খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। সভাপতিত্ব করছেন সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রশ্নটি টেবিলে উত্থাপিত হয়েছে।

নওগাঁ -৩ আসনের মো. ফজলে হুদা প্রশ্ন রেখে বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও উত্তরাঞ্চলের অনুন্নত এলাকাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ কোনো বরাদ্দ রাখা হয়েছে কিনা?

জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নকে বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে। সে লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির কার্যকর সমন্বয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় সরকার লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪১ লক্ষ নারীকে মাসে ২,৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদানের জন্য ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ১০০ উপজেলায় ৪২.৫ লক্ষ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা এবং এ বাবদ ১,০৬২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিয়ে তাদের ভোগক্ষমতা ও জীবিকা সুরক্ষা বজায় রাখা।

খাদ্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখার জন্যও সরকার একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ৫৫ লক্ষ উপকারভোগী পরিবারকে কর্মাভাবকালীন ৬ মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল প্রদান করা হচ্ছে। সারা দেশে ১ হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৪১৯ উপজেলায় অতিরিক্ত ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যার আওতায় প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ২৩.১৬ লক্ষ মে. টন থেকে ২৪.৫০ লক্ষ মে. টনে উন্নীতকরণের উদ্যোগ এবং খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮.১৯ লক্ষ মেট্রিক টন থেকে ৪১.২৯ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের অনুন্নত এলাকাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বাজেটে উত্তরাঞ্চলের জন্য আলাদা অংকভিত্তিক বরাদ্দ নির্দিষ্ট করা না হলেও সামগ্রিকভাবে ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের আওতায় দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন, বিশেষায়িত কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, কোল্ড-চেইন, সংরক্ষণাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও লজিস্টিকস উন্নয়নের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদল ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়ন-এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসএকে

বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীদের বাজেটনির্ভর গবেষণার পরিবর্তে খাদ্যের পুষ্টিগুণ, নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে মৌলিক, উদ্ভাবনী ও মানসম্মত গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী গবেষণার পেটেন্ট গ্রহণ এবং কৃষিকে যুগোপযোগী করতে উৎপাদনশীল প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কৃষি এগিয়ে গেলেই দেশ এগিয়ে যাবে। নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে খাদ্য উৎপাদনের অভাব নেই; অভাব রয়েছে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের।তাই সরকার নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যের কারণে মৎস্য ও কৃষি খাতের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মাছের খাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল নিরাপদভাবে উৎপাদন করা জরুরি।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ববাজারে স্বাদুপানির মাছের চাহিদা তুলনামূলক কম। তাই নিরাপদ ও মানসম্মত উপায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করে ভবিষ্যতে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাছ চাষে কৃষি খাতের মতো বিদ্যুতের বাণিজ্যিক হারের পরিবর্তে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মৎস্যচাষীদের এ দাবি যৌক্তিক। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এর আগে সকালে মন্ত্রী বিএফআরআইয়ের বিভিন্ন হ্যাচারি পরিদর্শন করেন। তিনি সুবর্ণ রুই, মেকং পাঙ্গাশ, মহাশোল, ছোট মহাশোল, স্বাদুপানির মুক্তা, খোকসা মাছ, ঢেলা মাছ, দেশি সরপুটি, বাইন মাছ, ভাগনা মাছ, দেশি তিতপুঁটি, ঘাউড়া, মনোসেক্স তেলাপিয়া, গুঁড়া চিংড়ি, গলদা চিংড়ি ও কুচিয়া মাছের হ্যাচারি এবং খাঁচায় শিং, গুলশা, পাবদা ও মাগুর মাছের চাষাবাদ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, ময়মনসিংহ বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ইনস্টিটিউটের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ড. মো. লতিফুল ইসলাম, পরিচালক (গবেষণা ও পরিকল্পনা) ড. মো. আমিরুল ইসলাম, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামসহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন দপ্তর এবং বিএফআরআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জাপানের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় বড় সংস্কার আনা হবে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
জাপানের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় বড় সংস্কার আনা হবে: প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতা-ভিত্তিক ও শিশু-বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থার সফল অভিজ্ঞতা, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সিভিক এডুকেশন, ক্রীড়া শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জাপানের নাগরিক শিক্ষা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ল্যাবের মতো গণিত শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে ম্যাথ ল্যাব স্থাপন করা হবে। এ ক্ষেত্রে জাইকার কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থাইল্যান্ড ও তুরস্কের শিক্ষা প্রশাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে। মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোর দায়িত্ব, জবাবদিহিতা, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন ও মনিটরিং ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাইকা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিশু-বান্ধব শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মোখলেছুর রহমান, যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) মো. ছাইফুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইকবাল হাসান, জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র প্রতিনিধি মনিকাওয়া ইউকোসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১৭ বছর পর সত্যিকারের কার্যকর সংসদ পেয়েছে দেশ : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর সত্যিকারের কার্যকর সংসদ পেয়েছে দেশ : স্পিকার

