হবে? গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ তো ভারতের মানুষও চায় না। আমরা চাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করবেন এভাবে তো ভালো সম্পর্ক হবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থায়ী ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে হলে দিল্লিকে সহিংসতার মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা জাতির কাঠামো নির্মাণ করেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আপনাদের পেশাকে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ নেই। নানা সময়ে নানা কথা আসতে পারে, আপনারা আপনাদের কাজ করে যাবেন। আপনাদের পেশার মূল্যায়ন জনগণ করবে। নির্বাচিত সরকার এখন ক্ষমতায়। নির্বাচিত সরকার উন্নয়ন উৎপাদনে যারা ভূমিকা রাখে সবাইকেই মূল্যায়ন করবে।

তিনি বলেন, নানা মত থাকতে পারে কিন্তু আপনারা দেশাত্মবোধ নিয়ে কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নিরলস পরিশ্রম, শুধু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।

রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে যে অঙ্গীকার আপনারা শুনেছেন, যে অঙ্গীকারগুলো আমরা অবহিত করেছি সেগুলো যাতে যথাযথভাবে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, সেজন্য সরকারের কোনো চেষ্টার কমতি নেই।

প্রধানমন্ত্রী কোনো ফাঁপা কমিটমেন্ট করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, , অতীতে ১০ টাকা কেজি চাল দেব, ঘরে ঘরে কাজ দেব; এ ধরনের ফাঁপা প্রতারণামূলক কোনো অঙ্গীকার তারেক রহমান করেননি।

আট লাখ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের চাওয়া ও বেঁচে থাকার লড়াই এবং নিজের মর্যাদার জন্য আপনাদের ন্যায়সঙ্গত বিষয়গুলো সরকার নজরে রাখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন আপনারাই। সরকার ইতিবাচক যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে সেগুলো জনগণের মধ্যে আপনাদের তুলে ধরতে হবে, বোঝাতে হবে এটি এমন একটি সরকার যারা জবাবদিহিতা করবে। পার্লামেন্ট শুরুর পর থেকে অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে পার্লামেন্টে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের প্রশ্ন করার অধিকার আছে, আর বিএনপি সরকার জবাবদিহিতা করছে।

জনগণ এ রকম নেতৃত্ব চেয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন। এক্সপার্টরা এখনো বলেন, জিয়াউর রহমান যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন সেই ধারাবাহিকতাতেই আমরা এখানে এসেছি। তার জ্যেষ্ঠপুত্রও পারবে।

সবশেষে তিনি বলেন, ধূসর মরুভূমির দেশ সিঙ্গাপুর যদি আজ এতদূর এগোতে পারে, তাহলে আমাদের তো নদী-নালার দেশ; আমরা এসব সম্পদ কাজে লাগিয়ে ও তা সংস্কার করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো।

কালের আলো/এসএকে

আলাদা পে-স্কেল চায় পুলিশ, আছে আরও একগুচ্ছ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
আলাদা পে-স্কেল চায় পুলিশ, আছে আরও একগুচ্ছ দাবি

Oplus_131072

সরকারের কাছে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য আলাদা পে-স্কেল দাবি করেছেন পুলিশ সদস্যরা। সেইসঙ্গে ঝুঁকিভাতাসহ ওভার ডিউটি বাবদ ৫০ শতাংশ ওভারটাইম বিল ও চাকরি জীবনের শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে অনারারি পদোন্নতিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার (১০ মে) পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পুলিশের কল্যাণ প্যারেড থেকে এসব দাবিসহ এক গুচ্ছ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত এসব দাবি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী; একইসঙ্গে দিয়েছেন বাস্তবায়নের আশ্বাসও।

কল্যাণ প্যারেডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), অতিরিক্ত আইজিপিসহ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা।

পে-স্কেল প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র পে-স্কেল পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি। বাংলাদেশে বিচার বিভাগ ও সেনাবাহিনীতে স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালু আছে। দেশ ও জনগণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সবচেয়ে বেশি সেবা দিয়ে থাকে। তাই তাদের মতো পুলিশের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলের দাবি আজ কল্যাণ প্যারেডের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানানো হয়েছে।

মামলার তদন্তের বেশিরভাগ কাজ করেন থানার উপ-পরিদর্শকরা (এসআই)। কিন্তু তাদের যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য যানবাহন অপ্রতুল। মামলার তদন্ত কাজে গতি আনতে ও যাতায়াত ব্যবস্থার সমাধানে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সুদমুক্ত লোন ও মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচার বিল দাবি করেছেন বিমানবন্দর থানার ওসি ও বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার।

কল্যাণ প্যারেডের আলোচনায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি তুলেছেন, তদন্ত ব্যয় বেড়েছে। সেটি বাড়িয়ে দেওয়া হোক। তদন্ত কাজে জড়িত এসআইদের জন্য থানা থেকে আলাদা কোনো যানবাহন নেই। মোটরসাইকেল কিনতে অগ্রিম সুদমুক্ত লোন ও জ্বালানি খরচ দিলে তদন্ত কাজে গতি বাড়বে।

একইসঙ্গে কল্যাণ প্যারেডে ঝুঁকি ভাতাসহ ওভারটাইম ডিউটি বাবদ ভাতা দাবি উত্থাপন করেছেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

