খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

হিজাব-নিকাব নিয়ে কটাক্ষের প্রতিবাদে শিবিরের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
হিজাব-নিকাব নিয়ে কটাক্ষের প্রতিবাদে শিবিরের বিক্ষোভ

জাতীয় সংসদে ১১ দলীয় জোটের নারী সংসদ সদস্যদের পরিহিত হিজাব-নিকাব নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম চৌধুরীর করা কটাক্ষ এবং অব্যাহত ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

রোববার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত মিছিলটি রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজার বলেন, শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিমের এই দেশে সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় হিজাব ও শালীন পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করা চরম ধৃষ্টতা। একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। আপনারা মুখে মদিনা সনদের কথা বলেন, অথচ আপনাদের নেতা-কর্মীরা হিজাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এই দ্বিমুখী নীতি এ দেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, নারীরা নারীদের বিদ্বেষী হতে পারে এটা বিএনপিকে না দেখলে আমরা বুঝতে পারতাম না। যখন সংসদে ধর্মানুরাগী নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে কটাক্ষ করা হয়, তখন বিএনপির অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি নারী সদস্যরাও টেবিল চাপড়িয়ে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান এটি এই জাতির জন্য লজ্জার। তারা সামষ্টিকভাবে প্রমাণ করেছে, তারা এ দেশে ইসলাম চায় না। যে সংসদে মানুষের অধিকার রক্ষার আইন করা হয়, সেখানে নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিদ্রূপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অবিলম্বে সংসদে দেওয়া অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আগামীতে আরও কঠোর ও অলঙ্ঘনীয় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, ইনশা আল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে বিএনপি আজ ধর্ষকদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশে অন্তত দুই শতাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপি, ছাত্রদল ও তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এমন অভিযোগ করেন তিনি। দেশজুড়ে অব্যাহত নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা এবং একটি নৈতিক সমাজ গঠনে আজ ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, মহানগর পূর্ব সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, দক্ষিণ সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসাইন, পশ্চিম সভাপতি হাফেজ আবু তাহেরসহ মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সায়েম।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হামের টিকা দেওয়ায় গাফিলতি তদন্তের দরকার নেই: জিয়াউদ্দিন হায়দার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
হামের টিকা দেওয়ায় গাফিলতি তদন্তের দরকার নেই: জিয়াউদ্দিন হায়দার

হামের টিকা দেওয়ার গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের দরকার নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ সহকারী এ কথা জানান।

পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ‌৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভস (আইসিএম) ট্রায়েনিয়াল কংগ্রেসে অংশগ্রহণসহ সাম্প্রতিক ইউরোপ সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হামে শিশু মৃত্যু নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে কি না জানতে চাইলে- বিশেষ সহকারী বলেন, ‘এখানে তদন্তের কি আছে? আমরা তো জানি যে অপারেশনাল প্ল্যান বাদ দিয়ে এটাকে ডিপিপিতে মাইগ্রেট করা হয়েছে। তখন হয়তো ধারণা করা হয়েছিল যে ডিপিপিগুলোকে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তারা অ্যাপ্রুভ করতে পারবে এবং টাকা অ্যাভেইলেবল হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো যে, এক বছরেও অনেক ডিপিপি প্রিপারেশন সম্ভব হয়নি এবং সেগুলোকে একনেকে অ্যাপ্রুভাল, প্রজেক্ট অফিস তৈরি করা, হ্যাঁ, সেগুলো করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘যার ফলে আপনার যে স্বাভাবিক যে ফান্ড ফ্লো ওপির মাধ্যমে হচ্ছিল, সেইটা আমি বন্ধ করলাম উইদাউট ওপেনিং আপ নিউ ফান্ড ফ্লো। এবং এই যে আপনার ঘাটতি, এই ঘাটতির বোঝা তো আমরা জাতি হিসেবে এখনো বহন করছি।’

‘আমাদের ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিভিন্ন জায়গাতে স্টক আউট, সেগুলো আমরা কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্রয় করতে পারি, সেগুলো নিয়ে মন্ত্রীসহ সবাই কাজ করছে। এই যে আজ আমি কথা বলছি, মন্ত্রী আপনার কোপেনহেগেন আপনার ডেনমার্কের ইউনিসেফের যে সাপ্লাই ডিভিশনের হেডকোয়ার্টার সেখানে তিনি যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে আলাপ করার জন্য; যাতে করে আমাদের অন্যান্য যে এসেনশিয়াল প্রোডাক্ট, সেগুলোও দ্রুত কেনা যায় এবং ঘাটতি পূরণ করা যায়—এজন্য আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করছি।’