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণমাধ‌্যমের কর্মকাণ্ডের মাধ‌্যমে জাতীয় সংসদ আরও মহিমান্বিত হবে। সংসদের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা আরও বেড়ে যাবে, এটাই আমি কামনা করি। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন এ ধরণের সংসদের অপেক্ষায় ছিল। ১৭ বছর আমরা এ ধরণের কার্যকর সংসদ পায়নি।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) আয়োজিত ফল উৎসব-২০২৬’এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

স্পিকার বলেন, ‘১৭ বছর আমরা এ ধরনের কার্যকর সংসদ পাইনি। আমি বেশ কয়েকটি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। বিশেষ করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর আমলের সংসদের সদস্য ছিলাম, তা বলতেই লজ্জা পাই। অনেক সময় টেলিভিশনে দেখেছি, রেডিওতে শুনেছি এ এলাকা থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন, দুই দিন পরে দেখি অন্য লোক। সংসদে এসে দেখি অন্য লোক। ফাঁকেতালে বহু লোক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এতদিন এ ধরনের আবোল-তাবোল সংসদের পর এবার সত্যিকারের সংসদ পেয়েছি। ১৯৯১ সালে একটি ভালো সংসদ দেখেছিলাম, আর এবারকার সংসদ। এবার অত্যন্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। এখানে অনেকেই নিজ গুণে নির্বাচিত হয়েছেন, যাদের তেমন রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল না।

স্পিকার আরও বলেন, ভোটিং প্যাটার্ন দেখে মনে হয়েছে সাধারণ মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। অতীতে আমরা যে ধরনের সংসদ দেখেছি এবং এমপিরা যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন, মানুষ তাতে সন্তুষ্ট ছিল না। মানুষ প্রকৃত সংসদ চায়। এ সংসদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের জনগণকে সেবা করতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, যে ফল উৎসব আমরা সবাই উপভোগ করছি, তা যেন সাধারণ মানুষও উপভোগ করতে পারে এবং তাদের মন-মানসিকতাও সে রকম হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দেশের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে বিপিজেএ’র সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকে প্রকৃত অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। মানুষের কল্যাণে সংসদ যাতে কাজ করতে পারে, সে জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের একটি মেলবন্ধন তৈরি করে। গণতন্ত্রকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ফল উৎসবের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কলম আরও শক্তিশালী হোক—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, “সংসদকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাংবাদিকদের সকল প্রয়োজনীয় উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

ফল উৎসবে উপস্থিত ছিলেন সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিএনপির সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সালাহ উদ্দিন, জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম আব্দুল্লাহ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাছির জামাল, আশিষ সৈকত, জাহেদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আলফাজ আনাম, সুলতান মাহমুদ, ইলিয়াস হোসেন, কামরান রেজা চৌধুরী, রিয়াজ আহমেদ, নাফিজা দৌলা, নিখিল ভদ্র প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিপিজেএ’এর সভাপতি হারুন জামিল। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (তানিম আহমেদ), কার্যনির্বাহী সদস‌্য মশিউর রহমান, মনিরুল ইসলাম।

কালের আলো/এসএকে