কল্যাণ প্যারেডে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা আরও জানান, প্যারেডে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) একজন নারী কনস্টেবল অনারারি পদোন্নতি দাবি উত্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যরা যারা কনস্টেবল বা ইন্সপেক্টর ওই জায়গা থেকে রিটায়ার্ড করে। বিশেষ করে কনস্টেবলরা যাতে রিটায়ার্ডের আগে অন্তত একটা র‌্যাংক পদোন্নতি দিয়ে অবসরে পাঠানো হয়; যেটা সেনাবাহিনীতে আছে। এতে করে সরকারের আবার কোনো আর্থিক ভর্তুকিও লাগবে না। অনারারি পদোন্নতি কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত এটা চাওয়া হয়েছে।

কল্যাণ প্যারেডে অংশ নেওয়া একজন ডিআইজি (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) বলেন, পুলিশের থানা, ব্যারাক, থানা ফাঁড়িসহ বিভিন্ন ইউনিটের অপারেশনাল কাজের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্প বাবদ অর্থ বরাদ্দ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। সেটি নতুন করে চালুর আর্জি জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নিজ কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটিই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।

এসময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন তারেক রহমান।

কালের আলো/এসএকে

জনগণের আস্থা অর্জন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
জনগণের আস্থা অর্জন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের আস্থা অর্জন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেডে’ তিনি এ আহ্বান জানান।

জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক তৈরী হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা অবশ্যই আপনাদের দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবে সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে এটি সরকারেরও সাফল্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজ ‘দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন’। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা এবং নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে-আপদে জনগণ যেন থানা-পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। এই মালিক যখন বিপদে পড়ে থানায় যায় সেখানে তারা আপনাদের আচরণে যেন কিছু হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের অংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখা দরকার, আইনি সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষ প্রথমেই থানায় আসে। পুলিশের সহায়তা চান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিপদে না পড়লে মানুষ থানায় যায় না। তাই থানায় যাওয়ার পর তার বিপদ কমবে মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আপনারা অবশ্যই যে কোনো বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। তবে সেখানে যদি মানবিকতার ছোঁয়া থাকে তাহলে আপনাদের কারণে সরকারের সাফল্যগুলো জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

পুলিশ সদস্যদের মাঠ পর্যায়ে সরকারের দূত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা তাদের দক্ষতা এবং তাৎক্ষণিক কৌশলী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন; তারা হচ্ছেন রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার।’

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলো। সেই অন্ধকারের সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। আমি মনে করি, জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ ও আধুনিক মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এই কঠিন কাজটিই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। সুতরাং সাধ্যের সবটুকু দিয়েই সরকার আপনাদের চাওয়া-পাওয়াগুলো অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা থানাগুলোর পরিবেশ এমনভাবে করতে চাই, যা আইজি সাহেব ওনার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, যেন একজন মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি থানায় গিয়ে নির্ভয়ে তার অভিযোগ জানাতে পারেন এবং একসঙ্গে প্রতিকারও পেতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। এ কারণেই পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। তাই কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডে’র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।’

মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা চুরি-ডাকাতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা রয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। দেশে মাদক এবং অনলাইন জুয়ার ব্যাপারেও জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ‘মাদক সরবরাহকারী এবং মাদকের উৎসমূল’ টার্গেট করে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কার্যক্রম চালাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ বিকাশমান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ লক্ষ্যেই সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।’

সরকার প্রধান বলেন, এ লক্ষ্যে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ও ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাসহ এসব বিষয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুম-অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বদলি, পদোন্নতি কিংবা পুলিশে নিয়োগ এসব ক্ষেত্রে মেধা যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততাকেই আমরা প্রাধান্য দিতে চাই।’

পুলিশে বাহিনীকেও আরও দক্ষ এবং আধুনিক করে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দ্রুত পরবর্তনশীল এই বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পুলিশ বাহিনীকে আরও দক্ষ এবং আধুনিক করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের আবাসন সংকট সমাধান, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, রেশন এবং ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।’

সরকার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি দুর্বল শাসন কাঠামো, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমন বাস্তবতায় আমাদের পক্ষে আপনাদের সব প্রত্যাশা কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েকমাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবো না।

অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় ঐক্যই প্রধান শক্তি উল্লেখ করে তিনিন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পথ সহজ নয়, কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য মহৎ। আমরা একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/এসএকে

নির্বাচিত ১৪ হাজার শিক্ষকের ডকুমেন্টস যাচাইয়ের নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
নির্বাচিত ১৪ হাজার শিক্ষকের ডকুমেন্টস যাচাইয়ের নির্দেশনা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর আওতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন। এসব প্রার্থীর পূর্ব কার্যকলাপ, কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস যাচাইয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

রোববার (১০ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক (নিয়োগ) আইরিন পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ব কার্যকলাপ এবং ডকুমেন্টস ও কাগজপত্র যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে তাদের পূর্ব কার্যকলাপ যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের জমা দেওয়া ডকুমেন্টস ও কাগজপত্রের সত্যতাও যাচাই করা হবে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