আগের সরকারের কোনো গাফিলতি কি আপনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে দেখেন না? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না, গাফিলতি তো আছেই। আমরা তো এটা বলেই দিয়েছি। তাদের গাফিলতির জন্যই তো ২০২৪-২৫-এর যে টিকার রাউন্ড, সে টিকার রাউন্ডটা পুরোপুরি মিস করা হয়েছে। হ্যাঁ, ভ্যাকসিনের কোনো প্রকিউরমেন্ট হয়নি। ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের এই যে কন্ট্রাসেপ্টিভ প্রোডাক্ট, এগুলো প্রকিউরমেন্ট হয়নি। এখানে গাফিলতি আছে, এটা নিঃসন্দেহে আমরা বলতে পারি। এটার জন্য কোনো তদন্ত করার দরকার নেই।’

হামের টিকা দেওয়ার এক মাস পরও কেন এখনো শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে? এ বিষয়ে বিশেষ সহকারী বলেন, ‘যে ন্যাশনাল ক্যাম্পেইনটা আমরা করলাম, ইমার্জেন্সি ক্যাম্পেইন ভ্যাক্সিনেশনের, এর টার্গেট গ্রুপ ছিল ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের বাচ্চারা। তো এখানে আমাকে দেখতে হবে যে যারা এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে তারা কি এই এজ গ্রুপের নাকি ৫ বছর বয়সের চাইতে বেশি বয়স? কারণ বেশি বয়সের বাচ্চাদের হামের টিকা এখনো দেওয়া হয়নি। এই মাসের শেষেই রেগুলার রাউন্ড শুরু হওয়ার কথা। তখন অন্য বাচ্চারাও, আমার মনে হয় ১০ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চারা হামের হামের টিকা পাবে।’

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘তো আমাদের এই একটা জিনিস দেখার আছে। আর দুই-একজন বাচ্চাতো মিসআউট থাকতেই পারে। আর হামের সংক্রমণ ক্ষমতা কিন্তু কোভিডের চাইতে প্রায় ৯ গুণ বেশি। এটা অনেক বেশি সংক্রমণ ক্ষমতা। হাম হলে পরে একটা পরিবারে তাকে কতটুকু আইসোলেটেড করা হচ্ছে, অন্যান্য বাচ্চাদের কাছ থেকে আইসোলেটেড করা হচ্ছে, হ্যাঁ, বা হাসপাতালেও আইসোলেশন কতটুকু কাজ করছে, এইটাও আমাদের আমার মনে হয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখার ব্যাপার আছে।’

কালের আলো/এসআর/এএএন

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ‘আছাড় দিয়ে মারার’ হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ‘আছাড় দিয়ে মারার’ হুমকি

জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ‘ফটিকছড়ি সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন’ নামের একটি সিলগালাকৃত প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও লাইসেন্স-সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর থেকেই ওই সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, গত ১৯ জুন ফটিকছড়িতে বিএনপির একটি কর্মসূচি চলাকালে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরী তার ওপর চড়াও হন। তিনি প্রকাশ্যে সাংবাদিক নাজিমকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং পরিহিত পাঞ্জাবির কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

তৎকালীন সংসদ সদস্যের (এমপি) কর্মসূচি চলাকালে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন আচরণে উপস্থিত সবার মাঝে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। লাঞ্ছনাকালে অভিযুক্ত নেতাকে একাধিকবার এমপির নাম ব্যবহার করতেও শোনা যায়।

ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবদল নেতা চরম উত্তেজিত হয়ে আঞ্চলিক ভাষায় সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে হুমকিসূচক ও আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই গুন্ডাগিরি কাত্তে শিক্কুজ্জে… এখন ডিলেট গর, আছারি মারি ফেলাইয়ুম, আছারি মারি ফেলাইয়ুম একবেরে ধরি।’

​তিনি সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলার (ডিলিট করার) জন্য চাপ প্রয়োগ করেন, অন্যথায় মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। একই সাথে এই সংবাদ প্রকাশের পেছনে কার ইন্ধন রয়েছে, তা নিয়েও উগ্র ভাষায় জেরা করতে দেখা যায় তাকে।

আক্রান্ত সাংবাদিক শাহনেওয়াজ নাজিম বলেন, ​‘আমি জনস্বার্থে ও সঠিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করেই সংবাদটি প্রকাশ করেছি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হুমকি ও শারীরিক লাঞ্ছনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’

​এদিকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফটিকছড়িতে কর্মরত সাংবাদিক সমাজ। স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি ও লাঞ্ছনা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত।

গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে হুমকিদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত ‘সেবা ক্লিনিক’টির লাইসেন্স নবায়ন ও পরিচালনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসায় গাফিলতিতে এক প্রসূতি মা ও তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ক্লিনিকটি সিলগালা ও এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

​স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সমুন্নত রাখতে অবিলম্বে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বিতর্কিত ওই ক্লিনিকের লাইসেন্স-সংক্রান্ত অনিয়মগুলোরও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অন্য খাতে ব্যয় সমাজসেবার

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অন্য খাতে ব্যয় সমাজসেবার

আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছয়টি রোগে আক্রান্তদের বছরে একবার অর্থসহায়তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে গত কয়েক বছরে কয়েকজনকে একাধিকবার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ভুয়া রোগী সাজিয়ে, চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে এবং পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়াই অর্থসহায়তা দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটও করেছে তারা।

নীতিমালা অনুযায়ী, চিকিৎসা সহায়তার জন্য অনুদান হিসেবে বরাদ্দ করা অর্থ কেবল চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রেই ব্যয় করতে হবে। সরকার আনুষঙ্গিক খাতের ব্যয় মেটানোর জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ দিয়ে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অন্য খাতে ব্যয় করেছে।

জানা যায়, সরকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস প্রভৃতিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ হাজার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ হাজার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ হাজার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩০ হাজারসহ মোট ৬১ হাজার রোগীর জন্য ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সেই বরাদ্দের অর্থ ২৫৯ রোগীকে টাকা না দিয়ে এক কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা টেলেক্স, ফ্যাক্স, কম্পিউটার, স্টেশনারি ক্রয় ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্মানীতে ব্যয় করেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩০ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৯ লাখ ৫০ হাজার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. খায়রুল আলম সেখের বিরুদ্ধে এতিম না থাকা সত্ত্বেও এতিমখানার নিবন্ধন, বরাদ্দগ্রহণ ও বাবার নামে ফাউন্ডেশন গঠন করে সরকারি বরাদ্দ নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে দুদকের হাতে। অভিযোগ আছে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের বিরুদ্ধেও। মন্ত্রী থাকাকালে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করার পাশাপাশি ভুয়া রোগী সাজিয়ে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

নিয়ম অনুযায়ী, জটিল রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি বছরে একবার ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা পাবেন। কেউ এক বছরে দুবার আবেদন করতে পারবেন না। কিন্তু ২০১৭-১৮ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮১ জনকে একবারের বেশি অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে৬৮ জনকে দুবার, ১২ জনকে তিনবার এবং একজনকে চারবার অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। ঢাকার আগারগাঁও কার্যালয়, ঢাকা জেলা কার্যালয়, যশোর, নড়াইল, রাজশাহী, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এসব অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ ক্যানসার রোগী হিসেবে নোয়াখালীর বাসিন্দা জিসানের রোগনির্ণয়-পরীক্ষার রিপোর্টের কপি দিয়ে চট্টগ্রাম সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেন। কর্মকর্তারা তাকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দেখান। গাজীপুরের নাছিমা শাহীনের রোগসংশ্লিষ্ট টেস্ট রিপোর্ট নেই, চিকিৎসকের প্রত্যয়ন নেই; তাকেও ঢাকা অফিস থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হয়। এভাবে রোগী নয়, তবু ৩০২ জনকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, মাগুরা, খুলনা, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা সমাজসেবা অফিস থেকে ৫০ হাজার  করে এক কোটি ৫১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

বলা আছে, প্রকৃত রোগী যেন সরকারের আর্থিক সহায়তা পায় সে জন্য রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও রোগনির্ণয়-পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে রোগীকে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে হবে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিন্তু মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অন্য রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি, চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া আবেদনপত্র, রোগপরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া আবেদনপত্র ও ভুয়া পরিচয়পত্রের বিপরীতে ৩০২ জনকে অর্থসহায়তা দিয়ে সরকারের এক কোটি ৫১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন।

কালের আলো/এম/এএইচ